📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 মৃত পশু, প্রবাহিত রক্ত অথবা শুকরের গোস্ত খাওয়া

📄 মৃত পশু, প্রবাহিত রক্ত অথবা শুকরের গোস্ত খাওয়া


মৃত পশু, প্রবাহিত রক্ত অথবা শুকরের গোস্ত খাওয়া হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
قُلْ لَا أَجِدُ فِي مَا أُوْحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُوْنَ مَيْتَتَةً أَوْدَمًا مَّسْفُوْحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيرٍ ، فَإِنَّهُ رِجْسٌ ) (আন'আম : ১৪৫)
অর্থাৎ (হে মুহাম্মাদ!) তুমি বলে দাও: আমার কাছে যে ওহী পাঠানো হয়েছে তাতে আমি আহারকারীর জন্য কোন কিছু হারাম পাইনি শুধু তিনটি বস্তু ছাড়া। আর তা হচ্ছে, মৃত পশু, প্রবাহিত রক্ত এবং শুকরের গোস্ত। কেননা, তা নাপাক।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেন:
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ الله به ، وَالْمُنْخَنِقَةُ وَ الْمَوْقُوذَةُ وَ الْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَ مَا أَكَلَ السَّبُعُ إِلَّا مَا ذَكِّيْتُمْ ، وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَ أَنْ تَسْتَقْسِمُوْا بِالْأَزْلَامِ ، ذَلِكُمْ فِسْقٌ ) (মা'য়িদাহ : ৩)
অর্থাৎ তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে মৃত পশু, (প্রবাহিত) রক্ত, শুকরের গোস্ত, যে পশুকে যবাই করা হয়েছে আল্লাহ্ তা'আলা ভিন্ন অন্য কোন বস্তু বা ব্যক্তির নামে, যে পশুর গলায় ফাঁস পড়ে সে মারা গেছে, যে পশুকে ধারালো নয় এমন কোন বস্তুর মাধ্যমে আঘাত করে মারা হয়েছে, যে পশু উঁচু কোন স্থান থেকে পড়ে মারা গেছে, যে পশুকে অন্য কোন পশু আঘাত করে বা গুঁতো দিয়ে মেরেছে, যে পশুকে অন্য কোন হিংস্র পশু মেরে তার গোস্ত খেয়েছে, তবে এগুলোর মধ্য থেকে যে পশুকে তোমরা জীবিত পেয়ে যবাই করতে সক্ষম হয়েছো তা খেতে পারো, যে পশুকে মূর্তি (বা কোন পীরের) আস্তানায় যবাই করা হয়েছে এবং তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে নির্দিষ্ট কিছু তীরের মাধ্যমে ভাগ্য নির্ধারণ। তোমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সত্যিই আল্লাহ্ তা'আলার প্রকাশ্য বিরুদ্ধাচরণ।
দাবা খেলা শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম। আর এ দাবা খেলাকেই রাসূল শুকরের গোস্ত ও রক্ত দিয়ে হাত রাঙ্গানোর সাথে তুলনা করেছেন। তা হলে শুকরের গোস্ত খাওয়া কতটুকু গুনাহ্'র কাজ তা এখান থেকেই সহজে অনুমান করা যায়।
হযরত বুরাইদাহ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدِشِيْرِ فَكَأَنَّمَا صَبَعَ يَدَهُ فِي لَحْمٍ خِنْزِيرٍ وَ دَمِهِ (মুসলিম, হাদীس ২২৬০)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি দাবা খেললো সে যেন নিজ হাতকে শুকরের গোস্ত ও রক্ত দিয়ে রঞ্জিত করলো।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 চেহারায় দাগ দেয়া, চেহারার কেশ উঠানো, নিজের চুলের সাথে অন্যের চুল সংযোজন কিংবা দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করা

📄 চেহারায় দাগ দেয়া, চেহারার কেশ উঠানো, নিজের চুলের সাথে অন্যের চুল সংযোজন কিংবা দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করা


চেহারায় দাগ দেয়া, চেহারার কেশ উঠানো, নিজের চুলের সাথে অন্য চুল সংযোজন কিংবা দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করাও হারাম এবং কবীরা গুনাহ্। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাসউদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَعَنَ اللَّهُ الْوَاشِمَاتِ وَ الْمُوْتَشِمَاتِ وَ الْمُتَنَمِّصَاتِ وَ الْمُتَفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ ، الْمُغَيِّرَاتِ خَلْقَ الله (বুখারী, হাদীস ৪৮৮৬, ৫৯৩১, ৫৯৪৩, ৫৯৪৮ মুসলিম, হাদীস ২১২৫)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা লা'نত করেন সে মহিলাকে যে অপরের চেহারা দাগে এবং যে অপরকে দিয়ে নিজ চেহারা দাগ করায়, যার চেহারার কেশ উঠানো হয় এবং যে মহিলা সৌন্দর্যের জন্য নিজ দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে; আল্লাহ্ প্রদত্ত গঠন পরিবর্তন করে।
হযরত আবু হুরাইরাহ্, আয়েশা, আসমা' ও ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَعَنَ اللَّهُ الْوَاصِلَةَ وَ الْمُسْتَوْصِلَةَ (বুখারী, হাদীস ৫৯৩৩, ৫৯৩৪, ৫৯৩৭, ৫৯৪২ মুসলিম, হাদীস ২১২২, ২১২৩, ২১২৪)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা লা'نত করেন নিজের চুলের সাথে অন্য চুল সংযুক্তকারিণী মহিলাকে এবং যার জন্য তা করা হয়েছে তাকেও।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কোন জীবিত পশুর এক বা একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে তাকে বিশ্রী বা বিকৃত করা

