📄 বিপদের সময় ধৈর্যহীন হয়ে বিলাপ ধরা, মাথা, গাল বা বুকে আঘাত করা, মাথার চুল বা পরনের জামাকাপড় ছেঁড়া, মাথা মুণ্ডন করা
কারোর উপর আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে কোন বিপদ আসলে তাতে অধৈর্য হয়ে বিলাপ করা, মাথা, গাল বা বুকে আঘাত করা, মাথার চুল বা পরনের জামাকাপড় ছেঁড়া, মাথা মুণ্ডন করা বা নিজের সমূহ ধ্বংস কিংবা যে কোন অকল্যাণ কামনা করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
اثْنَتَانِ فِي النَّاسِ هُمَا بِهِمْ كُفْرٌ ، الطَّعْنُ فِي النَّسَبِ وَ النِّيَاحَةُ عَلَى الْمَيِّتِ (মুসলিম, হাদীس ৬৭)
অর্থাৎ মানুষের মধ্যে দু'টি চরিত্র কুফরি পর্যায়ের। তার মধ্যে একটি হচ্ছে কারোর বংশ মর্যাদায় আঘাত হানা আর অপরটি হচ্ছে কোন মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে বিলাপ করা।
হযরত আবু মালিক আশ্'আরী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
النَّائِحَةُ إِذَا لَمْ تَتُبْ قَبْلَ مَوْتِهَا تُقَامُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَ عَلَيْهَا سِرْبَالٌ مِنْ قَطِرَانِ وَدِرْعٌ مِنْ جَرَبٍ (মুসলিম, হাদীس ৯৩৪)
অর্থাৎ বিলাপকারিণী মহিলা মৃত্যুর পূর্বে তাওবা না করলে তাকে কিয়ামতের দিন উঠানো হবে জ্বালানি তেল বা আলকাতরার পোশাক পরিয়ে এবং চর্ম রোগ বা খোস-পাঁচড়ার জামা গায়ে জড়িয়ে।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَطَمَ الْخُدُوْدَ ، وَ شَقَّ الْجُيُوبَ ، وَ دَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ (বুখারী, হাদীس ১২৯৪, ১২৯৭, ১২৯৮ মুসলিম, হাদীس ১০৩ নাসায়ী, হাদীس ১৮৬২, ১৮৬৪ ইন্নু মাজাহ, হাদীস ১৬০৬)
অর্থাৎ সে আমার উম্মত নয় যে (বিপদে পড়ে ক্ষিপ্ত হয়ে) নিজ গণ্ড দেশে সজোরে আঘাত করে, বুকের কাপড় ছিঁড়ে এবং জাহিলী যুগের বিলাপ ধরে। রাসূল এ জাতীয় মহিলাকে লা'নত করেছেন এবং তার থেকে নিজ দায়মুক্তি ও অসম্পৃক্ততা ঘোষণা করেছেন।
হযরত আবু মূসা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
إِنَّ رَسُوْلَ الله لَعَنَ مَنْ حَلَقَ أَوْ سَلَقَ أَوْ خَرَقَ (নাসায়ী, হাদীস ১৮৬৯)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই রাসূল লা'নত করেছেন মাথা মুনকারিণী, বিলাপকারিণী ও পোশাক ছিন্নকারিণী মহিলাকে।
হযরত আবু উমামাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ لَعَنَ الْخَامِشَةَ وَجْهَهَا، وَ الشَّاقَّةَ جَيْبَهَا، وَ الدَّاعِيَةَ بِالْوَيْلِ وَالقُبُورِ (ইবনু মাজাহ, হাদীس ১৬০৭)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই রাসূল লা'نত করেছেন সে মহিলাকে যে নিজ চেহারায় খামচি মারে, নিজ বুকের কাপড় ছিঁড়ে এবং নিজ ধ্বংসকে আহ্বান করে।
হযরত আবু মূসা থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন:
إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ بَرِئَ مِنَ الصَّالِقَةِ وَ الْحَالِقَةِ وَ الشَّاقَّةِ (বুখারী, হাদীس ১২৯৬ মুসলিম, হাদীس ১০৪ ইবনু মাজাহ, হাদীس ১৬০৮)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই রাসূল বিলাপকারিণী, মাথা মুনকারিণী ও পোশাক ছিন্নকারিণী মহিলা থেকে নিজ দায়মুক্তি ঘোষণা করেন।
কেউ জীবিত থাকাবস্থায় নিজ পরিবারকে বিলাপের ব্যাপারে সতর্ক না করলে সে মারা যাওয়ার পর তার পরিবার তার জন্য বিলাপ করলে তাকে সে জন্য কবরে শাস্তি দেয়া হবে।
হযরত ‘উমর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
الْمَيِّتُ يُعَذِّبُ فِي قَبْرِهِ بِمَا نِيَحَ عَلَيْهِ (বুখারী, হাদীس ১২৯২)
