📄 বেগানা কোন মহিলার সাথে কোন পুরুষের মুসাফাহ্ করা
বেগানা কোন মহিলার সাথে কোন পুরুষের মুসাফাহা করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
রাসূল ইরশাদ করেন:
لأَنْ يُطْعَنَ فِي رَأْسِ أَحَدِكُمْ بِمِخْيَطُ مِنْ حَدِيدِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يُمَسَّ امْرَأَةً لَا تَحِلُّ لَهُ (স'হীহল্ জা'মি', হাদীস ৪৯২১)
অর্থাৎ তোমাদের কারোর মাথায় লোহার সুঁই দিয়ে আঘাত করা তার জন্য অনেক শ্রেয় বেগানা কোন মহিলাকে স্পর্শ করার চাইতে যা তার জন্য হালাল নয়। কেউ কেউ মনে করেন, আমার মন খুবই পরিষ্কার। তাঁকে আমি মা, খালা অথবা বোনের মতোই মনে করি ইত্যাদি ইত্যাদি। তা হলে মুসাফাহা করতে অসুবিধে কোথায়। আমরা তাদেরকে বলবো: আপনার চাইতেও বেশি পরিষ্কার ছিলো রাসূল এর অন্তর। এরপরও তিনি যে কোন বেগানা মহিলার সাথে মুসাফাহা করতে অস্বীকৃতি জানান। রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنِّي لَا أَصَافِحُ النِّسَاءَ أَوْ إِنِّي لَا أَمَسُّ أَيْدِيُّ النِّسَاءِ (স'হীহল্ জা'মি', হাদীস ৩৫০৯, ৭০৫৪)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমি কোন বেগানা মহিলার সাথে মুসাফাহা করতে রাজি নই।
বর্তমান সমাজে এমনো কিছু আত্মমর্যাদাহীন লোক রয়েছে যাদের নেককার স্ত্রী, মেয়ে ও বোনেরা বেগানা পুরুষের সাথে মুসাফাহা করতে রাজি নয়; চাই তা লজ্জাবশত হোক অথবা ঈমানী চেতার দরুন; তবুও এ ধর্মহীন লোকেরা তাদেরকে উক্ত কাজ করতে বাধ্য করে। তাদের এ কথা মনে রাখা উচিৎ যে, একবার যদি তাদের লজ্জা উঠে যায় দ্বিতীয়বার তা ফিরিয়ে আনা অবশ্যই অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে এবং তাদের নিজেদের ব্যাপারেও এ কথা চিন্তা করা দরকার যে, যার লজ্জা নেই তার ঈমানও নেই। রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنَّ الْحَيَاءَ وَ الإِيْمَانَ قُرِنَا جَمِيعًا ، فَإِذَا رُفِعَ أَحَدُهُمَا رُفِعَ الْآخَرُ (স'হীহল্ জা'মি', হাদীস ৩২০০)
অর্থাৎ লজ্জা ও ঈমান একই সূত্রে গাঁথা। তার মধ্যে একটি ফসকে গেলে অন্যটিও ফসকে যাবে অবশ্যই।
📄 কোন মাহরাম পুরুষের সঙ্গ ছাড়া যে কোন মহিলার দূর-দূরান্ত সফর করা
কোন মাহরাম তথা যে পুরুষের সাথে মহিলার দেখা দেয়া জায়িয এমন কোন পুরুষের সঙ্গ ছাড়া যে কোন মহিলার দূর-দূরান্ত সফর করা হারাম। চাই তা হজ্জ, ‘উমরাহ্ তথা ধর্মীয় যে কোন কাজের জন্যই হোক অথবা শুধু বেড়ানোর জন্য। চাই তা গাড়িতেই হোক অথবা প্লেনে।
হযরত আবু হুরাইراহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لا يَحِلُّ لامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ تُسَافِرُ مَسِيْرَةَ يَوْمٍ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ (মুসলিম, হাদীس ১৩৩৯)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাসী কোন মহিলার জন্য এটা জায়িয নয় যে, সে এক দিনের দূরত্ব সমপরিমাণ রাস্তা সফর করবে অথচ তার সাথে তার কোন মাহ্রাম নেই।
হযরত আবু সাঈদ খুদ্রী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لا يَحِلُّ امْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ تُسَافِرَ سَفْرًا يَكُوْنُ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَصَاعِدًا إِلَّا وَ مَعَهَا أَبُوْهَا أَوْ ابْنُهَا أَوْ زَوْجُهَا أَوْ أَخَوْهَا أَوْ ذُوْ مَحْرَمٍ مِنْهَا (মুসলিম, হাদীس ১৩৪০)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাসী কোন মহিলার জন্য এটা জায়িয নয় যে, সে তিন দিন অথবা তিন দিনের বেশি দূরত্ব সমপরিমাণ রাস্তা সফর করবে অথচ তার সাথে তার পিতা, ছেলে, স্বামী, ভাই অথবা যে কোন মাহরাম নেই।
অনেক মহিলা তো কোন মাহরাম ছাড়া শুধু একাই সফর শুরু করে দেয়। তার এ কথা জানা নেই যে, সে গাড়ি বা প্লেনে কার সাথেই বা বসবে। পুরুষের সাথে না মহিলার সাথে। পুরুষের সাথে বসলে সে কি ভালো পুরুষ হবে না খারাপ পুরুষ। মহিলার সাথে বসলে গাড়ি কি ঠিক জায়গায় সময় মতো পৌঁছুবে না কি অসময়ে। পথিমধ্যে হঠাৎ সে কোন বিপদে পড়লে কেউ কি তার সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে সাওয়াবের আশায় না ভোগের আশায়। আরো কত্তো কী।
