📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কোন পশুর চেহারায় পুড়িয়ে দাগ দেয়া

📄 কোন পশুর চেহারায় পুড়িয়ে দাগ দেয়া


কোন পশুর চেহারায় পুড়িয়ে দাগ দেয়াও কবীরা গুনাহ্'র অন্যতম। তাই তো রাসূল এ জাতীয় মানুষকে লা'নত ও অভিসম্পাত এবং এ জাতীয় কাজ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।
হযরত জাবির থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
نَهَى رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ عَنِ الضَّرْبِ فِي الْوَجْهِ وَ عَنِ الْوَسْمِ فِي الْوَجْهِ (মুসলিম, হাদীস ২১১৬ ইন্নু খুযাইমাহ, হাদীস ২৫৫১)
অর্থাৎ রাসূল চেহারায় প্রহার করা এবং চেহারায় পুড়িয়ে দাগ দেয়া থেকে নিষেধ করেন।
হযরত জাবির থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন:
مَرَّ عَلَى النَّبِيِّ حِمَارٌ قَدْ وُسمَ فِي وَجْهِهِ ، فَقَالَ: لَعَنَ اللَّهُ الَّذِي وَسَمَهُ ، وَفِي رِوَايَةٍ أَبِي دَاوُدَ: أَمَا بَلَغَكُمْ أَنِّي قَدْ لَعَنْتُ مَنْ وَسَمَ الْبَهِيمَةَ فِي وَجْهِهَا أَوْ ضَرَبَهَا فِي وَجْهِهَا (মুসলিম, হাদীস ২১১৭ আবু দাউদ, হাদীস ২৫৬৪)
অর্থাৎ একদা নবী একটি গাধার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যার চেহারায় পুড়িয়ে দাগ দেয়া হয়েছিলো। তখন রাসূল বললেন: আল্লাহ্ তা'আলা লা'نত করুক সে ব্যক্তিকে যে গাধাটির চেহারায় পুড়িয়ে দাগ দিলো। আবু দাউদের বর্ণনায় রয়েছে, তোমাদের নিকট কি এ কথা পৌঁছায়নি যে, আমি সে ব্যক্তিকে লা'نত করেছি যে কোন পশুর চেহারায় পুড়িয়ে দাগ দেয় অথবা চেহারায় মারে।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 যে কোন প্রাণীর চিত্রাঙ্কন

📄 যে কোন প্রাণীর চিত্রাঙ্কন


যে কোন প্রাণীর চিত্রাঙ্কন করাও কবীরা গুনাহ্'র অন্যতম। কিয়ামতের দিন এ জাতীয় চিত্রাঙ্কনকারীরা কঠিন শাস্তি ভোগ করবে।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস'উদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি নবী কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন:
إِنْ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمُصَوِّرُوْنَ (বুখারী, হাদীস ৫৯৫০ মুসলিম, হাদীس ২১০৯)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলার নিকট সর্ব কঠিন শাস্তির অধিকারী হবে ওরা যারা (বিনা প্রয়োজনে) ছবি তোলে বা তৈরি করে।
হযরত ‘আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সফর থেকে ফিরে এসে দেখলেন, আমি আমার বৈঠকখানা তথা খেলনাপাতি রাখার জায়গাকে এমন একটি পর্দা দিয়ে ঢেকে দিয়েছি যার উপর কিছু ছবি অঙ্কিত ছিলো। তখন রাসূল ﷺ তা ছিঁড়ে ফেললেন এবং বললেন:
أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الَّذِينَ يُضَاهُوْنَ بِخَلْقِ اللَّهِ (বুখারী, হাদীস ৫৯৫৪ মুসলিম, হাদীس ২১০৭ বাগাওয়ী, হাদীস ৩২১৫ নাসায়ী: ৮/২১৪ বায়হাক্বী: ২৬৯)
অর্থাৎ কিয়ামতের দিন সর্ব কঠিন শাস্তির অধিকারী হবে ওরা যারা আল্লাহ্ তা'আলার সৃষ্টির ন্যায় কোন কিছু বানাতে চায়।
হযরত ‘আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: অতঃপর আমি সে ছিঁড়া পর্দাটি দিয়ে হেলান দেয়ার জন্য একটি বা দু'টি তাকিয়া বানিয়ে নিয়েছি।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাזিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন:
كُلُّ مُصَوِّرٍ فِي النَّارِ ، يُجْعَلُ لَهُ بِكُلِّ صُورَةٍ صَوَّرَهَا نَفْسٌ فَتُعَذِّبُهُ فِي جَهَنَّمَ (মুসলিম, হাদীس ২১১০)