অর্থাৎ মৃত ব্যক্তিকে তার উপর কারোর বিলাপের কারণে তার কবরেই তাকে শাস্তি দেয়া হবে।
📄 লুঙ্গি, পাজামা অথবা যে কোন কাপড় পায়ের গিঁটের নিচে পরা
লুঙ্গি, পাজামা, প্যান্ট অথবা যে কোন কাপড় টাখনু বা পায়ের গিঁটের নিচে পরা কবীরা গুনাহ্। চাই তা গর্ব করেই হোক অথবা এমনিতেই। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ مِنَ الْإِزَارِ فَفِي النَّارِ (বুখারী, হাদীস ৫৭৮৭)
অর্থাৎ লুঙ্গি, পাজামা বা প্যান্টের যে অংশটুকু পায়ের গিঁটের নিচে যাবে তা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
যে ব্যক্তি টাখনু বা পায়ের গিঁটের নিচে কাপড় পরিধান করে আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার সাথে কোন কথা বলবেন না, তার দিকে তাকাবেনও না এমনকি তাকে গুনাহ্ থেকে পবিত্রও করবেন না উপরন্তু তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। হযরত আবু যর গিফারী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، وَ لَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ ، وَ لَا يُزَكِّيهِمْ ، وَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ، قَالَ : فَقَرَأَهَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ثَلَاثَ مِرَارٍ ، قَالَ أَبُوْ ذَرِّ: خَابُوا وَخَسِرُوا ، مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ !؟ قَالَ : الْمُسْبِلُ ، وَ الْمَنَّانُ وَ فِي رِوَايَةٍ: الْمَنَّانُ الذي لا يُعْطِي شَيْئًا إِلَّا مَنَّهُ ، وَ الْمُنْفِقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ الْكَاذِبِ (মুসলিম, হাদীস ১০৬ আবু দাউদ, হাদীস ৪০৮৭, ৪০৮৮)
অর্থাৎ তিন ব্যক্তি এমন যে, আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেনও না এমনকি তাদেরকে গুনাহ্ থেকে পবিত্রও করবেন না উপরন্তু তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। বর্ণনাকারী বলেন: রাসূল কথাগুলো তিন বার বলেছেন। হযরত আবু যর বলেন: তারা সত্যিই ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত। তবে তারা কারা হে আল্লাহ্'র রাসূল ! রাসূল বললেন: টাখনু বা পায়ের গিঁটের নিচে কাপড় পরিধানকারী, কাউকে কোন কিছু দিয়ে খোঁটা দানকারী এবং মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য সাপ্লাইকারী।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لا يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَى مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ خُيَلَاءَ (বুখারী, হাদীস ৩৬৬৫, ৫৭৮৩, ৫৭৮৪ মুসলিম, হাদীس ২০৮৫)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি গর্ব করে নিজ নিম্ন বসন মাটিতে টেনে চলবে (কিয়ামতের দিন) আল্লাহ্ তা'আলা তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না।
একজন মু'মিনের লুঙ্গি, পাজামা ইত্যাদি জঙ্ঘার অর্ধেক পর্যন্তই হওয়া উচিৎ। পায়ের গিঁট পর্যন্ত হলেও চলবে। তবে যে ব্যক্তি গিঁটের নিচে পরবে সে গর্বকারীরই অন্তর্ভুক্ত।
হযরত জাবির বিন্ সুলাইম থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন:
وَ ارْفَعْ إِزَارَكَ إِلَى نِصْفِ السَّاقِ ، فَإِنْ أَبَيْتَ فَإِلَى الْكَعْبَيْنِ ، وَ إِيَّاكَ وَ إِسْبَالَ الإِزَارِ فَإِنَّهَا مِنَ الْمَخِيْلَةِ ، وَ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمَخِيْلَةَ (আবু দাউদ, হাদীস ৪০৮৪)
অর্থাৎ তোমার নিম্ন বসন জঙ্ঘার অর্ধেকে উঠিয়ে নাও। তা না করলে অন্ততপক্ষে পায়ের গিঁট পর্যন্ত। তবে গিঁটের নিচে পরা থেকে অবশ্যই সতর্ক থাকবে। কারণ, তা অহঙ্কারের পরিচায়ক। আর আল্লাহ্ তা'আলা অহঙ্কার করা পছন্দ করেন না।
