📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৩৮. অন্যায়ভাবে সম্পদ ভোগ বা দখল না করা

📄 ৩৮. অন্যায়ভাবে সম্পদ ভোগ বা দখল না করা


ঈমানের শাখা-৩৮. অন্যায়ভাবে সম্পদ ভোগ বা দখল না করা
অন্যায়ভাবে সম্পদ ভোগ-দখল বলতে বুঝায়, কারো সম্পদ কিম্বা অধিকারকে নিজ দখলে নেওয়া, প্রকৃতভাবে যার ওপর তার অধিকার নেই। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ. অর্থ: তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ-দখল করো না। (সূরা আল বাকারা-আয়াত: ১৮৮)
অন্যত্র বলা হয়েছে- فَبِظُلْمٍ مِنَ الَّذِيْنَ هَادُوا حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَتٍ أُحِلَّتْ لَهُمْ وَ بِصَدِّهِمْ عَنْ سَبِيْلِ اللَّهِ كَثِيرًا ، وَأَخْذِهِمُ الرِّبُوا وَقَدْ نُهُوا عَنْهُ وَأَكْلِهِمُ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ.
অর্থ: তাদের পাপের কারণে এবং আল্লাহর পথে অধিক পরিমাণে বাধা দেয়ার কারণে ইহুদীদের জন্য হারাম করে দিয়েছি অনেক পূতপবিত্র জিনিস যা তাদের জন্য হালাল ছিল। (তাদের আরও অপরাধ ছিল) তারা লোকদের থেকে সুদ গ্রহণ করতো যা তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল; তারা মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করতো। (নিসা-আয়াত: ১৬০-১৬১) সূরা বনী ইসরাঈলের বলা হয়েছে-
وَأَوْفُوا الْكَيْلَ إِذَا كِلْتُمْ وَزِنُوا بِالْقِسْطَاسِ الْمُسْتَقِيمِ. অর্থ: মেপে দেয়ার সময় সঠিকভাবে মেপে দেবে এবং ওজন করে দিলে সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করবে। (সূরা বনী ইসরাঈল-আয়াত: ৩৫)
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, নবী করীম বিদায় হজ্জের দিন মিনায় বলেছেন-
وَإِنَّ دِمَاءَ كُمْ وَأَمْوَالَكُمْ وَأَعْرَاضَكُمْ بَيْنَكُمْ حَرَامٌ .
অর্থ: তোমাদের জীবন, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সম্মানকে পবিত্র ঘোষণা করা হলো। (সহীহ আল বুখারী-৬৭)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৩৯. হারাম খাদ্য ও পানীয় বর্জন করা

📄 ৩৯. হারাম খাদ্য ও পানীয় বর্জন করা


ঈমানের শাখা-৩৯. হারাম খাদ্য ও পানীয় বর্জন করা
খাদ্য ও পানীয় গ্রহণের বেলায়ও বাছবিচার করতে হবে। এটি ঈমানের অন্যতম শাখা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন- حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ وَ الْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَ مَا أَكَلَ السَّبُعُ إِلَّا مَا ذَكَيْتُمْ.
অর্থ: তোমাদের জন্য হারাম করে দেয়া হয়েছে- মৃত পশু, রক্ত, শুকরের গোশত এবং সেসব পশু যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নামে যবেহ করা হয়েছে, যা গলায় ফাঁস লেগে, আঘাত পেয়ে বা উপর থেকে পড়ে গিয়ে বা অন্য পশুর শিঙের আঘাতে অথবা যা কোনো হিংস্র পশু ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে- তবে তা জীবিত পেয়ে যবেহ করলে ভিন্ন কথা- যা কোনো আস্ত ানায় বলি দেয়া হয়েছে। (সূরা আল মায়েদা-আয়াত: ৩)
সূরা আন'আমে বলা হয়েছে এভাবে- قُلْ لَّا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَى مُحَرَّمًا عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَّسْفُوحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيرٍ فَإِنَّهُ رِجْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ.
অর্থ: বল, আমার প্রতি যে ওহী এসেছে তাতে, লোকে যা খায় তার মধ্যে আমি কিছুই হারাম পাইনি, মৃত জন্তু, প্রবাহমান রক্ত ও শুকরের মাংস ব্যতীত। কেননা এগুলো অবশ্যই অপবিত্র অথবা যা অবৈধ, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে যবেহ করার কারণে।' (সূরা: আন'আম-আয়াত: ১৪৫)
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন- يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَ الْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَنِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ.
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! মাদকদ্রব্য, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারণ তীর এসব শয়তানী কাজ। এসব থেকে বেঁচে থাকো আশা করা যায় যে তোমরা সফলকাম হবে। (সূরা: মায়েদা-আয়াত: ৯০)
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেছেন- قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَ مَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ.
অর্থ: আপনি বলে দিন, আমার প্রতিপালক অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য, আরও হারাম করেছেন গুনাহ এবং অন্যায়-অত্যাচার। (সূরা: আল আ'রাফ-আয়াত: ৩৩)
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আয়েশা থেকে বর্ণিত হয়েছে, আনহু রাসূলুল্লাহ السلام বলেছেন-
كُلُّ شَرَابٍ أَسْكَرَ فَهُوَ حَرَامٌ . অর্থ: নেশা সৃষ্টি করে এমন যে কোনো পানীয়ই হারাম। (সহীহ আল বুখারী-৫৫৮৫, মুসলিম-২০০১)
পবিত্র হালাল খাদ্য গ্রহণে রাসূল বলেছেন-
يَأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا وَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ الْمُرْسَلِينَ.
অর্থ: হে লোক সকল! নিঃসন্দেহে আল্লাহ পবিত্র এবং পবিত্র জিনিস ছাড়া তিনি গ্রহণ করেন না। মু'মিনদেরকে তিনি সেই নির্দেশ দিয়েছেন, যে নির্দেশ নবী-রাসূলদের দিয়েছিলেন।
নির্দেশ ছিল-সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে নু'মান ইবনে বশীর থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
إِنَّ الْحَلَالَ بَيِّنٌ وَالْحَرَامَ بَيِّنٌ وَبَيْنَ ذَلِكَ مُشْتَبِهَاتٌ لَا يَعْلَمُهَا كَثِيرٌ مِّنَ النَّاسِ فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ فَقَدِ اسْتَبْرَ العَرَضِهِ وَدِينِهِ وَمَنْ وَقَعَ فِي الشَّبُهَاتِ وَقَعَ فِي الْحَرَامِ كَالرَّاعِي يَرْعَى حَوْلَ الْحِى يُوْشِكُ أَنْ يَقَعَ فِيهِ أَلَا وَإِنَّ لِكُلِّ مُلْكٍ حِتَّى وَحِيَى اللَّهِ فِي الْأَرْضِ مُحَارِمُهُ.
অর্থ: হালালসমূহ সুস্পষ্ট, হারামসমূহও সুস্পষ্ট, আর কিছু আছে সংশয়যুক্ত, অধিকাংশ মানুষ তা জানেনা। যে সংশয়যুক্ত বিষয় এড়িয়ে চলবে সে নিজের সম্মান ও দ্বীনকে নিরাপদ রাখতে পারবে। আর যে সংশয়যুক্ত বিষয়ে জড়িয়ে পড়বে সে প্রকারান্তরে হারামে লিপ্ত হবে। যেমন কোনো রাখাল যদি সংরক্ষিত চারণভূমির প্রান্তসীমায় তার পশু চরায় তাহলে যে কোনো মুহূর্তে তা সীমালংঘন করতে পারে। সাবধান! প্রত্যেক বাদশাহর যেমন একটি সংরক্ষিত চারণভূমি রয়েছে, তেমনি পৃথিবীতে আল্লাহর সংরক্ষিত চারণভূমি হচ্ছে তার নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ।

