📄 দুর্গন্ধযুক্ত কোন বস্তু যেমনঃ পিঁয়াজ, রসুন, বিড়ি, সিগারেট, হুঁকো ইত্যাদি খেয়ে বা পান করে সরাসরি মসজিদে চলে আসা
দূর্গন্ধযুক্ত কোন বস্তু যেমন: কাঁচা পিয়াজ, রসুন, বিড়ি, সিগারেট, হুঁকো ইত্যাদি খেয়ে বা পান করে সরাসরি মসজিদে চলে আসা আরেকটি কবীরা গুনাহ্ ও হারাম কাজ।
হযরত ‘উমর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
ثُمَّ إِنَّكُمْ ، أَيُّهَا النَّاسُ! تَأْكُلُوْنَ شَجَرَتَيْنِ لَا أَرَاهُمَا إِلَّا خَبِيْنَتَيْنِ ، هَذَا الْبَصَلَ وَالثَّوْمَ ، لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ إِذَا وَجَدَ رِيْحَهُمَا مِنَ الرَّجُلِ فِي الْمَسْجِدِ أَمَرَ بِهِ فَأُخْرِجَ إِلَى الْبَقِيعِ ، فَمَنْ أَكَلَهُمَا فَلْيُمِتْهُمَا طَبْحًا (মুসলিম, হাদীস ৫৬৭)
অর্থাৎ হে লোক সকল! তোমরা দুর্গন্ধময় দু'টি উদ্ভিদ খাচ্ছো যা পিয়াজ ও রসুন। আমি রাসূল কে দেখেছি, তিনি কারোর নিকট থেকে মসজিদে থাকাবস্থায় এমন গন্ধ পেলে তাকে মসজিদ থেকে বের করে বক্বী'তে পাঠিয়ে দিতেন। অতএব কেউ তা খেতে চাইলে সে যেন তা পাকিয়ে খায়।
রাসূল আরো বলেন:
مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ الْمُنْتِنَةِ فَلَا يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا ، فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَأَذَّى مِمَّا يَتَأَذَّى مِنْهُ الْإِنْسُ (মুসলিম, হাদীস ৫৬৪)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি এ দুর্গন্ধময় উদ্ভিদ খেলো সে যেন আমাদের মসজিদের নিকটও না ঘেঁষে। কারণ, ফিরিস্তাগণ এমন বস্তু কর্তৃক কষ্ট পায় যা কর্তৃক কষ্ট পায় আদম সন্তান।
📄 শরয়ী কোন কারণ ছাড়া কোন মুসলমানের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করা
শরয়ী কোন কারণ ছাড়া কোন মুসলমানের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্ ও হারাম।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثَ ، فَمَنْ هَجَرَ فَوْقَ ثَلَاثٍ فَمَاتَ دَخَلَ النَّارَ (আবু দাউদ, হাদীস ৪৯১৪ স'হীহল জা'মি', হাদীس ৭৬৩৫)
অর্থাৎ কোন মুসলমানের জন্য জায়িয নয় যে, সে তার অন্য কোন মুসলমান ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করবে। কেউ তা করলে সে মৃত্যুর পর জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
এক বছর কারোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা তো তাকে হত্যা করার ন্যায়। হযরত আবু খিরাশ্ সুলামী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ هَجَرَ أَخَاهُ سَنَةٌ ؛ فَهُوَ كَسَفْكَ دَمه (আবু দাউদ, হাদীস ৪৯১৫)
অর্থাৎ কোন মুসলিম ভাইয়ের সাথে এক বছর সম্পর্ক ছিন্ন করা মানে তাকে হত্যা করা।
রাসূল সম্পর্ক ছিন্নতার একটি ধরনও উল্লেখ করেছেন। যা থেকে দোষী ব্যক্তির বাস্তব চিত্র সবার সামনে একেবারেই সুস্পষ্ট হয়ে যায় এবং সর্বোত্তম ব্যক্তির পরিচয়ও মিলে।
হযরত ‘আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لا يَكُوْنُ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ مُسْلِمًا فَوْقَ ثَلَاثَةٍ ، فَإِذَا لَقِيَهُ سَلَّمَ عَلَيْهِ ثَلَاثَ مِرَارٍ؛
