📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 ব্যভিচারের শাস্তি

📄 ব্যভিচারের শাস্তি


কেউ শয়তানের ধোকায় পড়ে ব্যভিচার করে ফেললে সে যদি অবিবাহিত হয় তা হলে তাকে একশ'টি বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশান্তর করা হবে। আর যদি সে বিবাহিত হয় তা হলে তাকে রজম তথা পাথর মেরে হত্যা করা হবে।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا مِئَةَ جَلْدَةٍ، وَلَا تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي ديْنِ اللَّهِ ، إِنْ كُنتُمْ تُؤْمِنُوْنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِّنَ الْمُؤْمِنِينَ ) (নূর: ২)
অর্থাৎ ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী; তাদের প্রত্যেককে তোমরা একশ' করে বেত্রাঘাত করবে। আল্লাহ্'র বিধান কার্যকরী করণে তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে প্রভাবিত করতে না পারে যদি তোমরা আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাসী হয়ে থাকো এবং মু'মিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ ও হযরত যায়েদ বিন্ খালিদ জুহানী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন:
جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ: يَا رَسُوْلَ اللهِ! اِقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ ، فَقَامَ خَصْمُهُ فَقَالَ: صَدَقَ ، اقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللهِ ، فَقَالَ الْأَعْرَابِيُّ: إِنَّ ابْنِي كَانَ عَسِيْفَا عَلَى هَذَا ، فَزَنَى بِامْرَأَتِهِ ، فَقَالُوْا لِي : عَلَى ابْنِكَ الرَّجْمُ ، فَفَدَيْتُ ابْنِي مِنْهُ بِمِئَةٍ مِنَ الْغَنَمِ وَوَلِيْدَةٍ ، ثُمَّ سَأَلْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ فَقَالُوْا : إِنَّمَا عَلَى ابْنِكَ جَلْدُ مِئَةٍ وَ تَغْرِيْبُ عَامٍ ، فَقَالَ النَّبِيُّ : الأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بكتاب الله ، أَمَّا الْوَلِيْدَةُ وَ الْغَنَمُ فَرَدُّ عَلَيْكَ ، وَعَلَى ابْنِكَ جَلْدُ مِئَةٍ وَ تَعْرِيبُ عَامٍ ، وَ أَمَّا أَنْتَ يَا أُنَيْسُ! فَاغْدُ عَلَى امْرَأَةِ هَذَا فَارْجُمْهَا ، فَغَدَا عَلَيْهَا أُنَيْسٌ فَرَجَمَهَا (বুখারী, হাদীস ২৬৯৫, ২৬৯৬ মুসলিম, হাদীস ১৬৯৭, ১৬৯৮ তিরমিযী, হাদীস ১৪৩৩ আবু দাউদ, হাদীস ৪৪৪৫ ইব্বু মাজাহ, হাদীস ২৫৯৭)
অর্থাৎ জনৈক বেদুঈন ব্যক্তি রাসূল ﷺ এর নিকট এসে বললো: হে আল্লাহ্'র রাসূল! আপনি আমাদের মাঝে কোর'আনের ফায়সালা করুন। তার প্রতিপক্ষও দাঁড়িয়ে বললো: সে সত্য বলেছে। আপনি আমাদের মাঝে কোর'আনের ফায়সালা করুন। তখন বেদুঈন ব্যক্তিটি বললো: আমার ছেলে এ ব্যক্তির নিকট কামলা খাটতো। ইতিমধ্যে সে এর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করে বসে। সবাই আমাকে বললো: তোমার ছেলেটিকে