📄 ২৫. হজ্জ করা
ঈমানের শাখা-২৫. হজ্জ করা
হজ্জ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন- وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا .
অর্থ: এ ঘরে হজ্জ করা মানুষের কাছে আল্লাহ প্রাপ্য (দাবি)।' অবশ্য যার সামার্থ্য রয়েছে এ অবধি পৌঁছার। (সূরা আলে ইমরান-আয়াত: ৯৭)
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন- بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَايْتَاءِ الزَّكَاةِ وَحَجِ الْبَيْتِ وَصَوْمِ رَمَضَانَ .
অর্থ: পাঁচটি বিষয়ের উপর ইসলামের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত।
১. আল্লাহ ছাড়া কোনো যোগ্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল'- এ কথার সাক্ষ্য দেয়া,
২. সালাত কায়েম করা,
৩. যাকাত দেয়া,
৪. বাইতুল্লাহর হজ্জ করা এবং
৫. রমযানের রোযা রাখা। (সহীহ আল বুখারী-৮ সহীহ মুসলিম-১৬)
📄 ২৬. জিহাদ (সংগ্রাম)
ঈমানের শাখা-২৬. জিহাদ (সংগ্রাম)
আল্লাহর পথে সংগ্রাম বা জিহাদও ঈমানের অন্যতম অংশ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ. অর্থ: তোমরা সংগ্রাম (জিহাদ) কর আল্লাহর জন্য, যে রকম সংগ্রাম করা উচিত। (সূরা আল হজ্জ, আয়াত: ৭৮)
অন্য জায়গায় বলা হয়েছে-
يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَخَافُوْنَ لَوْمَةَ لائِمٍ . অর্থ: তারা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে এবং কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে তারা পরওয়া করে না। (সূরা আল মায়েদা, আয়াত: ৫৪)
সূরা আত তাওবায় বলা হয়েছে-
قَاتِلُوا الَّذِينَ يَلُوْنَكُمْ مِّنَ الْكُفَّارِ وَلْيَجِدُوا فِيكُمْ غِلْظَةً. অর্থ: যেসব কাফির তোমাদের কাছাকাছি রয়েছে তোমরা তাদের সাথে লড়াই করো, তারা যেন বুঝতে পারে তোমাদের মধ্যে কঠোরতা আছে। (সূরা: আত তাওবা-আয়াত: ১২৩)
অন্য জায়গায় বলা হয়েছে-
يَأَيُّهَا النَّبِيُّ حَرْضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ. অর্থ: হে নবী! আপনি ঈমানদারদেরকে লড়াইয়ের জন্য উৎসাহিত করুন। (সূরা: আল আনফাল-আয়াত: ৬৫)
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ -কে প্রশ্ন করা হয়েছিল-
أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ إِيْمَانُ بِاللَّهِ وَرَسُوْلِهِ قِيلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ جِهَادٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قِيلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ حَجَّ مَبْرُورٌ .
অর্থ: কোন আমলটি উত্তম? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস। জিজ্ঞেস করা হলো- তারপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে সংগ্রাম (জিহাদ)। আবার জিজ্ঞেস করা হলো- তারপর কোনটি? তিনি বললেন- মাবরুর হজ্জ (অর্থাৎ কবুল কৃত হজ্জ)। (সহীহ আল বুখারী-১৫১৯, সহীহ মুসলিম-৮৩)
সহীহ আল বুখারীতে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
لَا تَتَمَنَّوْا لِقَاءَ الْعَدُوِّ وَسْأَلُوا اللَّهَ الْعَافِيَةَ فَإِذَا لَقِيتُمُوهُمْ فَأَصْبِرُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ ظِلَالِ السُّيُوفِ.
অর্থ : তোমরা শত্রুর সাথে সাক্ষাতের জন্য উদগ্রীব হয়ো না। আর আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করতে থাক। যখন তোমরা তাদের মুখোমুখি হয়ে যাবে তখন ধৈর্যধারণ করবে। জেনে রেখো-জান্নাত তরবারীর ছায়াতলে। অর্থাৎ শত্রুর সাথে যুদ্ধ চেয়ে নিও না। একান্তই প্রয়োজন না হলে যুদ্ধ এড়িয়ে চলবে। কিন্তু যুদ্ধ যদি অনিবার্য হয়ে উঠে কিম্বা শত্রুর পক্ষ থেকে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয় তবে এই সন্ধিক্ষণে যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করবে না। বরং ধৈর্যের সাথে আল্লাহর উপর ভরসা করে লড়াই চালিয়ে যাবে। তার পরাজয় আল্লাহর হাতে। (মুসলিম- ৪৬৪০)
📄 ২৭. আল্লাহর পথে পাহারা (মুরাবাতাহ)
ঈমানের শাখা-২৭. আল্লাহর পথে পাহারা (মুরাবাতাহ) আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا.