অর্থাৎ প্রত্যেক ছবিকার জাহান্নামী। প্রত্যেক ছবির পরিবর্তে তার জন্য একটি করে প্রাণী ঠিক করা হবে যে তাকে সর্বদা জাহান্নামের মধ্যে শাস্তি দিতে থাকবে।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাזিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ ﷺ কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন:
مَنْ صَوَّرَ صُورَةً فِي الدُّنْيَا كُلَّفَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنْ يَنْفُخَ فِيْهَا الرُّوْحَ ، وَ لَيْسَ بِنَافِخِ (বুখারী, হাদীস ২২২৫, ৫৯৬৩, ৭০৪২ মুসলিম, হাদীস ২১১০ বাগাওয়ী, হাদীস ৩২১৯ নাসায়ী: ৮/২১৫ ইবন্ধু আবী শাইbah: ৮/৪৮৪-৪৮৫ আহমاد: ১/২৪১, ৩৫০ ত্বাবারানী/কাবীর, হাদীس ১২৯০০)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোন ছবি এঁকেছে কিয়ামতের দিন তাকে এ ছবিগুলোতে রূহ্ দিতে বলা হবে। কিন্তু সে কখনোই তা করতে পারবে না।
হযরত ‘আয়েশা (রাזিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنْ أَصْحَابَ هَذِهِ الصُّوَرِ يُعَذِّبُوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، يُقَالُ لَهُمْ: أَحْرُوْا مَا خَلَقْتُمْ ، وَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ لَا تَدْخُلُ بَيْتًا فِيْهِ الصُّوْرَةُ (বুখারী, হাদীস ২১০৫, ৫৯৫৭ মুসলিম, হাদীس ২১০৭)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই এ সকল ছবিকারদেরকে কিয়ামতের দিন কঠিন শাস্তি দেয়া হবে। তাদেরকে বলা হবে: তোমরা যা বানিয়েছো তাতে জীবন দাও। কিন্তু তারা কখনো তা করতে পারবে না। নিশ্চয়ই ফিরিস্তারা এমন ঘরে প্রবেশ করেন না যে ঘরে ছবি রয়েছে।
আল্লাহ্ তা'আলা চিত্রাঙ্কনকারীদেরকে সর্ব বৃহৎ জালিম বলে আখ্যায়িত করেছেন।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসূল কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন: আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন:
وَ مَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ كَخَلْقِي ، فَلَيَخْلُقُوْا حَبَّةٌ ، وَلْيَخْلُقُوْا ذَرَّةً ، وَلْيَخْلُقُوْا شَعِيْرَةً (বুখারী, হাদীস ৫৯৫৩, ৭৫৫৯ মুসলিম, হাদীس ২১১১ বায়হাক্বী: ৭/২৬৮ বাগাওয়ী, হাদীس ৩২১৭ ইব্বু আবী শাইbah: ৮/৪৮৪ আহমاد: ২/২৫৯, ৩৯১, ৪৫১, ৫২৭)
অর্থাৎ ওই ব্যক্তির ন্যায় জালিম আর কেউ হতে পারে না? যে আমার সৃষ্টির ন্যায় কোন কিছু বানাতে চায়। মূলতঃ সে কখনোই তা করতে পারবে না। যদি সে তা করতে পারবে বলে দাবি করে তাহলে সে যেন একটি দানা, একটি পিঁপড়া এবং একটি যব বানিয়ে দেখায়।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
تَخْرُجُ عُنُقَ مِنَ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، لَهَا عَيْنَانِ تُبْصِرَانِ ، وَ أَذْنَانِ تَسْمَعَانِ ، وَلِسَانٌ يَنْطِقُ ، يَقُولُ: إِنِّي وَكُلْتُ بِثَلَاثَةٍ: بِكُلِّ جَبَّارٍ عَنِيْدٍ ، وَ بِكُلِّ مَنْ دَعَا مَعَ اللَّهِ إِلَهَا آخَرَ ، وَ بِالْمُصَوِّرِينَ (তিরমিযী, হাদীس ২৫৭৪ আহমাদ, হাদীস ৮৪৩০)
অর্থাৎ কিয়ামতের দিন জাহান্নাম থেকে ঘাড় সহ একটি মাথা বের হবে যার দু'টি চোখ হবে যা দিয়ে সে দেখবে, দু'টি কান হবে যা দিয়ে সে শুনবে এবং একটি জিহ্বা হবে যা দিয়ে সে কথা বলবে। সে বলবে: তিন জাতীয় মানুষকে শাস্তি দেয়ার জন্য আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা হচ্ছে, প্রত্যেক প্রভাবশালী গাদ্দার, প্রত্যেক এমন ব্যক্তি যে আল্লাহ্ তা'আলার সাথে অন্য কাউকে শরীক করেছে এবং ছবি অঙ্কনকারীরা।
