📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ১২. আল্লাহর প্রতি সু ধারণা রাখা

📄 ১২. আল্লাহর প্রতি সু ধারণা রাখা


ঈমানের শাখা-১২. আল্লাহর প্রতি সু ধারণা রাখা
আল্লাহর প্রতি সু-ধারণা রাখা এবং তাঁর রহমতের প্রত্যাশী হওয়াও ঈমানের অন্যতম অংশ। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন-
إِنَّ رَحْمَةَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِينَ. অর্থ: অবশ্যই আল্লাহর রহমত সচ্চরিত্র লোকদের অতি নিকটেই রয়েছে। (সূরা: আল আ'রাফ-আয়াত: ৫৬)
সূরা আয-যুমারে বলা হয়েছে-
قُلْ يُعِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيمُ . অর্থ: আপনি বলে দিন, (মহান আল্লাহ বলেন) হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের সাথে বাড়াবাড়ি করে ফেলেছো তারা আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, দয়াবান। (সূরা জুমার: আয়াত-৫৩)
তবে শর্ত হচ্ছে আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলির মতো আর কাউকে যেন অনুরূপ সত্তা ও গুণাবলির অধিকারী মনে না করা হয়। ইরশাদ হচ্ছে- জাবির থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, নবী করীম -এর মৃত্যুর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তিন দিন আগে আমি তাঁকে বলতে শুনেছি-
لَا يَمُوتُنَّ أَحَدُكُمْ إِلَّا وَهُوَ يُحْسِنُ الظَّنَّ بِاللَّهِ. অর্থ: তোমাদের প্রত্যেকেই যেন মৃত্যুর সময় আল্লাহর প্রতি ভালো ধারণা রেখে মৃত্যুবরণ করে। (সহীহ মুসলিম-২৮৭৭)
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-
يَقُولُ اللهُ عَزَّوَجَلُّ أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِىْ بِى وَأَنَا مَعَهُ حِيْنَ يَذْكُرُنِىْ
অর্থ : আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ইরশাদ করেন, বান্দা আমাকে যে রকম মনে করে, আমি তার আশে পাশেই থাকি। আর যেখানে সে আমাকে স্মরণ করে আমি তার সাথেই থাকি।
(সহীহ আল বুখারী-৭৪০৫ ও সহীহ মুসলিম-২৬৭৫)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ১৩. আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা

📄 ১৩. আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা


ঈমানের শাখা-১৩. আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা।
ঈমানের একটি শাখা হচ্ছে, আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা বা তাওয়াক্কুল। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা বলেন-
وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ. অর্থ : 'যারা মুমিন তাদের তো আল্লাহর উপরই ভরসা করা উচিত। (সূরা আলে ইমরান-আয়াত)
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে-
وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ. অর্থ : তোমরা কেবল আল্লাহর উপরই নির্ভরশীল হও, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক। (সূরা মায়িদা-আয়াত: ২৩)
যারা সত্যিই আল্লাহর উপর নির্ভর করতে পারে, আল্লাহ তাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ. অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করবে, তার জন্য তো একমাত্র আল্লাহই যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর কাজ সমাপ্ত করবেনই। (সূরা: আত তালাক: আয়াত-৩)
বুখারী ও সহীহ মুসলিমে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে-
فِي سُوَالِ أَصْحَابِهِ لَهُ عَنِ السَّبْعِينَ أَلْفًا الَّذِينَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ يُرْزَقُونَ فِيهَا بِغَيْرِ حِسَابٍ. قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ هُمُ الَّذِينَ لَا يَرْقُونَ وَلَا يَسْتَرْقُوْنَ وَلَا يَتَطَيَّرُونَ . وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ. অর্থ: যে সত্তর হাজার লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এসব লোক হচ্ছে তারা, যারা ঝাড়ফুক করে না, যাদুটোনা চর্চা করে না, গণক বা জ্যোতিষীদের কথায় বিশ্বাস করে না, এসবের বিপরীতে কেবলমাত্র তাদের প্রতিপালকের উপরই ভরসা রাখে।