পাথর মেরে হত্যা করতে হবে। তখন আমি আমার ছেলেকে ছাড়িয়ে নেই একে একটি বান্দি ও একশ'টি ছাগল দিয়ে। অতঃপর আলিমদেরকে জিজ্ঞাসা করলে তারা বললো: তোমার ছেলেকে একশ'টি বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশান্তর করতে হবে। এরপর নবী বললেন: আমি তোমাদের মাঝে কোর'আনের বিচার করছি, বান্দি ও ছাগলগুলো তোমাকে ফেরত দেয়া হবে এবং তোমার ছেলেকে একশ'টি বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশান্তর করতে হবে। আর হে উনাইস্! তুমি এর স্ত্রীর নিকট যাও। অতঃপর তাকে রজম করো। অতএব উনাইস্ তার নিকট গেলো। অতঃপর তাকে রজম করলো। হযরত ‘উবাদা বিন্ স্বামিত থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
خُذُوا عَنِّي ، خُذُوا عَنِّي ، فَقَدْ جَعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلاً ، الْبَكْرُ بِالْبَكْرِ جَلْدُ مَنة وَنَفْيُ سَنَةِ، وَ الطَّيِّبُ بالشَّيِّبِ جَلْدُ مِنَةِ وَ الرَّجْمُ (মুসলিম, হাদীস ১৬৯০ আবু দাউদ, হাদীস ৪৪১৫, ৪৪১৬ তিরমিযী, হাদীস ১৪৩৪ ইন্নু মাজাহ, হাদীস ২৫৯৮)
অর্থাৎ তোমরা আমার নিকট থেকে বিধানটি সংগ্রহ করে নাও। তোমরা আমার নিকট থেকে বিধানটি সংগ্রহ করে নাও। আল্লাহ্ তা'আলা তাদের জন্য একটি ব্যবস্থা দিয়েছেন তথা বিধান অবতীর্ণ করেছেন। অবিবাহিত যুবক-যুবতীর শাস্তি হচ্ছে, একশ'টি বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশান্তর। আর বিবাহিত পুরুষ ও মহিলার শাস্তি হচ্ছে, একশ'টি বেত্রাঘাত ও রজম তথা পাথর মেরে হত্যা।
উক্ত হাদীসে বিবাহিত পুরুষ ও মহিলাকে একশ'টি বেত্রাঘাত করার কথা থাকলেও তা করতে হবে না। কারণ, রাসূল হযরত মা'য়িয ও গা'মিদী মহিলাকে একশ'টি করে বেত্রাঘাত করেননি। বরং অন্য হাদীসে তাদেরকে শুধু রজম করারই প্রমাণ পাওয়া যায়।
আরেকটি কথা হচ্ছে, শরীয়তের সাধারণ নিয়ম এই যে, কারোর উপর কয়েকটি দণ্ডবিধি একত্রিত হলে এবং তার মধ্যে হত্যার বিধানও থাকলে তাকে শুধু হত্যাই করা হয়। অন্যগুলো করা হয় না। হযরত ‘উমর ও ‘উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এটির উপরই আমল করেছেন এবং হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাসউদ থেকেও ইহা বর্ণিত হয়েছে। তবে হযরত ‘আলী তাঁর যুগে কোন এক ব্যক্তিকে রজমও করেছেন এবং বেত্রাঘাতও। হযরত ‘আব্দল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্, উবাই বিন্ কা'ব এবং আবু যরও এ মত পোষণ করেন। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
ضَرَبَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَ غَرَّبَ ، وَ ضَرَبَ أَبُو بَكْرٍ ، وَ غَرَّبَ ، وَ ضَرَبَ عُمَرُ ﷺ وَ غَرَّبَ (তিরমিযী, হাদীس ১৪৩৮)
অর্থাৎ রাসূল ﷺ মেরেছেন (বেত্রাঘাত করেছেন) ও দেশান্তর করেছেন, হযরত আবু বকর মেরেছেন ও দেশান্তর করেছেন এবং হযরত ‘উমর মেরেছেন ও দেশান্তর করেছেন। হযরত ‘ইমরان বিন্ ‘হুস্বাইন্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
