📄 কোন স্বাধীন পুরুষকে বিক্রি করে তার মূল্য খাওয়া
কোন স্বাধীন পুরুষকে বিক্রি করে তার মূল্য খাওয়া হারাম ও কবীরা গুনাহ্। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى : ثَلَاثَةٌ أَنَا خَصْمُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ : رَجُلٌ أَعْطَى بِيْ ثُمَّ غَدَرَ ، وَرَجُلٌ بَاعَ حُرًّا فَأَكَلَ ثَمَنَهُ ، وَ رَجُلٌ اسْتَأْجَرَ أَجِيْرًا فَاسْتَوْفَى مِنْهُ وَ لَمْ يُعْطِهِ أَجْرَهُ (বুখারী, হাদীস ২২২৭, ২২৭০)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: কিয়ামতের দিন আমি তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেবো। তাদের একজন হচ্ছে, যে ব্যক্তি আমার নামে কসম খেয়ে কারোর সাথে কোন অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করেছে। দ্বিতীয়জন হচ্ছে, যে ব্যক্তি কোন স্বাধীন পুরুষকে বিক্রি করে বিক্রিলব্ধ পয়সা খেয়েছে। আর তৃতীয়জন হচ্ছে, যে ব্যক্তি কোন পুরুষকে মজুর হিসেবে খাটিয়ে তার মজুরি দেয়নি।
বর্তমান যুগে ডাকাত কিংবা সন্ত্রাসী কর্তৃক কোন এলাকার সুঠাম দেহ স্বাধীন পুরুষ এবং স্বাধীনা যুবতী মহিলাকে জোরপূর্বক কিংবা অর্থের লোভ দেখিয়ে সম্মানজনক কাজের কথা বলে অবৈধ কাজ কিংবা নীচু কাজের জন্য অন্য এলাকার কারোর নিকট কাজের লোক হিসেবে বিক্রি করে দিয়ে সে পয়সা খাওয়াও এরই শামিল।
📄 শরীয়ত সম্মত ভালো কোন উদ্দেশ্য ছাড়া যালিমদের নিকট যাওয়া, তাদেরকে সম্মান করা ও ভালোবাসা এমনকি যুলুমের কাজে তাদের সহযোগিতা করা
শরীয়ত সম্মত ভালো কোন উদ্দেশ্য ছাড়া যালিমদের নিকট যাওয়া, তাদেরকে সম্মান করা ও ভালোবাসা এমনকি যুলুমের কাজে তাদের সহযোগিতা করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত কা'ব বিন্ ‘উজ্জাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
أُعِيدُكَ بِاللَّهِ يَا كَعْبَ بْنَ عُجْرَةَ ! مِنْ أَمَرَاءَ يَكُونُوْنَ مِنْ بَعْدِي ، فَمَنْ غَشِيَ أَبْوَابَهُمْ فَصَدَّقَهُمْ فِي كَذِبِهِمْ ، وَ أَعَانَهُمْ عَلَى ظُلْمِهِمْ فَلَيْسَ مِنِّي وَ لَسْتُ مِنْهُ ، وَ لَا يَرِدُ عَلَيَّ الْحَوْضَ ، وَ مَنْ غَشِيَ أَبْوَابَهُمْ أَوْ لَمْ يَغْشَ ، فَلَمْ يُصَدِّقُهُمْ فِي كَذِبِهِمْ ، وَ لَمْ يُعِنْهُمْ عَلَى ظُلْمِهِمْ فَهُوَ مِنِّي وَ أَنَا مِنْهُ ، وَ سَيَرِدُ عَلَيَّ الْحَوْضَ (তিরমিযী, হাদীস ৬১৪)
অর্থাৎ হে কা'ব বিন্ ‘উজ্জাহ্! আমি আল্লাহ্ তা'আলার নিকট তোমার জন্য আশ্রয় চাচ্ছি এমন আমিরদের থেকে যারা আমার পরে আসবে। যে তাদের দরজা মাড়াবে এবং তাদের মিথ্যা সাপোর্ট করবে এমনকি তাদের যুলুমে সহযোগিতা করবে সে আমার নয় এবং আমিও তার নই; আমার সাথে তার কোন সম্পর্কই থাকবে না এমনকি আমার হাউযে কাউসারের পানিও তার ভাগ্যে জুটবে না। তবে যে ব্যক্তি তাদের দরোজা মাড়িয়েছে কিন্তু তাদের মিথ্যার কোন সাপোর্ট দেয়নি এবং তাদের যুলুমেও সে কোন সহযোগিতা করেনি অথবা একেবারেই তাদের দরোজা মাড়ায়নি সে আমার এবং আমিও তার; তার সাথে আমার সম্পর্ক থাকবে এমনকি সে আমার হাউযে কাউসারের পানিও পান করবে।
📄 শরীয়তের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ছাড়া কুর'আনের কোন আয়াতের মনগড়া ব্যাখ্যা দেয়া অথবা কুর'আনের কোন বিষয় নিয়ে অমূলক ঝগড়া-ফাসাদ করা
শরীয়তের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ছাড়া কুর'আনের কোন আয়াতের মনগড়া ব্যাখ্যা দেয়া অথবা কুর'আনের কোন বিষয় নিয়ে অমূলক ঝগড়া-ফাসাদ করা কবীরা গুনাহ্ ও হারাম।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ ، وَ الإِثْمَ وَ الْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ ، وَ أَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا ، وَ أَنْ تَقُوْلُوْا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُوْنَ ) (আ'রাফ: ৩৩)
অর্থাৎ (হে মুহাম্মাদ) তুমি ঘোষণা করে দাও: নিশ্চয়ই আমার প্রভু হারাম করে দিয়েছেন প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল ধরনের অশ্লীলতা, পাপকর্ম, অন্যায় বিদ্রোহ, আল্লাহ্ তা'আলার সাথে কাউকে শরীক করা; যে ব্যাপারে তিনি কোন দলীল-প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহ্ তা'আলা সম্পর্কে অজ্ঞতাবশত কিছু বলা।
রাসূল ইরশাদ করেন:
اقْرَؤُوْا الْقُرْآنَ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ ، فَأَيْمَا قَرَأْتُمْ أَصَبْتُمْ ، وَ لَا تُمَارُوْا فِيْهِ ، فَإِنَّ الْمِرَاءَ فِيْهِ كُفْرٌ (স'হীহল্ জা'মি', হাদীস ১১৬৩)
অর্থাৎ তোমরা কুর'আন পড়ো সাতভাবে তথা সাতটি আঞ্চলিক রূপে। এ রূপগুলোর মধ্য থেকে তোমরা যেভাবেই পড়বে তাই শুদ্ধ। তবে কুর'আনকে নিয়ে তোমরা অমূলক ঝগড়া-ফাসাদ করো না। কারণ, তা করা কুফরি।
হযরত আবু বকর কে কুর'আন মাজীদের নিম্ন আয়াত:
وَ فَاكِهَةٌ وَ أَبَا ) (‘আবাসা: ৩১)
উক্ত আয়াতের "আব্বুন্" শব্দ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন:
أَيُّ سَمَاءِ تُظِلُّنِي ، وَ أَيُّ أَرْضِ تُقِلُّنِي إِذَا قُلْتُ فِي كِتَابِ اللَّهِ مَا لَا أَعْلَمُ
অর্থাৎ কোন্ আকাশই বা আমাকে ছায়া দিবে এবং কোন্ জমিনই বা আমাকে বহন করবে যদি আমি আল্লাহ্'র কিতাব সম্পর্কে সঠিকভাবে কোন কিছু না জেনেশুনে মনগড়া কোন কথা বলি।
📄 কোন নামাযীর সামনে দিয়ে চলা
কোন নামাযীর সামনে দিয়ে চলা হারাম।
হযরত আবু সা'ঈদ খুদ্রী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ يُصَلِّي فَلَا يَدَعْ أَحَدًا يَمُرُّ بَيْنَ يَدَيْهِ ، وَ لْيَدْرَأَهُ مَا اسْتَطَاعَ ، فَإِنْ أَبَى فَلْيُقَاتِلْهُ ، فَإِنَّمَا هُوَ شَيْطَانٌ (মুসলিম, হাদীস ৫০৫)
অর্থাৎ যখন তোমাদের কেউ নামায পড়ে তখন সে যেন কাউকে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে না দেয়। বরং কেউ তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে চাইলে তাকে সাধ্য মতো বাধা দিবে। যদি তাতেও কোন ফায়েদা না হয় তা হলে তার সাথে প্রয়োজনে লড়াই করবে। কারণ, সে তো শয়তান।
কোন নামাযীর সামনে দিয়ে হাঁটা কতো যে মারাত্মক তা অনুমান করা যায় রাসূল নিম্নোক্ত বাণী থেকে।
হযরত আবু জুহাইম থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَوْ يَعْلَمُ الْمَارُّ بَيْنَ يَدَيِ الْمُصَلِّي مَاذَا عَلَيْهِ ، لَكَانَ أَنْ يُقِفَ أَرْبَعِيْنَ خَيْرًا لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ قَالَ أَبُو النَّضْرِ : لَا أَدْرِي قَالَ: أَرْبَعِينَ يَوْمًا أَوْ شَهْرًا أَوْ سَنَةً (মুসলিম, হাদীস ৫০৭)
অর্থাৎ যদি নামাযীর সামনে দিয়ে হাঁটা ব্যক্তি জানতে পারতো তার কতটুকু গুনাহ্ হচ্ছে তা হলে তার জন্য চল্লিশ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম বলে বিবেচিত হতো নামাযীর সামনে দিয়ে হাঁটার চাইতে। হাদীস বর্ণনাকারী আবুন্ নাযর বলেন: আমি সঠিকভাবে জানি না চল্লিশ দিন না কি মাস না কি বছর।