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ১৪. রাসূলুল্লাহ-কে ভালোবাসা

📄 ১৪. রাসূলুল্লাহ-কে ভালোবাসা


ঈমানের শাখা-১৪. রাসূলুল্লাহ -কে ভালোবাসা
নবী করীম -কে ভালোবাসাও ঈমানের একটি অংশ। সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আনাস থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন-
لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ . অর্থ: 'তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ আমি তার কাছে তার সন্তান-সন্ততি ও অন্যদের চেয়ে বেশি প্রিয় না হবো। (সহীহ আল বুখারী-১৫, সহীম মুসলিম-৪৪)
সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আনাস থেকে বর্ণিত আরেক হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন- 'তিনটি জিনিস যার মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে সে ঈমানের প্রকৃত আস্বাদন পেয়েছে। (তার একটি হচ্ছে) যার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অন্য সবকিছু থেকে অধিক প্রিয়।' (বুখারী-১৬, মুসলিম-৪৩)
আরেক হাদীসে বলা হয়েছে- 'এক ব্যক্তি নবী করীম -এর নিকট আগমন করে- বললেন- হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে? রাসূলুল্লাহ বললেন- তুমি সেজন্য কী ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছ? লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! সেজন্য বেশি রোযা অথবা দান সাদকার প্রস্তুতি আমার নেই, আমি কেবল আল্লাহর ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি। তিনি বললেন, তুমি যাকে ভালোবাস তাঁর সাথেই তুমি থাকবে।

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ১৫. রাসূলুল্লাহ-কে শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা করা

📄 ১৫. রাসূলুল্লাহ-কে শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা করা


ঈমানের শাখা-১৫: রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা করা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে সম্মান ও শ্রদ্ধা করা ঈমানেরই অংশ। কেননা আল্লাহ তা'আলা নিজেই বলেছেন-
وَتُعَزِّرُوهُ وَتُوَقِّرُوهُ অর্থ : যাতে তোমরা তাঁকে অর্থাৎ রাসূল ﷺ-কে সম্মান ও মর্যাদা দাও এবং সহযোগিতা করো। (সূরা আল ফাতহ-আয়াত : ৯)
একজন মুমিনের নিকট ঈমানের দাবীই হচ্ছে যে সে রাসূল ﷺ-কে সঠিক সহযোগিতা করবে। আল্লাহ বলেন-
فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنزِلَ مَعَهُ ۙ أُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ অর্থ : অতঃপর যারা তাঁর উপর ঈমান আনায়ন করেছে, তাঁর (অর্থাৎ রাসূলের) প্রতি শ্রদ্ধা রেখেছে এবং তাঁর সাহায্য সহযোগিতা করছে...তারাই কল্যাণ লাভ করেছে। (সূরা আরাফ-১৫৭)
আরো ইরশাদ হচ্ছে-
لَّا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُم بَعْضًا অর্থ : তোমরা রাসূলকে নিজেদের মধ্যে ডেকে আনাকে এরূপ মনে করো না, যেরূপ তোমরা একে অপরকে ডেকে আনো। (সূরা আন নূর-আয়াত : ৬৩)
এই মর্মে আরো বেশি সূরা হুজরাতে সতর্ক করা হয়েছে-
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تُقَدِّمُوا۟ بَيْنَ يَدَىِ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ ۖ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌۭ يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَا تَرْفَعُوٓا۟ أَصْوَٰتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ ٱلنَّبِىِّ
النَّبِيِّ وَلَا تَجْهَرُوا لَهُ بِالْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ أَنْ تَحْبَطَ أَعْمَالُكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تَشْعُرُونَ .
অর্থ: হে ঈমানদারগণ 'তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের চেয়ে বেশি অগ্রসর হয়ে যেও না। আল্লাহকে ভয় কর নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী। নিজেদের কণ্ঠস্বর নবীর কণ্ঠস্বরের চেয়ে উঁচু করো না, নবীর সাথে জোরে কথাও বলো না যেমন তোমরা পরস্পরের সাথে করে থাক। এরূপ করলে তোমাদের আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে, তোমরা অনুভবও করবে না।' (সূরা আল হুজুরাত, আয়াত-১-২)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00