📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৩৬. মানুষ হত্যা না করা

📄 ৩৬. মানুষ হত্যা না করা


ঈমানের শাখা-৩৬. মানুষ হত্যা না করা
মানুষ হত্যা করা ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে গণ্য। মানুষ হত্যা শরীআতে একেবারেই নিষিদ্ধ। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন-
وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ .
অর্থ: কেউ ইচ্ছাকৃত কোনো ঈমানদারকে হত্যা করলে তার পরিণাম জাহান্নাম। সেখানে সে চিরকাল অবস্থান করবে। আর আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট থাকবেন। (সূরা আন নিসা-আয়াত: ৯৩)
আরও বলা হয়েছে-
وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ.
অর্থ: তোমরা পরস্পর খুন খারাবীতে লিপ্ত হয়ো না। (সূরা আন নিসা: ২৯)
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقَ وَقِتَالُهُ كُفْرٌ .
অর্থ: কোন মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসেকী এবং তার সাথে যুদ্ধ করা কুফরী। (বুখারী-৪৮)
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমের অন্য হাদীসে বলা হয়েছে, নবী করীম বলেছেন-
أَوَّلُ مَا يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي الدِّمَاءِ .
অর্থ: কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম মানুষের মধ্যে খুনের বিচার করা হবে। (বুখারী-৬১৬৮, ৬৪৭১, মুসলিম-১৬৭৮)
উমর থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
لا يَزَالُ الْمُؤْمِنُ فِي فُسَحَةٍ مِّنْ دِينِهِ مَا لَمْ يُصِبْ دَمًا حَرَامًا.
অর্থ: একজন মুসলিম কখনও তার দ্বীনের সীমালঙ্ঘন করে না এবং অযথা রক্তপাত এড়িয়ে চলে, যা আল্লাহ হারাম করেছেন। (বুখারী-৬৪৬৯)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৩৭. লজ্জাস্থানের হিফাযত করা

📄 ৩৭. লজ্জাস্থানের হিফাযত করা


ঈমানের শাখা-৩৭. লজ্জাস্থানের হিফাযত করা
ঈমানের অন্যতম একটি শাখা হচ্ছে লজ্জাস্থানের হিফাযত বা অবৈধ যৌন সম্পর্ক স্থাপন না করা।
সূরা আল মু'মিনুনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ.
অর্থ: (সফল সেসব মু'মিন) যারা তাদের লজ্জাস্থানসমূহের হিফাযত করে। (সূরা আল মুমিনুন-আয়াত: ৫)
লজ্জাস্থানের হিফাযত বলতে যৌনস্পৃহাকে অস্বীকার করা নয়। বৈধপথে যৌন চাহিদা পূরণ করা জায়েয। অবৈধ পথে যৌন চাহিদা পূরণ না করাকে 'লজ্জাস্থানের হিফাযত' বলা হয়েছে। এ কথাটি অন্য আয়াতে সুস্পষ্টভাবে বলে দেয়া হয়েছে এভাবে-
وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنِّي إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا.
অর্থ: তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না, কেননা তা অশ্লীল ও মন্দ পথে নিয়ে যায়। (সূরা বনী ইসরাঈল-আয়াত: ৩২)
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন- لَا يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَسْرِقُ السَّارِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَشْرَبُ الْخَمْرَ حِينَ يَشْرَبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَنْتَهِبُ نُهْبَةً ذَاتَ شَرَفٍ يَرْفَعُ النَّاسُ إِلَيْهِ فِيهَا أَبْصَارَهُمْ حِيْنَ يَنْتَهِبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ.
অর্থ: ব্যভিচারী ব্যভিচারে লিপ্ত থাকাবস্থায় মু'মিন থাকে না। চুরি করার সময় চোরও ঈমানদার থাকে না। মাদকসেবী মাদক সেবনের সময় মু'মিন থাকে না। এমনকি মানুষের চোখের সামনে লুটেরা যখন লুটপাট করতে থাকে তখন সে ঈমানদার থাকে না। (বুখারী-২৪৭৫, সহীহ মুসলিম-৫৭)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৩৮. অন্যায়ভাবে সম্পদ ভোগ বা দখল না করা

