📄 কোন পশুর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হওয়া
কোন পশুর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হওয়া হারাম ও কবীরা গুনাহ্। হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَعَنَ اللَّهُ مَنْ وَقَعَ عَلَى بَهِيمَةِ (আহমাদ ১/২১৭ আবু ইয়া'লা, হাদীس ২৫২১ ইবনু হিব্বান, হাদীস ৪৪১৭ ‘হা'কিম ৪/৩৫৬ ত্বাবারানী/কাবীর, হাদীস ১১৫৪৬ বায়হাক্বী ৮/২৩১)
অর্থাৎ আল্লাহ্'র লা'نত সেই ব্যক্তির উপর যে কোন পশুর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হয়। হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাזيال্লাহু আনহুমা) থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ أَتَى بَهِيمَةً فَاقْتُلُوهُ وَ اقْتُلُوْهَا مَعَهُ (আবু দাউদ, হাদীس ৪৪৪৬)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোন পশুর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হলো তাকে হত্যা করো এবং তার সাথে সেই পশুটিকেও।
📄 ইদ্দত চলাকালীন অবস্থায় কোন মহিলার সাথে সহবাস করা
ইদ্দত চলাকালীন অবস্থায় কোন মহিলার সাথে সহবাস করা হারাম। ইদ্দত বলতে এখানে কাফিরদের সাথে যুদ্ধকালীন সময়ে কোন বিবাহিতা বান্দিকে ধরে আসার পর তার একটি ঋতুস্রাব অতিক্রম করা অথবা তার পেটে বাচ্চা থাকলে তার বাচ্চাটি প্রসব হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাকে বুঝানো হয়। হযরত রুওয়াইফি' বিন্ সাবিত আন্সারী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসূল কে ‘হুনাইন যুদ্ধের সময় বলতে শুনেছি তিনি বলেন:
لا يَحِلُّ لامْرِئٍ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ يَسْقِيَ مَاءَهُ زَرْعَ غَيْرِهِ ، وَ لَا يَحِلُّ لامْرِئٍ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ يَقَعَ عَلَى امْرَأَةِ مِنَ السَّبْيِ حَتَّى يَسْتَبْرِنَهَا بِحَيْضَةٍ ، لا يَحِلُّ لامْرِئٍ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ يَبِيْعَ مَغْنَمًا حَتَّى يُقْسَمَ (আবু দাউদ, হাদীস ২১৫৮, ২১৫৯)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাসী কোন ব্যক্তির জন্য হালাল হবে না অন্যের ক্ষেতে নিজের পানি সেচ দেয়া তথা গর্ভবতীর সাথে সহবাস করা। তেমনিভাবে আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাসী কোন ব্যক্তির জন্য হালাল হবে না কাফিরদের সাথে যুদ্ধলব্ধ কোন বান্দির সাথে সহবাস করা যতক্ষণ না একটি ঋতুস্রাব অতিক্রম করে তার জরায়ু খালি থাকা নিশ্চিত হওয়া যায়। অনুরূপভাবে আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাসী কোন ব্যক্তির জন্য হালাল হবে না বন্টনের পূর্বে কোন যুদ্ধলব্ধ মাল বিক্রি করা।
📄 কোন পুরুষের জন্য অন্য কোন পুরুষের সতর এবং কোন মহিলার জন্য অন্য কোন মহিলার সতর দেখা
কোন পুরুষের জন্য অন্য কোন পুরুষের সতর দেখা এবং কোন মহিলার জন্য অন্য কোন মহিলার সতর দেখা হারাম। আর কোন পুরুষের জন্য অন্য কোন মহিলার সতর দেখা তো অবশ্যই হারাম তা তো আর বলার অপেক্ষাই রাখে না। সতর বলতে শরীয়তের দৃষ্টিতে মানব শরীরের যে অঙ্গ দেখা অন্যের জন্য হারাম উহাকেই বুঝানো হয়।
বিশুদ্ধ মতে কোন পুরুষের জন্য অন্য কোন পুরুষের সতর তার নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত এবং কোন মহিলার জন্য অন্য কোন মহিলার সতর হাত, পা, ঘাড় ও মাথা ছাড়া তার বাকি অংশটুকু তথা গলা বা ঘাড় থেকে হাঁটু পর্যন্ত। অনুরূপভাবে কোন পুরুষের জন্য অন্য কোন বেগানা মহিলার পুরো শরীরটিই সতর। তবে কোন পুরুষের জন্য তার কোন মাহরাম (যাকে চিরতরে বিবাহ্ করা তার জন্য হারাম) মহিলার সতর ততটুকুই যতটুকু কোন মহিলার জন্য অন্য কোন মহিলার সতর।
হযরত আবু সা'ঈদ খুদ্রী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا يَنْظُرُ الرَّجُلُ إِلَى عَوْرَةِ الرَّجُلِ ، وَ لاَ الْمَرْأَةُ إِلَى عَوْرَةِ الْمَرْأَةِ ، وَ لَا يُفْضِي الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ فِي ثَوْبِ وَاحِدٍ ، وَ لَا تُفْضِي الْمَرْأَةُ إِلَى الْمَرْأَةِ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ (মুসলিম, হাদীس ৩৩৮)
অর্থাৎ কোন পুরুষ অন্য কোন পুরুষের সতরের দিকে একেবারেই তাকাবে না এবং কোন মহিলা অন্য কোন মহিলার সতরের দিকে একেবারেই তাকাবে না। তেমনিভাবে কোন পুরুষ অন্য কোন পুরুষের সাথে একই কাপড়ের নিচে অবস্থান করবে না এবং কোন মহিলা অন্য কোন মহিলার সাথে একই কাপড়ের নিচে অবস্থান করবে না।
📄 কোন মুথরিমের জন্য বিবাহ করা ও বিবাহের প্রস্তাব দেয়া
কোন মুহুরিমের জন্য বিবাহ্ করা ও বিবাহ'র প্রস্তাব দেয়া হারাম। মুহরিম বলতে যে ব্যক্তি হজ্জ বা ‘উমরাহ্ করার জন্য মিক্বাত থেকে দু'টি সাদা কাপড় পরে ইহরাম বেঁধেছে তাকেই বুঝানো হয়। হযরত ‘উসমান বিন্ ‘আফ্ফান থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا يَنْكِحُ الْمُحْرِمُ وَ لَا يُنْكَحُ وَ لَا يَخْطُبُ (মুসলিম, হাদীস ১৪০৯)
অর্থাৎ কোন মুহরিম ই'হরাম অবস্থায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে না এবং তাকে কেউ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধও করাবে না। এমনকি এমতাবস্থায় সে কাউকে বিবাহ্'র প্রস্তাবও দিবে না।