📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ২১. সালাত (নামায)

📄 ২১. সালাত (নামায)


ঈমানের শাখা-২১. সালাত (নামায)
দৈনিক পাঁচবার সালাত প্রতিষ্ঠিত করাকে অত্যাবশ্যকীয় (ফরয) করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
إِنَّ الصَّلوةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا. অর্থ: নিশ্চয়ই মুমিনদের উপর নামায ফরয করা হয়েছে ওয়াক্ত (সময়) মতো। (সূরা নিসা-আয়াত ১০৩)
হাদীসে বলা হয়েছে-
إِنَّ بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلوةِ. অর্থ: অবশ্যই একজন ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরীর মধ্যে পার্থক্যকারী হচ্ছে সালাত (নামায)। (সহীহ মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজা যাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।)
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলাম, কোন কাজটি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়? জবাবে তিনি বললেন- . الصَّلُوةُ لِوَقْتِهَا অর্থ: সঠিক সময়ে সালাত আদায় করা।' (সহীহ আল বুখারী-৭৫৩৪, সহীহ মুসলিম-৮৫)
উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন- مَا مِنْ اِمْرِيءٍ مُسْلِمٍ تَحْضُرُهُ صَلَاةٌ مَكْتُوبَةٌ فَيَحْسُنُ وُضُوءَهَا وَخُشُوعَهَا وَرُكُوْعَهَا إِلَّا كَانَتْ كُفَّارَةً لَمَّا قَبْلَهَا مِنَ الذُّنُوْبِ مَا لَمْ يُؤْتِ كَبِيرَةً وَذَلِكَ الدَّهْرَ كُلَّهُ . অর্থ: যখন কোনো মুসলিমের ফরয নামাযের সময় উপস্থিত হয়, তখন সে যদি উত্তমরূপে ওযু করে এবং একান্ত বিনয়-নম্রতার সাথে রুকু সিজদা আদায় করে তাহলে সে কবীরা গুনায় লিপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আগের সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়। আর এরূপ সারা বছরই হতে থাকে। (সহীহ মুসলিম-২২৮)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ২২. যাকাত

📄 ২২. যাকাত


ঈমানের শাখা-২২. যাকাত
ঈমানের ২২তম শাখা হচ্ছে যাকাত আদায় করা। নামাযের পরই যাকাতের গুরুত্ব। যাকাত সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللهَ مُখْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلوةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ .
অর্থ: তাদেরকে এছাড়া আর কোনো নির্দেশ দেয়া হয়নি যে, একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। এটিই দ্বীনি স্থায়ী ব্যবস্থাপনা। (সূরা আল বাইয়্যিনাহ, আয়াত: ৫)
সূরা আত তাওবায় বলা হয়েছে-
وَ الَّذِينَ يَكْنِزُوْنَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَ لَا يُنْفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ ، يَوْمَ يُحْلَى عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوَى بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوبُهُمْ وَظُهُورُهُمْ هُذَا مَا كَنَزْتُمْ لِأَنْفُسِكُمْ فَذُوقُوا مَا كُنْتُمْ تَكْنِزُونَ .
অর্থ: আর যারা সোনা রূপা পুঞ্জিভুত করে রাখে, তা থেকে আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সংবাদ জানিয়ে দিন। সেদিন জাহান্নামের আগুনে সেগুলো উত্তপ্ত করা হবে। তা দিয়ে তাদের মুখমণ্ডল, পিঠ ও পার্শ্বদেশে ছ্যাকা দেয়া হবে, আর বলা হবে- এগুলো তো তোমরা নিজেদের জন্য একত্রিত করে রেখেছিলে। এবার এর স্বাদ গ্রহণ কর। (সূরা আত তাওবা-আয়াত: ৩৪-৩৫)
অন্যত্র বলা হয়েছে এভাবে-
وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ هُوَ خَيْرًا لَّهُمْ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَّهُمْ سَيُطَوَقُوْنَ مَا بَخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيمَةِ.
অর্থ: আল্লাহ তাদেরকে নিজের অনুগ্রহে যা কিছু দান করেছেন, তাতে যারা কৃপণতা করে এই কৃপণতা তাদের জন্য কল্যাণকর হবে বলে তারা যেন ধারণা না করে, বরং ইহা তাদের অকল্যাণই বয়ে আনবে। যে ধন সম্পদের ব্যাপারে তারা কৃপণতা করে সেই ধন সম্পদ কিয়ামতের দিন বেড়ি বানিয়ে তাদের গলায় পরিয়ে দেয়া হবে। (সূরা ইমরান: আয়াত-১৮০)
ইমাম বুখারী আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত এক হাদীসে সংকলন করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন-
مَنْ أَتَاهُ اللهُ مَالًا فَلَمْ يُؤَدِّ زَكَاتَهُ مُثْلَ لَهُ مَالَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ لَهُ زَبِيْبَتَانِ يُطَوَّقَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثُمَّ يَأْخُذُ بِلِهُزِ مَتَيْهِ (يَعْنِي شِدْقَيْهِ) ثُمَّ يَقُولُ ، أَنَا مَالُكَ أَنَا كَنْزُكَ ثُمَّ تَلَا هُذِهِ الْآيَةَ. وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَا آتَاهُمُ اللهُ مِنْ فَضْلِهِ هُوَ خَيْرًا لَّهُمْ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَّهُمْ سَيُطَوَقُوْنَ مَا بَخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ .
অর্থ: যাকে আল্লাহ ধন সম্পদ দান করেছেন কিন্তু তা থেকে যাকাত দেয় না, কিয়ামতের দিন সেগুলো দুই চোখের উপর নুকতা বিশিষ্ট বিরাট টাকওয়ালা বিষাধর সাপ তার গলা পেচিয়ে ধরে ছোবল মারতে থাকবে। সেই সাপ কানে শুনবে না। ছোবল মারবে আর বলতে থাকবে- আমি তোমার ধন সম্পদ, আমি তোমার টাকা-পয়সা। তারপর তিনি (সূরা আলে ইমরানের ১৮০ নং আয়াত) তিলাওয়াত করলেন। যার অর্থ-
'আল্লাহ তাদেরকে নিজের অনুগ্রহে যা কিছু দান করেছেন, তাতে যারা কৃপণতা অবলম্বন করে এবং ধারণা করে এতে তাদের কল্যাণ হবে। না বরং এতে তাদের অকল্যাণই বয়ে আনবে। যে ধন সম্পদের ব্যাপারে তারা কার্পণ্য করে সেই ধন-সম্পদ কিয়ামতের দিন বেড়ি বানিয়ে তাদের গলায় পরিয়ে দেয়া হবে।' (বুখারী: ১৪০৩)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ২৩. সিয়াম (রোযা)