কারোর ঘরে কোন প্রাণীর ছবি থাকলে সে ঘরে রহমতের ফিরিস্তা প্রবেশ করবেন না।
হযরত আবু ত্বাল্হা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا تَدْخُلُ الْمَلَائِكَةُ بَيْتًا فِيْهِ كَلْبٌ وَ لَا تَصَاوِيْرُ (বুখারী, হাদীس ৫৯৪৯ মুসলিম, হাদীس ২১০৬)
অর্থাৎ যে ঘরে কুকুর এবং (কোন প্রাণীর) ছবি রয়েছে সে ঘরে (রহমতের) ফিরিস্তা প্রবেশ করবেন না।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 বিপদের সময় ধৈর্যহীন হয়ে বিলাপ ধরা, মাথা, গাল বা বুকে আঘাত করা, মাথার চুল বা পরনের জামাকাপড় ছেঁড়া, মাথা মুণ্ডন করা

📄 বিপদের সময় ধৈর্যহীন হয়ে বিলাপ ধরা, মাথা, গাল বা বুকে আঘাত করা, মাথার চুল বা পরনের জামাকাপড় ছেঁড়া, মাথা মুণ্ডন করা


কারোর উপর আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে কোন বিপদ আসলে তাতে অধৈর্য হয়ে বিলাপ করা, মাথা, গাল বা বুকে আঘাত করা, মাথার চুল বা পরনের জামাকাপড় ছেঁড়া, মাথা মুণ্ডন করা বা নিজের সমূহ ধ্বংস কিংবা যে কোন অকল্যাণ কামনা করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
اثْنَتَانِ فِي النَّاسِ هُمَا بِهِمْ كُفْرٌ ، الطَّعْنُ فِي النَّسَبِ وَ النِّيَاحَةُ عَلَى الْمَيِّتِ (মুসলিম, হাদীس ৬৭)
অর্থাৎ মানুষের মধ্যে দু'টি চরিত্র কুফরি পর্যায়ের। তার মধ্যে একটি হচ্ছে কারোর বংশ মর্যাদায় আঘাত হানা আর অপরটি হচ্ছে কোন মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে বিলাপ করা।
হযরত আবু মালিক আশ্'আরী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
النَّائِحَةُ إِذَا لَمْ تَتُبْ قَبْلَ مَوْتِهَا تُقَامُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَ عَلَيْهَا سِرْبَالٌ مِنْ قَطِرَانِ وَدِرْعٌ مِنْ جَرَبٍ (মুসলিম, হাদীس ৯৩৪)
অর্থাৎ বিলাপকারিণী মহিলা মৃত্যুর পূর্বে তাওবা না করলে তাকে কিয়ামতের দিন উঠানো হবে জ্বালানি তেল বা আলকাতরার পোশাক পরিয়ে এবং চর্ম রোগ বা খোস-পাঁচড়ার জামা গায়ে জড়িয়ে।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَطَمَ الْخُدُوْدَ ، وَ شَقَّ الْجُيُوبَ ، وَ دَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ (বুখারী, হাদীس ১২৯৪, ১২৯৭, ১২৯৮ মুসলিম, হাদীس ১০৩ নাসায়ী, হাদীس ১৮৬২, ১৮৬৪ ইন্নু মাজাহ, হাদীস ১৬০৬)
অর্থাৎ সে আমার উম্মত নয় যে (বিপদে পড়ে ক্ষিপ্ত হয়ে) নিজ গণ্ড দেশে সজোরে আঘাত করে, বুকের কাপড় ছিঁড়ে এবং জাহিলী যুগের বিলাপ ধরে। রাসূল এ জাতীয় মহিলাকে লা'নত করেছেন এবং তার থেকে নিজ দায়মুক্তি ও অসম্পৃক্ততা ঘোষণা করেছেন।
হযরত আবু মূসা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
إِنَّ رَسُوْلَ الله لَعَنَ مَنْ حَلَقَ أَوْ سَلَقَ أَوْ خَرَقَ (নাসায়ী, হাদীস ১৮৬৯)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই রাসূল লা'নত করেছেন মাথা মুনকারিণী, বিলাপকারিণী ও পোশাক ছিন্নকারিণী মহিলাকে।
হযরত আবু উমামাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ لَعَنَ الْخَامِشَةَ وَجْهَهَا، وَ الشَّاقَّةَ جَيْبَهَا، وَ الدَّاعِيَةَ بِالْوَيْلِ وَالقُبُورِ (ইবনু মাজাহ, হাদীس ১৬০৭)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই রাসূল লা'نত করেছেন সে মহিলাকে যে নিজ চেহারায় খামচি মারে, নিজ বুকের কাপড় ছিঁড়ে এবং নিজ ধ্বংসকে আহ্বান করে।
