📄 কোন নামাযীর সামনে দিয়ে চলা
কোন নামাযীর সামনে দিয়ে চলা হারাম।
হযরত আবু সা'ঈদ খুদ্রী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ يُصَلِّي فَلَا يَدَعْ أَحَدًا يَمُرُّ بَيْنَ يَدَيْهِ ، وَ لْيَدْرَأَهُ مَا اسْتَطَاعَ ، فَإِنْ أَبَى فَلْيُقَاتِلْهُ ، فَإِنَّمَا هُوَ شَيْطَانٌ (মুসলিম, হাদীস ৫০৫)
অর্থাৎ যখন তোমাদের কেউ নামায পড়ে তখন সে যেন কাউকে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে না দেয়। বরং কেউ তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে চাইলে তাকে সাধ্য মতো বাধা দিবে। যদি তাতেও কোন ফায়েদা না হয় তা হলে তার সাথে প্রয়োজনে লড়াই করবে। কারণ, সে তো শয়তান।
কোন নামাযীর সামনে দিয়ে হাঁটা কতো যে মারাত্মক তা অনুমান করা যায় রাসূল নিম্নোক্ত বাণী থেকে।
হযরত আবু জুহাইম থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَوْ يَعْلَمُ الْمَارُّ بَيْنَ يَدَيِ الْمُصَلِّي مَاذَا عَلَيْهِ ، لَكَانَ أَنْ يُقِفَ أَرْبَعِيْنَ خَيْرًا لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ قَالَ أَبُو النَّضْرِ : لَا أَدْرِي قَالَ: أَرْبَعِينَ يَوْمًا أَوْ شَهْرًا أَوْ سَنَةً (মুসলিম, হাদীস ৫০৭)
অর্থাৎ যদি নামাযীর সামনে দিয়ে হাঁটা ব্যক্তি জানতে পারতো তার কতটুকু গুনাহ্ হচ্ছে তা হলে তার জন্য চল্লিশ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম বলে বিবেচিত হতো নামাযীর সামনে দিয়ে হাঁটার চাইতে। হাদীস বর্ণনাকারী আবুন্ নাযর বলেন: আমি সঠিকভাবে জানি না চল্লিশ দিন না কি মাস না কি বছর।
📄 তাকে দেখে অন্য লোক তার সম্মানে দাঁড়িয়ে যাক তা পছন্দ করা
তাকে দেখে অন্য লোক তার সম্মানে দাঁড়িয়ে যাক তা পছন্দ করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত মু'আবিয়া থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَتَمَثَّلَ لَهُ النَّاسُ قِيَامًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ (বুখারী/আদাবুল মুফ্রাদ, হাদীস ৯৭৭ আবু দাউদ, হাদীস ৫২২৯ তিরমিযী ২/১২৫ আহমাদ ৪/৯৩, ১০০ ত্বাহাবী/মুশ্কিলুল্ আসার ২/৪০)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, মানুষ তাকে দেখলেই তার সম্মানে দাঁড়িয়ে যাক তা হলে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়। রাসূল সাহাবাদের নিকট এতো প্রিয় পাত্র ছিলেন তবুও তাঁরা তাঁর সম্মানে দাঁড়াতেন না।
হযরত আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَا كَانَ فِي الدُّنْيَا شَخصٌ أَحَبَّ إِلَيْهِمْ رُؤْيَةً مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ، وَ كَانُوا إِذَا رَأَوْهُ لَمْ يَقُوْمُوْا لَهُ ، لِمَا كَانُوا يَعْلَمُوْنَ مِنْ كِرَاهِيَتِهِ لِذَلِكَ (বুখারী/আদাবুল মুফ্রাদ, হাদীস ৯৪৬ তিরমিযী ২/১২৫ আহমাদ ৩/১৩২ ত্বাহাবী/মুশ্কিলুল্ আসার ২/৩৯ ইব্বু আবী শায়বাহ ৮/৫৮৬ বায়হাক্বী/শু'আবুল ঈমান ৬/৪৬৯/৮৯৩৬)
অর্থাৎ দুনিয়াতে সাহাবাদের নিকট রাসূল এর চাইতে আরো বেশি ভালোবাসার পাত্র আর কেউ ছিলেন না। যাঁকে দেখতে তাঁরা ছিলেন লালায়িত। তবুও তাঁরা যখন রাসূল কে দেখতেন তাঁর সম্মানে কেউ দাঁড়াতেন না। কারণ, তাঁরা জানতো রাসূল এমনটি পছন্দ করেন না।
📄 কারোর অনুমতি ছাড়া তার ঘরে উঁকি মারা
কারোর অনুমতি ছাড়া তার ঘরে উঁকি মারা কবীরা গুনাহ্ ও হারাম। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنِ اطَّلَعَ فِي بَيْتِ قَوْمٍ بِغَيْرِ إِذْنِهِمْ فَقَدْ حَلَّ لَهُمْ أَنْ يَفْقَوُوْا عَيْنَهُ (মুসলিম, হাদীس ২১৫৮)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি কারোর ঘরে উঁকি মারলো তাদের অনুমতি ছাড়া তার চোখটি গুঁটিয়ে দেয়া হালাল।
হযরত সাহল বিন্ সা'দ সা'য়িদী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি একদা রাসূল এর দরোজার ফাঁক দিয়ে তাঁর ঘরে উঁকি মারছিলো। তখন রাসূল এর হাতে ছিলো একটি শলা যা দিয়ে তিনি নিজ মাথা খানি চুলকাচ্ছিলেন। যখন রাসূল তাঁর উঁকি মারার ব্যাপারটা টের পেয়ে গেলেন তখন তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন:
لَوْ أَعْلَمُ أَنَّكَ تَنْظُرُنِي لَطَعَنْتُ بِهِ فِي عَيْنِكَ ، إِنَّمَا جُعِلَ الْإِذْنُ مِنْ أَجْلِ الْبَصَرِ (মুসলিম, হাদীس ২১৫৬)
অর্থাৎ যদি আমি ইতিপূর্বে জানতে পারতাম, তুমি আমাকে দরোজার ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে দেখছো তা হলে আমি এ শলা দিয়ে তোমার চোখে আঘাত করতাম। আরে কারোর ঘরে ঢুকার পূর্বে তার অনুমতি নেয়ার ব্যাপারটি তো শরীয়তে রাখা হয়েছে একমাত্র অনাকাঙ্ক্ষিত কোন জায়গায় কারোর চোখ পড়বে বলেই তো।
বর্তমান যুগে মানুষের ঘর-বাড়িগুলো একটার সাথে অন্যটা লাগোয়া এবং ঘরের দরোজা-জানালাগুলো পরস্পর মুখোমুখী হওয়ার দরুন একের পক্ষে অন্যের ঘরে উঁকি দেয়া খুবই সহজ। অতএব এ পরিস্থিতিতে আল্লাহ্ তা'আলার ভয় প্রত্যেকের অন্তরে জাগিয়ে তুলতে হবে। তা হলেই এ গুনাহ্ থেকে সকলের বেঁচে থাকা সম্ভব হবে। অন্যথায় নয়। উপরন্তু এতে করে অন্য মুসলমান ভাইয়ের সম্মানহানি এবং প্রতিবেশীর অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়।
📄 কোন দুনিয়ার স্বার্থের জন্য প্রশাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা
কোন দুনিয়ার স্বার্থের জন্য প্রশাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَ لَا يُزَكِّيهِمْ وَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيْمٌ : رَجُلٌ عَلَى فَضْلِ مَاءِ بِالطَّرِيقِ يَمْنَعُ مِنْهُ ابْنَ السَّبِيلِ ، وَ رَجُلٌ بَايَعَ إِمَامًا لَا يُبَايِعُهُ إِلَّا لِدُنْيَاهُ ، إِنْ أَعْطَاهُ مَا يُرِيدُ وَفَّى لَهُ وَ إِلَّا لَمْ يَفِ لَهُ ، وَ رَجُلٌ يُبَايِعُ رَجُلاً بِسِلْعَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ ، فَخَلَفَ بِاللَّهِ لَقَدْ أُعْطِيَ بِهَا كَذَا وَ كَذَا ، فَصَدَّقَهُ ، فَأَخَذَهَا وَ لَمْ يُعْطَ بِهَا (বুখারী, হাদীস ৭২১২ নাসায়ী, হাদীস ৪৪৬৪)
অর্থাৎ তিন জন মানুষের সাথে আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাদেরকে গুনাহ্ থেকে পবিত্র করবে না বরং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি: পথিমধ্যে অবস্থিত জনৈক ব্যক্তি যার নিকট তার প্রয়োজনাতিরিক্ত পানি রয়েছে; অথচ সে পথচারীকে তা পান করতে বাধা দিচ্ছে। জনৈক ব্যক্তি যে তার প্রশাসককে মেনে নিয়েছে দুনিয়ার জন্য। তার উদ্দেশ্য হাসিল হলে তাকে সে মেনে নেয় নতুবা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। জনৈক ব্যক্তি যে আসরের নামাযের পর পণ্য বিক্রি করার সময় এমন কসম খায় যে, তার উক্ত পণ্যের মূল্য এতো পর্যন্ত উঠেছে। তখন ক্রেতা তা বিশ্বাস করে তার উক্ত পণ্য কিনে নিয়েছে; অথচ তার উক্ত পণ্যের মূল্য এতটুকু পর্যন্ত উঠেনি।