📄 কোন বেগানা পুরুষের সামনে কোন মহিলার খাটো, স্বচ্ছ কিংবা সংকীর্ণ কাপড়-চোপড় পরিধান করা
কোন বেগানা পুরুষের সামনে কোন মহিলার খাটো, স্বচ্ছ কিংবা সংকীর্ণ কাপড়-চোপড় পরিধান করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্ ও হারাম। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا ، قَوْمٌ مَعَهُمْ سَيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُوْنَ بَهَا النَّاسَ ، وَ نِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ ، مُميلات مائلات ، رُؤُوسُهُنَّ كَأَسْمَة الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ ، لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ ، وَلَا يَجِدْنَ رِيحَهَا ، وَ إِنَّ رِيحَهَا لَيُوْجَدُ مِنْ مَسِيْرَةِ كَذَا وَكَذَا (মুসলিম, হাদীس ২১২৮)
অর্থাৎ দু' জাতীয় মানুষ এমন রয়েছে যারা জাহান্নামী। তবে আমি তাদেরকে এখনো দেখিনি। তাদের মধ্যে এক জাতীয় মানুষ এমন যে, তাদের হাতে থাকবে লাঠি যা দেখতে গাভীর লেজের ন্যায়। এগুলো দিয়ে তারা অযথা মানুষকে প্রহার করবে। তাদের মধ্যে আরেক জাতীয় মানুষ হবে এমন মহিলারা যারা কাপড় পরেও উলঙ্গ। তারা বেগানা পুরুষদেরকে নিজেদের প্রতি আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও তাদের প্রতি আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথা হবে ঝুলে পড়া উটের কুঁজের ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এমনকি উহার সুগন্ধও পাবে না। অথচ উহার সুগন্ধ অনেক অনেক দূর থেকে পাওয়া যায়।
বর্তমান যুগে এমন সংকীর্ণ কাপড়-চোপড় পরা হচ্ছে যে, বলাই মুশকিল, তা সেলাই করে পরা হয়েছে না কি পরে সেলানো হয়েছে। আবার এমন খাটো কাপড়ও পরা হয় যে, বলতে ইচ্ছে হয়: যখন লজ্জার মাথা খেয়ে এতটুকুই খুলে দিলে তখন আর বাকিটাই বা খুলতে অসুবিধে কোথায়? আবার এমন খোলা কাপড়ও পরিধান করা হয় যে, বাতাস তাদের মনের গতি বুঝে তা উড়িয়ে দিয়ে তাদের সবটুকুই মানুষকে দেখিয়ে দেয়। তখনই তাদের লুক্কায়িত প্রদর্শনেচ্ছা সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়। আবার কখনো এমন স্বচ্ছ কাপড় পরিধান করা হয় যে, তা পরেও না পরার মতো। বরং তা পরার পর মানুষ তাদের দিকে যতটুকু তাকায় পুরো কাপড় খুলে চললে ততটুকু তাকাতো না।
📄 কোন পুরুষের বেগানা কোন মহিলার সাথে অথবা কোন মহিলার বেগানা কোন পুরুষের সাথে নির্জনে অবস্থান করা
কোন পুরুষের বেগানা কোন মহিলার সাথে অথবা কোন মহিলার বেগানা কোন পুরুষের সাথে নির্জনে অবস্থান করা হারাম। চাই তা কোন ঘরেই হোক অথবা কোন রুমে কিংবা কোন গাড়িতে অথবা লিফ্টে। হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا وَ مَعَهَا ذُوْ مَحْرَمٍ (মুসলিম, হাদীস ১৩৪১)
অর্থাৎ কোন পুরুষ যেন বেগানা কোন মহিলার সঙ্গে নির্জনে অবস্থান না করে সে মহিলার এগানা কোন পুরুষের উপস্থিতি ছাড়া। রাসূল আরো ইরশাদ করেন:
لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةِ إِلَّا كَانَ ثَالَثَهُمَا الشَّيْطَانُ (তিরমিযী, হাদীস ১১৭১)