হযরত আবু মূসা থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন:
إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ بَرِئَ مِنَ الصَّالِقَةِ وَ الْحَالِقَةِ وَ الشَّاقَّةِ (বুখারী, হাদীس ১২৯৬ মুসলিম, হাদীس ১০৪ ইবনু মাজাহ, হাদীس ১৬০৮)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই রাসূল বিলাপকারিণী, মাথা মুনকারিণী ও পোশাক ছিন্নকারিণী মহিলা থেকে নিজ দায়মুক্তি ঘোষণা করেন।
কেউ জীবিত থাকাবস্থায় নিজ পরিবারকে বিলাপের ব্যাপারে সতর্ক না করলে সে মারা যাওয়ার পর তার পরিবার তার জন্য বিলাপ করলে তাকে সে জন্য কবরে শাস্তি দেয়া হবে।
হযরত ‘উমর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
الْمَيِّتُ يُعَذِّبُ فِي قَبْرِهِ بِمَا نِيَحَ عَلَيْهِ (বুখারী, হাদীس ১২৯২)
অর্থাৎ মৃত ব্যক্তিকে তার উপর কারোর বিলাপের কারণে তার কবরেই তাকে শাস্তি দেয়া হবে।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 লুঙ্গি, পাজামা অথবা যে কোন কাপড় পায়ের গিঁটের নিচে পরা

📄 লুঙ্গি, পাজামা অথবা যে কোন কাপড় পায়ের গিঁটের নিচে পরা


লুঙ্গি, পাজামা, প্যান্ট অথবা যে কোন কাপড় টাখনু বা পায়ের গিঁটের নিচে পরা কবীরা গুনাহ্। চাই তা গর্ব করেই হোক অথবা এমনিতেই। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ مِنَ الْإِزَارِ فَفِي النَّارِ (বুখারী, হাদীস ৫৭৮৭)
অর্থাৎ লুঙ্গি, পাজামা বা প্যান্টের যে অংশটুকু পায়ের গিঁটের নিচে যাবে তা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
যে ব্যক্তি টাখনু বা পায়ের গিঁটের নিচে কাপড় পরিধান করে আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার সাথে কোন কথা বলবেন না, তার দিকে তাকাবেনও না এমনকি তাকে গুনাহ্ থেকে পবিত্রও করবেন না উপরন্তু তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। হযরত আবু যর গিফারী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، وَ لَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ ، وَ لَا يُزَكِّيهِمْ ، وَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ، قَالَ : فَقَرَأَهَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ثَلَاثَ مِرَارٍ ، قَالَ أَبُوْ ذَرِّ: خَابُوا وَخَسِرُوا ، مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ !؟ قَالَ : الْمُسْبِلُ ، وَ الْمَنَّانُ وَ فِي رِوَايَةٍ: الْمَنَّانُ الذي لا يُعْطِي شَيْئًا إِلَّا مَنَّهُ ، وَ الْمُنْفِقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ الْكَاذِبِ (মুসলিম, হাদীস ১০৬ আবু দাউদ, হাদীস ৪০৮৭, ৪০৮৮)
অর্থাৎ তিন ব্যক্তি এমন যে, আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেনও না এমনকি তাদেরকে গুনাহ্ থেকে পবিত্রও করবেন না উপরন্তু তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। বর্ণনাকারী বলেন: রাসূল কথাগুলো তিন বার বলেছেন। হযরত আবু যর বলেন: তারা সত্যিই ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত। তবে তারা কারা হে আল্লাহ্'র রাসূল ! রাসূল বললেন: টাখনু বা পায়ের গিঁটের নিচে কাপড় পরিধানকারী, কাউকে কোন কিছু দিয়ে খোঁটা দানকারী এবং মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য সাপ্লাইকারী।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لا يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَى مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ خُيَلَاءَ (বুখারী, হাদীস ৩৬৬৫, ৫৭৮৩, ৫৭৮৪ মুসলিম, হাদীس ২০৮৫)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি গর্ব করে নিজ নিম্ন বসন মাটিতে টেনে চলবে (কিয়ামতের দিন) আল্লাহ্ তা'আলা তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না।
