📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কোন দুনিয়ার স্বার্থের জন্য প্রশাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা

📄 কোন দুনিয়ার স্বার্থের জন্য প্রশাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা


কোন দুনিয়ার স্বার্থের জন্য প্রশাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَ لَا يُزَكِّيهِمْ وَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيْمٌ : رَجُلٌ عَلَى فَضْلِ مَاءِ بِالطَّرِيقِ يَمْنَعُ مِنْهُ ابْنَ السَّبِيلِ ، وَ رَجُلٌ بَايَعَ إِمَامًا لَا يُبَايِعُهُ إِلَّا لِدُنْيَاهُ ، إِنْ أَعْطَاهُ مَا يُرِيدُ وَفَّى لَهُ وَ إِلَّا لَمْ يَفِ لَهُ ، وَ رَجُلٌ يُبَايِعُ رَجُلاً بِسِلْعَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ ، فَخَلَفَ بِاللَّهِ لَقَدْ أُعْطِيَ بِهَا كَذَا وَ كَذَا ، فَصَدَّقَهُ ، فَأَخَذَهَا وَ لَمْ يُعْطَ بِهَا (বুখারী, হাদীস ৭২১২ নাসায়ী, হাদীস ৪৪৬৪)
অর্থাৎ তিন জন মানুষের সাথে আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাদেরকে গুনাহ্ থেকে পবিত্র করবে না বরং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি: পথিমধ্যে অবস্থিত জনৈক ব্যক্তি যার নিকট তার প্রয়োজনাতিরিক্ত পানি রয়েছে; অথচ সে পথচারীকে তা পান করতে বাধা দিচ্ছে। জনৈক ব্যক্তি যে তার প্রশাসককে মেনে নিয়েছে দুনিয়ার জন্য। তার উদ্দেশ্য হাসিল হলে তাকে সে মেনে নেয় নতুবা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। জনৈক ব্যক্তি যে আসরের নামাযের পর পণ্য বিক্রি করার সময় এমন কসম খায় যে, তার উক্ত পণ্যের মূল্য এতো পর্যন্ত উঠেছে। তখন ক্রেতা তা বিশ্বাস করে তার উক্ত পণ্য কিনে নিয়েছে; অথচ তার উক্ত পণ্যের মূল্য এতটুকু পর্যন্ত উঠেনি।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 বিচারকের মাধ্যমে কারোর নিকট এমন কিছু দাবি করা যা আপনার নয়

📄 বিচারকের মাধ্যমে কারোর নিকট এমন কিছু দাবি করা যা আপনার নয়


বিচারকের মাধ্যমে কারোর নিকট এমন কিছু দাবি করা যা আপনার নয় হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত আবু যর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنِ ادَّعَى مَا لَيْسَ لَهُ فَلَيْسَ مِنَّا ، وَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ (মুসলিম, হাদীস ৬১)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি কারোর নিকট এমন কিছু দাবি করলো যা তার নয় তা হলে সে আমার উম্মত নয় এবং সে যেন নিজ ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয়।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 উচ্চ স্বরে কুর'আন তিলাওয়াত করে অথবা যে কোন কথা বলে মসজিদের কোন মুসল্লিকে কষ্ট দেয়া

📄 উচ্চ স্বরে কুর'আন তিলাওয়াত করে অথবা যে কোন কথা বলে মসজিদের কোন মুসল্লিকে কষ্ট দেয়া


উচ্চ স্বরে কুর'আন তিলাওয়াত করে অথবা যে কোন কথা বলে মসজিদের কোন মুসল্লিকে কষ্ট দেয়া হারাম কাজ।
হযরত আবু সা'ঈদ খুদ্রী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল একদা মসজিদে ই'তিকাফ করলে সাহাবাদের উচ্চ কিরাত শুনতে পান। তখন তিনি পর্দা উঠিয়ে বলেন:
أَلَا إِنَّ كُلَّكُمْ مُنَاجِ رَبَّهُ، فَلَا يُؤْذِيَنَّ بَعْضُكُمْ بَعْضًا، وَلَا يَرْفَعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ فِي الْقِرَاءَةِ أَوْ قَالَ: فِي الصَّلَاةِ (আবু দাউদ, হাদীস ১৩৩২)
অর্থাৎ জেনে রাখো, তোমাদের প্রত্যেকেই তার প্রভুর সাথে একান্তে আলাপ করে। সুতরাং তোমাদের কেউ যেন এ সময় অন্যকে কষ্ট না দেয় এবং নামাযের ভেতরে বা বাইরে উচ্চ স্বরে কিরাত না পড়ে।
উচ্চ স্বরে কিরাত পড়ার চাইতে নিচু স্বরে কিরাত পড়ায় সাওয়াব বেশি। হযরত ‘উক্ববাহ্ বিন্ ‘আমির থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الْجَاهِرُ بِالْقُرْآن كَالْجَاهِرِ بِالصَّدَقَةِ ، وَ الْمُسِرُّ بِالْقُرْآنِ كَالْمُسِرَّ بِالصَّدَقَةِ (আবু দাউদ, হাদীস ১৩৩৩)
অর্থাৎ উচ্চ স্বরে কুর'আন পড়া প্রকাশ্য সাদাকার ন্যায়। আর নিচু স্বরে কুর'আন পড়া লুক্কায়িত সাদাকার ন্যায়।
তবে উচ্চ স্বরে কুর'আন পড়ায় কারোর কোন ক্ষতি না হয়ে যদি লাভ হয় তা হলে তাতে কোন অসুবিধে নেই।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল একদা রাত্রি বেলায় ঘর থেকে বের হয়ে দেখলেন হযরত আবু বকর নিচু স্বরে নামায পড়ছেন আর হযরত ‘উমর উচ্চ স্বরে। যখন তাঁরা উভয় রাসূল এর নিকট একত্রিত হলেন তখন তিনি বললেন: হে আবু বকর! আমি একদা তোমাকে নিচু স্বরে নামায পড়তে দেখলাম। তখন হযরত আবু বকর বললেন: হে আল্লাহ্'র রাসূল! আমি যাঁর সাথে একান্তে আলাপ করছিলাম তিনি তো আমার আওয়ায শুনেছেন। অতঃপর রাসূল হযরত ‘উমর কে উদ্দেশ্য করে বললেন: হে ‘উমর! আমি একদা তোমাকে উচ্চ স্বরে নামায পড়তে দেখলাম। তখন হযরত ‘উমর বললেন: হে আল্লাহ্'র রাসূল! আমি শয়তানকে তাড়াচ্ছিলাম আর ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগাচ্ছিলাম। রাসূল আরো দেখলেন হযরত বিলাল এক সূরা থেকে কিছু আয়াত আবার অন্য সূরা থেকে আরো কিছু আয়াত তিলাওয়াত করছেন। তখন তিনি হযরত বিলাল কে একদা এ ব্যাপারে জানালে তিনি বলেন: কথাগুলো খুবই সুন্দর! আল্লাহ্ তা'আলা সবগুলো একত্রিত করে নিবেন। তখন রাসূল সবাইকে বললেন: তোমরা সবাই ঠিক করেছো। (আবু দাউদ, হাদীস ১৩৩০)
হযরত ‘আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা জনৈক সাহাবী রাত্রি বেলার নামাযে উচ্চ স্বরে কিরাত পড়েছেন। ভোর হলে রাসূল তাঁর সম্পর্কে বললেন: আল্লাহ্ তা'আলা অমুককে দয়া করুন! সে গতরাত আমাকে অনেকগুলো আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যা আমার পড়া থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিলো। (আবু দাউد, হাদীস ১৩৩১)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00