📄 উচ্চ স্বরে কুর'আন তিলাওয়াত করে অথবা যে কোন কথা বলে মসজিদের কোন মুসল্লিকে কষ্ট দেয়া
উচ্চ স্বরে কুর'আন তিলাওয়াত করে অথবা যে কোন কথা বলে মসজিদের কোন মুসল্লিকে কষ্ট দেয়া হারাম কাজ।
হযরত আবু সা'ঈদ খুদ্রী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল একদা মসজিদে ই'তিকাফ করলে সাহাবাদের উচ্চ কিরাত শুনতে পান। তখন তিনি পর্দা উঠিয়ে বলেন:
أَلَا إِنَّ كُلَّكُمْ مُنَاجِ رَبَّهُ، فَلَا يُؤْذِيَنَّ بَعْضُكُمْ بَعْضًا، وَلَا يَرْفَعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ فِي الْقِرَاءَةِ أَوْ قَالَ: فِي الصَّلَاةِ (আবু দাউদ, হাদীস ১৩৩২)
অর্থাৎ জেনে রাখো, তোমাদের প্রত্যেকেই তার প্রভুর সাথে একান্তে আলাপ করে। সুতরাং তোমাদের কেউ যেন এ সময় অন্যকে কষ্ট না দেয় এবং নামাযের ভেতরে বা বাইরে উচ্চ স্বরে কিরাত না পড়ে।
উচ্চ স্বরে কিরাত পড়ার চাইতে নিচু স্বরে কিরাত পড়ায় সাওয়াব বেশি। হযরত ‘উক্ববাহ্ বিন্ ‘আমির থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الْجَاهِرُ بِالْقُرْآن كَالْجَاهِرِ بِالصَّدَقَةِ ، وَ الْمُسِرُّ بِالْقُرْآنِ كَالْمُسِرَّ بِالصَّدَقَةِ (আবু দাউদ, হাদীস ১৩৩৩)
অর্থাৎ উচ্চ স্বরে কুর'আন পড়া প্রকাশ্য সাদাকার ন্যায়। আর নিচু স্বরে কুর'আন পড়া লুক্কায়িত সাদাকার ন্যায়।
তবে উচ্চ স্বরে কুর'আন পড়ায় কারোর কোন ক্ষতি না হয়ে যদি লাভ হয় তা হলে তাতে কোন অসুবিধে নেই।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল একদা রাত্রি বেলায় ঘর থেকে বের হয়ে দেখলেন হযরত আবু বকর নিচু স্বরে নামায পড়ছেন আর হযরত ‘উমর উচ্চ স্বরে। যখন তাঁরা উভয় রাসূল এর নিকট একত্রিত হলেন তখন তিনি বললেন: হে আবু বকর! আমি একদা তোমাকে নিচু স্বরে নামায পড়তে দেখলাম। তখন হযরত আবু বকর বললেন: হে আল্লাহ্'র রাসূল! আমি যাঁর সাথে একান্তে আলাপ করছিলাম তিনি তো আমার আওয়ায শুনেছেন। অতঃপর রাসূল হযরত ‘উমর কে উদ্দেশ্য করে বললেন: হে ‘উমর! আমি একদা তোমাকে উচ্চ স্বরে নামায পড়তে দেখলাম। তখন হযরত ‘উমর বললেন: হে আল্লাহ্'র রাসূল! আমি শয়তানকে তাড়াচ্ছিলাম আর ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগাচ্ছিলাম। রাসূল আরো দেখলেন হযরত বিলাল এক সূরা থেকে কিছু আয়াত আবার অন্য সূরা থেকে আরো কিছু আয়াত তিলাওয়াত করছেন। তখন তিনি হযরত বিলাল কে একদা এ ব্যাপারে জানালে তিনি বলেন: কথাগুলো খুবই সুন্দর! আল্লাহ্ তা'আলা সবগুলো একত্রিত করে নিবেন। তখন রাসূল সবাইকে বললেন: তোমরা সবাই ঠিক করেছো। (আবু দাউদ, হাদীস ১৩৩০)
হযরত ‘আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা জনৈক সাহাবী রাত্রি বেলার নামাযে উচ্চ স্বরে কিরাত পড়েছেন। ভোর হলে রাসূল তাঁর সম্পর্কে বললেন: আল্লাহ্ তা'আলা অমুককে দয়া করুন! সে গতরাত আমাকে অনেকগুলো আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যা আমার পড়া থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিলো। (আবু দাউد, হাদীস ১৩৩১)