📄 ১৩. আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা
ঈমানের শাখা-১৩. আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা।
ঈমানের একটি শাখা হচ্ছে, আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা বা তাওয়াক্কুল। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা বলেন-
وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ. অর্থ : 'যারা মুমিন তাদের তো আল্লাহর উপরই ভরসা করা উচিত। (সূরা আলে ইমরান-আয়াত)
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে-
وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ. অর্থ : তোমরা কেবল আল্লাহর উপরই নির্ভরশীল হও, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক। (সূরা মায়িদা-আয়াত: ২৩)
যারা সত্যিই আল্লাহর উপর নির্ভর করতে পারে, আল্লাহ তাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ. অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করবে, তার জন্য তো একমাত্র আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর কাজ সমাপ্ত করবেনই। (সূরা: আত তালাক: আয়াত-৩)
বুখারী ও সহীহ মুসলিমে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে-
فِي سُوَالِ أَصْحَابِهِ لَهُ عَنِ السَّبْعِينَ أَلْفًا الَّذِينَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ يُرْزَقُونَ فِيهَا بِغَيْرِ حِسَابٍ. قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ هُمُ الَّذِينَ لَا يَرْقُونَ وَلَا يَسْتَرْقُوْنَ وَلَا يَتَطَيَّرُونَ . وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ. অর্থ: যে সত্তর হাজার লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এসব লোক হচ্ছে তারা, যারা ঝাড়ফুক করে না, যাদুটোনা চর্চা করে না, গণক বা জ্যোতিষীদের কথায় বিশ্বাস করে না, এসবের বিপরীতে কেবলমাত্র তাদের প্রতিপালকের উপরই ভরসা রাখে।
📄 ১৪. রাসূলুল্লাহ-কে ভালোবাসা
ঈমানের শাখা-১৪. রাসূলুল্লাহ -কে ভালোবাসা
নবী করীম -কে ভালোবাসাও ঈমানের একটি অংশ। সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আনাস থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ . অর্থ: 'তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ আমি তার কাছে তার সন্তান-সন্ততি ও অন্যদের চেয়ে বেশি প্রিয় না হবো। (সহীহ আল বুখারী-১৫, সহীম মুসলিম-৪৪)
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আনাস থেকে বর্ণিত আরেক হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন- 'তিনটি জিনিস যার মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে সে ঈমানের প্রকৃত আস্বাদন পেয়েছে। (তার একটি হচ্ছে) যার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অন্য সবকিছু থেকে অধিক প্রিয়।' (বুখারী-১৬, মুসলিম-৪৩)
আরেক হাদীসে বলা হয়েছে- 'এক ব্যক্তি নবী করীম -এর নিকট আগমন করে- বললেন- হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে? রাসূলুল্লাহ বললেন- তুমি সেজন্য কী ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছ? লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! সেজন্য বেশি রোযা অথবা দান সাদকার প্রস্তুতি আমার নেই, আমি কেবল আল্লাহর ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি। তিনি বললেন, তুমি যাকে ভালোবাস তাঁর সাথেই তুমি থাকবে।
📄 ১৫. রাসূলুল্লাহ-কে শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা করা
ঈমানের শাখা-১৫: রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা করা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে সম্মান ও শ্রদ্ধা করা ঈমানেরই অংশ। কেননা আল্লাহ তা'আলা নিজেই বলেছেন-
وَتُعَزِّرُوهُ وَتُوَقِّرُوهُ অর্থ : যাতে তোমরা তাঁকে অর্থাৎ রাসূল ﷺ-কে সম্মান ও মর্যাদা দাও এবং সহযোগিতা করো। (সূরা আল ফাতহ-আয়াত : ৯)
একজন মুমিনের নিকট ঈমানের দাবীই হচ্ছে যে সে রাসূল ﷺ-কে সঠিক সহযোগিতা করবে। আল্লাহ বলেন-
فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنزِلَ مَعَهُ ۙ أُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ অর্থ : অতঃপর যারা তাঁর উপর ঈমান আনায়ন করেছে, তাঁর (অর্থাৎ রাসূলের) প্রতি শ্রদ্ধা রেখেছে এবং তাঁর সাহায্য সহযোগিতা করছে...তারাই কল্যাণ লাভ করেছে। (সূরা আরাফ-১৫৭)
আরো ইরশাদ হচ্ছে-
لَّا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُم بَعْضًا অর্থ : তোমরা রাসূলকে নিজেদের মধ্যে ডেকে আনাকে এরূপ মনে করো না, যেরূপ তোমরা একে অপরকে ডেকে আনো। (সূরা আন নূর-আয়াত : ৬৩)
এই মর্মে আরো বেশি সূরা হুজরাতে সতর্ক করা হয়েছে-
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تُقَدِّمُوا۟ بَيْنَ يَدَىِ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ ۖ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌۭ يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَرْفَعُوٓا۟ أَصْوَٰتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ ٱلنَّبِىِّ
النَّبِيِّ وَلَا تَجْهَرُوا لَهُ بِالْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ أَنْ تَحْبَطَ أَعْمَالُكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تَشْعُرُونَ .
অর্থ: হে ঈমানদারগণ 'তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের চেয়ে বেশি অগ্রসর হয়ে যেও না। আল্লাহকে ভয় কর নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী। নিজেদের কণ্ঠস্বর নবীর কণ্ঠস্বরের চেয়ে উঁচু করো না, নবীর সাথে জোরে কথাও বলো না যেমন তোমরা পরস্পরের সাথে করে থাক। এরূপ করলে তোমাদের আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে, তোমরা অনুভবও করবে না।' (সূরা আল হুজুরাত, আয়াত-১-২)
📄 ১৬. ইসলামের উপর অটল থাকা
ঈমানের শাখা-১৬. ইসলামের উপর অটল থাকা
দ্বীন বা ইসলামের উপর অটল থাকা, এটিও ঈমানের অংশ। আক্ষরিক অর্থেই মুমিন, এমন একজন ব্যক্তি, যিনি আগুনে পুড়ে শাস্তি গ্রহণে রাজি হতে পারে, কিন্তু কোনো মূল্যেই ঈমান ত্যাগে রাজী হতে পারে না। সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন-
তিনটি জিনিস যার মধ্যে রয়েছে সে ঈমানের স্বাদ পেয়েছে-
১. যার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সবচেয়ে বেশি প্রিয়।
২. যে কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই তাঁর বান্দাকে ভালোবাসে।
৩. যাকে আল্লাহ কুফর থেকে মুক্তি দিয়েছেন, তারপর সে কুফুরের দিকে ফিরে যাওয়াকে এমন অপছন্দ করে, যেমন অপছন্দ করে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে। (সহীহ আল বুখারী-১৬ সহীহ মুসলিম-৪৩)
ইমাম মুসলিম আনাস (রাঃ) থেকে নিম্নোক্ত হাদীসটিও বর্ণনা করেছেন। একবার এক লোক নবী করীম (সঃ)-এর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে এক উপত্যকা পরিমাণ ছাগল দিলেন। সে তার গোত্রে গিয়ে বলতে লাগলো, 'তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর, আল্লাহর শপথ! তিনি বিপুল পরিমাণে দান করেন, দরিদ্রতার ভয় করেন না।' একথা শুনে এক ব্যক্তি নবী করীম (সঃ)-এর কাছে হাজির হলেন, দুনিয়া অর্জন করা ছাড়া তার আর কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু যখন সে ইসলাম গ্রহণ করল তখন দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে দ্বীনই তার কাছে প্রিয় বলে মনে হলো।'