📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 লুঙ্গি, পাজামা অথবা যে কোন কাপড় পায়ের গিঁটের নিচে পরা

📄 লুঙ্গি, পাজামা অথবা যে কোন কাপড় পায়ের গিঁটের নিচে পরা


লুঙ্গি, পাজামা, প্যান্ট অথবা যে কোন কাপড় টাখনু বা পায়ের গিঁটের নিচে পরা কবীরা গুনাহ্। চাই তা গর্ব করেই হোক অথবা এমনিতেই। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ مِنَ الْإِزَارِ فَفِي النَّارِ (বুখারী, হাদীস ৫৭৮৭)
অর্থাৎ লুঙ্গি, পাজামা বা প্যান্টের যে অংশটুকু পায়ের গিঁটের নিচে যাবে তা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
যে ব্যক্তি টাখনু বা পায়ের গিঁটের নিচে কাপড় পরিধান করে আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার সাথে কোন কথা বলবেন না, তার দিকে তাকাবেনও না এমনকি তাকে গুনাহ্ থেকে পবিত্রও করবেন না উপরন্তু তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। হযরত আবু যর গিফারী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، وَ لَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ ، وَ لَا يُزَكِّيهِمْ ، وَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ، قَالَ : فَقَرَأَهَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ثَلَاثَ مِرَارٍ ، قَالَ أَبُوْ ذَرِّ: خَابُوا وَخَسِرُوا ، مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ !؟ قَالَ : الْمُسْبِلُ ، وَ الْمَنَّانُ وَ فِي رِوَايَةٍ: الْمَنَّانُ الذي لا يُعْطِي شَيْئًا إِلَّا مَنَّهُ ، وَ الْمُنْفِقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ الْكَاذِبِ (মুসলিম, হাদীস ১০৬ আবু দাউদ, হাদীস ৪০৮৭, ৪০৮৮)
অর্থাৎ তিন ব্যক্তি এমন যে, আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেনও না এমনকি তাদেরকে গুনাহ্ থেকে পবিত্রও করবেন না উপরন্তু তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। বর্ণনাকারী বলেন: রাসূল কথাগুলো তিন বার বলেছেন। হযরত আবু যর বলেন: তারা সত্যিই ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত। তবে তারা কারা হে আল্লাহ্'র রাসূল ! রাসূল বললেন: টাখনু বা পায়ের গিঁটের নিচে কাপড় পরিধানকারী, কাউকে কোন কিছু দিয়ে খোঁটা দানকারী এবং মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য সাপ্লাইকারী।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لا يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَى مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ خُيَلَاءَ (বুখারী, হাদীস ৩৬৬৫, ৫৭৮৩, ৫৭৮৪ মুসলিম, হাদীس ২০৮৫)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি গর্ব করে নিজ নিম্ন বসন মাটিতে টেনে চলবে (কিয়ামতের দিন) আল্লাহ্ তা'আলা তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না।
একজন মু'মিনের লুঙ্গি, পাজামা ইত্যাদি জঙ্ঘার অর্ধেক পর্যন্তই হওয়া উচিৎ। পায়ের গিঁট পর্যন্ত হলেও চলবে। তবে যে ব্যক্তি গিঁটের নিচে পরবে সে গর্বকারীরই অন্তর্ভুক্ত।