أَنْتِ النَّبِيَّ امْرَأَةٌ مِنْ جُهَيْنَةَ ، وَ هِيَ حُبْلَى مِنَ الزِّنَا ، فَقَالَتْ: يَا نَبِيَّ الله ! أَصَبْتُ حَدًّا فَأَقِمْهُ عَلَيَّ ، فَدَعَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَلَيْهَا ، فَقَالَ: أَحْسِنْ إِلَيْهَا ، فَإِذَا وَضَعَتْ فَأْتِنِي بِهَا ، فَفَعَلَ ، فَأَمَرَ بِهَا ، فَشَكَتْ عَلَيْهَا ثِيَابُهَا ، ثُمَّ أُمِرَ بِهَا فَرُحِمَتْ ، ثُمَّ صَلَّى عَلَيْهَا ، فَقَالَ عُمَرُ : أَتُصَلِّي عَلَيْهَا يَا نَبِيَّ اللَّهِ! وَ قَدْ زَنَتُ؟! فَقَالَ: لَقَدْ تَابَتْ تَوْبَةً لَوْ قُسْمَتْ بَيْنَ سَبْعِينَ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ لَوَسِعَتْهُمْ ، وَ هَلْ وَجَدْتَ أَفْضَلَ مِنْ أَنْ جَادَتْ بِنَفْسِهَا لِلَّهِ تَعَالَى (মুসলিম, হাদীس ১৬৯৬ আবু দাউদ, হাদীس ৪৪৪০ তিরমিযী, হাদীس ১৪৩৫ ইব্বু মাজাহ, হাদীس ২৬০৩)
অর্থাৎ একদা জনৈকা জুহানী মহিলা রাসূল ﷺ এর নিকট আসলো। তখন সে ব্যভিচার করে গর্ভবতী। সে বললো: হে আল্লাহ্'র নবী! আমি ব্যভিচারের শাস্তি পাওয়ার উপযুক্ত। অতএব আপনি তা আমার উপর প্রয়োগ করুন।
অতঃপর রাসূল ﷺ তার অভিভাবককে ডেকে বললেন: এর উপর একটু দয়া করো। এ যখন সন্তান প্রসব করবে তখন তুমি তাকে আমার নিকট নিয়ে আসবে। লোকটি তাই করলো। অতঃপর রাসূল ﷺ আদেশ করলে তার কাপড় শরীরের সাথে শক্ত করে বেঁধে দেয়া হলো। এরপর তাকে রজম করা হলে রাসূল ﷺ তার জানাযার নামায পড়ান। হযরত ‘উমর রা. রাসূল ﷺ কে আশ্চর্যান্বিতের স্বরে বললেন: আপনি এর জানাযার নামায পড়াচ্ছেন, অথচ সে ব্যভিচারিণী?! রাসূল ﷺ বললেন: সে এমন তাওবা করেছে যা মদীনার সত্তরজনকে বন্টন করে দেয়া হলেও তা তাদের জন্য যথেষ্ট হবে। তুমি এর চাইতেও কি উৎকৃষ্ট কিছু পেয়েছো যে তার জীবন আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য বিলিয়ে দিয়েছে।
হযরত ‘উমর রা. তাঁর এক দীর্ঘ খুতবায় বলেন:
إِنَّ اللَّهَ بَعَثَ مُحَمَّداً بِالْحَقِّ ، وَ أَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ ، فَكَانَ فِيْمَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْهِ آيَةُ الرَّجْمِ ، قَرَأْنَاهَا ، وَ وَعَيْنَاهَا ، وَ عَقَلْنَاهَا ، فَرَجَمَ رَسُوْلُ اللهُ ﷺ ، وَ رَجَمْنَا بَعْدَهُ، فَأَخْشَى إِنْ طَالَ بِالنَّاسِ زَمَانٌ أَنْ يَقُوْلَ قَائِلٌ: مَا نَجِدُ الرَّجْمَ فِي كِتَابِ اللَّهِ ، فَيَضِلُّوْا بِتَرْكَ فَرِيْضَةِ أَنْزَلَهَا اللَّهُ (বুখারী, হাদীস ৬৮২৯ মুসলিম, হাদীস ১৬৯১ আবু দাউদ, হাদীস ৪৪১৮)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা মুহাম্মাদ ﷺ কে সত্য ধর্ম দিয়ে পাঠিয়েছেন এবং তাঁর উপর কোর'আন অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর উপর যা অবতীর্ণ করেছেন তার মধ্যে রজমের আয়াতও ছিলো। আমরা তা পড়েছি, মুখস্থ করেছি ও বুঝেছি। অতঃপর রাসূল ﷺ রজম করেছেন এবং আমরাও তাঁর ইন্তেকালের পর রজম করেছি। আশঙ্কা হয় বহু কাল পর কেউ বলবে: আমরা কোর'আন মাজীদে রজম পাইনি। অতঃপর তারা আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত একটি ফরয কাজ ছেড়ে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। হযরত ‘উমর যে আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন তা হচ্ছে:
الشَّيْخُ وَ الشَّيْحَةُ إِذَا زَنَيَا ، فَارْجُمُوْهُمَا أَلْبَتَّةَ ، نَكَالاً مِّنَ اللَّهِ ، وَ اللَّهُ عَزِيزٌ
অর্থাৎ বয়স্ক (বিবাহিত) পুরুষ ও মহিলা যখন ব্যভিচার করে তখন তোমরা তাদেরকে সন্দেহাতীতভাবে পাথর মেরে হত্যা করবে। এটি হচ্ছে আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে তাদের জন্য শাস্তিস্বরূপ এবং আল্লাহ্ তা'আলা পরাক্রমশালী ও সুকৌশলী।
উক্ত আয়াতটির তিলাওয়াত রহিত হয়েছে। তবে উহার বিধান এখনও চালু। কোন অবিবাহিত ব্যভিচারী কিংবা ব্যভিচারিণী যদি এমন অসুস্থ অথবা দুর্বল হয় যে, তাকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে একশ'টি বেত্রাঘাত করা হলে তার মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে তা হলে তাকে একশ'টি বেত একত্র করে একবার প্রহার করা হবে।
হযরত সা'ঈদ্ বিন্ সা'দ বিন্ ‘উবা'দাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
كَانَ فِي أَبْيَاتِنَا رُوَيْجِلٌ ضَعِيفٌ ، فَخَبُثَ بِأَمَةٍ مِنْ إِمَائِهِمْ ، فَذَكَرَ ذَلِكَ سَعِيدٌ لِرَسُوْلِ اللهِ ، فَقَالَ: اضْرِبُوهُ حَدَّهُ ، فَقَالُوْا : يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّهُ أَضْعَفُ مِنْ ذَلِكَ ، فَقَالَ: خُذُوا عِثْكَالاً فِيْهِ مِئَةُ شِمْرَارٍ ، ثُمَّ اضْرِبُوهُ بِهِ ضَرْبَةً وَاحِدَةً ، فَفَعَلُوْا (আহমাদ ৫/২২২ ইন্নু মাজাহ, হাদীس ২৬২২)
অর্থাৎ আমাদের এলাকায় জনৈক দুর্বল ব্যক্তি বসবাস করতো। হঠাৎ সে জনৈকা বান্দির সাথে ব্যভিচার করে বসে। ব্যাপারটি সা'ঈদ্ রাসূল কে জানালে তিনি বললেন: তাকে তার প্রাপ্য শাস্তি দিয়ে দাও তথা একশ'টি বেত্রাঘাত করো। উপস্থিত সকলে বললো: হে আল্লাহ্'র রাসূল! সে তো তা সহ্য করতে পারবে না। তখন রাসূল বললেন: একটি খেজুর বিহীন একশ'টি শাখাগুচ্ছ বিশিষ্ট থোকা নিয়ে তাকে তা দিয়ে এক বার মারবে। অতএব তারা তাই করলো। অমুসলমানকেও ইসলামী বিচারাধীন রজম করা যেতে পারে।
হযরত জা'বির বিন্ ‘আব্দুল্লাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
رَجَمَ النَّبِيُّ رَجُلاً مِنْ أَسْلَمَ ، وَ رَجُلاً مِنَ الْيَهُودِ وَ امْرَأَةً (মুসলিম, হাদীস ১৭০১)
