📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৩. আসমানী কিতাবসমূহের উপর ঈমান আনা

📄 ৩. আসমানী কিতাবসমূহের উপর ঈমান আনা


ঈমানের শাখা-৩. আসমানী কিতাবসমূহের উপর ঈমান আনা
ঈমানের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শাখা হচ্ছে- ফেরেশতা, আল্লাহ প্রদত্ত কিতাবসমূহ এবং নবী রাসূলগণের উপর ঈমান আনা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ .
অর্থ: এবং সকল মুমিন- আল্লাহ, ফেরেশতা, কিতাবসমূহ এবং নবীদের উপর ঈমান আনে। (সূরা আল বাকারা: আয়াত-২৮৫)
উমর ইবনে খাত্তাব কর্তৃক বর্ণিত হাদীস- যা হাদীসে জিবরাঈল নামে পরিচিত- যেখানে জিবরাঈল -এর এক প্রশ্নের জবাবে বলা হয়েছে
الْإِيْمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ .
অর্থ: ঈমান হচ্ছে- আল্লাহ, ফেরেশতা, তাঁর কিতাবসমূহ ও রাসূলগণের উপর ঈমান আনয়ন।' (বুখারী-৪৭৭৭)
কিতাবসমূহের উপর ঈমান আনার সাথে সাথে আল-কুরআনের উপর ঈমান আনাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أُمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَالْكِتَبِ الَّذِي نَزَلَ عَلَى رَسُولِهِ وَ الْكِتَبِ الَّذِي أَنْزَلَ مِنْ قَبْلُ.
অর্থ: 'হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো এবং সেই কিতাবের (কুরআনের) প্রতিও যা তাঁর রাসূলের উপর নাযিল করেছেন। সেই সাথে আগে যেসব কিতাব নাযিল হয়েছিল সেগুলোর প্রতিও। (সূরা আন-নিসা, আয়াত-১৩৬)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৪. রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনা

📄 ৪. রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনা


ঈমানের শাখা-৪. রাসূলগণের প্রতি ঈমান
ইহা ঈমানের রুকনসমূহের একটি রুকন, যার প্রতি ঈমান আনা ছাড়া কোন ব্যক্তির ঈমান পরিপূর্ণ হবে না।
রাসূলগণের প্রতি ঈমান হলো : মনে প্রাণে এ দৃঢ় বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ পৃথিবীতে অনেক রাসূল প্রেরণ করেছেন। যাদেরকে তিনি তাঁর রিসালাত প্রচারের জন্য নির্বাচন করেছিলেন। তারা তার রিসালাত পৌছানোর ব্যাপারে যথাযথ দায়িত্ব পালন করে গেছেন। কোন ত্রুটিও কোন প্রকার অবহেলা করেন নি। যারা তাঁদের অনুসরণ করবে, তারা হিদায়াত (সঠিক পথ) পাবে। আর যারা তাঁদের অনুসরণ করবে না তারা পথভ্রষ্ট হবে। তারা স্বীয় উম্মাতকে কল্যাণের উপদেশ দিয়েছেন। যা সহ প্রেরিত হয়েছেন তার কোন অংশ পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও গোপন না করে স্বজাতির উপর হুজ্জাত (পক্ষ-বিপক্ষের দলীল) কায়েম করেছেন। আমরা যাদের নাম জেনেছি আর যাদের নাম জানতে পারি নাই সকলের প্রতি ঈমান আনব।
আল্লাহ তায়ালা বলেন- قُولُوا آمَنَّا بِاللهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوْبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِنْ رَّبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ .
অর্থ : তোমরা বল : আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের প্রতি এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তদীয় বংশধরের প্রতি এবং মূসা, ঈসা ও অন্যান্য নবীদেরকে তাঁদের পালনকর্তার পক্ষ হতে যা দান করা হয়েছে, তৎসমূদয়ের উপর। আমরা তাঁদের মধ্যে পার্থক্য করি না। আর আমরা তাঁরই আনুগত্যকারী। (সূরা বাকারা- আয়াত : ১৩৬)

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৫. তাকদীরের প্রতি ঈমান আনা

📄 ৫. তাকদীরের প্রতি ঈমান আনা


ঈমানের শাখা-৫. তাকদীরের প্রতি ঈমান আনা
ভালো হোক কিংবা মন্দ হোক, সবকিছুই যে আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্ব নির্ধারিত এ কথার উপর ঈমান রাখা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন।
قُلْ كُلٌّ مِّنْ عِنْدِ اللَّهِ .
অর্থ : 'বলুন, সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে।' (সূরা : আন নিসা : আয়াত-৭৮)
আসাল্লাম সহীহ আল-বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা আনহু রাদিয়াল্লাহু কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, “নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, একবার আদম আলাইহিস সালাম ও মুসা আলাইহিস সালাম-এর মধ্যে বিতর্ক হয়েছিল। মুসা আলাইহিস সালাম বললেন, হে আদম! আপনি আমাদের পিতা। আমাদেরকে বঞ্চিত করেছেন এবং জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছেন। আদম আলাইহিস সালাম বললেন, আপনি তো মূসা! আল্লাহ তাআলা আপনার সাথে কথা বলে আপনাকে সম্মানিত করেছেন। লিখিত কিতাব (তাওরাত) দিয়েছেন। আপনি কি এমন বিষয়ে আমাকে তিরস্কার করেছেন যা আল্লাহ আমাকে সৃষ্টি করার চল্লিশ বছর আগে নির্ধারণ করে রেখেছিলেন? আদম আলাইহিস সালাম মুসা আলাইহিস সালাম-এর উপর বিতর্কে বিজয়ী হলেন। (হাদীসটি সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে তাকদীর অধ্যায়ে 'আদম ও মূসা-এর বিতর্ক শিরোনামে উল্লেখ আছে)
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكِتَابِهِ وَلِقَائِه وَرُسُلِهِ وَتُؤْمِنُ بِالْبَعْثِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدْرِ كُلِهِ.
ঈমান হল : আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর ফেরেশতাদের, তাঁর কিতাব, তাঁর সাক্ষাত, তাঁর রাসূলগণ, পুনরুত্থান এবং ভাগ্যের ভাল-মন্দের প্রতি ঈমান আনা।

📘 ঈমানের ৭৭ টি শাখা > 📄 ৬. আখিরাতের প্রতি ঈমান আনা

📄 ৬. আখিরাতের প্রতি ঈমান আনা


ঈমানের শাখা-৬. আখিরাতের প্রতি ঈমান আনা
আখিরাত বা পরকালের ব্যাপারে বিশ্বাস রাখাও ঈমানের অংশ, এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন-
قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ .
অর্থ: তোমরা তাদের সাথে জিহাদ কর, যারা আল্লাহ ও পরকালকে বিশ্বাস করে না। (সূরা আত তাওবা: আয়াত- ২৯)
হুলাইমী বলেন, অবশ্যই একদিন এই দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে। একদিন একদিন করে মূলত পৃথিবী সেই দিনটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যা হঠাৎ করে এসে হাজির হবে। সেই দিনটিকে পাশ কাটানোর কোনো উপায়ই নেই। সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবী করীম বলেছেন, 'যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ তার শপথ! কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবে। দোকানদার ও খরিদ্দার কাপড় দর দাম করে মূল্য পরিশোধের আগেই তা সংঘটিত হয়ে যাবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00