📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কারোর সাথে কোন বিষয় নিয়ে অমূলক ঝগড়া-ফাসাদ করা

📄 কারোর সাথে কোন বিষয় নিয়ে অমূলক ঝগড়া-ফাসাদ করা


কারোর সাথে কোন বিষয় নিয়ে অমূলক ঝগড়া-ফাসাদ করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্। তা এভাবে যে, কোন সত্য প্রকাশ করার উদ্দেশ্য নেই বরং অন্যকে অপমান করা এবং নিজের কৃতিত্ব প্রকাশ করার উদ্দেশ্যেই কারোর কথায় দোষ-ত্রুটি বের করার চেষ্টা করা।
আল্লাহ্ তা'আলা কোর'আন মাজীদে এ জাতীয় লোকদের লুক্কায়িত উদ্দেশ্য প্রকাশ করে দেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
إِنَّ الَّذِينَ يُجَادِلُوْنَ فِي آيَاتِ اللَّهِ بِغَيْرِ سُلْطَانٍ أَتَاهُمْ ، إِنْ فِي صُدُوْرِهِمْ إِلَّا كِبْرٌ ، مَا هُمْ بِبَالِغَيْهِ ، فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ ، إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ ) (গাফির/মু'মিন: ৫৬)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই যারা কোন দলীল ছাড়াই আল্লাহ্ তা'আলার নিদর্শন সমূহ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয় তাদের অন্তরে রয়েছে শুধু অহঙ্কার যা সফল হবার নয়। অতএব তুমি আল্লাহ্ তা'আলার শরণাপন্ন হও। তিনিই তো সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা।
কারোর সাথে তর্ক করলে তা একমাত্র সত্য অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যেই এবং সুন্দর পন্থায় হতে হবে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَ لَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ ) (‘আন্কাবুত : ৪৬)
অর্থাৎ তোমরা ইহুদী ও খ্রিস্টানদের সাথে একমাত্র উত্তম পন্থায়ই তর্কে লিপ্ত হবে।
কারোর সাথে অনর্থক ঝগড়া-ফাসাদকারী আল্লাহ্ তা'আলার নিকট একেবারেই ঘৃণিত এবং তারাই তাঁর কোপানলে পতিত। হযরত ‘আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنَّ أَبْغَضَ الرِّجَالِ إِلَى اللَّهِ الأَلَدُّ الْخَصْمُ (বুখারী, হাদীস ২৪৫৭, ৪৫২৩ মুসলিম, হাদীস ২৬৬৮)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলার নিকট সর্ব নিকৃষ্ট ব্যক্তি হচ্ছে অহেতুক ঝগড়া-ফাসাদকারীই। হযرت আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনहूমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ خَاصَمَ فِي بَاطِلٍ وَ هُوَ يَعْلَمُهُ ؛ لَمْ يَزَلْ فِي سَخَطِ اللَّهِ حَتَّى يَنْزِعَ عَنْهُ (আবু দাউদ, হাদীস ৩৫৯৭ আহমাদ, হাদীস ৫৩৮৫)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি জেনেশুনে কারোর সাথে বাতিল কোন জিনিস নিয়ে ঝগড়া-ফাসাদ করলো আল্লাহ্ তা'আলা সত্যিই তার উপর অসন্তুষ্ট হবেন যতক্ষণ না সে তা ছেড়ে দেয়।
কোর'আন নিয়ে অমূলক ঝগড়া-ফাসাদ করা কুফরি। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
الْمِرَاءُ فِي الْقُرْآنِ كُفْرٌ (আবু দাউদ, হাদীস ৪৬০৩ আহমাদ, হাদীস ৭৮৪৮ ইনু হিব্বান/মাওয়ারিদ, হাদীস ৫৯ ‘হাকিম ২/২২৩)
অর্থাৎ কুর'আন নিয়ে অমূলক ঝগড়া-ফাসাদ করা কুফরি।
কোন ব্যক্তি হিদায়াতের রাস্তা থেকে ফসকে গেলেই অহেতুক ঝগড়া-ফাসাদে লিপ্ত হয়।
হযরত আবু উমামাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَا ضَلَّ قَوْمٌ بَعْدَ هُدًى كَانُوْا عَلَيْهِ إِلَّا أُوتُوا الْجَدَلَ ، ثُمَّ تَلَا رَسُوْلُ الله هذه الآيَةَ : ( مَا ضَرَبُوْهُ لَكَ إِلَّا جَدَلًا ، بَلْ هُمْ قَوْمٌ خَصِمُوْنَ ) الزُّخْرُفَ (তিরমিযী, হাদীস ৩২৫৩ আহমাদ ৫/২৫২-২৫৬ ইনু মাজাহ, হাদীস ৪৮ ‘হাকিম ২/৪৪৮)
অর্থাৎ কোন জাতি হিদায়াত পাওয়ার পর আবারো পথভ্রষ্ট হয়ে গেলে (আল্লাহ্ তা'আলা) তাদেরকে অহেতুক ঝগড়া-ফাসাদে ব্যস্ত করে দেন। অতঃপর রাসূল নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করেন: যার মর্মার্থ: তারা শুধু বাক-বিতণ্ডার উদ্দেশ্যেই তোমাকে এমন কথা বললো। বস্তুত তারা বাক- বিতণ্ডাকারী সম্প্রদায়। (যুখরুফ: ৫৮) রাসূল নিজ উম্মতের মধ্যে এ জাতীয় বাকপটু মুনাফিকের আশঙ্কাই করেছিলেন।
হযরত ‘ইম্মান বিন্ ‘হুস্বাইন থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
أَخْوَفُ مَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي كُلُّ مُنَافِقِ عَلَيْمِ النِّسَانِ (ত্বাবারানী/কবীর খণ্ড ১৮ হাদীস ৫৯৩ ইন্নু হিব্বান, হাদীস ৮০ বায্যার, হাদীস ১৭০)
অর্থাৎ আমি আমার উম্মতের ব্যাপারে প্রত্যেক বাকপটু মুনাফিকেরই বেশি আশঙ্কা করছি।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কাউকে ওজনে কম দেয়া

📄 কাউকে ওজনে কম দেয়া


কাউকে ওজনে কম দেয়াও আরেকটি কবীরা গুনাহ্। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَيْلٌ لِّلْمُطَفِّفِيْنَ ، الَّذِينَ إِذَا اكْتَالُوْا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُوْنَ ، وَ إِذَا كَالُوْهُمْ أَوْ وَزَنُوْهُمْ يُخْسِرُوْنَ ، أَلَا يَظُنُّ أُوْلَائِكَ أَنَّهُمْ مَّبْعُوثُوْنَ ، لِيَوْمٍ عَظِيمٍ ، يَوْمَ يَقُوْمُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ ) (মুত্বাফফিফীন: ১-৬)
অর্থাৎ জাহান্নামের ওয়াইল নামক উপত্যকা ওদের জন্য যারা মাপে কম দেয়। তবে অন্যদের থেকে মেপে নেয়ার সময় পূর্ণভাবেই নিয়ে নেয়। কিন্তু অন্যকে দেয়ার সময় মাপে বা ওজনে কম দেয়। তারা কি ভাবে না যে, তারা পুনরুত্থিত হবে সে মহান দিবসে যে দিন সকল মানুষ দাঁড়াবে (হিসাব দেয়ার জন্য) সর্ব জগতের প্রতিপালকের সম্মুখে।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কারোর সাথে তর্কের সময় তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা

📄 কারোর সাথে তর্কের সময় তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা


কারোর সাথে তর্কের সময় তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করাও আরেকটি কবীরা গুনাহ্। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيْهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا ، وَ مَنْ كَانَتْ فِيْهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيهِ حَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا : إِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ ، وَ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ ، وَ إِذَا عَاهَدَ غَدَرَ ، وَ إِذَا خَاصَمَ فَجَرَ (বুখারী, হাদীস ৩৪)
অর্থাৎ চারটি চরিত্র কারোর মধ্যে পাওয়া গেলে সে খাঁটি মুনাফিক হিসেবেই বিবেচিত হবে। আর যার মধ্যে সেগুলোর একটি পাওয়া গেলো তার মধ্যে তো শুধু মুনাফিকীর একটি চরিত্রই পাওয়া গেলো যতক্ষণ না সে তা ছেড়ে দেয়। উক্ত চরিত্রগুলো হলো: যখন তার কাছে কোন কিছু আমানত রাখা হয় তখন সে তা খেয়ানত করে, যখন সে কোন কথা বলে তখন সে মিথ্যা বলে, যখন সে কারোর সাথে কোন চুক্তিতে আবদ্ধ হয় তখন সে তা ভঙ্গ করে এবং যখন সে কারোর সাথে ঝগড়া দেয় তখন সে অশ্লীল কথা বলে।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কারোর জমিনের সীমানা পরিবর্তন করা

📄 কারোর জমিনের সীমানা পরিবর্তন করা


কারোর জমিনের সীমানা ঠেলে তার কিয়দংশ নিজের অধিকারভুক্ত করে নেয়াও আরেকটি কবীরা গুনাহ্।
হযরত ‘আলী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَعَنَ اللَّهُ مَنْ غَيْرَ مَنَارَ الْأَرْضِ (মুসলিম, হাদীس ১৯৭৮ আহমাদ, হাদীস ২৯১৩ ‘হা'কিম ৪/১৫৩)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা লা'নত করেন সে ব্যক্তিকে যে অন্যের জমিনের সীমানা পরিবর্তন করে।
হযرت আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
مَنْ أَخَذَ شَيْئًا مِنَ الْأَرْضِ بَغَيْرِ حَقَّهِ خُسِفَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَى سَبْعِ أَرَضِيْنَ (বুখারী, হাদীস ২৪৫৪, ৩১৯৬)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি কারোর জমিনের কিয়দংশ অবৈধভাবে হরণ করলো তাকে কিয়ামতের দিন সাত জমিন পর্যন্ত ধ্বসিয়ে দেয়া হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00