হযরত জাবির বিন্ সুলাইম থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন:
وَ ارْفَعْ إِزَارَكَ إِلَى نِصْفِ السَّاقِ ، فَإِنْ أَبَيْتَ فَإِلَى الْكَعْبَيْنِ ، وَ إِيَّاكَ وَ إِسْبَالَ الإِزَارِ فَإِنَّهَا مِنَ الْمَخِيْلَةِ ، وَ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمَخِيْلَةَ (আবু দাউদ, হাদীস ৪০৮৪)
অর্থাৎ তোমার নিম্ন বসন জঙ্ঘার অর্ধেকে উঠিয়ে নাও। তা না করলে অন্ততপক্ষে পায়ের গিঁট পর্যন্ত। তবে গিঁটের নিচে পরা থেকে অবশ্যই সতর্ক থাকবে। কারণ, তা অহঙ্কারের পরিচায়ক। আর আল্লাহ্ তা'আলা অহঙ্কার করা পছন্দ করেন না।
হযরত আবু সাঈদ খুদ্রী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِزْرَةُ الْمُسْلِمِ إِلَى نِصْفِ السَّاقِ ، وَ لَا حَرَجَ فِيْمَا بَيْنَهُ وَ بَيْنَ الْكَعْبَيْنِ (আবু দাউদ, হাদীس ৪০৯৩)
অর্থাৎ একজন মুসলমানের নিম্ন বসন জঙ্ঘার অর্ধেক পর্যন্তই হওয়া চাই। তবে তা এবং পায়ের গিঁটের মাঝে থাকলেও কোন অসুবিধে নেই। জামা এবং পাগড়িও গিঁটের নিচে যেতে পারবে না।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
الإِسْبَالُ فِي الْإِزَارِ وَ الْقَمِيصِ وَ الْعِمَامَةِ ، مَنْ جَرَّ مِنْهَا شَيْئًا خُيَلَاءَ لَمْ يَنْظُرِ اللَّهُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (আবু দাউদ, হাদীস ৪০৯৪)
অর্থাৎ গিঁটের নিচে পরা হারাম হওয়ার ব্যাপারটি লুঙ্গি, পাজামা, প্যান্ট, জামা, পাগড়ি ইত্যাদির মধ্যেও ধরা হয়। যে ব্যক্তি গর্ব করে এগুলোর কোনটি মাটিতে টেনে চলবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলা তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না।
অসতর্কতাবশত প্যান্ট, লুঙ্গি বা পাজামা গিঁটের নিচে চলে গেলে স্মরণ হওয়া মাত্রই তা গিঁটের উপরে উঠিয়ে নিবে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাזيال্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা আমি রাসূল এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম যখন আমার নিম্ন বসন ছিলো গিঁটের নিচে। তখন রাসূল বললেন:
يَا عَبْدَ اللَّهِ ارْفَعْ إِزَارَكَ ، فَرَفَعْتُهُ ، ثُمَّ قَالَ: زِدْ ، فَزِدْتُ ، فَمَا زِلْتُ أَتَحَرَّاهَا بَعْدُ ، فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ إِلَى أَيْنَ ؟ فَقَالَ: أَنْصَافِ السَّاقَيْنِ (মুসলিম, হাদীس ২০৮৬)
অর্থাৎ হে আব্দুল্লাহ্! তোমার নিম্ন বসন (গিঁটের উপর) উঠিয়ে নাও। তখন আমি উপরে উঠিয়ে নিলাম। রাসূল আবারো বললেন: আরো উপরে। তখন আমি আরো উপরে উঠিয়ে নিলাম। এরপর থেকে আজো পর্যন্ত আমি এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করছি। উপস্থিত লোকদের কেউ বলে উঠলো: তখন আপনি কোন পর্যন্ত উঠিয়েছিলেন? তিনি বললেন: জঙ্ঘার অর্ধ ভাগ পর্যন্ত।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 সোনা বা রুপার প্লেট কিংবা গ্লাসে খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ করা

