📄 কারোর সাথে তর্কের সময় তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা
কারোর সাথে তর্কের সময় তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করাও আরেকটি কবীরা গুনাহ্। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيْهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا ، وَ مَنْ كَانَتْ فِيْهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيهِ حَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا : إِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ ، وَ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ ، وَ إِذَا عَاهَدَ غَدَرَ ، وَ إِذَا خَاصَمَ فَجَرَ (বুখারী, হাদীস ৩৪)
অর্থাৎ চারটি চরিত্র কারোর মধ্যে পাওয়া গেলে সে খাঁটি মুনাফিক হিসেবেই বিবেচিত হবে। আর যার মধ্যে সেগুলোর একটি পাওয়া গেলো তার মধ্যে তো শুধু মুনাফিকীর একটি চরিত্রই পাওয়া গেলো যতক্ষণ না সে তা ছেড়ে দেয়। উক্ত চরিত্রগুলো হলো: যখন তার কাছে কোন কিছু আমানত রাখা হয় তখন সে তা খেয়ানত করে, যখন সে কোন কথা বলে তখন সে মিথ্যা বলে, যখন সে কারোর সাথে কোন চুক্তিতে আবদ্ধ হয় তখন সে তা ভঙ্গ করে এবং যখন সে কারোর সাথে ঝগড়া দেয় তখন সে অশ্লীল কথা বলে।
📄 কারোর জমিনের সীমানা পরিবর্তন করা
কারোর জমিনের সীমানা ঠেলে তার কিয়দংশ নিজের অধিকারভুক্ত করে নেয়াও আরেকটি কবীরা গুনাহ্।
হযরত ‘আলী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَعَنَ اللَّهُ مَنْ غَيْرَ مَنَارَ الْأَرْضِ (মুসলিম, হাদীس ১৯৭৮ আহমাদ, হাদীস ২৯১৩ ‘হা'কিম ৪/১৫৩)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা লা'নত করেন সে ব্যক্তিকে যে অন্যের জমিনের সীমানা পরিবর্তন করে।
হযرت আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
مَنْ أَخَذَ شَيْئًا مِنَ الْأَرْضِ بَغَيْرِ حَقَّهِ خُسِفَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَى سَبْعِ أَرَضِيْنَ (বুখারী, হাদীস ২৪৫৪, ৩১৯৬)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি কারোর জমিনের কিয়দংশ অবৈধভাবে হরণ করলো তাকে কিয়ামতের দিন সাত জমিন পর্যন্ত ধ্বসিয়ে দেয়া হবে।
📄 কারোর দিকে ছুরি বা কোন অস্ত্র দিয়ে ইঙ্গিত করা
কারোর দিকে দা, ছুরি বা অন্য কোন অস্ত্র দিয়ে ইঙ্গিত করাও আরেকটি কবীরা গুনাহ্।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ أَشَارَ إِلَى أَخِيهِ بِحَدِيدَة فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَلْعَنُهُ حَتَّى يَدَعَهُ ، وَ إِنْ كَانَ أَخَاهُ لأَبِيهِ وَ أُمِّه (মুসলিম, হাদীস ২৬১৬)
অর্থাৎ কেউ নিজ কোন মুসলমান ভাইয়ের দিকে লোহা জাতীয় কোন অস্ত্র দিয়ে ইঙ্গিত করলে ফিরিস্তারা তাকে লা'নত করতে থাকে যতক্ষণ না সে তা পরিত্যাগ করে। যদিও উক্ত ব্যক্তি তার সহোদর ভাইই হোক না কেন। রাসূল অন্য হাদীসে এ নিষেধের কারণও উল্লেখ করেছেন। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لا يُشِيرُ أَحَدُكُمْ إِلَى أَخِيهِ بِالسَّلَاحِ ، فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي أَحَدُكُمْ لَعَلَّ الشَّيْطَانَ يَنْزِعُ فِي يَدِهِ فَيَقَعُ فِي حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ (বুখারী, হাদীস ৭০৭২ মুসলিম, হাদীস ২৬১৭)
অর্থাৎ তোমাদের কেউ যেন নিজ অন্য মুসলমান ভাইয়ের দিকে অস্ত্র দিয়ে ইঙ্গিত না করে। কারণ, তোমাদের কারোরই জানা নেই যে, হয়তো বা শয়তান তার হাত টেনে অন্যের গায়ে লাগিয়ে দিবে। তখন সে জাহান্নামের গহ্বরে নিক্ষিপ্ত হবে।
📄 কোন ব্যক্তিস্ত্রী বা কাজের লোককে তার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলা
কোন ব্যক্তির স্ত্রী বা কাজের লোককে তার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলাও কবীরা গুনাহ্। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ حَبَّبَ زَوْجَةَ امْرِئٍ أَوْ مَمْلُوْكَهُ فَلَيْسَ مِنَّا (আবু দাউদ, হাদীস ৫১৭০ আহমাদ, হাদীস ৯১৫৭ ‘হা'কিম ২/১৯৬ বায়হাক্বী ৮/১৩)
অর্থাৎ কেউ অন্য কারোর স্ত্রী বা কাজের লোককে তার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুললে সে আমার উম্মত নয়।