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৪০. পোশাক ও সাজসজ্জা বিষয়ে সতর্কতা

📄 ৪০. পোশাক ও সাজসজ্জা বিষয়ে সতর্কতা


ঈমানের শাখা-৪০. পোশাক ও সাজসজ্জা বিষয়ে সতর্কতা
একবার হুযাইফা পানি পান করতে চাইলে এক অগ্নি উপাসক তাঁকে রূপার গ্লাসে পানি এনে দেয় পান করার জন্য। তখন তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল -কে বলতে শুনেছি-
لَا تَلْبِسُوا الْحَرِيرَ وَلَا الدِّيْبَاجَ وَلَا تَشْرَبُوا فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَلَا تَأْكُلُوا فِي صِحَافِهَا فَإِنَّهَا لَهُمْ فِي الدُّنْيَا وَلَكُمْ فِي الْآخِرَةَ.
অর্থ: তোমরা মিহি কিংবা মোটা রেশমী কাপড় পরবে না, সোনা-রূপার পাত্রে পানাহার করবে না। কারণ এসব দুনিয়াতে তাদের (অর্থাৎ কাফিরদের) জন্য এবং আখিরাতে তোমাদের জন্য। (মুসলিম হাদীস-৫২২৬) সহীহ মুসলিমে ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
إِنَّ اللَّهَ جَمِيلٌ يُحِبُّ الْجَمَالَ الْكِبْرُ مَنْ بَطَرَ الْحَقَّ وَغَمَطَ النَّاسَ.
অর্থ: আল্লাহ সুন্দর, তিনি সুন্দরকে পছন্দ করেন, অহংকার মানুষকে সত্য-বিমুখ করে এবং লোকদের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করে। (সহীহ মুসলিম) আবু বুরদা থেকে বর্ণিত, একবার আয়েশা একটি পশমী চাদর ও একটি মোটা কাপড়ের পায়জামা দেখিয়ে বললেন, আল্লাহর রাসূল এগুলো রেখে গেছেন। (সহীহ আল বুখারী ও মুসলিম)
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
لَا يَنْظُرُ اللَّهُ تَعَالَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَى مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ خُيَلَاءَ.
অর্থ: যে ব্যক্তি অহংকারবশত পায়ের গোড়ালীর গিঁটের নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরবে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দিকে তাকিয়েও দেখবেন না। (মুসলিম- ৫৫৭৪)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৪১. শরীয়াতের আদর্শ পরিপন্থি খেলাধুলা বর্জন করা

📄 ৪১. শরীয়াতের আদর্শ পরিপন্থি খেলাধুলা বর্জন করা


ঈমানের শাখা-৪১. শরীয়াতের আদর্শ পরিপন্থি খেলাধুলা বর্জন করা আল্লাহ তা'আলা বলেছেন-
قُلْ مَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ مِنَ اللَّهْوِ وَ مِنَ التِّجَارَةِ.
অর্থ: হে নবী! আপনি তাদেরকে বলে দিন, আল্লাহর কাছে যা কিছু রয়েছে তা খেলাধুলা ও ব্যবসা বাণিজ্যের চেয়ে অনেক উত্তম। (সূরা আল জুমাআ-আয়াত: ১১)
বুরাইদা থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ বলেছেন- রাদিয়াল্লাহু আনহু
مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدِ فَكَأَنَّمَا صَبَغَ يَدَهُ فِي لَحْمِ خِنْزِيرٍ وَدَمِهِ.
অর্থ: যে ব্যক্তি পাশা (জুয়া) খেললো সে যেন তার হাত শূকরের গোশত ও রক্তে রঞ্জিত করল। (সহীহ মুসলিম হাদীস-৫৬৯৯)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00