📄 ২৩. সিয়াম (রোযা)
ঈমানের শাখা-২৩. সিয়াম (রোযা)
ঈমানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সিয়াম বা রোযা। সিয়ামের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ .
অর্থ : 'হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে। যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। (সূরা আল বাকারা-আয়াত: ১৮৩)
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَإِقَامُ الصَّلَاةَ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَحَجِ الْبَيْتِ وَصَوْمِ رَمَضَانَ.
অর্থ : পাঁচটি বিষয়ের উপর ইসলামের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত।
১. আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল- এ কথার সাক্ষ্য দেয়া,
২. সালাত কায়েম করা,
৩. যাকাত আদায় করা,
৪. বাইতুল্লাহ শরীফ হজ্জ পালন করা এবং
৫. রমযানের সিয়াম পালন করা। (সহীহ মুসলিম-২১)
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবী করীম বলেছেন-
كُلٌّ حَسَنَةٍ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِ مِأَةِ ضِعْفٍ . قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَ : إِلَّا الصَّوْمُ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ.
অর্থ: প্রতিটি নেক কাজের বিনিময় দশ গুণ থেকে সাতশ'গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দেয়া হয়।' আল্লাহ আযযা ও জাল্লা বলেন- 'রোযার বিনিময় ছাড়া। কারণ রোযা আমার জন্য তাই আমিই তার বিনিময় দিব।' (তিরমিযী-৭৬৪) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে বলা হয়েছে-
لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ. অর্থ: 'রোযাদারের জন্য দুটো খুশীর সময় রয়েছে। একটি যখন সে ইফতার করে (রোযাপূর্ণ করে), আরেকটি যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে।' (মুসলিম-১১৫১) অন্য হাদীসে বলা হয়েছে-
لَخَلُوْفٌ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيْحِ الْمِسْكِ. অর্থ: রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের সুগন্ধির চেয়েও প্রিয়। (বুখারী-১৯০৪) (যেহেতু আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সারাদিন অনাহারে থেকে মুখে গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে।) এ সম্পর্কে আরও বলা হয়েছে-
الصَّوْمُ جُنَّةٌ. অর্থ: 'রোযা হচ্ছে ঢালস্বরূপ।' (সহীহ মুসলিম-১১৫১)
📄 ২৪. ই'তিকাফ
ঈমানের শাখা-২৪. ই'তিকাফ ই'তিকাফ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَ عَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَعِيلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعُكِفِينَ وَ الرُّكَّعِ السُّجُودِ.
অর্থ: আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ই'তিকাফকারী ও রুকু সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ। (সূরা আল বাকারা-আয়াত: ১২৫)
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আয়েশা থেকে রাসূলুল্লাহ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে-
كَانَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللَّهُ ثُمَّ اعْتَكَفَ أَزْوَاجُهُ مِنْ بَعْدِهِ.
অর্থ: রাসূলুল্লাহ আমৃত্যু রমযানের শেষ দশকে ই'তিকাফ করেছেন। রাসূল-এর ইন্তিকালের পর তাঁর স্ত্রীগণও রমযানের শেষ দশকে ই'তিকাফ করতেন। (বুখারী-২০২৬, মুসলিম-১১৭২)
📄 ২৫. হজ্জ করা
ঈমানের শাখা-২৫. হজ্জ করা
হজ্জ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন- وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا .
অর্থ: এ ঘরে হজ্জ করা মানুষের কাছে আল্লাহ প্রাপ্য (দাবি)।' অবশ্য যার সামার্থ্য রয়েছে এ অবধি পৌঁছার। (সূরা আলে ইমরান-আয়াত: ৯৭)
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন- بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَايْتَاءِ الزَّكَاةِ وَحَجِ الْبَيْتِ وَصَوْمِ رَمَضَانَ .
