📄 কোন জীবিত পশুর এক বা একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে তাকে বিশ্রী বা বিকৃত করা
কোন জীবিত পশুর এক বা একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে তাকে বিশ্রী বা বিকৃত করা আরেকটি হারাম কাজ ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَعَنَ اللَّهُ مَنْ مَثْلَ بِالْحَيْوَان (নাসায়ী, হাদীس ৪১৩৯)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা লা'نত করুক সে ব্যক্তিকে যে কোন জীবিত পশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে তাকে বিকৃত করে দেয়।
এমন অপকর্ম সংঘটন করা যদি কোন জীবিত পশুর সাথে গুরুতর অপরাধ হয়ে থাকে তা হলে তা কোন মানুষের সাথে সংঘটন করা যে কতটুকু ভয়াবহ। তা এখান থেকে সহজেই অনুমান করা যায়। এ জাতীয় হিংস্র অমানুষদের সুবুদ্ধি ফিরে আসবে কি?
📄 চুল বা দাড়িতে কালো রং লাগানো
চুল বা দাঁড়িতে কালো রং লাগানো আরেকটি হারাম কাজ ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ আব্বাস্ (রাזিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
يَكُوْنُ قَوْمٌ يَحْضِبُوْنَ فِي آخِرِ الزَّمَانِ بِالسَّوَادِ ؛ كَحَوَاصِلِ الْحَمَامِ ، لَا يَرِيْحُوْنَ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ (আবু দাউদ, হাদীس ৪২১২ নাসায়ী, হাদীস ৫০৭৭)
অর্থাৎ শেষ যুগে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা (চুল বা দাঁড়িতে) কালো রং লাগাবে। যা দেখতে কবুতরের পেটের ন্যায়। তারা জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না।
কারোর মাথার চুল বা দাঁড়ি সাদা হয়ে গেলে তাতে কালো ছাড়া যে কোন কালার লাগানো সুন্নাত।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنَّ الْيَهُودَ وَ النَّصَارَى لَا يَصْبُغُوْنَ ؛ فَخَالِفُوْهُمْ (আবু দাউদ, হাদীস ৪২০৩)
অর্থাৎ ইহুদী ও খ্রিস্টানরা (মাথার চুল বা দাঁড়ি) কালার করে না। সুতরাং তোমরা তাদের বিপরীত করবে তথা কালার করবে।
হযরত জাবির বিন্ আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
أُتِيَ بِأَبِي قُحَافَةَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ ، وَ رَأْسُهُ وَ لِحْيَتُهُ كَالثَّغَامَةِ بَيَاضًا فَقَالَ رَسُوْلُ الله ﷺ : غَيْرُوا هَذَا بِشَيْءٍ ، وَ اجْتَنِبُوا السَّوَادَ (আবু দাউদ, হাদীস ৪২০৪ নাসায়ী, হাদীس ৫০৭৮)
অর্থাৎ মক্কা বিজয়ের দিন (আবু বকর এর পিতা) আবু কুহাফাহকে (রাসূল এর সামনে) উপস্থিত করা হলো। তখন তার মাথার চুল ও দাঁড়ি সাদা ফল ও ফুল বিশিষ্ট গাছের ন্যায় দেখাচ্ছিলো। তা দেখে রাসূল সাহাবাদেরকে বললেন: তোমরা কোন কিছু দিয়ে এর কালার পরিবর্তন করে দাও। তবে কালো কালার কিন্তু লাগাবে না।
তবে রাসূল সাধারণত মেহেদি, জাফরান ও অর্স (লাল গোলাপের রস) দিয়ে কালার করতেন।
হযরত আবু রিম্সাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি ও আমার পিতা রাসূল এর কাছে আসলে তিনি আমার পিতাকে বলেন: এ ছেলেটি কে? তখন আমার পিতা বললেন: সে আমারই ছেলে। তখন রাসূল বললেন:
তুমি তার সাথে অপরাধমূলক আচরণ করো না। হযরত আবু রিম্সাহ্ বলেন: তখন তাঁর দাঁড়ি মেহেদি লাগানো ছিলো।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাזিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
كَانَ النَّبِيُّ يَلْبَسُ النَّعَالَ السَّبْتَيَّةَ ، وَيُصَفِّرُ لِحْيَتَهُ بِالْوَرْسِ وَ الزَّعْفَرَانِ (আবু দাউদ, হাদীس ৪২১০)
অর্থাৎ নবী চামড়ার জুতো পরিধান করতেন এবং অর্স তথা লাল গোলাপের রস ও জাফরান দিয়ে দাঁড়িটুকু হলুদ করে নিতেন।
