📄 কোন পুরুষ স্বর্ণ বা সিল্কের কাপড় পরিধান করা
কোন পুরুষের জন্য স্বর্ণ বা সিল্কের কাপড় পরিধান করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত আবু মূসা আশ্'আরী, ‘আলী ও হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
حُرِّمَ لِبَاسُ الْحَرِيرِ وَ الذَّهَبِ عَلَى ذُكُورِ أُمَّتِي ، وَ أُحِلَّ لِإِنَائِهِمْ (তিরমিযী, হাদীস ১৭২০ ইন্নু মাজাহ, ৩৬৬২, ৩৬৬৪)
অর্থাৎ সিল্ক ও স্বর্ণ আমার পুরুষ উম্মতের উপর হারাম করে দেয়া হয়েছে এবং তা হালাল করা হয়েছে মহিলাদের জন্য।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাזিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
رَأَى رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ فِي يَد رَجُلٍ ، فَنَزَعَهُ فَطَرَحَهُ وَ قَالَ: يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَة مِنْ نَارِ فَيَجْعَلُهَا فِي يَدِه ، فَقِيْلَ لِلرَّجُلِ بَعْدَمَا ذَهَبَ رَسُوْلُ الله ﷺ : خُذْ خَاتِمَكَ الْتَفِعْ بِهِ ، قَالَ : لَا وَاللَّهُ لَا أَخُذُهُ أَبَدًا ، وَقَدْ طَرَحَهُ رَسُولُ الله ﷺ (মুসলিম, হাদীস ২০৯০)
অর্থাৎ একদা রাসূল জনৈক ব্যক্তির হাতে একটি সোনার আংটি দেখতে পেলেন। তখন তিনি সোনার আংটিটি তার হাত থেকে খুলে ফেলে দিলেন এবং বললেন: তোমাদের কেউ ইচ্ছে করে আগুনের জ্বলন্ত কয়লা হাতে নিতে চায়? রাসূল চলে গেলে লোকটিকে বলা হলো: আংটিটা নিয়ে নাও। অন্য কোন কাজে লাগাতে পারবে। লোকটি বললো: আল্লাহ্ তা'আলার কসম! আমি তা কখনোই কুড়িয়ে নিতে পারবো না যা একদা রাসূল খুলে ফেলে দিলেন।
সোনা, রুপার প্লেট-বাটি এবং হাল্কা বা ঘন সিল্ক দুনিয়াতে কাফির পুরুষরাই ব্যবহার করবে। মুসলমানরা নয়। কারণ, তাদের জন্য তা প্রস্তুত রয়েছে আখিরাতে।
হযরত ‘হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لا تَلْبَسُوا الْحَرِيرَ وَ لَا الدُّنْيَاجَ ، وَ لَا تَشْرَبُوا فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَ الْفِضَّةِ ، وَ لَا تَأْكُلُوا فِي صِحَافِهَا فَإِنَّهَا لَهُمْ فِي الدُّنْيَا ، وَ لَنَا فِي الْآخِرَةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (বুখারী, হাদীস ৫৪২৬, ৫৬৩২, ৫৬৩৩, ৫৮৩১ মুসলিম, হাদীس ২০৬৭)
অর্থাৎ তোমরা হাল্কা বা ঘন সিল্ক পরিধান করো না। তেমনিভাবে সোনা রুপার পেয়ালায় পান করো না এবং এ গুলোর প্লেটে খেও না। কারণ, সেগুলো দুনিয়াতে কাফিরদের জন্য এবং আখিরাতে আমাদের জন্য।
হযরত ‘উমর ও আব্দুল্লাহ্ বিন্ যুবাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ لَبِسَ الْحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا لَمْ يَلْبَسْهُ فِي الْآخِرَةِ (বুখারী, হাদীس ৫৮৩৩, ৫৮৩৪)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে সিল্ক পরিধান করবে সে আর আখিরাতে তা পরিধান করবে না।
হযরত ‘আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকেও বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরshদ করেন:
إِنَّمَا يَلْبَسُ الْحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا مَنْ لَا خَلَاقَ لَهُ فِي الْآخِرَةِ (বুখারী, হাদীস ৫৮৩৫)