📄 ২৩. সিয়াম (রোযা)


ঈমানের শাখা-২৩. সিয়াম (রোযা)
ঈমানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সিয়াম বা রোযা। সিয়ামের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ .
অর্থ : 'হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে। যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। (সূরা আল বাকারা-আয়াত: ১৮৩)
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَإِقَامُ الصَّلَاةَ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَحَجِ الْبَيْتِ وَصَوْمِ رَمَضَانَ.
অর্থ : পাঁচটি বিষয়ের উপর ইসলামের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত।
১. আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল- এ কথার সাক্ষ্য দেয়া,
২. সালাত কায়েম করা,
৩. যাকাত আদায় করা,
৪. বাইতুল্লাহ শরীফ হজ্জ পালন করা এবং
৫. রমযানের সিয়াম পালন করা। (সহীহ মুসলিম-২১)
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, নবী করীম বলেছেন-
كُلٌّ حَسَنَةٍ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِ مِأَةِ ضِعْفٍ . قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَ : إِلَّا الصَّوْمُ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ.
অর্থ: প্রতিটি নেক কাজের বিনিময় দশ গুণ থেকে সাতশ'গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দেয়া হয়।' আল্লাহ আযযা ও জাল্লা বলেন- 'রোযার বিনিময় ছাড়া। কারণ রোযা আমার জন্য তাই আমিই তার বিনিময় দিব।' (তিরমিযী-৭৬৪) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে বলা হয়েছে-
لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ. অর্থ: 'রোযাদারের জন্য দুটো খুশীর সময় রয়েছে। একটি যখন সে ইফতার করে (রোযাপূর্ণ করে), আরেকটি যখন সে তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে।' (মুসলিম-১১৫১) অন্য হাদীসে বলা হয়েছে-
لَخَلُوْفٌ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيْحِ الْمِسْكِ. অর্থ: রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের সুগন্ধির চেয়েও প্রিয়। (বুখারী-১৯০৪) (যেহেতু আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সারাদিন অনাহারে থেকে মুখে গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে।) এ সম্পর্কে আরও বলা হয়েছে-
الصَّوْمُ جُنَّةٌ. অর্থ: 'রোযা হচ্ছে ঢালস্বরূপ।' (সহীহ মুসলিম-১১৫১)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ২৪. ই'তিকাফ

📄 ২৪. ই'তিকাফ


ঈমানের শাখা-২৪. ই'তিকাফ ই'তিকাফ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَ عَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَعِيلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعُكِفِينَ وَ الرُّكَّعِ السُّجُودِ.
অর্থ: আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ই'তিকাফকারী ও রুকু সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ। (সূরা আল বাকারা-আয়াত: ১২৫)
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আয়েশা থেকে রাসূলুল্লাহ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে-
كَانَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللَّهُ ثُمَّ اعْتَكَفَ أَزْوَاجُهُ مِنْ بَعْدِهِ.
অর্থ: রাসূলুল্লাহ আমৃত্যু রমযানের শেষ দশকে ই'তিকাফ করেছেন। রাসূল-এর ইন্তিকালের পর তাঁর স্ত্রীগণও রমযানের শেষ দশকে ই'তিকাফ করতেন। (বুখারী-২০২৬, মুসলিম-১১৭২)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00