রাসুল আরো বলেন:
إِنْ أَحْسَنَ مَا غَيْرَ بِهِ هَذَا الشَّيْبُ : الْحِنَّاءُ وَ الْكَتَمُ (আবু দাউদ, হাদীس ৪২০৫ নাসায়ী, হাদীস ৫০৮০)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই সর্বশ্রেষ্ঠ বস্তু যা দিয়ে বার্ধক্যের সাধা বর্ণকে পরিবর্তন করা যায় তা হচ্ছে মেহেদি ও কাতাম যার ফল মরিচের ন্যায়।
📄 দুর্গন্ধযুক্ত কোন বস্তু যেমনঃ পিঁয়াজ, রসুন, বিড়ি, সিগারেট, হুঁকো ইত্যাদি খেয়ে বা পান করে সরাসরি মসজিদে চলে আসা
দূর্গন্ধযুক্ত কোন বস্তু যেমন: কাঁচা পিয়াজ, রসুন, বিড়ি, সিগারেট, হুঁকো ইত্যাদি খেয়ে বা পান করে সরাসরি মসজিদে চলে আসা আরেকটি কবীরা গুনাহ্ ও হারাম কাজ।
হযরত ‘উমর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
ثُمَّ إِنَّكُمْ ، أَيُّهَا النَّاسُ! تَأْكُلُوْنَ شَجَرَتَيْنِ لَا أَرَاهُمَا إِلَّا خَبِيْنَتَيْنِ ، هَذَا الْبَصَلَ وَالثَّوْمَ ، لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ إِذَا وَجَدَ رِيْحَهُمَا مِنَ الرَّجُلِ فِي الْمَسْجِدِ أَمَرَ بِهِ فَأُخْرِجَ إِلَى الْبَقِيعِ ، فَمَنْ أَكَلَهُمَا فَلْيُمِتْهُمَا طَبْحًا (মুসলিম, হাদীস ৫৬৭)
অর্থাৎ হে লোক সকল! তোমরা দুর্গন্ধময় দু'টি উদ্ভিদ খাচ্ছো যা পিয়াজ ও রসুন। আমি রাসূল কে দেখেছি, তিনি কারোর নিকট থেকে মসজিদে থাকাবস্থায় এমন গন্ধ পেলে তাকে মসজিদ থেকে বের করে বক্বী'তে পাঠিয়ে দিতেন। অতএব কেউ তা খেতে চাইলে সে যেন তা পাকিয়ে খায়।
রাসূল আরো বলেন:
مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ الْمُنْتِنَةِ فَلَا يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا ، فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَأَذَّى مِمَّا يَتَأَذَّى مِنْهُ الْإِنْسُ (মুসলিম, হাদীস ৫৬৪)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি এ দুর্গন্ধময় উদ্ভিদ খেলো সে যেন আমাদের মসজিদের নিকটও না ঘেঁষে। কারণ, ফিরিস্তাগণ এমন বস্তু কর্তৃক কষ্ট পায় যা কর্তৃক কষ্ট পায় আদম সন্তান।
📄 শরয়ী কোন কারণ ছাড়া কোন মুসলমানের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করা
শরয়ী কোন কারণ ছাড়া কোন মুসলমানের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্ ও হারাম।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثَ ، فَمَنْ هَجَرَ فَوْقَ ثَلَاثٍ فَمَاتَ دَخَلَ النَّارَ (আবু দাউদ, হাদীস ৪৯১৪ স'হীহল জা'মি', হাদীس ৭৬৩৫)
অর্থাৎ কোন মুসলমানের জন্য জায়িয নয় যে, সে তার অন্য কোন মুসলমান ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করবে। কেউ তা করলে সে মৃত্যুর পর জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
এক বছর কারোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা তো তাকে হত্যা করার ন্যায়। হযরত আবু খিরাশ্ সুলামী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ هَجَرَ أَخَاهُ سَنَةٌ ؛ فَهُوَ كَسَفْكَ دَمه (আবু দাউদ, হাদীস ৪৯১৫)
অর্থাৎ কোন মুসলিম ভাইয়ের সাথে এক বছর সম্পর্ক ছিন্ন করা মানে তাকে হত্যা করা।
রাসূল সম্পর্ক ছিন্নতার একটি ধরনও উল্লেখ করেছেন। যা থেকে দোষী ব্যক্তির বাস্তব চিত্র সবার সামনে একেবারেই সুস্পষ্ট হয়ে যায় এবং সর্বোত্তম ব্যক্তির পরিচয়ও মিলে।
হযরত ‘আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لا يَكُوْنُ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ مُسْلِمًا فَوْقَ ثَلَاثَةٍ ، فَإِذَا لَقِيَهُ سَلَّمَ عَلَيْهِ ثَلَاثَ مِرَارٍ؛