অর্থ: পাঁচটি বিষয়ের উপর ইসলামের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত।
১. আল্লাহ ছাড়া কোনো যোগ্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল'- এ কথার সাক্ষ্য দেয়া,
২. সালাত কায়েম করা,
৩. যাকাত দেয়া,
৪. বাইতুল্লাহর হজ্জ করা এবং
৫. রমযানের রোযা রাখা। (সহীহ আল বুখারী-৮ সহীহ মুসলিম-১৬)
📄 ২৬. জিহাদ (সংগ্রাম)
ঈমানের শাখা-২৬. জিহাদ (সংগ্রাম)
আল্লাহর পথে সংগ্রাম বা জিহাদও ঈমানের অন্যতম অংশ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ. অর্থ: তোমরা সংগ্রাম (জিহাদ) কর আল্লাহর জন্য, যে রকম সংগ্রাম করা উচিত। (সূরা আল হজ্জ, আয়াত: ৭৮)
অন্য জায়গায় বলা হয়েছে-
يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَخَافُوْنَ لَوْمَةَ لائِمٍ . অর্থ: তারা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে এবং কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে তারা পরওয়া করে না। (সূরা আল মায়েদা, আয়াত: ৫৪)
সূরা আত তাওবায় বলা হয়েছে-
قَاتِلُوا الَّذِينَ يَلُوْنَكُمْ مِّنَ الْكُفَّارِ وَلْيَجِدُوا فِيكُمْ غِلْظَةً. অর্থ: যেসব কাফির তোমাদের কাছাকাছি রয়েছে তোমরা তাদের সাথে লড়াই করো, তারা যেন বুঝতে পারে তোমাদের মধ্যে কঠোরতা আছে। (সূরা: আত তাওবা-আয়াত: ১২৩)
অন্য জায়গায় বলা হয়েছে-
يَأَيُّهَا النَّبِيُّ حَرْضِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى الْقِتَالِ. অর্থ: হে নবী! আপনি ঈমানদারদেরকে লড়াইয়ের জন্য উৎসাহিত করুন। (সূরা: আল আনফাল-আয়াত: ৬৫)
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ -কে প্রশ্ন করা হয়েছিল-
أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ إِيْمَانُ بِاللَّهِ وَرَسُوْلِهِ قِيلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ جِهَادٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قِيلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ حَجَّ مَبْرُورٌ .
অর্থ: কোন আমলটি উত্তম? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস। জিজ্ঞেস করা হলো- তারপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে সংগ্রাম (জিহাদ)। আবার জিজ্ঞেস করা হলো- তারপর কোনটি? তিনি বললেন- মাবরুর হজ্জ (অর্থাৎ কবুল কৃত হজ্জ)। (সহীহ আল বুখারী-১৫১৯, সহীহ মুসলিম-৮৩)
সহীহ আল বুখারীতে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
لَا تَتَمَنَّوْا لِقَاءَ الْعَدُوِّ وَسْأَلُوا اللَّهَ الْعَافِيَةَ فَإِذَا لَقِيتُمُوهُمْ فَأَصْبِرُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ ظِلَالِ السُّيُوفِ.
অর্থ : তোমরা শত্রুর সাথে সাক্ষাতের জন্য উদগ্রীব হয়ো না। আর আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করতে থাক। যখন তোমরা তাদের মুখোমুখি হয়ে যাবে তখন ধৈর্যধারণ করবে। জেনে রেখো-জান্নাত তরবারীর ছায়াতলে। অর্থাৎ শত্রুর সাথে যুদ্ধ চেয়ে নিও না। একান্তই প্রয়োজন না হলে যুদ্ধ এড়িয়ে চলবে। কিন্তু যুদ্ধ যদি অনিবার্য হয়ে উঠে কিম্বা শত্রুর পক্ষ থেকে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয় তবে এই সন্ধিক্ষণে যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করবে না। বরং ধৈর্যের সাথে আল্লাহর উপর ভরসা করে লড়াই চালিয়ে যাবে। তার পরাজয় আল্লাহর হাতে। (মুসলিম- ৪৬৪০)