📄 জনসম্মুখে মুরগি দেখিয়ে ভেতরে ভেতরে হারাম কাজ করা
জনসম্মুখে বুযুর্গি দেখিয়ে ভেতরে ভেতরে হারাম কাজ করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্।
হযরত সাউবান থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
لأَعْلَمَنَّ أَقْوَامًا مِنْ أُمَّتِي يَأْتُوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِحَسَنَاتِ أَمْثَالِ جَبَالِ تَهَامَةَ بَيْضًا، فَيَجْعَلُهَا اللَّهُ عَزَّ وَ جَلَّ هَبَاءً مَنْثُورًا ، قَالَ ثَوْبَانُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! صِفْهُمْ لَنَا، جَلِّهِمْ لَنَا، أَنْ لَا تَكُوْنَ مِنْهُمْ وَ نَحْنُ لَا تَعْلَمُ، قَالَ: أَمَا إِنَّهُمْ إِخْوَانُكُمْ وَ مِنْ جِلْدَتِكُمْ وَيَأْخُذُوْنَ مِنَ اللَّيْلِ كَمَا تَأْخُذُوْنَ، وَلَكِنَّهُمْ أَقْوَامٌ إِذَا خَلَوْا بِمَحَارِمِ اللَّهِ انْتَهَكُوْهَا (ইবনু মাজাহ, হাদীস ৪৩২১)
অর্থাৎ আমি আমার উম্মতের এমন কিছু সম্প্রদায়কে চিনি যারা কিয়ামতের দিন তিহামা পাহাড়ের ন্যায় শুভ্র-পরিচ্ছন্ন অনেকগুলো নেকি নিয়ে মহান আল্লাহ্ তা'আলার সামনে উপস্থিত হবে। তখন আল্লাহ্ তা'আলা সেগুলোকে ধূলিকণার ন্যায় উড়িয়ে দিবেন। হযরত সাউবান বলেন: হে আল্লাহ্'র রাসূল! আপনি আমাদেরকে তাদের বর্ণনা দিন। তাদের ব্যাপারটি আমাদেরকে সুস্পষ্টভাবে বলুন। তা হলে আমরা না জেনে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবো না। রাসূল বলেন: তারা তোমাদেরই মুসলিম ভাই। দেখতে-শুনতে তোমাদেরই মতো। তারাও তাহাজ্জুদ পড়ে যেমনিভাবে তোমরা পড়ো। তবে তারা এমন সম্প্রদায় যে, যখন তারা নির্জনে যায় তখন তারা হারাম কাজে লিপ্ত হয়। এদের ব্যাপারটি এতো ভয়ানক হওয়ার কারণ এই যে, তারা মূলতঃ আল্লাহভীরু না হওয়ার দরুন বাহ্যিক বুযুর্গি দেখিয়ে সাধারণ মুসলমানকে সুকৌশলে পথভ্রষ্ট করা তাদের জন্য অনেক সহজ। কারোর স্ত্রী-সন্তান তাদের হাতে নিরাপদ নয়।
তবে এর মানে এই নয় যে, কেউ ভেতরে ভেতরে হারাম কাজ করলে তা মানুষের সামনে প্রকাশ করে দিবে যাতে মানুষ তাকে প্রকাশ্যভাবে বুযুর্গ মনে না করে। বরং যখন আল্লাহ্ তা'আলা তার ব্যাপারটি লুকিয়ে রেখেছেন তা হলে সেও যেন তার ব্যাপারটি লুকিয়ে রাখে। তবে এ ধরনের অভ্যাস পরিত্যাগ করার দুর্বার চেষ্টা অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ, এ ধরনের আচরণ মুনাফিকির পর্যায়ে পড়ে।
📄 মানুষকে দেখানো অথবা গর্ব করার জন্য ঘোড়ার প্রতিপালন
মানুষকে দেখানো অথবা গর্ব করার জন্য ঘোড়ার প্রতিপালন হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الْخَيْلُ لِثَلَاثَةِ: لِرَجُلٍ أَجْرٌ وَ لِرَجُلٍ سِتْرٌ وَ عَلَى رَجُلٍ وِزْرٌ ، فَأَمَّا الَّذِي لَهُ أَجْرٌ: فَرَجُلٌ رَبَطَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ... وَ رَجُلٌ رَبَطَهَا تَغَنِّيَا وَ تَعَفّفًا وَ لَمْ يَنْسَ حَقَّ اللَّهِ فِي رِقَابِهَا وَ لَا ظُهُورِهَا فَهِيَ لَهُ سِتْرٌ ، وَ رَجُلٌ رَبَطَهَا فَخْرًا وَ رِيَاء فَهِيَ عَلَى ذَلِكَ وِزْرٌ (বুখারী, হাদীস ৭৩৫৬ মুসলিম, হাদীس ৯৮৭)