একজন মু'মিনের লুঙ্গি, পাজামা ইত্যাদি জঙ্ঘার অর্ধেক পর্যন্তই হওয়া উচিৎ। পায়ের গিঁট পর্যন্ত হলেও চলবে। তবে যে ব্যক্তি গিঁটের নিচে পরবে সে গর্বকারীরই অন্তর্ভুক্ত।
হযরত জাবির বিন্ সুলাইম থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন:
وَ ارْفَعْ إِزَارَكَ إِلَى نِصْفِ السَّاقِ ، فَإِنْ أَبَيْتَ فَإِلَى الْكَعْبَيْنِ ، وَ إِيَّاكَ وَ إِسْبَالَ الإِزَارِ فَإِنَّهَا مِنَ الْمَخِيْلَةِ ، وَ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمَخِيْلَةَ (আবু দাউদ, হাদীস ৪০৮৪)
অর্থাৎ তোমার নিম্ন বসন জঙ্ঘার অর্ধেকে উঠিয়ে নাও। তা না করলে অন্ততপক্ষে পায়ের গিঁট পর্যন্ত। তবে গিঁটের নিচে পরা থেকে অবশ্যই সতর্ক থাকবে। কারণ, তা অহঙ্কারের পরিচায়ক। আর আল্লাহ্ তা'আলা অহঙ্কার করা পছন্দ করেন না।
হযরত আবু সাঈদ খুদ্রী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِزْرَةُ الْمُسْلِمِ إِلَى نِصْفِ السَّاقِ ، وَ لَا حَرَجَ فِيْمَا بَيْنَهُ وَ بَيْنَ الْكَعْبَيْنِ (আবু দাউদ, হাদীس ৪০৯৩)
অর্থাৎ একজন মুসলমানের নিম্ন বসন জঙ্ঘার অর্ধেক পর্যন্তই হওয়া চাই। তবে তা এবং পায়ের গিঁটের মাঝে থাকলেও কোন অসুবিধে নেই। জামা এবং পাগড়িও গিঁটের নিচে যেতে পারবে না।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
الإِسْبَالُ فِي الْإِزَارِ وَ الْقَمِيصِ وَ الْعِمَامَةِ ، مَنْ جَرَّ مِنْهَا شَيْئًا خُيَلَاءَ لَمْ يَنْظُرِ اللَّهُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (আবু দাউদ, হাদীস ৪০৯৪)
অর্থাৎ গিঁটের নিচে পরা হারাম হওয়ার ব্যাপারটি লুঙ্গি, পাজামা, প্যান্ট, জামা, পাগড়ি ইত্যাদির মধ্যেও ধরা হয়। যে ব্যক্তি গর্ব করে এগুলোর কোনটি মাটিতে টেনে চলবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলা তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না।
অসতর্কতাবশত প্যান্ট, লুঙ্গি বা পাজামা গিঁটের নিচে চলে গেলে স্মরণ হওয়া মাত্রই তা গিঁটের উপরে উঠিয়ে নিবে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাזيال্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা আমি রাসূল এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম যখন আমার নিম্ন বসন ছিলো গিঁটের নিচে। তখন রাসূল বললেন:
يَا عَبْدَ اللَّهِ ارْفَعْ إِزَارَكَ ، فَرَفَعْتُهُ ، ثُمَّ قَالَ: زِدْ ، فَزِدْتُ ، فَمَا زِلْتُ أَتَحَرَّاهَا بَعْدُ ، فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ إِلَى أَيْنَ ؟ فَقَالَ: أَنْصَافِ السَّاقَيْنِ (মুসলিম, হাদীس ২০৮৬)
অর্থাৎ হে আব্দুল্লাহ্! তোমার নিম্ন বসন (গিঁটের উপর) উঠিয়ে নাও। তখন আমি উপরে উঠিয়ে নিলাম। রাসূল আবারো বললেন: আরো উপরে। তখন আমি আরো উপরে উঠিয়ে নিলাম। এরপর থেকে আজো পর্যন্ত আমি এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করছি। উপস্থিত লোকদের কেউ বলে উঠলো: তখন আপনি কোন পর্যন্ত উঠিয়েছিলেন? তিনি বললেন: জঙ্ঘার অর্ধ ভাগ পর্যন্ত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00