كُلُّ ذَلِكَ لَا يَرُدُّ عَلَيْهِ ، فَقَدْ بَاءَ بِإِثْمِهِ (আবু দাউদ, হাদীস ৪৯১৩)
অর্থাৎ কোন মুসলমানের জন্য জায়িয নয় যে, সে তার অন্য কোন মুসলমান ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করবে। তা এমন যে, তার সাথে ওর সাক্ষাৎ হলে সে তাকে তিন বার সালাম দেয়; অথচ সে তার সালামগুলোর একটি বারও উত্তর দিলো না। এতে তারই গুনাহ্ হবে; ওর নয়। হযরত আবু আইয়ূব আন্সারী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ ، يَلْتَقِيَانِ، فَيُعْرِضُ هَذَا وَيُعْرِضُ هَذَا، وَ خَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بِالسَّلَامِ (আবু দাউد, হাদীস ৪৯১১)
অর্থাৎ কোন মুসলমানের জন্য জায়িয নয় যে, সে তার অন্য কোন মুসলমান ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করবে। তা এমন যে, তাদের পরস্পরের সাক্ষাৎ হলো; অথচ তারা একে অপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো। তবে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি যে সর্বপ্রথম সালাম বিনিময় করে। কারোর সাথে ঝগড়া-বিবাদ করে মন কষাকষি হলে তথা পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষভাব জন্ম নিলে আল্লাহ্ তা'আলার সাধারণ ক্ষমা থেকে তারা বঞ্চিত থাকবে। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
تُفْتَحُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ كُلَّ يَوْمِ اثْنَيْنِ وَ حَمِيْسٍ ، فَيُغْفَرُ فِي ذَلِكَ الْيَوْمَيْنِ لِكُلِّ عَبْدِ لَا يُشْرِكْ بِاللهِ شَيْئًا ، إِلَّا مَنْ بَيْنَهُ وَ بَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ ، فَيُقَالُ : أَنْظُرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا (আবু দাউদ, হাদীস ৪৯১৬)
অর্থাৎ প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরোজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং উক্ত উভয় দিনেই সকল শিরকমুক্ত বান্দাহকে ক্ষমা করে দেয়া হয়। তবে এমন দু'জন ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হয় না যাদের পরস্পরে শত্রুতা রয়েছে। তাদের সম্পর্কে বলা হয়: এদেরকে আরো কিছু সময় দাও যাতে তারা সমঝোতায় আসতে পারে।
তবে সম্পর্ক ছিন্ন করা যদি শরয়ী কোন কারণে হয়ে থাকে তা হলে তা অবশ্যই জায়িয। যেমন: কেউ নামায পড়ে না অথবা কেউ প্রকাশ্যে অশ্লীল কাজ করে। সুতরাং আপনি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন। তবে এ কথা অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে যে, যদি কারোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে তার মধ্যে পাপবোধ জন্ম নেয় অথবা তার সঠিক পথে ফিরে আসার বিশেষ সম্ভাবনা থাকে তা হলে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা অবশ্যই দরকার। কারণ, তা অসৎ কাজে বাধা দেয়ার শামিল। তবে যদি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সে আরো গাদ্দার অথবা আরো হঠকারী হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তা হলে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন না করাই উচিৎ। বরং তাকে মাঝে মাঝে নসীহত করবে এবং আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিবে।
নবী জনৈকা স্ত্রীর সাথে চল্লিশ দিন কথা বলেননি। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর ছেলের সাথে মৃত্যু পর্যন্ত কথা বলেননি। হযরত ‘উমর বিন্ আব্দুল আযীয (রাহিমাহুল্লাহ) জনৈক ব্যক্তিকে দেখে নিজ চেহারা ঢেকে ফেলেন।