হযরত আবু সাঈদ খুদ্রী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِزْرَةُ الْمُسْلِمِ إِلَى نِصْفِ السَّاقِ ، وَ لَا حَرَجَ فِيْمَا بَيْنَهُ وَ بَيْنَ الْكَعْبَيْنِ (আবু দাউদ, হাদীس ৪০৯৩)
অর্থাৎ একজন মুসলমানের নিম্ন বসন জঙ্ঘার অর্ধেক পর্যন্তই হওয়া চাই। তবে তা এবং পায়ের গিঁটের মাঝে থাকলেও কোন অসুবিধে নেই। জামা এবং পাগড়িও গিঁটের নিচে যেতে পারবে না।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
الإِسْبَالُ فِي الْإِزَارِ وَ الْقَمِيصِ وَ الْعِمَامَةِ ، مَنْ جَرَّ مِنْهَا شَيْئًا خُيَلَاءَ لَمْ يَنْظُرِ اللَّهُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (আবু দাউদ, হাদীস ৪০৯৪)
অর্থাৎ গিঁটের নিচে পরা হারাম হওয়ার ব্যাপারটি লুঙ্গি, পাজামা, প্যান্ট, জামা, পাগড়ি ইত্যাদির মধ্যেও ধরা হয়। যে ব্যক্তি গর্ব করে এগুলোর কোনটি মাটিতে টেনে চলবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলা তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না।
অসতর্কতাবশত প্যান্ট, লুঙ্গি বা পাজামা গিঁটের নিচে চলে গেলে স্মরণ হওয়া মাত্রই তা গিঁটের উপরে উঠিয়ে নিবে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাזيال্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা আমি রাসূল এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম যখন আমার নিম্ন বসন ছিলো গিঁটের নিচে। তখন রাসূল বললেন:
يَا عَبْدَ اللَّهِ ارْفَعْ إِزَارَكَ ، فَرَفَعْتُهُ ، ثُمَّ قَالَ: زِدْ ، فَزِدْتُ ، فَمَا زِلْتُ أَتَحَرَّاهَا بَعْدُ ، فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ إِلَى أَيْنَ ؟ فَقَالَ: أَنْصَافِ السَّاقَيْنِ (মুসলিম, হাদীس ২০৮৬)
অর্থাৎ হে আব্দুল্লাহ্! তোমার নিম্ন বসন (গিঁটের উপর) উঠিয়ে নাও। তখন আমি উপরে উঠিয়ে নিলাম। রাসূল আবারো বললেন: আরো উপরে। তখন আমি আরো উপরে উঠিয়ে নিলাম। এরপর থেকে আজো পর্যন্ত আমি এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করছি। উপস্থিত লোকদের কেউ বলে উঠলো: তখন আপনি কোন পর্যন্ত উঠিয়েছিলেন? তিনি বললেন: জঙ্ঘার অর্ধ ভাগ পর্যন্ত।
📄 সোনা বা রুপার প্লেট কিংবা গ্লাসে খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ করা
সোনা বা রুপার প্লেট কিংবা গ্লাসে খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্। হযরত উম্মে সালামাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنَّ الَّذِي يَأْكُلُ أَوَ يَشْرَبُ فِي آنِيَةِ الْفِضَّةِ وَ الذَّهَبِ إِنَّمَا يُجَرْجِرُ فِي بَطْنِهِ نَارَ جَهَنَّمَ (বুখারী, হাদীস ৫৬৩৪ মুসলিম, হাদীس ২০৬৫)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি সোনা বা রুপার আসবাবপত্রে খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ করে সে যেন নিজের পেটে জাহান্নামের আগুন ঢুকায়। সোনা, রুপার প্লেট-বাটি এবং হাল্কা বা ঘন সিল্ক দুনিয়াতে কাফির পুরুষরাই ব্যবহার করবে। মুসলমানরা নয়। কারণ, মুসলমানদের জন্য তা প্রস্তুত রয়েছে আখিরাতে।
হযরত ‘হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لا تَلْبَسُوا الْحَرِيرَ وَ لاَ الدِّيبَاجَ ، وَ لَا تَشْرَبُوا فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَ الْفِضَّةِ ، وَ لَا تَأْكُلُوْا فِي صِحَافِهَا فَإِنَّهَا لَهُمْ فِي الدُّنْيَا ، وَ لَنَا فِي الْآخِرَةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (বুখারী, হাদীস ৫৪২৬, ৫৬৩২, ৫৬৩৩, ৫৮৩১ মুসলিম, হাদীس ২০৬৭)
