📄 মানুষের চলাচলের পথে, গাছের ছায়ায় কিংবা পুকুর ও নদ-নদীর ঘাটে মল ত্যাগ
মানুষের চলাচলের পথে, গাছের ছায়ায় কিংবা পুকুর ও নদ-নদীর ঘাটে মল ত্যাগ আরেকটি হারাম কাজ কিংবা কবীরা গুনাহ্।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
اتَّقُوا اللَّاعِنَيْنِ، قَالُوا: وَ مَا اللَّاعِنَانِ يَا رَسُوْلَ اللهِ ؟! قَالَ: الَّذِي يَتَخَلَّى فِي طَرِيقِ النَّاسِ أَوْ ظَلْهِمْ (আবু দাউদ, হাদীস ২৫)
অর্থাৎ তোমরা অভিশাপের দু'টি কারণ হতে দূরে থাকো। সাহাবা (রাזিয়াল্লাহু আন্হুম) বললেন: অভিশাপের কারণ দুটি কি? তিনি বললেন: পথে-ঘাটে অথবা ছায়াবিশিষ্ট গাছের তলায় মল-মূত্র ত্যাগ করা।
হযরত মু'আয থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
اتَّقُوْا الْمَلَاعِنَ الثَّلَاثَةَ : الْبَرَازَ فِي الْمَوَارِدِ ، وَ قَارِعَةِ الطَّرِيقِ ، وَ الظَّلِّ (আবু দাউদ, হাদীস ২৬ ইন্নু মাজাহ, হাদীস ৩২৮)
অর্থাৎ তোমরা লা'نতের তিনটি কারণ থেকে দূরে থাকো। যা হচ্ছে, পুকুর ও নদী ঘাট, রাস্তার মধ্যভাগ এবং গাছের ছায়ায় মল-মূত্র ত্যাগ করা।
📄 কোন পশুকে খাদ্য-পানীয় না দিয়ে দীর্ঘ সময় এমনিতেই ইচ্ছাকৃতভাবে বেঁধে রাখা যাতে সে ক্ষুধা-পিপাসায় মরে যায়
কোন পশুকে খাদ্য-পানীয় না দিয়ে দীর্ঘ সময় এমনিতেই ইচ্ছাকৃতভাবে বেঁধে রাখা যাতে সে ক্ষিধা-পিপাসায় মরে যায় এমন করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাזিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
دَخَلَتِ امْرَأَةُ النَّارَ فِي هِرَّةٍ رَبَطَتْهَا ، فَلَمْ تُطْعِمْهَا، وَ لَمْ تَدَعْهَا تَأْكُلُ مِنْ خَشَاشِ الْأَرْضِ (বুখারী, হাদীস ২৩৬৫, ৩৩১৮)
অর্থাৎ জনৈকা মহিলা একটি বিড়ালের দরুন জাহান্নামে প্রবেশ করেছে। সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছে। না তাকে কিছু খেতে দিয়েছে। না তাকে ছেড়ে দিয়েছে যাতে সে জমিনের পোকা-মাকড় টুকিয়ে খেতে পারে।
📄 সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধের মহান দায়িত্ব পরিহার করা
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধের মহান দায়িত্ব পরিহার করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
لُعِنَ الَّذِيْنَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُودَ وَ عِيْسَى بْنِ مَرْيَمَ ، ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَّ كَانُوا يَعْتَدُوْنَ ، كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُّنْكَرٍ فَعَلُوْهُ ، لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُوْنَ ﴾ (মা'য়িদাহ: ৭৮-৭৯)
অর্থাৎ বানী ইস্রাঈলের (ইহুদি ও খ্রিস্টানদের) কাফিরদের উপর লা'نত দাউদ ও ‘ঈসা বিন্ মারইয়াম (আলাইহিমুস-সালাম) এর মুখে এবং তা এ কারণে যে, তারা ছিলো ওহীর আদেশ বিরোধী এবং সীমা লঙ্ঘনকারী। তারা একে অপরকে কৃত গর্হিত কাজ থেকে নিষেধ করতো না। মূলতঃ তাদের উক্ত কাজ ছিলো অত্যন্ত নিকৃষ্ট।
হযরত ‘হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