📄 সোনা বা রুপার প্লেট কিংবা গ্লাসে খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ করা


সোনা বা রুপার প্লেট কিংবা গ্লাসে খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্। হযরত উম্মে সালামাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنَّ الَّذِي يَأْكُلُ أَوَ يَشْرَبُ فِي آنِيَةِ الْفِضَّةِ وَ الذَّهَبِ إِنَّمَا يُجَرْجِرُ فِي بَطْنِهِ نَارَ جَهَنَّمَ (বুখারী, হাদীস ৫৬৩৪ মুসলিম, হাদীس ২০৬৫)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি সোনা বা রুপার আসবাবপত্রে খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ করে সে যেন নিজের পেটে জাহান্নামের আগুন ঢুকায়। সোনা, রুপার প্লেট-বাটি এবং হাল্কা বা ঘন সিল্ক দুনিয়াতে কাফির পুরুষরাই ব্যবহার করবে। মুসলমানরা নয়। কারণ, মুসলমানদের জন্য তা প্রস্তুত রয়েছে আখিরাতে।
হযরত ‘হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لا تَلْبَسُوا الْحَرِيرَ وَ لاَ الدِّيبَاجَ ، وَ لَا تَشْرَبُوا فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَ الْفِضَّةِ ، وَ لَا تَأْكُلُوْا فِي صِحَافِهَا فَإِنَّهَا لَهُمْ فِي الدُّنْيَا ، وَ لَنَا فِي الْآخِرَةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (বুখারী, হাদীস ৫৪২৬, ৫৬৩২, ৫৬৩৩, ৫৮৩১ মুসলিম, হাদীس ২০৬৭)
অর্থাৎ তোমরা হাল্কা বা ঘন সিল্ক পরিধান করো না। তেমনিভাবে সোনা রুপার পেয়ালায় পান করো না এবং এ গুলোর প্লেটে খেও না। কারণ, সেগুলো দুনিয়াতে কাফিরদের জন্য এবং আখিরাতে আমাদের জন্য।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কোন পুরুষ স্বর্ণ বা সিল্কের কাপড় পরিধান করা

📄 কোন পুরুষ স্বর্ণ বা সিল্কের কাপড় পরিধান করা


কোন পুরুষের জন্য স্বর্ণ বা সিল্কের কাপড় পরিধান করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত আবু মূসা আশ্'আরী, ‘আলী ও হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
حُرِّمَ لِبَاسُ الْحَرِيرِ وَ الذَّهَبِ عَلَى ذُكُورِ أُمَّتِي ، وَ أُحِلَّ لِإِنَائِهِمْ (তিরমিযী, হাদীস ১৭২০ ইন্নু মাজাহ, ৩৬৬২, ৩৬৬৪)
অর্থাৎ সিল্ক ও স্বর্ণ আমার পুরুষ উম্মতের উপর হারাম করে দেয়া হয়েছে এবং তা হালাল করা হয়েছে মহিলাদের জন্য।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাזিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
رَأَى رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ فِي يَد رَجُلٍ ، فَنَزَعَهُ فَطَرَحَهُ وَ قَالَ: يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَة مِنْ نَارِ فَيَجْعَلُهَا فِي يَدِه ، فَقِيْلَ لِلرَّجُلِ بَعْدَمَا ذَهَبَ رَسُوْلُ الله ﷺ : خُذْ خَاتِمَكَ الْتَفِعْ بِهِ ، قَالَ : لَا وَاللَّهُ لَا أَخُذُهُ أَبَدًا ، وَقَدْ طَرَحَهُ رَسُولُ الله ﷺ (মুসলিম, হাদীস ২০৯০)
অর্থাৎ একদা রাসূল জনৈক ব্যক্তির হাতে একটি সোনার আংটি দেখতে পেলেন। তখন তিনি সোনার আংটিটি তার হাত থেকে খুলে ফেলে দিলেন এবং বললেন: তোমাদের কেউ ইচ্ছে করে আগুনের জ্বলন্ত কয়লা হাতে নিতে চায়? রাসূল চলে গেলে লোকটিকে বলা হলো: আংটিটা নিয়ে নাও। অন্য কোন কাজে লাগাতে পারবে। লোকটি বললো: আল্লাহ্ তা'আলার কসম! আমি তা কখনোই কুড়িয়ে নিতে পারবো না যা একদা রাসূল খুলে ফেলে দিলেন।
সোনা, রুপার প্লেট-বাটি এবং হাল্কা বা ঘন সিল্ক দুনিয়াতে কাফির পুরুষরাই ব্যবহার করবে। মুসলমানরা নয়। কারণ, তাদের জন্য তা প্রস্তুত রয়েছে আখিরাতে।
হযরত ‘হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لا تَلْبَسُوا الْحَرِيرَ وَ لَا الدُّنْيَاجَ ، وَ لَا تَشْرَبُوا فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَ الْفِضَّةِ ، وَ لَا تَأْكُلُوا فِي صِحَافِهَا فَإِنَّهَا لَهُمْ فِي الدُّنْيَا ، وَ لَنَا فِي الْآخِرَةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (বুখারী, হাদীস ৫৪২৬, ৫৬৩২, ৫৬৩৩, ৫৮৩১ মুসলিম, হাদীس ২০৬৭)
অর্থাৎ তোমরা হাল্কা বা ঘন সিল্ক পরিধান করো না। তেমনিভাবে সোনা রুপার পেয়ালায় পান করো না এবং এ গুলোর প্লেটে খেও না। কারণ, সেগুলো দুনিয়াতে কাফিরদের জন্য এবং আখিরাতে আমাদের জন্য।
হযরত ‘উমর ও আব্দুল্লাহ্ বিন্ যুবাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ لَبِسَ الْحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا لَمْ يَلْبَسْهُ فِي الْآخِرَةِ (বুখারী, হাদীس ৫৮৩৩, ৫৮৩৪)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে সিল্ক পরিধান করবে সে আর আখিরাতে তা পরিধান করবে না।
হযরত ‘আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকেও বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরshদ করেন:
إِنَّمَا يَلْبَسُ الْحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا مَنْ لَا خَلَاقَ لَهُ فِي الْآخِرَةِ (বুখারী, হাদীস ৫৮৩৫)
অর্থাৎ দুনিয়াতে সিল্কের কাপড় সেই পরিধান করবে যার জন্য আখিরাতে এ জাতীয় কিছুই থাকবে না।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 নিজ প্রয়োজনের বেশি পানি ও ঘাস অন্যকে দিতে অস্বীকার করা

