📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 যে যে কারণে অপবাদকারীকে বেত্রাঘাত করতে হয় না

📄 যে যে কারণে অপবাদকারীকে বেত্রাঘাত করতে হয় না


সর্বমোট চারটি কারণের যে কোন একটি কারণ পাওয়া গেলে অপবাদকারীকে আর বেত্রাঘাত করতে হয় না। যা নিম্নরূপ:
১. যাকে অপবাদ দেয়া হলো সে অপবাদকারীকে ক্ষমা করে দিলে।
২. যাকে অপবাদ দেয়া হয়েছে সে অপবাদকারীর অপবাদকে স্বীকার করলে।
৩. অপবাদকারী অপবাদের সত্যতার ব্যাপারে কোন প্রমাণ দাঁড় করালে।
৪. পুরুষ নিজ স্ত্রীকে অপবাদ দিয়ে নিজকে লা'নত করতে রাজি হলে। বিধানগতভাবে কাউকে অপবাদ দেয়া তিন প্রকার:
১. হারাম। অপবাদটি একেবারে মিথ্যে অথবা বানোয়াট হলে।
২. ওয়াজিব। কেউ নিজ স্ত্রীকে ঋতুমুক্তা তথা পবিত্রাবস্থায় কারোর সাথে ব্যভিচার করতে দেখলে। অথচ সে ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পর তার স্ত্রীর সাথে একবারও সহবাস করেনি এবং উক্ত ব্যভিচার থেকে সন্তানও জন্ম নিয়েছে।
৩. জায়িয। কেউ নিজ স্ত্রীকে কারোর সাথে ব্যভিচার করতে দেখলে। অথচ উক্ত ব্যভিচার থেকে কোন সন্তান জন্ম নেয়নি। এমতাবস্থায় সে নিজ স্ত্রীকে ব্যভিচারের অপবাদ দিতে পারে অথবা তাকে অপবাদ না দিয়ে এমনিতেই তালাক্ব দিয়ে দিতে পারে। এমতাবস্থায় তালাক্ব দেয়াই সর্বোত্তম। কারণ, অপবাদ দিলে তার স্ত্রী অপবাদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মিথ্যা কসম খাবে অথবা অপবাদ স্বীকার করে অপমানিতা হবে। আর এমনিতেই তালাক্ব দিয়ে দিলে এসবের কোন ঝামেলাই থাকবে না।
কেউ কাউকে তার স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করেছে বলে অপবাদ দিলে এ ব্যাপারে তাকে চার জন সাক্ষী উপস্থিত করতে হবে অথবা সে নিজকে লা'নত করবে। তা না হলে তার স্ত্রী এবং যাকে তার সাথে ব্যভিচারের অপবাদ দেয়া হয়েছে তারা প্রত্যেকেই উক্ত অপবাদের বিচার চাওয়ার অধিকার রাখবে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: হিলাল বিন্ উমাইয়াহ্ শারীক বিন্ সা'হমা' কে তার স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করেছে বলে অপবাদ দিলে রাসূল তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন:
الْبَيِّنَةُ أَوْ حَدٌ فِي ظَهْرِكَ (বুখারী, হাদীস ২৬৭১)
অর্থাৎ সাক্ষী-প্রমাণ দিবে। নতুবা তোমার পিঠে বেত্রাঘাত করা হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00