অর্থাৎ ঘোড়া তিন জাতীয় মানুষের জন্য। কারোর জন্য তা সাওয়াব কামানোর মাধ্যম হবে। আবার কারোর জন্য তা নিজ সম্মান রক্ষা করার মাধ্যম হবে। আবার কারোর জন্য তা গুনাহ্'র কারণ হবে। যার জন্য তা সাওয়াব কামানোর মাধ্যম হবে সে ওই ব্যক্তি যে ঘোড়াটিকে আল্লাহ্'র রাস্তায় জিহাদের জন্য প্রতিপালন করছে।... দ্বিতীয় ব্যক্তি হচ্ছে সে যে ঘোড়াটিকে সচ্ছলতা ও আরেক জনের নিকট হাত পাতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রতিপালন করছে। আর সে এ ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলার অধিকার সমূহ ভুলে যায়নি। তা হলে তা তার জন্য সম্মান রক্ষার মাধ্যম হবে। আরেকজন ঘোড়াটিকে লোক দেখানো এবং গর্ব করার জন্য প্রতিপালন করছে। তা হলে তা তার জন্য গুনাহ্'র কারণ হবে।
📄 সাধারণ শৌচাগারে নিম্নবসন ছাড়া কারোর প্রবেশ করা অথবা নিজ স্ত্রীকে প্রবেশ করতে দেয়া
সাধারণ শৌচাগারে নিম্নবসন ছাড়া কারোর প্রবেশ করা অথবা নিজ স্ত্রীকে প্রবেশ করতে দেয়াও হারাম। কারণ, এ জাতীয় শৌচাগারে পর্দা রক্ষা করা অসম্ভবই বটে।
রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلَا يُدْخِلْ حَلِيْلَتَهُ الْحَمَّامَ ، وَ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يَدْخِلِ الْحَمَّامَ إِلا بِمِثْزَرٍ، وَ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَ الْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يَجْلِسْ عَلَى مَائِدَةٍ يُدَارُ عَلَيْهَا الْخَمْرُ (তিরমিযী, হাদীস ২৮০১ আল্বানী/আ'দাবুয যিফাফ: ১৩৯)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাসী সে যেন তার স্ত্রীকে সাধারণ শৌচাগারে প্রবেশ করতে না দেয়। যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাসী সে যেন নিম্নবসন ছাড়া সাধারণ শৌচাগারে প্রবেশ না করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাসী সে যেন এমন খাবার টেবিলে না বসে যেখানে মদ বা মাদকদ্রব্য পরিবেশন করা হয়। রাসুল আরো বলেন:
الْحَمَّامُ حَرَامٌ عَلَى نِسَاءِ أُمَّتِي (স্বা'হীহল-জা'মি', হাদীস ৩১৯২)
অর্থাৎ সাধারণ শৌচাগার আমার উম্মতের মহিলাদের জন্য হারাম।
📄 যে মজলিসে হারামের আদান-প্রদান হয় এমন মজলিসে অবস্থান করা
যে মজলিসে হারামের আদান-প্রদান হয় এমন মজলিসে অবস্থান করা হারাম। রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلَا يُدْخِلْ حَلِيْلَتَهُ الْحَمَّامَ ، وَ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يَدْخُلِ الْحَمَّامَ إِلا بِمِثْزَرٍ ، وَ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَ الْيَوْمِ الآخِرِ فَلَا يَجْلِسُ عَلَى مَائِدَةٍ يُدَارُ عَلَيْهَا الْخَمْرُ (তিরমিযী, হাদীس ২৮০১ আল্বানী/আ'দাবুয যিফাফ: ১৩৯)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাসী সে যেন তার স্ত্রীকে সাধারণ শৌচাগারে প্রবেশ করতে না দেয়। যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাসী সে যেন নিম্নবসন ছাড়া সাধারণ শৌচাগারে প্রবেশ না করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাসী সে যেন এমন খাবার টেবিলে না বসে যেখানে মদ বা মাদকদ্রব্য পরিবেশন করা হয়।