📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 মহিলাদের গুহ্যদ্বার ব্যবহার করা

📄 মহিলাদের গুহ্যদ্বার ব্যবহার করা


কামোত্তেজনা প্রশমনের জন্য স্ত্রীদের মলদ্বার ব্যবহার অথবা মাসিক অবস্থায় তার সাথে সঙ্গম করা আরেকটি মারাত্মক অপরাধ। রাসূল উক্ত কর্মকে ছোট সমকাম বলে আখ্যায়িত করেছেন।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
هِيَ اللُّوْطِيَّةُ الصُّغْرَى ، يَعْنِي الرَّجُلَ يَأْتِي امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا (আহমাদ, হাদীস ৬৭০৬, ৬৯৬৭, ৬৯৬৮ বায়হাক্বী, হাদীস ১৩৯০০)
অর্থাৎ সেটি হচ্ছে ছোট সমকাম। অর্থাৎ পুরুষ নিজ স্ত্রীর মলদ্বার ব্যবহার করা।
হযরত খুযাইমাহ্ বিন্ সা'বিত থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ، لَا تَأْتُوا النِّسَاءَ فِي أَدْبَارِهِنَّ (ইন্নু মাজাহ, হাদীস ১৯৫১ ইব্বু আবী শাইbah, হাদীس ১৬৮১০)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা সত্য বলতে লজ্জাবোধ করেন না। রাসূল উক্ত বাক্যটি তিন বার বলেছেন। অতএব তোমরা মহিলাদের গুহ্যদ্বার ব্যবহার করো না।
আল্লাহ্ তা'আলা মহিলাদের গুহ্যদ্বার ব্যবহারকারীর প্রতি রহমতের দৃষ্টি দিবেন না।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
لَا يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَى رَجُلٍ جَامَعَ امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا (ইন্নু মাজাহ, হাদীস ১৯৫০ ইব্বু আবী শাইbah, হাদীস ১৬৮১১)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা এমন ব্যক্তির প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন না যে নিজ স্ত্রীর গুহ্যদ্বার ব্যবহার করে।
রাসূল মহিলাদের গুহ্যদ্বার ব্যবহারকারীকে কাফির বলে আখ্যায়িত করেছেন।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ أَتَى النِّسَاءَ فِي أَعْجَازِهِنَّ فَقَدْ كَفَرَ (‘আব্দুর রায্যাক, হাদীস ২০৯৫৮)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি মহিলাদের গুহ্যদ্বার ব্যবহার করলো সে যেন কুফরি করলো।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ أَتَى حَائِضاً أَوْ امْرَأَةً فِي دُبُرِهَا أَوْ كَاهِناً فَصَدَّقَهُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّد (তিরমিযী, হাদীস ১৩৫ ইন্ধু আবী শাইbah, হাদীس ১৬৮০৯)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোন ঋতুবতী মহিলার সাথে সহবাস করলো অথবা কোন মহিলার মলদ্বার ব্যবহার করলো অথবা কোন গণককে বিশ্বাস করলো সে যেন মুহাম্মাদ এর উপর অবতীর্ণ বিধানকে অস্বীকার করলো। রাসূল মহিলাদের মলদ্বার ব্যবহারকারীকে লা'নত দিয়েছেন। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَلْعُوْنَ مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا (আবু দাউদ, হাদীস ২১৬২)
অর্থাৎ অভিশপ্ত সে ব্যক্তি যে নিজ স্ত্রীর মলদ্বার ব্যবহার করে।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কোন মহিলাকে তিন তালাকের পর নামে মাত্র বিবাহ করে তালাকের মাধ্যমে অন্যের জন্য হালাল করা অথবা নিজের ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা

📄 কোন মহিলাকে তিন তালাকের পর নামে মাত্র বিবাহ করে তালাকের মাধ্যমে অন্যের জন্য হালাল করা অথবা নিজের ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা


কোন মহিলাকে তিন তালাকের পর নামে মাত্র বিবাহ্ করে তালাকের মাধ্যমে অন্যের জন্য হালাল করে দেয়া অথবা নিজের ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করাও আরেকটি মহাপাপ এবং হারাম কাজ। তাই তো আল্লাহ্ তা'আলা এবং তদীয় রাসূল এ জাতীয় মানুষকে লা'নত ও অভিসম্পাত করেন। হযরত ‘আলী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
لَعَنَ اللَّهُ الْمُحَلَّلَ وَ الْمُحَلَّلَ لَهُ (আবু দাউদ, হাদীস ২০৭৬)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা লা'নত করেন (কোন মহিলাকে তিন তালাকের পর নামে মাত্র বিবাহ করে তালাকের মাধ্যমে অন্যের জন্য) হালালকারীকে এবং যার জন্য তাকে হালাল করা হয়েছে। হযরত জাবির, ‘আলী ও ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাসউদ থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন:
لَعَنَ رَسُوْلُ اللهُ الْمُحَلِّلَ وَ الْمُحَلَّلَ لَهُ (ইবনু মাজাহ, হাদীস ১৯৬১, ১৯৬২ তিরমিযী, হাদীস ১১১৯, ১১২০)
অর্থাৎ আল্লাহ্'র রাসূল লা'নত করেন (কোন মহিলাকে তিন তালাকের পর নামে মাত্র বিবাহ্ করে তালাকের মাধ্যমে অন্যের জন্য) হালালকারীকে এবং যার জন্য তাকে হালাল করা হয়েছে। হযরত ‘উক্ববাহ্ বিন্ ‘আমির থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِالتَّيْسِ الْمُسْتَعَارِ؟ قَالُوا : بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ! قَالَ: هُوَ الْمُحَلِّلُ ، لَعَنَ اللَّهُ الْمُحَلَّلَ وَ الْمُحَلَّلَ لَهُ (ইবনু মাজাহ, হাদীস ১৯৬৩)
অর্থাৎ আমি কি তোমাদেরকে ধার করা পাঁঠার সংবাদ দেবো না? সাহাবারা বললেন: হ্যাঁ বলুন, হে আল্লাহ্'র রাসূল। তখন তিনি বললেন: সে হচ্ছে হালালকারি। আল্লাহ্ তা'আলা লা'نত করেন (কোন মহিলাকে তিন তালাকের পর নামে মাত্র বিবাহ্ করে তালাকের মাধ্যমে অন্যের জন্য) হালালকারিকে এবং যার জন্য তা হালাল করা হয়েছে।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কোন বেগানা পুরুষের সামনে কোন মহিলার খাটো, স্বচ্ছ কিংবা সংকীর্ণ কাপড়-চোপড় পরিধান করা

📄 কোন বেগানা পুরুষের সামনে কোন মহিলার খাটো, স্বচ্ছ কিংবা সংকীর্ণ কাপড়-চোপড় পরিধান করা


কোন বেগানা পুরুষের সামনে কোন মহিলার খাটো, স্বচ্ছ কিংবা সংকীর্ণ কাপড়-চোপড় পরিধান করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্ ও হারাম। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا ، قَوْمٌ مَعَهُمْ سَيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُوْنَ بَهَا النَّاسَ ، وَ نِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ ، مُميلات مائلات ، رُؤُوسُهُنَّ كَأَسْمَة الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ ، لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ ، وَلَا يَجِدْنَ رِيحَهَا ، وَ إِنَّ رِيحَهَا لَيُوْجَدُ مِنْ مَسِيْرَةِ كَذَا وَكَذَا (মুসলিম, হাদীس ২১২৮)
অর্থাৎ দু' জাতীয় মানুষ এমন রয়েছে যারা জাহান্নামী। তবে আমি তাদেরকে এখনো দেখিনি। তাদের মধ্যে এক জাতীয় মানুষ এমন যে, তাদের হাতে থাকবে লাঠি যা দেখতে গাভীর লেজের ন্যায়। এগুলো দিয়ে তারা অযথা মানুষকে প্রহার করবে। তাদের মধ্যে আরেক জাতীয় মানুষ হবে এমন মহিলারা যারা কাপড় পরেও উলঙ্গ। তারা বেগানা পুরুষদেরকে নিজেদের প্রতি আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও তাদের প্রতি আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথা হবে ঝুলে পড়া উটের কুঁজের ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এমনকি উহার সুগন্ধও পাবে না। অথচ উহার সুগন্ধ অনেক অনেক দূর থেকে পাওয়া যায়।
বর্তমান যুগে এমন সংকীর্ণ কাপড়-চোপড় পরা হচ্ছে যে, বলাই মুশকিল, তা সেলাই করে পরা হয়েছে না কি পরে সেলানো হয়েছে। আবার এমন খাটো কাপড়ও পরা হয় যে, বলতে ইচ্ছে হয়: যখন লজ্জার মাথা খেয়ে এতটুকুই খুলে দিলে তখন আর বাকিটাই বা খুলতে অসুবিধে কোথায়? আবার এমন খোলা কাপড়ও পরিধান করা হয় যে, বাতাস তাদের মনের গতি বুঝে তা উড়িয়ে দিয়ে তাদের সবটুকুই মানুষকে দেখিয়ে দেয়। তখনই তাদের লুক্কায়িত প্রদর্শনেচ্ছা সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়। আবার কখনো এমন স্বচ্ছ কাপড় পরিধান করা হয় যে, তা পরেও না পরার মতো। বরং তা পরার পর মানুষ তাদের দিকে যতটুকু তাকায় পুরো কাপড় খুলে চললে ততটুকু তাকাতো না।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কোন পুরুষের বেগানা কোন মহিলার সাথে অথবা কোন মহিলার বেগানা কোন পুরুষের সাথে নির্জনে অবস্থান করা