অর্থাৎ কোন পুরুষ যেন বেগানা কোন মহিলার সঙ্গে নির্জনে অবস্থান না করে। এমন করলে তখন শয়তানই হবে তাদের তৃতীয় জন। হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর বিন্ ‘আস্ব (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا يَدْخُلَنَّ رَجُلٌ بَعْدَ يَوْمِي هَذَا عَلَى مُغِيبَةٍ إِلَّا وَ مَعَهُ رَجُلٌ أَوْ اثْنَانِ (মুসলিম, হাদীس ২১৭৩)
অর্থাৎ আজকের পর কোন পুরুষ যেন এমন মহিলার ঘরে প্রবেশ না করে যার স্বামী তখন উপস্থিত নেই। তবে তার সাথে অন্য এক বা দু'জন পুরুষ থাকলে তখন তারা প্রবেশ করতে পারবে।
অন্য হাদীসে রাসূল এ নিষেধাজ্ঞার কারণও উল্লেখ করেছেন। আর তা হলো শয়তানের প্রবঞ্চনা ও কুমন্ত্রণার ভয়।
হযরত জাবির থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا تَلِجُوْا عَلَى الْمُغِيبَاتِ ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنْ أَحَدِكُمْ مَجْرَى الدَّمِ ، قُلْنَا: وَ مِنْكَ ؟! قَالَ: وَ مِنِّي ، وَ لَكِنَّ اللَّهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ فَأَسْلَمُ (তিরমিযী, হাদীস ১১৭২)
অর্থাৎ তোমরা এমন মহিলার ঘরে প্রবেশ না করে যার স্বামী তখন উপস্থিত নেই। কারণ, শয়তান তোমাদের শিরাউপশিরায় চলাচল করে। সাহাবাগণ বললেন: আমরা বললাম: আপনারো? তিনি বললেন: আমারো। তবে আল্লাহ্ তা'আলা তার ব্যাপারে আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তাই আমি তার অনিষ্ট হতে নিরাপদ অথবা তাই সে এখন আমার অনুগত।
📄 বেগানা কোন মহিলার সাথে কোন পুরুষের মুসাফাহ্ করা
বেগানা কোন মহিলার সাথে কোন পুরুষের মুসাফাহা করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
রাসূল ইরশাদ করেন:
لأَنْ يُطْعَنَ فِي رَأْسِ أَحَدِكُمْ بِمِخْيَطُ مِنْ حَدِيدِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يُمَسَّ امْرَأَةً لَا تَحِلُّ لَهُ (স'হীহল্ জা'মি', হাদীস ৪৯২১)
অর্থাৎ তোমাদের কারোর মাথায় লোহার সুঁই দিয়ে আঘাত করা তার জন্য অনেক শ্রেয় বেগানা কোন মহিলাকে স্পর্শ করার চাইতে যা তার জন্য হালাল নয়। কেউ কেউ মনে করেন, আমার মন খুবই পরিষ্কার। তাঁকে আমি মা, খালা অথবা বোনের মতোই মনে করি ইত্যাদি ইত্যাদি। তা হলে মুসাফাহা করতে অসুবিধে কোথায়। আমরা তাদেরকে বলবো: আপনার চাইতেও বেশি পরিষ্কার ছিলো রাসূল এর অন্তর। এরপরও তিনি যে কোন বেগানা মহিলার সাথে মুসাফাহা করতে অস্বীকৃতি জানান। রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنِّي لَا أَصَافِحُ النِّسَاءَ أَوْ إِنِّي لَا أَمَسُّ أَيْدِيُّ النِّسَاءِ (স'হীহল্ জা'মি', হাদীস ৩৫০৯, ৭০৫৪)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমি কোন বেগানা মহিলার সাথে মুসাফাহা করতে রাজি নই।