وَ الَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوْفِ، وَ لَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ، أَوْ لَيُوْشِكَنَّ اللَّهُ أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عِقَابًا مِّنْهُ ، ثُمَّ تَدْعُونَهُ، فَلَا يُسْتَجَابُ لَكُمْ (তিরমিযী, হাদীস ২১৬৯)
অর্থাৎ সে সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! তোমরা অবশ্যই একে অপরকে সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। তা না হলে আল্লাহ্ তা'আলা অচিরেই তোমাদের উপর তাঁর পক্ষ থেকে বিশেষ শাস্তি পাঠাবেন। তখন তোমরা তাঁকে ডাকবে; অথচ তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবেন না।
📄 জনসম্মুখে মুরগি দেখিয়ে ভেতরে ভেতরে হারাম কাজ করা
জনসম্মুখে বুযুর্গি দেখিয়ে ভেতরে ভেতরে হারাম কাজ করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্।
হযরত সাউবান থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
لأَعْلَمَنَّ أَقْوَامًا مِنْ أُمَّتِي يَأْتُوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِحَسَنَاتِ أَمْثَالِ جَبَالِ تَهَامَةَ بَيْضًا، فَيَجْعَلُهَا اللَّهُ عَزَّ وَ جَلَّ هَبَاءً مَنْثُورًا ، قَالَ ثَوْبَانُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! صِفْهُمْ لَنَا، جَلِّهِمْ لَنَا، أَنْ لَا تَكُوْنَ مِنْهُمْ وَ نَحْنُ لَا تَعْلَمُ، قَالَ: أَمَا إِنَّهُمْ إِخْوَانُكُمْ وَ مِنْ جِلْدَتِكُمْ وَيَأْخُذُوْنَ مِنَ اللَّيْلِ كَمَا تَأْخُذُوْنَ، وَلَكِنَّهُمْ أَقْوَامٌ إِذَا خَلَوْا بِمَحَارِمِ اللَّهِ انْتَهَكُوْهَا (ইবনু মাজাহ, হাদীস ৪৩২১)
অর্থাৎ আমি আমার উম্মতের এমন কিছু সম্প্রদায়কে চিনি যারা কিয়ামতের দিন তিহামা পাহাড়ের ন্যায় শুভ্র-পরিচ্ছন্ন অনেকগুলো নেকি নিয়ে মহান আল্লাহ্ তা'আলার সামনে উপস্থিত হবে। তখন আল্লাহ্ তা'আলা সেগুলোকে ধূলিকণার ন্যায় উড়িয়ে দিবেন। হযরত সাউবান বলেন: হে আল্লাহ্'র রাসূল! আপনি আমাদেরকে তাদের বর্ণনা দিন। তাদের ব্যাপারটি আমাদেরকে সুস্পষ্টভাবে বলুন। তা হলে আমরা না জেনে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবো না। রাসূল বলেন: তারা তোমাদেরই মুসলিম ভাই। দেখতে-শুনতে তোমাদেরই মতো। তারাও তাহাজ্জুদ পড়ে যেমনিভাবে তোমরা পড়ো। তবে তারা এমন সম্প্রদায় যে, যখন তারা নির্জনে যায় তখন তারা হারাম কাজে লিপ্ত হয়। এদের ব্যাপারটি এতো ভয়ানক হওয়ার কারণ এই যে, তারা মূলতঃ আল্লাহভীরু না হওয়ার দরুন বাহ্যিক বুযুর্গি দেখিয়ে সাধারণ মুসলমানকে সুকৌশলে পথভ্রষ্ট করা তাদের জন্য অনেক সহজ। কারোর স্ত্রী-সন্তান তাদের হাতে নিরাপদ নয়।
তবে এর মানে এই নয় যে, কেউ ভেতরে ভেতরে হারাম কাজ করলে তা মানুষের সামনে প্রকাশ করে দিবে যাতে মানুষ তাকে প্রকাশ্যভাবে বুযুর্গ মনে না করে। বরং যখন আল্লাহ্ তা'আলা তার ব্যাপারটি লুকিয়ে রেখেছেন তা হলে সেও যেন তার ব্যাপারটি লুকিয়ে রাখে। তবে এ ধরনের অভ্যাস পরিত্যাগ করার দুর্বার চেষ্টা অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ, এ ধরনের আচরণ মুনাফিকির পর্যায়ে পড়ে।