এ কথা অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে যে, মাহরাম পুরুষটি জ্ঞানসম্পন্ন মুসলিম সাবালক হওয়া চাই। তা না হলে তার মধ্যে আর মহিলার মধ্যে পার্থক্যই বা থাকলো কোথায়?! বরং তখন সে নিজেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। অন্য মহিলার নিরাপত্তার ব্যাপার তো এরপরেই আসছে।
📄 ঋতুবতী মহিলার সাথে সহবাস করা
ঋতুবতী মহিলার সাথে সহবাস করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্ ও হারাম। আলাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন:
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيْضِ ، قُلْ هُوَ أَذًى ، فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيْضِ، وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ ) (বাকারাহ : ২২২)
অর্থাৎ তারা আপনাকে নারীদের ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে। আপনি বলে দিন: তা হচ্ছে অশুচিতা। অতএব তোমরা ঋতুকালে স্ত্রীদের নিকট থেকে দূরে থাকো। এমনকি তারা সম্পূর্ণরূপে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তীও হবে না।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ أَتَى حَائِضاً أَوْ امْرَأَةً فِي دُبُرِهَا أَوْ كَاهِناً فَصَدَّقَهُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّد (তিরমিযী, হাদীস ১৩৫ ইব্বু আবী শাইbah, হাদীس ১৬৮০৯)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোন ঋতুবতী মহিলার সাথে সহবাস করলো অথবা কোন মহিলার মলদ্বার ব্যবহার করলো অথবা কোন গণককে বিশ্বাস করলো সে যেন মুহাম্মাদ এর উপর অবতীর্ণ বিধানকে অস্বীকার করলো।
📄 যে কোন ধরনের সুগন্ধি ব্যবহার করে কোন মহিলার রাস্তায় বের হওয়া অথবা বেগানা কোন পুরুষের সামনে দিয়ে অতিক্রম করা
যে কোন ধরনের সুগন্ধি ব্যবহার করে কোন মহিলার রাস্তায় বের হওয়া অথবা বেগানা কোন পুরুষের সামনে দিয়ে অতিক্রম করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্ ও হারাম। চাই সে পুরুষ কাজের লোক হোক অথবা গাড়ি চালক। চাই সে পণ্য বিক্রেতা হোক অথবা দারোয়ান। চাই সে যুবক হোক অথবা বুড়ো। চাই সে বের হওয়া কোন ইবাদাত পালনের জন্য হোক অথবা এমনতিই ঘোরা-ফেরার জন্য। রাসূল ইরশাদ করেন:
أَيُّمَا امْرَأَةِ اسْتَعْطَرَتْ ثُمَّ مَرَّتْ عَلَى الْقَوْمِ لِيَجِدُوا رِيْحَهَا فَهِيَ زَانِيَةٌ (সা'হাঁ'হল্ জা'মি', হাদীس ২৭০১)
অর্থাৎ যে মহিলা কোন ধরনের সুগন্ধি ব্যবহার করে বেগানা কোন পুরুষের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলো; যেন তারা তার সুগন্ধি গ্রহণ করতে পারে তা হলে সে সত্যিই ব্যভিচারিণী।
রাসূল আরো বলেন:
أَيُّمَا امْرَأَةٍ تَطَيِّبَتْ ثُمَّ خَرَجَتْ إِلَى الْمَسْجِدِ لِيُوْجَدَ رِيحُهَا لَمْ يُقْبَلْ مِنْهَا صَلَاةٌ حَتَّى تَغْتَسِلُ اغْتِسَالَهَا مِنَ الْجَنَابَةِ (সা'হা'হল্ জা'মি', হাদীس ২৭০১)
অর্থাৎ কোন মহিলা সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদ অভিমুখে বের হলে; যাতে তার সুগন্ধি অন্য পুরুষের নাকে যায় তা হলে তার নামায কবুল করা হবে না যতক্ষণ না সে জানাবাতের গোসল তথা পূর্ণ পবিত্রতা অর্জন করে নেয়।
কোন মহিলা যদি যে কোন ধরনের সুগন্ধি ব্যবহার করে নিজ ঘর থেকে নামাযের জন্য মসজিদ অভিমুখে বের হলে সে নাপাক হয়ে যায়; যাতে করে তার নামায কবুল হওয়ার জন্য তাকে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জন করতে হয় তা হলে যে মহিলা শুধু ঘোরা-ফেরার জন্য ঘর থেকে উৎকট সুগন্ধি ব্যবহার করে পার্ক বা নদীকূল অভিমুখে বের হয় সে আর কতটুকুই বা পবিত্র থাকতে পারবে। তাই তো এদের অনেককেই শুধু বিধানগত নাপাকই নয় বরং বাস্তবে নাপাক হয়ে ঘরে ফিরছে বলে পত্র-পত্রিকায় দেখা যায়। এরপরও কি তাদের এতটুকু চেতনাও ফিরবে না?!