📄 ৩৫. আমানত
ঈমানের শাখা-৩৫. আমানত কেউ কারও কাছে কিছু আমানত বা গচ্ছিত রাখলে তা তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেয়া অবশ্য কর্তব্য। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَتِ إِلَى أَهْلِهَا . অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন, আমানতকে তার প্রাপকের কাছে ফিরিয়ে দিতে। (সূরা আন নিসা-আয়াত: ৫৮) অন্যত্র বলা হয়েছে-
فَإِنْ أَمِنَ بَعْضُكُمْ بَعْضًا فَلْيُؤَدِّ الَّذِي اؤْتُمِنَ أَمَانَتَهُ. অর্থ: যদি একে অন্যের নিকট আমানত রাখে তবে যার নিকট আমানত রাখা হয়েছে তার উচিত অন্যের আমানত ফিরিয়ে দেওয়া। (সবাকারা-২৮৩) আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
ادِ الْأَمَانَةَ إِلَى مَنِ ائْتَمَنَكَ وَلَا تَخُنُ مَنْ خَانَكَ. অর্থ: তোমার কাছে কেউ কিছু আমানাত রাখলে সেই আমানাত তার কাছে ফিরিয়ে দাও আর কেউ যদি তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তবে তুমি তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করো না। (তিরমিযী-১২৬৪, আবু দাউদ-৩৫৩৫) বুখারী ও মুসলিমে বলা হয়েছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
ثَلَاثُ مَنْ كُنَّ فِيْهِ فَهُوَ مُنَافِقٌ وَإِنْ صَامَ وَصَلَّى وَزَعَمَ أَنَّهُ مُسْلِمٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا تُتُمِنَ خَانَ. অর্থ: তিনটি অভ্যাস যার মধ্যে বিদ্যমান থাকবে সে মুনাফিক। যদি রোযা রাখে, নামায পড়ে এবং নিজেকে মুসলিম মনে করে তবুও। অভ্যাস তিনটি হলো- কথা বললে মিথ্যা বলে, কাউকে প্রতিশ্রুতি দিলে তা পূর্ণ করে না এবং তার কাছে কিছু আমানাত রাখা হলে তা খিয়ানত করে বসে। (আহমদ-১০৭০৮, ইবনে হিব্বান-২৫৭)
📄 ৩৬. মানুষ হত্যা না করা
ঈমানের শাখা-৩৬. মানুষ হত্যা না করা
মানুষ হত্যা করা ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে গণ্য। মানুষ হত্যা শরীআতে একেবারেই নিষিদ্ধ। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন-
وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ .
অর্থ: কেউ ইচ্ছাকৃত কোনো ঈমানদারকে হত্যা করলে তার পরিণাম জাহান্নাম। সেখানে সে চিরকাল অবস্থান করবে। আর আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট থাকবেন। (সূরা আন নিসা-আয়াত: ৯৩)
আরও বলা হয়েছে-
وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ.
অর্থ: তোমরা পরস্পর খুন খারাবীতে লিপ্ত হয়ো না। (সূরা আন নিসা: ২৯)
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقَ وَقِتَالُهُ كُفْرٌ .
অর্থ: কোন মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসেকী এবং তার সাথে যুদ্ধ করা কুফরী। (বুখারী-৪৮)
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমের অন্য হাদীসে বলা হয়েছে, নবী করীম বলেছেন-
أَوَّلُ مَا يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي الدِّمَاءِ .
অর্থ: কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম মানুষের মধ্যে খুনের বিচার করা হবে। (বুখারী-৬১৬৮, ৬৪৭১, মুসলিম-১৬৭৮)
উমর থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
لا يَزَالُ الْمُؤْمِنُ فِي فُسَحَةٍ مِّنْ دِينِهِ مَا لَمْ يُصِبْ دَمًا حَرَامًا.
অর্থ: একজন মুসলিম কখনও তার দ্বীনের সীমালঙ্ঘন করে না এবং অযথা রক্তপাত এড়িয়ে চলে, যা আল্লাহ হারাম করেছেন। (বুখারী-৬৪৬৯)
📄 ৩৭. লজ্জাস্থানের হিফাযত করা
ঈমানের শাখা-৩৭. লজ্জাস্থানের হিফাযত করা
ঈমানের অন্যতম একটি শাখা হচ্ছে লজ্জাস্থানের হিফাযত বা অবৈধ যৌন সম্পর্ক স্থাপন না করা।
সূরা আল মু'মিনুনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ.