كُلُّ ذَلِكَ لَا يَرُدُّ عَلَيْهِ ، فَقَدْ بَاءَ بِإِثْمِهِ (আবু দাউদ, হাদীস ৪৯১৩)
অর্থাৎ কোন মুসলমানের জন্য জায়িয নয় যে, সে তার অন্য কোন মুসলমান ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করবে। তা এমন যে, তার সাথে ওর সাক্ষাৎ হলে সে তাকে তিন বার সালাম দেয়; অথচ সে তার সালামগুলোর একটি বারও উত্তর দিলো না। এতে তারই গুনাহ্ হবে; ওর নয়। হযরত আবু আইয়ূব আন্সারী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ ، يَلْتَقِيَانِ، فَيُعْرِضُ هَذَا وَيُعْرِضُ هَذَا، وَ خَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بِالسَّلَامِ (আবু দাউد, হাদীস ৪৯১১)
অর্থাৎ কোন মুসলমানের জন্য জায়িয নয় যে, সে তার অন্য কোন মুসলমান ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করবে। তা এমন যে, তাদের পরস্পরের সাক্ষাৎ হলো; অথচ তারা একে অপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো। তবে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি যে সর্বপ্রথম সালাম বিনিময় করে। কারোর সাথে ঝগড়া-বিবাদ করে মন কষাকষি হলে তথা পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষভাব জন্ম নিলে আল্লাহ্ তা'আলার সাধারণ ক্ষমা থেকে তারা বঞ্চিত থাকবে। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
تُفْتَحُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ كُلَّ يَوْمِ اثْنَيْنِ وَ حَمِيْسٍ ، فَيُغْفَرُ فِي ذَلِكَ الْيَوْمَيْنِ لِكُلِّ عَبْدِ لَا يُشْرِكْ بِاللهِ شَيْئًا ، إِلَّا مَنْ بَيْنَهُ وَ بَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ ، فَيُقَالُ : أَنْظُرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا (আবু দাউদ, হাদীস ৪৯১৬)
অর্থাৎ প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরোজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং উক্ত উভয় দিনেই সকল শিরকমুক্ত বান্দাহকে ক্ষমা করে দেয়া হয়। তবে এমন দু'জন ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হয় না যাদের পরস্পরে শত্রুতা রয়েছে। তাদের সম্পর্কে বলা হয়: এদেরকে আরো কিছু সময় দাও যাতে তারা সমঝোতায় আসতে পারে।
তবে সম্পর্ক ছিন্ন করা যদি শরয়ী কোন কারণে হয়ে থাকে তা হলে তা অবশ্যই জায়িয। যেমন: কেউ নামায পড়ে না অথবা কেউ প্রকাশ্যে অশ্লীল কাজ করে। সুতরাং আপনি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন। তবে এ কথা অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে যে, যদি কারোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে তার মধ্যে পাপবোধ জন্ম নেয় অথবা তার সঠিক পথে ফিরে আসার বিশেষ সম্ভাবনা থাকে তা হলে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা অবশ্যই দরকার। কারণ, তা অসৎ কাজে বাধা দেয়ার শামিল। তবে যদি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সে আরো গাদ্দার অথবা আরো হঠকারী হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তা হলে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন না করাই উচিৎ। বরং তাকে মাঝে মাঝে নসীহত করবে এবং আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিবে।
