📄 ৯. মুমিনের জান্নাত আর কাফিরের জন্য জাহান্নাম
ঈমানের শাখা-৯. মুমিনের জন্য জান্নাত আর কাফিরের জন্য জাহান্নাম পরকালীন জীবনে মুমিন এবং কাফিরের আবাসস্থল হবে যথাক্রমে জান্নাত ও জাহান্নাম, এর উপর বিশ্বাস স্থাপন করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
بَلَى مَنْ كَسَبَ سَيِّئَةً وَ أَحَاطَتْ بِهِ خَطِيئَتُهُ فَأُولَئِكَ أَصْحَبُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خُلِدُونَ . وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحَتِ أُولَئِكَ أَصْحَبُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خُلِدُونَ.
অর্থ: হ্যাঁ, যে ব্যক্তি পাপ উপার্জন করেছে এবং পাপ তাকে ঘিরে রেখেছেন, তারা জাহান্নামের অধিবাসী। সেটি তাদের স্থায়ী আবাস। আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ সম্পাদন করেছে, তারা জান্নাতের অধিবাসী। তারা চিরদিন সেখানেই অবস্থান করবে। (সূরা: আল বাকারা-আয়াত: ৮১)
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বলা হয়েছে, নবী করীম বলেছেন-
إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا مَاتَ عُرِضَ عَلَيْهِ مَقْعَدُهُ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ إِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَمِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَمِنْ أَهْلِ النَّارِ يُقَالُ هُذَا مَقْعَدُكَ حَتَّى يَبْعَثَكَ اللَّهُ تَعَالَى إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
অর্থ: তোমাদের কারও মৃত্যু হলে সকাল সন্ধ্যায় তাকে তার আবাসস্থল দেখানো হয়। জান্নাতী হলে জান্নাতে আর জাহান্নামী হলে জাহান্নামে। বলা হবে এটিই তোমার আবাসস্থল। এভাবে কিয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে। (সহীহ আল বুখারী-১৩৭৯ ও মুসলিম-২৮৬৬)
📄 ১০. আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকা
ঈমানের শাখা-১০. আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকা আল্লাহ তাআলার প্রতি গভীর ভালোবাসা ঈমানেরই অন্যতম অংশ। কুরআনুল কারীমে বলা হয়েছে-
وَ مِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُوْنِ اللَّهِ أَنْدَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ وَ الَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ.
অর্থ: মানুষের মধ্যে এমনও রয়েছে যারা আল্লাহকে ছাড়া অন্যকে রব হিসেবে গ্রহণ করে এবং তাদেরকে সেই রকম ভালোবাসে যেমন ভালোবাসা হয় আল্লাহকে। অথচ যারা ঈমানদার তারা আল্লাহকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। (সূরা আল বাকারা: আয়াত-১৬৫)
আনাস থেকে বর্ণিত সহীহ আল বুখারী ও সহীহ্ মুসলিমের এক হাদীসে বলা হয়েছে, নবী করীম বলেছেন-
ثَلَاثُ مَنْ كُنَّ فِيْهِ وَجَدَ بِهِنَّ حَلَاوَةَ الْإِيْمَانِ مَن كَانَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا وَأَنْ يُحِبَّ الْمَرْءَ لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلَّهِ وَأَنْ يَكْرَهُ أَنْ يَعُودَ فِي الْكُفْرِ بَعْدَ أَنْ أَنْقَذَهُ اللَّهُ مِنْهُ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النَّارِ.