অর্থ: (সফল সেসব মু'মিন) যারা তাদের লজ্জাস্থানসমূহের হিফাযত করে। (সূরা আল মুমিনুন-আয়াত: ৫)
লজ্জাস্থানের হিফাযত বলতে যৌনস্পৃহাকে অস্বীকার করা নয়। বৈধপথে যৌন চাহিদা পূরণ করা জায়েয। অবৈধ পথে যৌন চাহিদা পূরণ না করাকে 'লজ্জাস্থানের হিফাযত' বলা হয়েছে। এ কথাটি অন্য আয়াতে সুস্পষ্টভাবে বলে দেয়া হয়েছে এভাবে-
وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنِّي إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا.
অর্থ: তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না, কেননা তা অশ্লীল ও মন্দ পথে নিয়ে যায়। (সূরা বনী ইসরাঈল-আয়াত: ৩২)
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন- لَا يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَسْرِقُ السَّارِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَشْرَبُ الْخَمْرَ حِينَ يَشْرَبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَنْتَهِبُ نُهْبَةً ذَاتَ شَرَفٍ يَرْفَعُ النَّاسُ إِلَيْهِ فِيهَا أَبْصَارَهُمْ حِيْنَ يَنْتَهِبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ.
অর্থ: ব্যভিচারী ব্যভিচারে লিপ্ত থাকাবস্থায় মু'মিন থাকে না। চুরি করার সময় চোরও ঈমানদার থাকে না। মাদকসেবী মাদক সেবনের সময় মু'মিন থাকে না। এমনকি মানুষের চোখের সামনে লুটেরা যখন লুটপাট করতে থাকে তখন সে ঈমানদার থাকে না। (বুখারী-২৪৭৫, সহীহ মুসলিম-৫৭)
📄 ৩৮. অন্যায়ভাবে সম্পদ ভোগ বা দখল না করা
ঈমানের শাখা-৩৮. অন্যায়ভাবে সম্পদ ভোগ বা দখল না করা
অন্যায়ভাবে সম্পদ ভোগ-দখল বলতে বুঝায়, কারো সম্পদ কিম্বা অধিকারকে নিজ দখলে নেওয়া, প্রকৃতভাবে যার ওপর তার অধিকার নেই। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ. অর্থ: তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ-দখল করো না। (সূরা আল বাকারা-আয়াত: ১৮৮)
অন্যত্র বলা হয়েছে- فَبِظُلْمٍ مِنَ الَّذِيْنَ هَادُوا حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَتٍ أُحِلَّتْ لَهُمْ وَ بِصَدِّهِمْ عَنْ سَبِيْلِ اللَّهِ كَثِيرًا ، وَأَخْذِهِمُ الرِّبُوا وَقَدْ نُهُوا عَنْهُ وَأَكْلِهِمُ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ.
অর্থ: তাদের পাপের কারণে এবং আল্লাহর পথে অধিক পরিমাণে বাধা দেয়ার কারণে ইহুদীদের জন্য হারাম করে দিয়েছি অনেক পূতপবিত্র জিনিস যা তাদের জন্য হালাল ছিল। (তাদের আরও অপরাধ ছিল) তারা লোকদের থেকে সুদ গ্রহণ করতো যা তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল; তারা মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করতো। (নিসা-আয়াত: ১৬০-১৬১) সূরা বনী ইসরাঈলের বলা হয়েছে-
وَأَوْفُوا الْكَيْلَ إِذَا كِلْتُمْ وَزِنُوا بِالْقِسْطَاسِ الْمُسْتَقِيمِ. অর্থ: মেপে দেয়ার সময় সঠিকভাবে মেপে দেবে এবং ওজন করে দিলে সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করবে। (সূরা বনী ইসরাঈল-আয়াত: ৩৫)
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, নবী করীম বিদায় হজ্জের দিন মিনায় বলেছেন-
وَإِنَّ دِمَاءَ كُمْ وَأَمْوَالَكُمْ وَأَعْرَاضَكُمْ بَيْنَكُمْ حَرَامٌ .
অর্থ: তোমাদের জীবন, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সম্মানকে পবিত্র ঘোষণা করা হলো। (সহীহ আল বুখারী-৬৭)