অর্থাৎ দুনিয়াতে সিল্কের কাপড় সেই পরিধান করবে যার জন্য আখিরাতে এ জাতীয় কিছুই থাকবে না।
📄 নিজ প্রয়োজনের বেশি পানি ও ঘাস অন্যকে দিতে অস্বীকার করা
নিজ প্রয়োজনের বেশি পানি ও ঘাস অন্যকে দিতে অস্বীকার করাও কবীরা গুনাহ্।
হযরত ‘আমর বিন্ শু'আইব থেকে বর্ণিত তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তাঁর পিতা তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ مَنَعَ فَضْلَ مَاءِ أَوْ كَلَا مَنَعَهُ اللَّهُ فَضْلَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (আহমাদ, হাদীস ৬৬৭৩, ৬৭২২, ৭০৫৭ সহীহল্ জামি', হাদীস ৬৫৬০)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি বাড়তি পানি ও ঘাস অন্যকে দিতে অস্বীকার করলো আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাকে তাঁর অনুগ্রহ করতে অস্বীকার করবেন।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَ لَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ : رَجُلٌ حَلَفَ عَلَى سِلْعَةٍ لَقَدْ أَعْطَى بِهَا أَكْثَرَ مِمَّا أَعْطَى وَ هُوَ كَاذِبٌ ، وَ رَجُلٌ حَلَفَ عَلَى يَمِينِ كَاذِبَةٍ بَعْدَ الْعَصْرِ لِيَقْتَطِعَ بِهَا مَالَ رَجُلٍ مُسْلِمٍ ، وَ رَجُلٌ مَنَعَ فَضْلَ مَاءٍ فَيَقُوْلُ اللَّهُ: الْيَوْمَ أَمْنَعُكَ فَضْلِي كَمَا مَنَعْتَ فَضْلَ مَا لَمْ تَعْمَلْ يَدَاكَ (বুখারী, হাদীস ২৩৬৯)
অর্থাৎ তিন ব্যক্তির সাথে আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টিতেও তাকাবেন না। তারা হলো, এমন এক ব্যক্তি যে কোন পণ্যের ব্যাপারে এ বলে মিথ্যা কসম খেলো যে, ক্রেতা যা দিয়েছে সে তার বেশি দিয়েই পণ্যটি ক্রয় করেছে; অথচ কথাটি একেবারেই মিথ্যা। আরেক জন ব্যক্তি এমন যে, সে আসরের পর মিথ্যা কসম খেলো অন্য আরেক জন মুসলমানের সম্পদ অবৈধভাবে হরণ করার জন্য। আরেক জন ব্যক্তি এমন যে, সে বাড়তি পানি অন্যকে দিতে অস্বীকার করলো। আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাকে বলবেন: আজ আমি তোমাকে অনুগ্রহ করতে অস্বীকার করলাম যেমনিভাবে তুমি অস্বীকার করলে অন্যকে বাড়তি পানি দেয়া থেকে; অথচ তা তুমি সৃষ্টি করোনি।
📄 মৃত পশু, প্রবাহিত রক্ত অথবা শুকরের গোস্ত খাওয়া
মৃত পশু, প্রবাহিত রক্ত অথবা শুকরের গোস্ত খাওয়া হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
قُلْ لَا أَجِدُ فِي مَا أُوْحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُوْنَ مَيْتَتَةً أَوْدَمًا مَّسْفُوْحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيرٍ ، فَإِنَّهُ رِجْسٌ ) (আন'আম : ১৪৫)
অর্থাৎ (হে মুহাম্মাদ!) তুমি বলে দাও: আমার কাছে যে ওহী পাঠানো হয়েছে তাতে আমি আহারকারীর জন্য কোন কিছু হারাম পাইনি শুধু তিনটি বস্তু ছাড়া। আর তা হচ্ছে, মৃত পশু, প্রবাহিত রক্ত এবং শুকরের গোস্ত। কেননা, তা নাপাক।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেন:
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ الله به ، وَالْمُنْخَنِقَةُ وَ الْمَوْقُوذَةُ وَ الْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَ مَا أَكَلَ السَّبُعُ إِلَّا مَا ذَكِّيْتُمْ ، وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَ أَنْ تَسْتَقْسِمُوْا بِالْأَزْلَامِ ، ذَلِكُمْ فِسْقٌ ) (মা'য়িদাহ : ৩)