নবী জনৈকা স্ত্রীর সাথে চল্লিশ দিন কথা বলেননি। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর ছেলের সাথে মৃত্যু পর্যন্ত কথা বলেননি। হযরত ‘উমর বিন্ আব্দুল আযীয (রাহিমাহুল্লাহ) জনৈক ব্যক্তিকে দেখে নিজ চেহারা ঢেকে ফেলেন।
📄 কোন পুরুষের উপুড় হয়ে শোয়া
কোন পুরুষের উপুড় হয়ে শোয়া আরেকটি হারাম কাজ ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত ত্বিহফাহ্ আল-গিফারী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল একদা আমাকে মসজিদের মধ্যে উপুড় হয়ে শুতে দেখে পা দিয়ে ধাক্কা মেরে বললেন:
مَا لَكَ وَ لِهَذَا النَّوْمِ ! هَذِهِ نَوْمَةٌ يَكْرَهُهَا اللَّهُ ، أَوْ يُبْغِضُهَا اللَّهُ (ইবনু মাজাহ, হাদীস ৩৭৯১)
অর্থাৎ তোমার কি হলো! এমনভাবে ঘুমাও কেন? এমন ঘুম তো আল্লাহ্ তা'আলা ঘৃণা করেন তথা পছন্দ করেন না।
হযরত আবুযর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা রাসুল আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন আমি উপুড় হয়ে ঘুমুচ্ছিলাম। তখন তিনি আমাকে পা দিকে ধাক্কা মেরে বললেন:
يَا جُنَيْدِبُ ! إِنَّمَا هَذِهِ ضِجْعَةُ أَهْلِ النَّارِ (ইবনু মাজাহ, হাদীস ৩৭৯২)
অর্থাৎ হে জুনাইদিব! এ শোয়া তো জাহান্নামীদের শোয়া।
📄 কোন গুনাহ্ একাকীভাবে করে পরে তা অন্যের কাছে বলে বেড়ানো
কোন গুনাহ্ একাকীভাবে করে পরে তা অন্যের কাছে বলে বেড়ানো আরকটি কবীরা গুনাহ্ বা হারাম।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
كُلُّ أُمَّتِي مُعَافَى إِلَّا الْمُجَاهِرِينَ ، وَ إِنَّ مِنَ الْمُجَاهَرَةِ أَنْ يَعْمَلَ الرَّجُلُ بِاللَّيْلِ عَمَلاً ، ثُمَّ يُصْبِحُ وَ قَدْ سَتَرَهُ اللهُ ، فَيَقُوْلُ : يَا فُلَانُ عَمِلْتُ الْبَارِحَةَ كَذَا وَ كَذَا ، وَ قَدْ بَاتَ يَسْتُرُهُ رَبُّهُ ، وَ يُصْبِحُ يَكْشِفُ سِتْرَ اللَّهُ عَنْهُ (বুখারী, হাদীস ৬০৬৯)
অর্থাৎ আমার প্রতিটি উম্মতই নিরাপদ তথা ক্ষমার যোগ্য। তবে প্রকাশ্য গুনাহগাররা নয়। আর প্রকাশ্য গুনাহ্ বলতে এটাকেও বুঝানো হয় যে, কেউ রাত্রিবেলায় মানব সমাজের অলক্ষ্যেই গুনাহ্'র কাজটা করলো। ভোর পর্যন্ত কারোর নিকট তা ফাঁস হয়ে যায়নি; অথচ ভোর হতেই সে অন্যকে বললো: হে অমুক! আমি গত রাত্রিতে এমন এমন অপকর্ম করেছিলাম। আল্লাহ্ তা'আলা তো তার উক্ত কর্মটি সকাল পর্যন্ত লুকিয়ে রাখলেন; অথচ সে ভোর হতেই তা জনসমক্ষে প্রকাশ করে দিলো।
এ ছাড়াও কোন গুনাহ্'র কাজ জনসমাজে বার বার বলা হলে অথবা প্রকাশ্যে আলোচনা করা হলে মানুষ তা সহজেই গ্রহণ করে নেয় এবং তা ধীরে ধীরে ব্যাপকতা লাভ করে। এ ভয়ঙ্করতার প্রতি লক্ষ্য রেখেই আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّوْنَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَ الْآخِرَةِ ، وَ اللَّهُ يَعْلَمُ وَ أَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ ﴾ (নূর: ১৯)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই যারা অশ্লীল কাজ মুসলিম সমাজে চালু হয়ে যাক তা পছন্দ করে তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি দুনিয়াতে এবং আখিরাতেও। আল্লাহ্ তা'আলাই এর ভয়ঙ্করতা সম্পর্কে ভালোই জানেন; অথচ তোমরা তা জানো না।