📄 কোন পুরুষের বেগানা কোন মহিলার সাথে অথবা কোন মহিলার বেগানা কোন পুরুষের সাথে নির্জনে অবস্থান করা


কোন পুরুষের বেগানা কোন মহিলার সাথে অথবা কোন মহিলার বেগানা কোন পুরুষের সাথে নির্জনে অবস্থান করা হারাম। চাই তা কোন ঘরেই হোক অথবা কোন রুমে কিংবা কোন গাড়িতে অথবা লিফ্টে। হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا وَ مَعَهَا ذُوْ مَحْرَمٍ (মুসলিম, হাদীস ১৩৪১)
অর্থাৎ কোন পুরুষ যেন বেগানা কোন মহিলার সঙ্গে নির্জনে অবস্থান না করে সে মহিলার এগানা কোন পুরুষের উপস্থিতি ছাড়া। রাসূল আরো ইরশাদ করেন:
لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةِ إِلَّا كَانَ ثَالَثَهُمَا الشَّيْطَانُ (তিরমিযী, হাদীস ১১৭১)
অর্থাৎ কোন পুরুষ যেন বেগানা কোন মহিলার সঙ্গে নির্জনে অবস্থান না করে। এমন করলে তখন শয়তানই হবে তাদের তৃতীয় জন। হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর বিন্ ‘আস্ব (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا يَدْخُلَنَّ رَجُلٌ بَعْدَ يَوْمِي هَذَا عَلَى مُغِيبَةٍ إِلَّا وَ مَعَهُ رَجُلٌ أَوْ اثْنَانِ (মুসলিম, হাদীس ২১৭৩)
অর্থাৎ আজকের পর কোন পুরুষ যেন এমন মহিলার ঘরে প্রবেশ না করে যার স্বামী তখন উপস্থিত নেই। তবে তার সাথে অন্য এক বা দু'জন পুরুষ থাকলে তখন তারা প্রবেশ করতে পারবে।
অন্য হাদীসে রাসূল এ নিষেধাজ্ঞার কারণও উল্লেখ করেছেন। আর তা হলো শয়তানের প্রবঞ্চনা ও কুমন্ত্রণার ভয়।
হযরত জাবির থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا تَلِجُوْا عَلَى الْمُغِيبَاتِ ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنْ أَحَدِكُمْ مَجْرَى الدَّمِ ، قُلْنَا: وَ مِنْكَ ؟! قَالَ: وَ مِنِّي ، وَ لَكِنَّ اللَّهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ فَأَسْلَمُ (তিরমিযী, হাদীস ১১৭২)
অর্থাৎ তোমরা এমন মহিলার ঘরে প্রবেশ না করে যার স্বামী তখন উপস্থিত নেই। কারণ, শয়তান তোমাদের শিরাউপশিরায় চলাচল করে। সাহাবাগণ বললেন: আমরা বললাম: আপনারো? তিনি বললেন: আমারো। তবে আল্লাহ্ তা'আলা তার ব্যাপারে আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তাই আমি তার অনিষ্ট হতে নিরাপদ অথবা তাই সে এখন আমার অনুগত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00