📄 ৬. আখিরাতের প্রতি ঈমান আনা
ঈমানের শাখা-৬. আখিরাতের প্রতি ঈমান আনা
আখিরাত বা পরকালের ব্যাপারে বিশ্বাস রাখাও ঈমানের অংশ, এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন-
قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ .
অর্থ: তোমরা তাদের সাথে জিহাদ কর, যারা আল্লাহ ও পরকালকে বিশ্বাস করে না। (সূরা আত তাওবা: আয়াত- ২৯)
হুলাইমী বলেন, অবশ্যই একদিন এই দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে। একদিন একদিন করে মূলত পৃথিবী সেই দিনটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যা হঠাৎ করে এসে হাজির হবে। সেই দিনটিকে পাশ কাটানোর কোনো উপায়ই নেই। সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবী করীম বলেছেন, 'যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ তার শপথ! কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবে। দোকানদার ও খরিদ্দার কাপড় দর দাম করে মূল্য পরিশোধের আগেই তা সংঘটিত হয়ে যাবে।
📄 ৭. পুনরুত্থানের প্রতি ঈমান আনা
ঈমানের শাখা-৭. পুনরুত্থানের প্রতি ঈমান আনা
মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করা হবে এ বিশ্বাস রাখা। আল্লাহ তাআলা নিজেই বলেন-
زَعَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ لَنْ يُبْعَثُوا قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتُبْعَثُنَ.
অর্থ: অবিশ্বাসীরা ভেবে নিয়েছে তাদেরকে কখনও জীবিত উঠানো হবে না। বলে দিন, হ্যাঁ, অবশ্যই আমার প্রতিপালকের শপথ তোমাদেরকে অবশ্যই পুনরায় জীবন দান করে পুনরুত্থিত করা হবে। (সূরা আত তাগাবুন: আয়াত-৮)
অন্যত্রে বলা হয়েছে-
قُلِ اللَّهُ يُحْيِيكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يَجْمَعُكُمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيمَةِ لَا رَيْبَ فِيهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ .
অর্থ: 'বলুন, আল্লাহই তোমাদেরকে জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দেন। অত:পর কিয়ামতের দিন পুনরায় তোমাদেরকে একত্রিত করবেন। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা বুঝে না। (সূরা আল জাসিয়া-আয়াত: ২৬)
উমর ইবনে খাত্তাব থেকে বর্ণিত এক সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে-
الْإِيْمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَبِالْبَعْثِ مِنْ بَعْدِ الْمَوْتِ وَبِالْقَدْرِ كُلِهِ.
অর্থ: আল্লাহ, ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ, নবী-রাসূলগণ, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান এবং তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি তোমার আস্থার নাম হচ্ছে ঈমান।
📄 ৮. হাশরের ময়দানের প্রতি ঈমান আনা
ঈমানের শাখা-৮. হাশরের ময়দানের প্রতি ঈমান আনা
সকল মানুষকে একদিন কবর থেকে জীবিত করে একত্রিত করা হবে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় (যার নাম হাশরের ময়দান), এ কথার প্রতি বিশ্বাস রাখা হচ্ছে ঈমানের অংশ। আল্লাহ তাআলা বলেন-
يَظُنُّ أُولَئِكَ أَنَّهُمْ مَّبْعُوثُونَ لِيَوْمٍ عَظِيمٍ يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعُلَمِينَ .
অর্থ: তারা কি চিন্তা করে দেখে না যে, নিশ্চয়ই তারা পুনরুত্থিত হবে। সেই মহাদিবসে। যেদিন মানুষ দাঁড়াবে বিশ্ব প্রতিপালকের সম্মুখে। (সূরা আল মুতাফফিফীন: আয়াত-৪-৬)
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত সহীহ মুসলিমের এক হাদীসে বলা হয়েছে- (রাঃ)
يَقُوْمُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعُلَمِينَ حَتَّى يَغِيبَ أَحَدُهُمْ فِي رَشْحِهِ.
অর্থ: মানুষ বিশ্ব প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াবে। তখন তারা স্বীয় ঘামে হাবuডুবু খাবে। (বুখারী ৪৯৩৮, মুসলিম-২৮৬২)
📄 ৯. মুমিনের জান্নাত আর কাফিরের জন্য জাহান্নাম
ঈমানের শাখা-৯. মুমিনের জন্য জান্নাত আর কাফিরের জন্য জাহান্নাম পরকালীন জীবনে মুমিন এবং কাফিরের আবাসস্থল হবে যথাক্রমে জান্নাত ও জাহান্নাম, এর উপর বিশ্বাস স্থাপন করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
بَلَى مَنْ كَسَبَ سَيِّئَةً وَ أَحَاطَتْ بِهِ خَطِيئَتُهُ فَأُولَئِكَ أَصْحَبُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خُلِدُونَ . وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحَتِ أُولَئِكَ أَصْحَبُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خُلِدُونَ.
অর্থ: হ্যাঁ, যে ব্যক্তি পাপ উপার্জন করেছে এবং পাপ তাকে ঘিরে রেখেছেন, তারা জাহান্নামের অধিবাসী। সেটি তাদের স্থায়ী আবাস। আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ সম্পাদন করেছে, তারা জান্নাতের অধিবাসী। তারা চিরদিন সেখানেই অবস্থান করবে। (সূরা: আল বাকারা-আয়াত: ৮১)
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বলা হয়েছে, নবী করীম বলেছেন-
إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا مَاتَ عُرِضَ عَلَيْهِ مَقْعَدُهُ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ إِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَمِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَمِنْ أَهْلِ النَّارِ يُقَالُ هُذَا مَقْعَدُكَ حَتَّى يَبْعَثَكَ اللَّهُ تَعَالَى إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
অর্থ: তোমাদের কারও মৃত্যু হলে সকাল সন্ধ্যায় তাকে তার আবাসস্থল দেখানো হয়। জান্নাতী হলে জান্নাতে আর জাহান্নামী হলে জাহান্নামে। বলা হবে এটিই তোমার আবাসস্থল। এভাবে কিয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে। (সহীহ আল বুখারী-১৩৭৯ ও মুসলিম-২৮৬৬)