📄 ৩৮. অন্যায়ভাবে সম্পদ ভোগ বা দখল না করা


ঈমানের শাখা-৩৮. অন্যায়ভাবে সম্পদ ভোগ বা দখল না করা
অন্যায়ভাবে সম্পদ ভোগ-দখল বলতে বুঝায়, কারো সম্পদ কিম্বা অধিকারকে নিজ দখলে নেওয়া, প্রকৃতভাবে যার ওপর তার অধিকার নেই। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ. অর্থ: তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ-দখল করো না। (সূরা আল বাকারা-আয়াত: ১৮৮)
অন্যত্র বলা হয়েছে- فَبِظُلْمٍ مِنَ الَّذِيْنَ هَادُوا حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَتٍ أُحِلَّتْ لَهُمْ وَ بِصَدِّهِمْ عَنْ سَبِيْلِ اللَّهِ كَثِيرًا ، وَأَخْذِهِمُ الرِّبُوا وَقَدْ نُهُوا عَنْهُ وَأَكْلِهِمُ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ.
অর্থ: তাদের পাপের কারণে এবং আল্লাহর পথে অধিক পরিমাণে বাধা দেয়ার কারণে ইহুদীদের জন্য হারাম করে দিয়েছি অনেক পূতপবিত্র জিনিস যা তাদের জন্য হালাল ছিল। (তাদের আরও অপরাধ ছিল) তারা লোকদের থেকে সুদ গ্রহণ করতো যা তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল; তারা মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করতো। (নিসা-আয়াত: ১৬০-১৬১) সূরা বনী ইসরাঈলের বলা হয়েছে-
وَأَوْفُوا الْكَيْلَ إِذَا كِلْتُمْ وَزِنُوا بِالْقِسْطَاسِ الْمُسْتَقِيمِ. অর্থ: মেপে দেয়ার সময় সঠিকভাবে মেপে দেবে এবং ওজন করে দিলে সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করবে। (সূরা বনী ইসরাঈল-আয়াত: ৩৫)
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, নবী করীম বিদায় হজ্জের দিন মিনায় বলেছেন-
وَإِنَّ دِمَاءَ كُمْ وَأَمْوَالَكُمْ وَأَعْرَاضَكُمْ بَيْنَكُمْ حَرَامٌ .
অর্থ: তোমাদের জীবন, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সম্মানকে পবিত্র ঘোষণা করা হলো। (সহীহ আল বুখারী-৬৭)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৩৯. হারাম খাদ্য ও পানীয় বর্জন করা