অর্থাৎ তোমরা হাল্কা বা ঘন সিল্ক পরিধান করো না। তেমনিভাবে সোনা রুপার পেয়ালায় পান করো না এবং এ গুলোর প্লেটে খেও না। কারণ, সেগুলো দুনিয়াতে কাফিরদের জন্য এবং আখিরাতে আমাদের জন্য।
📄 কোন পুরুষ স্বর্ণ বা সিল্কের কাপড় পরিধান করা
কোন পুরুষের জন্য স্বর্ণ বা সিল্কের কাপড় পরিধান করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত আবু মূসা আশ্'আরী, ‘আলী ও হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
حُرِّمَ لِبَاسُ الْحَرِيرِ وَ الذَّهَبِ عَلَى ذُكُورِ أُمَّتِي ، وَ أُحِلَّ لِإِنَائِهِمْ (তিরমিযী, হাদীস ১৭২০ ইন্নু মাজাহ, ৩৬৬২, ৩৬৬৪)
অর্থাৎ সিল্ক ও স্বর্ণ আমার পুরুষ উম্মতের উপর হারাম করে দেয়া হয়েছে এবং তা হালাল করা হয়েছে মহিলাদের জন্য।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাזিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
رَأَى رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ فِي يَد رَجُلٍ ، فَنَزَعَهُ فَطَرَحَهُ وَ قَالَ: يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَة مِنْ نَارِ فَيَجْعَلُهَا فِي يَدِه ، فَقِيْلَ لِلرَّجُلِ بَعْدَمَا ذَهَبَ رَسُوْلُ الله ﷺ : خُذْ خَاتِمَكَ الْتَفِعْ بِهِ ، قَالَ : لَا وَاللَّهُ لَا أَخُذُهُ أَبَدًا ، وَقَدْ طَرَحَهُ رَسُولُ الله ﷺ (মুসলিম, হাদীস ২০৯০)
অর্থাৎ একদা রাসূল জনৈক ব্যক্তির হাতে একটি সোনার আংটি দেখতে পেলেন। তখন তিনি সোনার আংটিটি তার হাত থেকে খুলে ফেলে দিলেন এবং বললেন: তোমাদের কেউ ইচ্ছে করে আগুনের জ্বলন্ত কয়লা হাতে নিতে চায়? রাসূল চলে গেলে লোকটিকে বলা হলো: আংটিটা নিয়ে নাও। অন্য কোন কাজে লাগাতে পারবে। লোকটি বললো: আল্লাহ্ তা'আলার কসম! আমি তা কখনোই কুড়িয়ে নিতে পারবো না যা একদা রাসূল খুলে ফেলে দিলেন।
সোনা, রুপার প্লেট-বাটি এবং হাল্কা বা ঘন সিল্ক দুনিয়াতে কাফির পুরুষরাই ব্যবহার করবে। মুসলমানরা নয়। কারণ, তাদের জন্য তা প্রস্তুত রয়েছে আখিরাতে।
হযরত ‘হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لا تَلْبَسُوا الْحَرِيرَ وَ لَا الدُّنْيَاجَ ، وَ لَا تَشْرَبُوا فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَ الْفِضَّةِ ، وَ لَا تَأْكُلُوا فِي صِحَافِهَا فَإِنَّهَا لَهُمْ فِي الدُّنْيَا ، وَ لَنَا فِي الْآخِرَةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (বুখারী, হাদীস ৫৪২৬, ৫৬৩২, ৫৬৩৩, ৫৮৩১ মুসলিম, হাদীس ২০৬৭)
অর্থাৎ তোমরা হাল্কা বা ঘন সিল্ক পরিধান করো না। তেমনিভাবে সোনা রুপার পেয়ালায় পান করো না এবং এ গুলোর প্লেটে খেও না। কারণ, সেগুলো দুনিয়াতে কাফিরদের জন্য এবং আখিরাতে আমাদের জন্য।
হযরত ‘উমর ও আব্দুল্লাহ্ বিন্ যুবাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ لَبِسَ الْحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا لَمْ يَلْبَسْهُ فِي الْآخِرَةِ (বুখারী, হাদীس ৫৮৩৩, ৫৮৩৪)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে সিল্ক পরিধান করবে সে আর আখিরাতে তা পরিধান করবে না।
হযরত ‘আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকেও বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরshদ করেন:
إِنَّمَا يَلْبَسُ الْحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا مَنْ لَا خَلَاقَ لَهُ فِي الْآخِرَةِ (বুখারী, হাদীস ৫৮৩৫)
অর্থাৎ দুনিয়াতে সিল্কের কাপড় সেই পরিধান করবে যার জন্য আখিরাতে এ জাতীয় কিছুই থাকবে না।