অর্থাৎ তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে মৃত পশু, (প্রবাহিত) রক্ত, শুকরের গোস্ত, যে পশুকে যবাই করা হয়েছে আল্লাহ্ তা'আলা ভিন্ন অন্য কোন বস্তু বা ব্যক্তির নামে, যে পশুর গলায় ফাঁস পড়ে সে মারা গেছে, যে পশুকে ধারালো নয় এমন কোন বস্তুর মাধ্যমে আঘাত করে মারা হয়েছে, যে পশু উঁচু কোন স্থান থেকে পড়ে মারা গেছে, যে পশুকে অন্য কোন পশু আঘাত করে বা গুঁতো দিয়ে মেরেছে, যে পশুকে অন্য কোন হিংস্র পশু মেরে তার গোস্ত খেয়েছে, তবে এগুলোর মধ্য থেকে যে পশুকে তোমরা জীবিত পেয়ে যবাই করতে সক্ষম হয়েছো তা খেতে পারো, যে পশুকে মূর্তি (বা কোন পীরের) আস্তানায় যবাই করা হয়েছে এবং তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে নির্দিষ্ট কিছু তীরের মাধ্যমে ভাগ্য নির্ধারণ। তোমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সত্যিই আল্লাহ্ তা'আলার প্রকাশ্য বিরুদ্ধাচরণ।
দাবা খেলা শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম। আর এ দাবা খেলাকেই রাসূল শুকরের গোস্ত ও রক্ত দিয়ে হাত রাঙ্গানোর সাথে তুলনা করেছেন। তা হলে শুকরের গোস্ত খাওয়া কতটুকু গুনাহ্'র কাজ তা এখান থেকেই সহজে অনুমান করা যায়।
হযরত বুরাইদাহ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدِشِيْرِ فَكَأَنَّمَا صَبَعَ يَدَهُ فِي لَحْمٍ خِنْزِيرٍ وَ دَمِهِ (মুসলিম, হাদীس ২২৬০)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি দাবা খেললো সে যেন নিজ হাতকে শুকরের গোস্ত ও রক্ত দিয়ে রঞ্জিত করলো।
📄 চেহারায় দাগ দেয়া, চেহারার কেশ উঠানো, নিজের চুলের সাথে অন্যের চুল সংযোজন কিংবা দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করা
চেহারায় দাগ দেয়া, চেহারার কেশ উঠানো, নিজের চুলের সাথে অন্য চুল সংযোজন কিংবা দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করাও হারাম এবং কবীরা গুনাহ্। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাসউদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَعَنَ اللَّهُ الْوَاشِمَاتِ وَ الْمُوْتَشِمَاتِ وَ الْمُتَنَمِّصَاتِ وَ الْمُتَفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ ، الْمُغَيِّرَاتِ خَلْقَ الله (বুখারী, হাদীস ৪৮৮৬, ৫৯৩১, ৫৯৪৩, ৫৯৪৮ মুসলিম, হাদীস ২১২৫)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা লা'نত করেন সে মহিলাকে যে অপরের চেহারা দাগে এবং যে অপরকে দিয়ে নিজ চেহারা দাগ করায়, যার চেহারার কেশ উঠানো হয় এবং যে মহিলা সৌন্দর্যের জন্য নিজ দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে; আল্লাহ্ প্রদত্ত গঠন পরিবর্তন করে।
হযরত আবু হুরাইরাহ্, আয়েশা, আসমা' ও ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَعَنَ اللَّهُ الْوَاصِلَةَ وَ الْمُسْتَوْصِلَةَ (বুখারী, হাদীস ৫৯৩৩, ৫৯৩৪, ৫৯৩৭, ৫৯৪২ মুসলিম, হাদীস ২১২২, ২১২৩, ২১২৪)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা লা'نত করেন নিজের চুলের সাথে অন্য চুল সংযুক্তকারিণী মহিলাকে এবং যার জন্য তা করা হয়েছে তাকেও।