অর্থ: 'তিনটি জিনিস যার মধ্যে বর্তমান রয়েছে, সে ঈমানের প্রকৃত স্বাদ অনুভব করতে পেরেছে।
১. যার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সবচেয়ে বেশি প্রিয়। ২. কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই অন্যকে ভালোবাসে। ৩. যাকে আল্লাহ কুফর থেকে মুক্তি দান করেছেন, সে পুনরায় কুফরের দিকে ফিরে যাওয়াকে এমন অপছন্দ করে যেমন অপছন্দ করে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে। (বুখারী-১৬, মুসলিম-৪৩)
📄 ১১. মনে সর্বদা আল্লাহর ভয় জাগ্রত থাকা
ঈমানের শাখা-১১. মনে সর্বদা আল্লাহর ভয় জাগ্রত থাকা
মনে সর্বদা আল্লাহর ভয় জাগ্রত থাকাও ঈমানের আরেকটি অংশ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা ইরশাদ করেন-
ফَلَا تَخَافُوْهُمْ وَخَافُونِ إِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِينَ. অর্থ : 'তোমরা যদি প্রকৃত মুমিন-ই হয়ে থাক, তাহলে তাদেরকে নয় আমাকেই ভয় কর। (সূরা আলে ইমরান: আয়াত- ১৭৫)
ফَلَا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ. অর্থ: 'তোমরা মানুষকে ভয় করো না, আমাকে ভয় কর। (সূরা মায়েদা: আয়াত-৪৪)
وَإِيَّايَ فَأَرْهَبُونِ. অর্থ: আর ভয় কেবলমাত্র আমাকেই কর। (সূরা আল বাকারা: আয়াত - ৪০)
অন্য জায়গায় আল্লাহ ভীতিকে মুমিনের বৈশিষ্ট্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَهُمْ مِّنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ . অর্থ: তারা সর্বদা আল্লাহর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত। (সূরা আম্বিয়া: আয়াত- ২৮)
اتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ. অর্থ: তোমরা এক টুকরা খেজুরের বিনিময়ে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো। (সহীহ আল বুখারী-১৪১৭, সহীহ মুসলিম-১০১৬)
রাদিয়াল্লাহু আনাস থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন- আনহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلًا وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا. অর্থ: আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে তাহলে কম হাসতে এবং বেশি কাঁদতে। (বুখারী-৪৬২১)
📄 ১২. আল্লাহর প্রতি সু ধারণা রাখা
ঈমানের শাখা-১২. আল্লাহর প্রতি সু ধারণা রাখা
আল্লাহর প্রতি সু-ধারণা রাখা এবং তাঁর রহমতের প্রত্যাশী হওয়াও ঈমানের অন্যতম অংশ। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন-
إِنَّ رَحْمَةَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِينَ. অর্থ: অবশ্যই আল্লাহর রহমত সচ্চরিত্র লোকদের অতি নিকটেই রয়েছে। (সূরা: আল আ'রাফ-আয়াত: ৫৬)
সূরা আয-যুমারে বলা হয়েছে-
قُلْ يُعِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيمُ . অর্থ: আপনি বলে দিন, (মহান আল্লাহ বলেন) হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের সাথে বাড়াবাড়ি করে ফেলেছো তারা আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, দয়াবান। (সূরা জুমার: আয়াত-৫৩)
তবে শর্ত হচ্ছে আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলির মতো আর কাউকে যেন অনুরূপ সত্তা ও গুণাবলির অধিকারী মনে না করা হয়। ইরশাদ হচ্ছে- জাবির থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, নবী করীম -এর মৃত্যুর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তিন দিন আগে আমি তাঁকে বলতে শুনেছি-
لَا يَمُوتُنَّ أَحَدُكُمْ إِلَّا وَهُوَ يُحْسِنُ الظَّنَّ بِاللَّهِ. অর্থ: তোমাদের প্রত্যেকেই যেন মৃত্যুর সময় আল্লাহর প্রতি ভালো ধারণা রেখে মৃত্যুবরণ করে। (সহীহ মুসলিম-২৮৭৭)
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-
يَقُولُ اللهُ عَزَّوَجَلُّ أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِىْ بِى وَأَنَا مَعَهُ حِيْنَ يَذْكُرُنِىْ
অর্থ : আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ইরশাদ করেন, বান্দা আমাকে যে রকম মনে করে, আমি তার আশে পাশেই থাকি। আর যেখানে সে আমাকে স্মরণ করে আমি তার সাথেই থাকি।
(সহীহ আল বুখারী-৭৪০৫ ও সহীহ মুসলিম-২৬৭৫)