📄 ৩৯. হারাম খাদ্য ও পানীয় বর্জন করা


ঈমানের শাখা-৩৯. হারাম খাদ্য ও পানীয় বর্জন করা
খাদ্য ও পানীয় গ্রহণের বেলায়ও বাছবিচার করতে হবে। এটি ঈমানের অন্যতম শাখা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন- حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ وَ الْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَ مَا أَكَلَ السَّبُعُ إِلَّا مَا ذَكَيْتُمْ.
অর্থ: তোমাদের জন্য হারাম করে দেয়া হয়েছে- মৃত পশু, রক্ত, শুকরের গোশত এবং সেসব পশু যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নামে যবেহ করা হয়েছে, যা গলায় ফাঁস লেগে, আঘাত পেয়ে বা উপর থেকে পড়ে গিয়ে বা অন্য পশুর শিঙের আঘাতে অথবা যা কোনো হিংস্র পশু ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে- তবে তা জীবিত পেয়ে যবেহ করলে ভিন্ন কথা- যা কোনো আস্ত ানায় বলি দেয়া হয়েছে। (সূরা আল মায়েদা-আয়াত: ৩)
সূরা আন'আমে বলা হয়েছে এভাবে- قُلْ لَّا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَى مُحَرَّمًا عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَّسْفُوحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيرٍ فَإِنَّهُ رِجْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ.
অর্থ: বল, আমার প্রতি যে ওহী এসেছে তাতে, লোকে যা খায় তার মধ্যে আমি কিছুই হারাম পাইনি, মৃত জন্তু, প্রবাহমান রক্ত ও শুকরের মাংস ব্যতীত। কেননা এগুলো অবশ্যই অপবিত্র অথবা যা অবৈধ, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে যবেহ করার কারণে।' (সূরা: আন'আম-আয়াত: ১৪৫)
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন- يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَ الْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَنِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ.
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! মাদকদ্রব্য, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারণ তীর এসব শয়তানী কাজ। এসব থেকে বেঁচে থাকো আশা করা যায় যে তোমরা সফলকাম হবে। (সূরা: মায়েদা-আয়াত: ৯০)
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেছেন- قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَ مَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ.
অর্থ: আপনি বলে দিন, আমার প্রতিপালক অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য, আরও হারাম করেছেন গুনাহ এবং অন্যায়-অত্যাচার। (সূরা: আল আ'রাফ-আয়াত: ৩৩)
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আয়েশা থেকে বর্ণিত হয়েছে, আনহু রাসূলুল্লাহ السلام বলেছেন-
كُلُّ شَرَابٍ أَسْكَرَ فَهُوَ حَرَامٌ . অর্থ: নেশা সৃষ্টি করে এমন যে কোনো পানীয়ই হারাম। (সহীহ আল বুখারী-৫৫৮৫, মুসলিম-২০০১)
পবিত্র হালাল খাদ্য গ্রহণে রাসূল বলেছেন-
يَأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا وَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ الْمُرْسَلِينَ.
অর্থ: হে লোক সকল! নিঃসন্দেহে আল্লাহ পবিত্র এবং পবিত্র জিনিস ছাড়া তিনি গ্রহণ করেন না। মু'মিনদেরকে তিনি সেই নির্দেশ দিয়েছেন, যে নির্দেশ নবী-রাসূলদের দিয়েছিলেন।
নির্দেশ ছিল-সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে নু'মান ইবনে বশীর থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
إِنَّ الْحَلَالَ بَيِّنٌ وَالْحَرَامَ بَيِّنٌ وَبَيْنَ ذَلِكَ مُشْتَبِهَاتٌ لَا يَعْلَمُهَا كَثِيرٌ مِّنَ النَّاسِ فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ فَقَدِ اسْتَبْرَ العَرَضِهِ وَدِينِهِ وَمَنْ وَقَعَ فِي الشَّبُهَاتِ وَقَعَ فِي الْحَرَامِ كَالرَّاعِي يَرْعَى حَوْلَ الْحِى يُوْشِكُ أَنْ يَقَعَ فِيهِ أَلَا وَإِنَّ لِكُلِّ مُلْكٍ حِتَّى وَحِيَى اللَّهِ فِي الْأَرْضِ مُحَارِمُهُ.
অর্থ: হালালসমূহ সুস্পষ্ট, হারামসমূহও সুস্পষ্ট, আর কিছু আছে সংশয়যুক্ত, অধিকাংশ মানুষ তা জানেনা। যে সংশয়যুক্ত বিষয় এড়িয়ে চলবে সে নিজের সম্মান ও দ্বীনকে নিরাপদ রাখতে পারবে। আর যে সংশয়যুক্ত বিষয়ে জড়িয়ে পড়বে সে প্রকারান্তরে হারামে লিপ্ত হবে। যেমন কোনো রাখাল যদি সংরক্ষিত চারণভূমির প্রান্তসীমায় তার পশু চরায় তাহলে যে কোনো মুহূর্তে তা সীমালংঘন করতে পারে। সাবধান! প্রত্যেক বাদশাহর যেমন একটি সংরক্ষিত চারণভূমি রয়েছে, তেমনি পৃথিবীতে আল্লাহর সংরক্ষিত চারণভূমি হচ্ছে তার নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00