📄 কোন জীবিত পশুর এক বা একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে তাকে বিশ্রী বা বিকৃত করা


কোন জীবিত পশুর এক বা একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে তাকে বিশ্রী বা বিকৃত করা আরেকটি হারাম কাজ ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَعَنَ اللَّهُ مَنْ مَثْلَ بِالْحَيْوَان (নাসায়ী, হাদীس ৪১৩৯)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা লা'نত করুক সে ব্যক্তিকে যে কোন জীবিত পশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে তাকে বিকৃত করে দেয়।
এমন অপকর্ম সংঘটন করা যদি কোন জীবিত পশুর সাথে গুরুতর অপরাধ হয়ে থাকে তা হলে তা কোন মানুষের সাথে সংঘটন করা যে কতটুকু ভয়াবহ। তা এখান থেকে সহজেই অনুমান করা যায়। এ জাতীয় হিংস্র অমানুষদের সুবুদ্ধি ফিরে আসবে কি?

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 চুল বা দাড়িতে কালো রং লাগানো

📄 চুল বা দাড়িতে কালো রং লাগানো


চুল বা দাঁড়িতে কালো রং লাগানো আরেকটি হারাম কাজ ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ আব্বাস্ (রাזিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
يَكُوْنُ قَوْمٌ يَحْضِبُوْنَ فِي آخِرِ الزَّمَانِ بِالسَّوَادِ ؛ كَحَوَاصِلِ الْحَمَامِ ، لَا يَرِيْحُوْنَ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ (আবু দাউদ, হাদীس ৪২১২ নাসায়ী, হাদীস ৫০৭৭)
অর্থাৎ শেষ যুগে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা (চুল বা দাঁড়িতে) কালো রং লাগাবে। যা দেখতে কবুতরের পেটের ন্যায়। তারা জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না।
কারোর মাথার চুল বা দাঁড়ি সাদা হয়ে গেলে তাতে কালো ছাড়া যে কোন কালার লাগানো সুন্নাত।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنَّ الْيَهُودَ وَ النَّصَارَى لَا يَصْبُغُوْنَ ؛ فَخَالِفُوْهُمْ (আবু দাউদ, হাদীস ৪২০৩)
অর্থাৎ ইহুদী ও খ্রিস্টানরা (মাথার চুল বা দাঁড়ি) কালার করে না। সুতরাং তোমরা তাদের বিপরীত করবে তথা কালার করবে।
হযরত জাবির বিন্ আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
أُتِيَ بِأَبِي قُحَافَةَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ ، وَ رَأْسُهُ وَ لِحْيَتُهُ كَالثَّغَامَةِ بَيَاضًا فَقَالَ رَسُوْلُ الله ﷺ : غَيْرُوا هَذَا بِشَيْءٍ ، وَ اجْتَنِبُوا السَّوَادَ (আবু দাউদ, হাদীস ৪২০৪ নাসায়ী, হাদীس ৫০৭৮)
অর্থাৎ মক্কা বিজয়ের দিন (আবু বকর এর পিতা) আবু কুহাফাহকে (রাসূল এর সামনে) উপস্থিত করা হলো। তখন তার মাথার চুল ও দাঁড়ি সাদা ফল ও ফুল বিশিষ্ট গাছের ন্যায় দেখাচ্ছিলো। তা দেখে রাসূল সাহাবাদেরকে বললেন: তোমরা কোন কিছু দিয়ে এর কালার পরিবর্তন করে দাও। তবে কালো কালার কিন্তু লাগাবে না।
তবে রাসূল সাধারণত মেহেদি, জাফরান ও অর্স (লাল গোলাপের রস) দিয়ে কালার করতেন।
হযরত আবু রিম্সাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি ও আমার পিতা রাসূল এর কাছে আসলে তিনি আমার পিতাকে বলেন: এ ছেলেটি কে? তখন আমার পিতা বললেন: সে আমারই ছেলে। তখন রাসূল বললেন:
তুমি তার সাথে অপরাধমূলক আচরণ করো না। হযরত আবু রিম্সাহ্ বলেন: তখন তাঁর দাঁড়ি মেহেদি লাগানো ছিলো।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাזিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
كَانَ النَّبِيُّ يَلْبَسُ النَّعَالَ السَّبْتَيَّةَ ، وَيُصَفِّرُ لِحْيَتَهُ بِالْوَرْسِ وَ الزَّعْفَرَانِ (আবু দাউদ, হাদীس ৪২১০)
অর্থাৎ নবী চামড়ার জুতো পরিধান করতেন এবং অর্স তথা লাল গোলাপের রস ও জাফরান দিয়ে দাঁড়িটুকু হলুদ করে নিতেন।
রাসুল আরো বলেন:
إِنْ أَحْسَنَ مَا غَيْرَ بِهِ هَذَا الشَّيْبُ : الْحِنَّاءُ وَ الْكَتَمُ (আবু দাউদ, হাদীس ৪২০৫ নাসায়ী, হাদীস ৫০৮০)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই সর্বশ্রেষ্ঠ বস্তু যা দিয়ে বার্ধক্যের সাধা বর্ণকে পরিবর্তন করা যায় তা হচ্ছে মেহেদি ও কাতাম যার ফল মরিচের ন্যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00