বর্তমান সমাজে এমনো কিছু আত্মমর্যাদাহীন লোক রয়েছে যাদের নেককার স্ত্রী, মেয়ে ও বোনেরা বেগানা পুরুষের সাথে মুসাফাহা করতে রাজি নয়; চাই তা লজ্জাবশত হোক অথবা ঈমানী চেতার দরুন; তবুও এ ধর্মহীন লোকেরা তাদেরকে উক্ত কাজ করতে বাধ্য করে। তাদের এ কথা মনে রাখা উচিৎ যে, একবার যদি তাদের লজ্জা উঠে যায় দ্বিতীয়বার তা ফিরিয়ে আনা অবশ্যই অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে এবং তাদের নিজেদের ব্যাপারেও এ কথা চিন্তা করা দরকার যে, যার লজ্জা নেই তার ঈমানও নেই। রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنَّ الْحَيَاءَ وَ الإِيْمَانَ قُرِنَا جَمِيعًا ، فَإِذَا رُفِعَ أَحَدُهُمَا رُفِعَ الْآخَرُ (স'হীহল্ জা'মি', হাদীস ৩২০০)
অর্থাৎ লজ্জা ও ঈমান একই সূত্রে গাঁথা। তার মধ্যে একটি ফসকে গেলে অন্যটিও ফসকে যাবে অবশ্যই।
📄 কোন মাহরাম পুরুষের সঙ্গ ছাড়া যে কোন মহিলার দূর-দূরান্ত সফর করা
কোন মাহরাম তথা যে পুরুষের সাথে মহিলার দেখা দেয়া জায়িয এমন কোন পুরুষের সঙ্গ ছাড়া যে কোন মহিলার দূর-দূরান্ত সফর করা হারাম। চাই তা হজ্জ, ‘উমরাহ্ তথা ধর্মীয় যে কোন কাজের জন্যই হোক অথবা শুধু বেড়ানোর জন্য। চাই তা গাড়িতেই হোক অথবা প্লেনে।
হযরত আবু হুরাইراহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لا يَحِلُّ لامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ تُسَافِرُ مَسِيْرَةَ يَوْمٍ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ (মুসলিম, হাদীس ১৩৩৯)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাসী কোন মহিলার জন্য এটা জায়িয নয় যে, সে এক দিনের দূরত্ব সমপরিমাণ রাস্তা সফর করবে অথচ তার সাথে তার কোন মাহ্রাম নেই।
হযরত আবু সাঈদ খুদ্রী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لا يَحِلُّ امْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ تُسَافِرَ سَفْرًا يَكُوْنُ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَصَاعِدًا إِلَّا وَ مَعَهَا أَبُوْهَا أَوْ ابْنُهَا أَوْ زَوْجُهَا أَوْ أَخَوْهَا أَوْ ذُوْ مَحْرَمٍ مِنْهَا (মুসলিম, হাদীس ১৩৪০)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাসী কোন মহিলার জন্য এটা জায়িয নয় যে, সে তিন দিন অথবা তিন দিনের বেশি দূরত্ব সমপরিমাণ রাস্তা সফর করবে অথচ তার সাথে তার পিতা, ছেলে, স্বামী, ভাই অথবা যে কোন মাহরাম নেই।
অনেক মহিলা তো কোন মাহরাম ছাড়া শুধু একাই সফর শুরু করে দেয়। তার এ কথা জানা নেই যে, সে গাড়ি বা প্লেনে কার সাথেই বা বসবে। পুরুষের সাথে না মহিলার সাথে। পুরুষের সাথে বসলে সে কি ভালো পুরুষ হবে না খারাপ পুরুষ। মহিলার সাথে বসলে গাড়ি কি ঠিক জায়গায় সময় মতো পৌঁছুবে না কি অসময়ে। পথিমধ্যে হঠাৎ সে কোন বিপদে পড়লে কেউ কি তার সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে সাওয়াবের আশায় না ভোগের আশায়। আরো কত্তো কী।
এ কথা অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে যে, মাহরাম পুরুষটি জ্ঞানসম্পন্ন মুসলিম সাবালক হওয়া চাই। তা না হলে তার মধ্যে আর মহিলার মধ্যে পার্থক্যই বা থাকলো কোথায়?! বরং তখন সে নিজেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। অন্য মহিলার নিরাপত্তার ব্যাপার তো এরপরেই আসছে।