অর্থাৎ নবী আল্লাম বংশের একজন পুরুষকে এবং একজন ইহুদি পুরুষ ও একজন মহিলাকে রজম করেন। ব্যভিচারের কারণে কোন সন্তান জন্ম নিলে এবং ভাগ্যক্রমে সে জীবনে বেঁচে থাকলে তার মায়ের সন্তান রূপেই সে পরিচয় লাভ করবে। বাপের নয়। কারণ, তার কোন বৈধ বাপ নেই। অতএব ব্যভিচারীর পক্ষ থেকে সে কোন মিরাস পাবে না।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ ও হযরত ‘আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَ لِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ (বুখারী, হাদীস ২০৫৩, ২২১৮, ৬৮১৮ মুসলিম, হাদীس ১৪৫৭, ১৪৫৮ ইন্নু হিব্বান, হাদীس ৪১০৪ হাকিম, হাদীس ৬৬৫১ তিরমিযী, হাদীস ১১৫৭ বায়হাক্বী, হাদীস ১৫১০৬ আবু দাউদ, হাদীস ২২৭৩ ইব্বু মাজাহ, হাদীস ২০৩৫, ২০৩৭ আহমাদ, হাদীس ৪১৬, ৪১৭)
অর্থাৎ সন্তান মহিলারই এবং ব্যভিচারীর জন্য শুধু পাথর তথা রজম। হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর (রাزियल্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ عَاهَرَ أَمَةً أَوْ حُرَّةً فَوَلَدُهُ وَلَدُ زِنَا ، لَا يَرِثُ وَ لَا يُوْرَثُ (ইবনু মাজাহ, হাদীس ২৭৯৪)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোন বান্দি অথবা স্বাধীন মহিলার সঙ্গে ব্যভিচার করলো তার সন্তান হবে ব্যভিচারের সন্তান। সে মিরাস পাবে না এবং তার মিরাসও কেউ পাবে না।
যে কোন ঈমানদার পবিত্র পুরুষের জন্য কোন ব্যভিচারিণী মেয়েকে বিবাহ করা হারাম। তেমনিভাবে যে কোন ঈমানদার সতী মেয়ের জন্যও কোন ব্যভিচারী পুরুষকে বিবাহ করা হারাম। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
الزَّانِي لَا يَنْكِحُ إِلَّا زَانِيَةً أَوْ مُشْرِكَةً ، وَ الزَّانِيَةُ لَا يَنْكِحُهَا إِلَّا زَانِ أَوْ مُشْرِكٌ ، وَ حُرِّمَ ذَلِكَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ ) (নূর: ৩)
অর্থাৎ একজন ব্যভিচারী পুরুষ আরেকজন ব্যভিচারিণী অথবা মুশরিক্কা মেয়েকেই বিবাহ করে এবং একজন ব্যভিচারিণী মেয়েকে আরেকজন ব্যভিচারী পুরুষ অথবা মুশরিকই বিবাহ করে। মু'মিনদের জন্য তা করা হারাম।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 দণ্ডবিধি সংক্রান্ত কিছু কথা

📄 দণ্ডবিধি সংক্রান্ত কিছু কথা


কাউকে লুক্কায়িতভাবে ব্যভিচার কিংবা যে কোন হারাম কাজ করতে দেখলে তা তড়িঘড়ি বিচারককে না জানিয়ে তাকে ব্যক্তিগতভাবে নসীহত করা ও পরকালে আল্লাহ্ তা'আলার কঠিন শাস্তির ভয় দেখানো উচিত। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَ الْآخِرَةِ (তিরমিযী, হাদীس ১৪২৫ ইবনু মাজাহ, হাদীস ২৫৯২)
অর্থাৎ কোন মুসলমানের দোষ লুকিয়ে রাখলে আল্লাহ্ তা'আলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষও লুকিয়ে রাখবেন।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 দণ্ডবিধি প্রয়োগের সময় চেহারার প্রতি লক্ষ্য রাখবে

📄 দণ্ডবিধি প্রয়োগের সময় চেহারার প্রতি লক্ষ্য রাখবে


