📄 ২৯. গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ আদায়ে বিশ্বাস
ঈমানের শাখা-২৯. গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ আদায়ে বিশ্বাস
যুদ্ধে শত্রুপক্ষের পরিত্যক্ত সম্পদ, ইসলামী পরিভাষায় যাকে 'গানিয়া' বা 'গানিমাত' বলা হয়, সম্পূর্ণ সম্পদের ২০% রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে পরিগণিত হয়। সরকার প্রধান কিংবা তাঁর কোনো প্রতিনিধির মাধ্যমে তা গৃহীত হয়। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার ঘোষণা- وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَ الْيَتَى وَ الْمَسْكِينِ وَ ابْنِ السَّبِيلِ إِنْ كُنْتُمْ آمَنْتُمْ بِاللَّهِ وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَى عَبْدِنَا.
অর্থ: আরও জেনে রাখো, গনিমত হিসেবে যা কিছু তোমরা পাবে তার এক-পঞ্চমাংশ (২০%) হচ্ছে আল্লাহর, তাঁর রাসূলের তাঁর নিকটাত্মীয়-স্বজনের এবং ইয়াতিম, অসহায় ও পর্যটকদের জন্য। যদি তোমরা আল্লাহর উপর এবং তিনি তাঁর বান্দার উপর যা কিছু নাযিল করেছেন তার উপর বিশ্বাসী হও। (সূরা আল আনফাল-আয়াত: ৪১)
অন্য জায়গায় বলা হয়েছে- وَمَا كَانَ لِنَبِي أَنْ يَغُلَّ وَ مَنْ يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيمَةِ.
অর্থ: কোনো বস্তু গোপন করে রাখা নবীর কাজ নয়। যে ব্যক্তি কোনো জিনিস গোপন বা আত্মসাৎ করবে সে কিয়ামতের দিন সেই জিনিস নিয়েই উঠবে। (সূরা আলে ইমরান-আয়াত: ১৬১)
📄 ৩০. দাসত্ব মোচন করা
ঈমানের শাখা-৩০. দাসত্ব মোচন করা পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন-
فَلَا اقْتَحَمَ الْعَقَبَةَ. وَمَا أَدْرِيكَ مَا الْعَقَبَةُ فَكُ رَقَبَةٍ . ৪৭ অর্থ: কিন্তু সেই দুর্গম-বন্ধুর ঘাঁটিপথ অতিক্রম করার সাহস করেনি। আপনি কি জানেন সেই দুর্গম-বন্ধুর ঘাঁটিপথ কী? কোনো ঘাড় হতে দাসত্বের শৃঙ্খল মুক্ত করা। (সূরা আল বালাদ-আয়াত: ১১, ১২, ১৩)
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত এক হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
مَنْ أَعْتَقَ رَقَبَةً اَعْتَقَ اللهُ بِكُلِّ عُضْرٍ مِنْهَا وَعُضُوا مِنْ أَعْضَائِهِ مِنَ النَّارِ حَتَّى فَرْجَهُ بِفَرْجِهِ. অর্থ: যে ব্যক্তি কোনো ক্রীতদাসকে মুক্ত করে দেবে সেই ক্রীতদাসের প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে আল্লাহ মুক্তিদাতার প্রতিটি অঙ্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে হিফাযত করবেন। এমনকি লজ্জাস্থানের বিনিময়ে তার লজ্জাস্থানও। (সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম-৩৬৫৪)
📄 ৩১. কাফফারা (প্রতিকার)
ঈমানের শাখা-৩১. কাফফারা (প্রতিকার)
আল কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী চারটি অপরাধের বিনিময় প্রদানের নাম কাফফারা। অপরাধগুলো হচ্ছে-
১. হত্যা,
২. জিহার (স্ত্রীকে মায়ের কোনো অঙ্গের সাথে তুলনা করা),
৩. শপথ এবং
৪. রমযানের দিনের বেলা স্ত্রীকে নিয়ে বিছানায় যাওয়া।
শরী‘আহ যে জরিমানা নির্দিষ্ট করেছে তাকে ফিদওয়া বলা হয়। ফিদয়া শুধু আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তিই নয় এটি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে।
📄 ৩২. চুক্তি লংঘন না করা
ঈমানের শাখা-৩২. চুক্তি লংঘন না করা আল্লাহ তা'আলা বলেন-
أَوْفُوا بِالْعُقُودِ.
অর্থ: 'তোমরা চুক্তিসমূহ পূর্ণ কর।' (সূরা আল মায়িদা-আয়াত: ১)
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেছেন, চুক্তি বলতে এখানে আল কুরআনে যা কিছু হালাল করা হয়েছে, যা কিছু হারাম করা হয়েছে, যা কিছু ফরয করা হয়েছে এবং যে সীমা পরিসীমা বলে দেয়া হয়েছে তার সবকিছুকেই বুঝানো হয়েছে। মহান আল্লাহ আরও বলেন-
يُوفُونَ بِالنَّذْرِ.
অর্থ: 'যারা মানত পূরণ করে।' (সূরা আদ-দাহর-আয়াত: ৭)
সূরা আন নাহল এ বলা হয়েছে-
وَأَوْفُوْا بِعَهْدِ اللَّهِ إِذَا عَهَدْتُمْ وَلَا تَنْقُضُوا الْأَيْمَانَ بَعْدَ تَوْكِيْدِهَا.
অর্থ: 'আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করার পর সেই অঙ্গীকার পূর্ণ কর। আর পরিপূর্ণ কসম করার পর তা ভঙ্গ করো না। (সূরা নাহল-আয়াত: ৯১)
সহীহ আল বুখারীতে ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُقَالُ هَذِهِ غَدْرَةٌ فُلَانٍ.
অর্থ: কিয়ামতের দিন প্রত্যেক ওয়াদা ভঙ্গকারীর একটি পরিচিত ব্যানার থাকবে, সেই ব্যানারই বলে দেবে সে কী ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। (সহীহ বুখারী)
আনহু সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
أَرْبَعُ مَنْ كُنَّ فِيْهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا وَمَنْ كَانَتْ فِيْهِ خَصْلَةٌ مِّنْهُنَّ كَانَتْ فِيْهِ خَصْلَةٌ مِّنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ . وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ.
অর্থ: চারটি বৈশিষ্ট্য একসাথে যার ভেতর পাওয়া যাবে সে পুরোপুরি মুনাফিক। আর যদি সেই বৈশিষ্ট্যের কোনো একটি বৈশিষ্ট্য কারো মধ্যে পাওয়া যায় তাহলে মুনাফেকীর একটি চরিত্র রয়েছে বলা যায়, যতক্ষণ না সে তা পরিহার করে।
১. কথা বললে মিথ্যা বলে।
২. চুক্তি করলে তা ভঙ্গ করে।
৩. কাউকে কোনো প্রতিশ্রুতি দিলে তা রক্ষা করে না
৪. কারও সাথে ঝগড়া হলে সে বেফাঁস কথাবার্তা বলে। (সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম)
আনহু আব্দুল্লাহ ইবনে আমের আল জুহানী থেকে সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
إِنَّ أَحَقَّ الشَّرْطِ أَنْ يُؤْفَى بِهِ مَا اسْتَحْلَلْتُمْ بِهِ الْفُرُونَ.
অর্থ: যে শর্তের মাধ্যমে তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের লজ্জাস্থান বৈধ করে নিয়েছ, তা পূর্ণ করার দিক থেকে সর্বাধি গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকার। (সহীহ মুসলিম-৩৩৩৭)