📄 নিজ প্রয়োজনের বেশি পানি ও ঘাস অন্যকে দিতে অস্বীকার করা


নিজ প্রয়োজনের বেশি পানি ও ঘাস অন্যকে দিতে অস্বীকার করাও কবীরা গুনাহ্।
হযরত ‘আমর বিন্ শু'আইব থেকে বর্ণিত তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তাঁর পিতা তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ مَنَعَ فَضْلَ مَاءِ أَوْ كَلَا مَنَعَهُ اللَّهُ فَضْلَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (আহমাদ, হাদীস ৬৬৭৩, ৬৭২২, ৭০৫৭ সহীহল্ জামি', হাদীস ৬৫৬০)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি বাড়তি পানি ও ঘাস অন্যকে দিতে অস্বীকার করলো আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাকে তাঁর অনুগ্রহ করতে অস্বীকার করবেন।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَ لَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ : رَجُلٌ حَلَفَ عَلَى سِلْعَةٍ لَقَدْ أَعْطَى بِهَا أَكْثَرَ مِمَّا أَعْطَى وَ هُوَ كَاذِبٌ ، وَ رَجُلٌ حَلَفَ عَلَى يَمِينِ كَاذِبَةٍ بَعْدَ الْعَصْرِ لِيَقْتَطِعَ بِهَا مَالَ رَجُلٍ مُسْلِمٍ ، وَ رَجُلٌ مَنَعَ فَضْلَ مَاءٍ فَيَقُوْلُ اللَّهُ: الْيَوْمَ أَمْنَعُكَ فَضْلِي كَمَا مَنَعْتَ فَضْلَ مَا لَمْ تَعْمَلْ يَدَاكَ (বুখারী, হাদীস ২৩৬৯)
অর্থাৎ তিন ব্যক্তির সাথে আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না এবং তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টিতেও তাকাবেন না। তারা হলো, এমন এক ব্যক্তি যে কোন পণ্যের ব্যাপারে এ বলে মিথ্যা কসম খেলো যে, ক্রেতা যা দিয়েছে সে তার বেশি দিয়েই পণ্যটি ক্রয় করেছে; অথচ কথাটি একেবারেই মিথ্যা। আরেক জন ব্যক্তি এমন যে, সে আসরের পর মিথ্যা কসম খেলো অন্য আরেক জন মুসলমানের সম্পদ অবৈধভাবে হরণ করার জন্য। আরেক জন ব্যক্তি এমন যে, সে বাড়তি পানি অন্যকে দিতে অস্বীকার করলো। আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাকে বলবেন: আজ আমি তোমাকে অনুগ্রহ করতে অস্বীকার করলাম যেমনিভাবে তুমি অস্বীকার করলে অন্যকে বাড়তি পানি দেয়া থেকে; অথচ তা তুমি সৃষ্টি করোনি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00