📄 ২৮. শত্রুর মোকাবেলায় দৃঢ় থাকা
ঈমানের শাখা-২৮. শত্রুর মোকাবেলায় দৃঢ় থাকা আল্লাহ তায়ালা বলেন-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا. ৪৫
অর্থ: যে ঈমানদারগণ! যখন কোনো বাহিনীর সাথে সংঘাতে লিপ্ত হও তখন সুদৃঢ় থাকো। (সূরা আল আনফাল-আয়াত: ৪৫) অন্যত্র আরও বলা হয়েছে-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا زَحْفًا فَلَا تُوَلُّوهُمُ الْأَدْبَارَ وَ مَنْ يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَةً إِلَّا مُتَحَرِّفًا لِقِتَالٍ أَوْ مُتَحَيِّزًا إِلَى فِئَةٍ فَقَدْ بَاءَ بِغَضَبٍ مِّنَ اللَّهِ وَ مَأْواهُ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ .
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন যুদ্ধরত অবস্থায় কাফিরদের মুখোমুখী হবে তখন আর পেছন ফিরে আসবে না। অবশ্য লড়াইয়ের কৌশল অথবা নিজ সৈন্যদের সাথে একত্রিত হতে চাইলে ভিন্ন কথা। যদি কেউ পেছন ফিরে আসে সে যেন আল্লাহর গযব নিয়ে এলো। তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আবাসস্থল হিসেবে তা নিতান্তই নিকৃষ্ট। (আনফাল- ১৫,১৬) অন্যত্র বলা হয়েছে-
يَأَيُّهَا النَّبِيُّ حَرِضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ إِنْ يَكُنُ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صُبِرُونَ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ وَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِائَةٌ يَغْلِبُونَا الْفًا.
অর্থ: হে নবী! আপনি মুমিনদেরকে জিহাদের জন্য উৎসাহিত করুন। (বলুন) তোমাদের মধ্যে যদি বিশজন দৃঢ় ব্যক্তি থাকে তাহলে দু'শ জনের মোকাবেলায় বিজয় হবে। আর যদি তোমাদের মধ্যে একশ' জন থাকে তাহলে বিজয়ী হবে হাজার জনের উপর। (সূরা আনফাল-আয়াত: ৬৫)
📄 ২৯. গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ আদায়ে বিশ্বাস
ঈমানের শাখা-২৯. গনিমতের এক-পঞ্চমাংশ আদায়ে বিশ্বাস
যুদ্ধে শত্রুপক্ষের পরিত্যক্ত সম্পদ, ইসলামী পরিভাষায় যাকে 'গানিয়া' বা 'গানিমাত' বলা হয়, সম্পূর্ণ সম্পদের ২০% রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে পরিগণিত হয়। সরকার প্রধান কিংবা তাঁর কোনো প্রতিনিধির মাধ্যমে তা গৃহীত হয়। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার ঘোষণা- وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَ الْيَتَى وَ الْمَسْكِينِ وَ ابْنِ السَّبِيلِ إِنْ كُنْتُمْ آمَنْتُمْ بِاللَّهِ وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَى عَبْدِنَا.
অর্থ: আরও জেনে রাখো, গনিমত হিসেবে যা কিছু তোমরা পাবে তার এক-পঞ্চমাংশ (২০%) হচ্ছে আল্লাহর, তাঁর রাসূলের তাঁর নিকটাত্মীয়-স্বজনের এবং ইয়াতিম, অসহায় ও পর্যটকদের জন্য। যদি তোমরা আল্লাহর উপর এবং তিনি তাঁর বান্দার উপর যা কিছু নাযিল করেছেন তার উপর বিশ্বাসী হও। (সূরা আল আনফাল-আয়াত: ৪১)
অন্য জায়গায় বলা হয়েছে- وَمَا كَانَ لِنَبِي أَنْ يَغُلَّ وَ مَنْ يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيمَةِ.
অর্থ: কোনো বস্তু গোপন করে রাখা নবীর কাজ নয়। যে ব্যক্তি কোনো জিনিস গোপন বা আত্মসাৎ করবে সে কিয়ামতের দিন সেই জিনিস নিয়েই উঠবে। (সূরা আলে ইমরান-আয়াত: ১৬১)
📄 ৩০. দাসত্ব মোচন করা
ঈমানের শাখা-৩০. দাসত্ব মোচন করা পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন-
فَلَا اقْتَحَمَ الْعَقَبَةَ. وَمَا أَدْرِيكَ مَا الْعَقَبَةُ فَكُ رَقَبَةٍ . ৪৭ অর্থ: কিন্তু সেই দুর্গম-বন্ধুর ঘাঁটিপথ অতিক্রম করার সাহস করেনি। আপনি কি জানেন সেই দুর্গম-বন্ধুর ঘাঁটিপথ কী? কোনো ঘাড় হতে দাসত্বের শৃঙ্খল মুক্ত করা। (সূরা আল বালাদ-আয়াত: ১১, ১২, ১৩)
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত এক হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
مَنْ أَعْتَقَ رَقَبَةً اَعْتَقَ اللهُ بِكُلِّ عُضْرٍ مِنْهَا وَعُضُوا مِنْ أَعْضَائِهِ مِنَ النَّارِ حَتَّى فَرْجَهُ بِفَرْجِهِ. অর্থ: যে ব্যক্তি কোনো ক্রীতদাসকে মুক্ত করে দেবে সেই ক্রীতদাসের প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে আল্লাহ মুক্তিদাতার প্রতিটি অঙ্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে হিফাযত করবেন। এমনকি লজ্জাস্থানের বিনিময়ে তার লজ্জাস্থানও। (সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম-৩৬৫৪)
📄 ৩১. কাফফারা (প্রতিকার)
ঈমানের শাখা-৩১. কাফফারা (প্রতিকার)
আল কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী চারটি অপরাধের বিনিময় প্রদানের নাম কাফফারা। অপরাধগুলো হচ্ছে-
১. হত্যা,
২. জিহার (স্ত্রীকে মায়ের কোনো অঙ্গের সাথে তুলনা করা),
৩. শপথ এবং
৪. রমযানের দিনের বেলা স্ত্রীকে নিয়ে বিছানায় যাওয়া।
শরী‘আহ যে জরিমানা নির্দিষ্ট করেছে তাকে ফিদওয়া বলা হয়। ফিদয়া শুধু আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তিই নয় এটি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে।