📄 ১৮. শিক্ষার প্রসার
ঈমানের শাখা-১৮. শিক্ষার প্রসার
শিক্ষা ও জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা এবং বিকাশ ঈমানের অন্যতম শাখা। লোকদের শিক্ষা দান তথা শিক্ষার বিকাশ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন-
لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ. অর্থ: (আল্লাহর কিতাবের শিক্ষা) লোকদের মধ্যে উহা প্রচার করো, তা গোপন করে রেখো না। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৭)
অন্যত্রে বলা হয়েছে-
وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوْا إِلَيْهِمْ . 'অর্থ: তারা নিজ গোত্রে গিয়ে লোকদের সতর্ক করুক। (সূরা আত তাওবা: আয়াত- ১২২)
নবী করীম বিদায় হজ্জের দিন লোকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন-
الا لِيُبَلِّغَ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ فَلَعَلَّ بَعْضَ مَنْ يُبَلِّغُهُ يَكُونُ أَوْ عَى لَهُ مِنْ بَعْضِ مَنْ سَمِعَهُ . অর্থ: 'সাবধান! তোমাদের উপস্থিত ব্যক্তিগণ অবশ্যই অনুপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে আমার এ কথা পৌঁছে দেবে। এখানকার ব্যক্তিগণ যাদের কাছে আমার কথা পৌঁছাবে, তারা হয়ত উপস্থিত শ্রোতাদের চেয়ে অধিকতর সংরক্ষণকারী হবে। (সহীহ আল বুখারী-৪৪০৬, সহীহ মুসলিম-১৬৭৯)
সুনানে আবু দাউদে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত এক হাদীসে বলা হয়েছে, নবী করীম বলেছেন-
مَنْ سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ فَكَتَمَهُ الْجَمَهُ اللَّهُ بِلِجَامٍ مِنْ نَّارٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ. অর্থ: 'কাউকে যদি ইলম সম্পর্কিত কিছু জিজ্ঞেস করা হয় এবং সে (জানা সত্ত্বেও) তা গোপন রাখে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে আগুনের লাগাম পরিধান করাবেন। (আবু দাউদ-৩৬৫৮, আত তিরমিযী-২৬৩৯, সহীহ হাসান)
📄 ১৯. কুরআন মাজীদের সম্মান করা
ঈমানের শাখা-১৯. কুরআন মাজীদের সম্মান করা
কুরআন মজীদকে সম্মান করার অর্থ হল কুরআন যথাযথ জ্ঞান অর্জন করা ও যেসব বিষয়ে আল কুরআন মানুষকে সতর্ক করেছে এবং ভয় দেখিয়েছে সেসব বিষয়ে ভয় করা এবং সতর্ক অবলম্বন করা আর তাকেই বলা হয় আল্লাহভীতি (খাশইয়াতুল্লাহ) বা তাকওয়া (সতর্কতা)। আল্লাহ তাআলা বলেন-
لَوْ أَنْزَلْنَا هَذَا الْقُرْآنَ عَلَى جَبَلٍ لَرَأَيْتَهُ خَاشِعًا مُتَصَدِّعًا مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ. অর্থ: আমরা যদি এই কুরআনকে পাহাড়ের উপর নাযিল করতাম তাহলে দেখতে পেতে আল্লাহর ভয়ে পাহাড় পর্যন্ত বিদীর্ণ হয়ে যেত। (সূরা: আল হাশর-আয়াত: ২১)
إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ فِي كِتَبٍ مَكْنُونٍ لَّا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُوْنَ . تَنْزِيلُ مِنْ رَّبِّ الْعَلَمِينَ. অর্থ: নিঃসন্দেহে এ কুরআন মহাসম্মানিত। কিতাব আকারে (লিখিত) সংরক্ষিত। পবিত্রগণ ছাড়া আর কেউ এটি স্পর্শ করে না। বিশ্বজাহানের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত। (সূরা: আল ওয়াকিয়া-আয়াত: ৭৭-৮০)
সহীহ আল বুখারীতে উসমান ইবনে আফফান থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, নবী করীম বলেছেন-
خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ. অর্থ: 'তোমাদের মধ্যে মর্যাদাবান বা উত্তম সেই ব্যক্তি যে নিজে আল কুরআন শিখে এবং অপরকে শেখায়।' (বুখারী-৫০২৭, তিরমিযী-২৯০৭)
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
لَا حَسَدَ إِلَّا عَلَى اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ أَتَاهُ اللهُ هُذَا الْكِتَابَ فَقَامَ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَأَنَاءَ النَّهَارِ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا فَتَصَدَّقَ بِهِ أَنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ.
অর্থ : দুটি ব্যাপার ছাড়া ঈর্ষা করা ঠিক নয়। একটি হচ্ছে, যাকে আল্লাহ তাআলা এই কুরআনের জ্ঞান দিয়েছেন এবং সে দিনরাত সেই জ্ঞানানুযায়ী আমল (কাজ) করে। অপরটি হচ্ছে, যাকে আল্লাহ তাআলা ধন সম্পদ দান করেছেন এবং সেই ধনসম্পদ সে রাতদিন আল্লাহর পথে খরচ করছে।') (সহীহ মুসলিম-৮১৫; সহীহ আল বুখারী-৫০২৫, কিতাবুত তাওহীদ)
📄 ২০. পাক পবিত্রতা অর্জন করা
ঈমানের শাখা-২০. পাক পবিত্রতা অর্জন করা পবিত্রতা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ. অর্থ: যখন তোমরা নামাযের জন্য উঠবে তখন তোমাদের মুখমণ্ডল, দু'হাত কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও। তোমাদের মাথা মাসেহ কর এবং দু'পা গোড়ালীর গিঁটসহ ধুয়ে নাও। (সূরা আল মায়েদা-আয়াত: ৬) আবু মালেক আল আশ'আরী থেকে বর্ণিত, নবী করীম বলেছেন-
আনহু
الطُّهُورُ شَطْرُ الْإِيْمَانِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلَأُ الْمِيزَانَ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلَانِ أَوْ تَمْلَأُ مَا بَيْنَ السَّمَاتِ وَالْأَرْضِ وَالصَّلَاةُ نُورُ وَالصَّدَقَةُ بُرْهَانَ وَالصَّبْرُ ضِيَاءٌ وَالْقُرْآنُ حُجَّةً لَكَ أَوْ عَلَيْكَ كُلُّ النَّاسِ يَغْدُوا فَبَائِعٌ نَفْسَهُ فَمُعْتِقُهَا أَوْ مُؤْ بِقُهَا.
অর্থ : পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। 'আলহামদুলিল্লাহ' ওজনদণ্ডের (মিযানের) পরিমাপকে পরিপূর্ণ করে দেবে এবং 'সুবনাহাল্লাহ ওয়াল হামদু লিল্লাহ' আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানকে পরিপূর্ণ করে দেবে। নামায হচ্ছে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি। "সাদকা" প্রমাণস্বরূপ, আর ধৈর্য আলোকময়, আর কুরআন তোমার পক্ষে দলীল হবে অথবা তোমার বিপক্ষে দাড়াবে। তার আমল দ্বারা নিজেকে (আল্লাহর শাস্তি থেকে) রক্ষা করে কিংবা ধ্বংস করে। (সহীহ মুসলিম-২২৩)
উল্লেখিত হাদীসের মধ্য থেকে বিশেষ উল্লেখযোগ্য বিষয় হল যে হাদীসের পবিত্রতা অর্জনকে অর্ধেক ঈমান বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কারণ ইসলামে পবিত্রা অর্জনকে যতগুরুত্ব দেওয়া হয়েছে
অন্যকোনই আদর্শে পবিত্র তাকে এত বেশী গুরুত্ব দেওয়া হয় নাই। তাই ইসলামে প্রায় সকল গুরুত্ব ইবাদত শুদ্ধও গ্রহণ যোগ্য হওয়া কিম্বা না হওয়া ভিত্তিশীল পবিত্রতা সটিকভাবে হওয়া ও না হওয়ার পর অর্থাৎ পবিত্রতা অর্জন ছাড়া প্রায় কোন ইবাদতই আল্লাহর নিকট গ্রহণ যোগ্য হয় না। ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য অন্তরের তথা নিয়্যাতের পবিত্রতা ১০০% অপরিহার্য আর দৈহিক পবিত্রতা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আবশ্যিক। তাই পবিত্রতা অর্জনকে অর্ধেক ঈমান বলা হয়েছে।
আনহু ইবনে উমর থেকে বর্ণিত সহীহ মুসলিমের আরেকটি হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
لَا يُقْبَلُ صَلوةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ وَلَا صَدَقَةٌ مِنْ غُلُوْلٍ. অর্থ: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ পবিত্রতা ছাড়া নামায এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের দান কবুল করেন না। (সহীহ মুসলিম-২২৪ পবিত্রতা অধ্যায়)
📄 ২১. সালাত (নামায)
ঈমানের শাখা-২১. সালাত (নামায)
দৈনিক পাঁচবার সালাত প্রতিষ্ঠিত করাকে অত্যাবশ্যকীয় (ফরয) করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
إِنَّ الصَّلوةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا. অর্থ: নিশ্চয়ই মুমিনদের উপর নামায ফরয করা হয়েছে ওয়াক্ত (সময়) মতো। (সূরা নিসা-আয়াত ১০৩)
হাদীসে বলা হয়েছে-
إِنَّ بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلوةِ. অর্থ: অবশ্যই একজন ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরীর মধ্যে পার্থক্যকারী হচ্ছে সালাত (নামায)। (সহীহ মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজা যাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।)
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলাম, কোন কাজটি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়? জবাবে তিনি বললেন- . الصَّلُوةُ لِوَقْتِهَا অর্থ: সঠিক সময়ে সালাত আদায় করা।' (সহীহ আল বুখারী-৭৫৩৪, সহীহ মুসলিম-৮৫)
উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন- مَا مِنْ اِمْرِيءٍ مُسْلِمٍ تَحْضُرُهُ صَلَاةٌ مَكْتُوبَةٌ فَيَحْسُنُ وُضُوءَهَا وَخُشُوعَهَا وَرُكُوْعَهَا إِلَّا كَانَتْ كُفَّارَةً لَمَّا قَبْلَهَا مِنَ الذُّنُوْبِ مَا لَمْ يُؤْتِ كَبِيرَةً وَذَلِكَ الدَّهْرَ كُلَّهُ . অর্থ: যখন কোনো মুসলিমের ফরয নামাযের সময় উপস্থিত হয়, তখন সে যদি উত্তমরূপে ওযু করে এবং একান্ত বিনয়-নম্রতার সাথে রুকু সিজদা আদায় করে তাহলে সে কবীরা গুনায় লিপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আগের সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়। আর এরূপ সারা বছরই হতে থাকে। (সহীহ মুসলিম-২২৮)