কারোর উপর শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত কোন দণ্ডবিধি প্রয়োগ করার সময় তার চেহারার প্রতি অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে তা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ক্ষত-বিক্ষত না হয়ে যায়।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِذَا ضَرَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَتَّقِ الْوَجْهَ (বুখারী, হাদীস ৫৫৯ মুসলিম, হাদীস ২৬১২ আবু দাউদ, হাদীস ৪৪৯৩)
অর্থাৎ কেউ কাউকে (দণ্ডবিধি প্রয়োগের ক্ষেত্রে) মারলে তার চেহারার প্রতি অবশ্যই লক্ষ্য রাখবে যাতে তা আঘাতপ্রাপ্ত না হয়।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কোন দণ্ডবিধি মসজিদে প্রয়োগ করা যাবে না

📄 কোন দণ্ডবিধি মসজিদে প্রয়োগ করা যাবে না


হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا تُقَامُ الْحُدُوْدُ فِي الْمَسَاجِدِ (ইবনু মাজাহ, হাদীس ২৬৪৮)
অর্থাৎ মসজিদে কোন দণ্ডবিধি কায়েম করা যাবে না।
হযরত ‘হাকীম বিন্ ‘হিযাম থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
نَهَى رَسُولُ اللَّهِ أَنْ يُسْتَقَادَ فِي الْمَسْجِدِ ، وَ أَنْ تُنْشَدَ فِيْهِ الْأَشْعَارُ ، وَ أَنْ تُقَامَ فِيْهِ الْحُدُوْدُ (আবু দাউদ, হাদীس ৪৪৯০)
অর্থাৎ রাসূল মসজিদে কারোর থেকে প্রতিশোধ নিতে, কবিতা আবৃত্তি করতে ও দণ্ডবিধি কায়েম করতে নিষেধ করেছেন।
দুনিয়াতে কারোর উপর শরীয়তের কোন দণ্ডবিধি কায়েম করা হলে তা তার জন্য কাফ্ফারা হয়ে যায় তথা তার অপরাধটি ক্ষমা করে দেয়া হয়। পরকালে এ জন্য তাকে কোন শাস্তি দেয়া হবে না।
হযরত ‘উবা'দাহ্ বিন্ স্বা'মিত থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ أَصَابَ مِنْكُمْ حَدًّا ، فَعُجَلَتْ لَهُ عُقُوبَتُهُ ، فَهُوَ كَفَّارَتُهُ ، وَ إِلَّا فَأَمْرُهُ إِلَى الله، إِنْ شَاءَ عَذْبَهُ ، وَ إِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُ (তিরমিযী, হাদীস ১৪৩৯ ইন্নু মাজাহ, হাদীস ২৬৫২)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি (শয়তানের ধোকায় পড়ে) এমন কোন হারাম কাজ করে ফেলেছে যাতে শরীয়তের নির্দিষ্ট কোন দণ্ডবিধি রয়েছে। অতঃপর তাকে দুনিয়াতেই সে দণ্ড দেয়া হয়েছে। তখন তা তার জন্য কাফ্ফারা হয়ে যাবে। আর যদি তা তার উপর প্রয়োগ না করা হয় তা হলে সে ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলাই ভালো জানেন। চায়তো আল্লাহ্ তা'আলা তাকে পরকালে শাস্তি দিবেন নয়তো বা ক্ষমা করে দিবেন।
কোন এলাকায় ইসলামের যে কোন দণ্ডবিধি একবার প্রয়োগ করা সে এলাকায় চল্লিশ দিন যাবৎ বারি বর্ষণ থেকেও অনেক উত্তম।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
حَدٌ يُعْمَلُ بِهِ فِي الْأَرْضِ خَيْرٌ لأَهْلِ الْأَرْضِ مِنْ أَنْ يُمْطَرُوا أَرْبَعِيْنَ صَبَاحًا (ইন্নু মাজাহ, হাদীস ২৫৮৬)
অর্থাৎ বিশ্বের বুকে ধর্মীয় কোন দণ্ডবিধি প্রয়োগ করা বিশ্ববাসীদের জন্য অনেক উত্তম চল্লিশ দিন লাগাতার বারি বর্ষণ থেকেও।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00