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! ধৈর্যের পথ অবলম্বন কর, বাতিলের মোকাবেলায় অটল থাকো এবং শত্রুর মোকাবেলায় সদাপ্রস্তুত থাকো। (সূরা আলে ইমরান-আয়াত; ২০০)
আনহু সহীহ আল বুখারীতে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফা থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
رِبَاطُ يَوْمٍ فِي سَبِيلِ اللهِ خَيْرٌ مِّنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَمَوْضِعُ سَوْطِ أَحَدِكُمْ مِنَ الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا عَلَيْهَا.
অর্থ: আল্লাহর পথে একদিন পাহারা দেয়া পৃথিবী এবং তার মধ্যস্থিত সবকিছু থেকে উত্তম। তোমাদের কারও একটি চাবুক রাখতে যে জায়গাটুকু লাগে জান্নাতের সেই জায়গাটুকু গোটা পৃথিবী ও তার মধ্যস্থিত সবকিছু থেকে উত্তম।'
সংগ্রাম (জিহাদ) কিংবা লড়াই (কিতাল)-এর সময় একটি দিন অথবা একটি রাত শত্রুর মোকাবেলায় পাহারায় কাটানো, মসজিদে ইতিকাফে বসে সারাক্ষণ নামাযরত অবস্থায় থাকার চেয়ে উত্তম।
📄 ২৮. শত্রুর মোকাবেলায় দৃঢ় থাকা
ঈমানের শাখা-২৮. শত্রুর মোকাবেলায় দৃঢ় থাকা আল্লাহ তায়ালা বলেন-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا. ৪৫
অর্থ: যে ঈমানদারগণ! যখন কোনো বাহিনীর সাথে সংঘাতে লিপ্ত হও তখন সুদৃঢ় থাকো। (সূরা আল আনফাল-আয়াত: ৪৫) অন্যত্র আরও বলা হয়েছে-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا زَحْفًا فَلَا تُوَلُّوهُمُ الْأَدْبَارَ وَ مَنْ يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَةً إِلَّا مُتَحَرِّفًا لِقِتَالٍ أَوْ مُتَحَيِّزًا إِلَى فِئَةٍ فَقَدْ بَاءَ بِغَضَبٍ مِّنَ اللَّهِ وَ مَأْواهُ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ .
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন যুদ্ধরত অবস্থায় কাফিরদের মুখোমুখী হবে তখন আর পেছন ফিরে আসবে না। অবশ্য লড়াইয়ের কৌশল অথবা নিজ সৈন্যদের সাথে একত্রিত হতে চাইলে ভিন্ন কথা। যদি কেউ পেছন ফিরে আসে সে যেন আল্লাহর গযব নিয়ে এলো। তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আবাসস্থল হিসেবে তা নিতান্তই নিকৃষ্ট। (আনফাল- ১৫,১৬) অন্যত্র বলা হয়েছে-
يَأَيُّهَا النَّبِيُّ حَرِضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ إِنْ يَكُنُ مِنْكُمْ عِشْرُونَ صُبِرُونَ يَغْلِبُوا مِائَتَيْنِ وَإِنْ يَكُنْ مِنْكُمْ مِائَةٌ يَغْلِبُونَا الْفًا.
অর্থ: হে নবী! আপনি মুমিনদেরকে জিহাদের জন্য উৎসাহিত করুন। (বলুন) তোমাদের মধ্যে যদি বিশজন দৃঢ় ব্যক্তি থাকে তাহলে দু'শ জনের মোকাবেলায় বিজয় হবে। আর যদি তোমাদের মধ্যে একশ' জন থাকে তাহলে বিজয়ী হবে হাজার জনের উপর। (সূরা আনফাল-আয়াত: ৬৫)