📄 রাসূল ﷺ এর সাহাবাদেরকে গালি দেয়া
রাসূল এর সাহাবাদেরকে গালি দেয়া আরেকটি মারাত্মক কবীরা গুনাহ্। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا تَسُبُّوْا أَصْحَابِي، لَا تَسُبُّوْا أَصْحَابِي، فَوَ الَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ! لَوْ أَنْ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا أَدْرَكَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَ لَا نَصِيفَهُ (মুসলিম, হাদীস ২৫৪০)
অর্থাৎ তোমরা আমার সাহাবাদেরকে গালি দিও না। তোমরা আমার সাহাবাদেরকে গালি দিও না। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! তোমাদের কেউ আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ সাদাকা করলেও তাদের কারোর এক অঞ্জলি সমপরিমাণ অথবা তার অর্ধেকের সাওয়াব পাবে না।
হযরত আবু সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা হযরত খালিদ বিন্ ওলীদ ও হযরত আব্দুর রহমান বিন্ ‘আউফ এর মাঝে কোন একটি ব্যাপার নিয়ে মনোমালিন্য হলে হযরত খালিদ বিন্ ওলীদ হযরত আব্দুর রহমান বিন্ ‘আউফ কে গালি দেয়। রাসূল তা শুনতে পেয়ে হযরত খালিদ বিন্ ওলীদ কে উদ্দেশ্য করে বলেন:
لَا تَسُبُّوْا أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِي ، فَإِنْ أَحَدَكُمْ لَوْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا أَدْرَكَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَ لَا نَصِيفَهُ (বুখারী, হাদীস ৩৬৭৩ মুসলিম, হাদীস ২৫৪১)
অর্থাৎ তোমরা আমার (প্রথম যুগের) কোন সাহাবাকে গালি দিও না। কারণ, তোমাদের কেউ আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ সাদাকা করলেও তাদের কারোর এক অঞ্জলি সমপরিমাণ অথবা তার অর্ধেকের সাওয়াব পাবে না।
যারা রাসূল এর সাহাবাদেরকে গালি দেয় তাদের উপর আল্লাহ্ তা'আলা, ফিরিস্তা ও সকল মানুষের লা'নত পতিত হবে।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ سَبَّ أَصْحَابِي فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَ الْمَلَائِكَةِ وَ النَّاسِ أَجْمَعِيْنَ (ত্বাবারানী/কবীর, হাদীস ১২৭০৯ সা'হীহল্ জামি', হাদীস ৫২৮৫)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আমার কোন সাহাবাকে গালি দিলো তার উপর আল্লাহ্ তা'আলা, ফিরিস্তা ও সকল মানুষের লা'নত পতিত হোক।
হযরত ‘আলী, আনসারী সাহাবা এমনকি যে কোন সাহাবাকে ভালোবাসা ঈমানের পরিচায়ক।
হযরত ‘আলী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
وَالَّذِي فَلَقَ الْحَبَّةَ وَبَرَأَ النَّسَمَةَ إِنَّهُ لَعَهْدُ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ اللَّهُ إِلَيَّ أَنْ لَا يُحِبَّنِي إِلَّا مُؤْمِنٌ ، وَلَا يُبْغِضُنِي إِلَّا مُنَافِقٌ (মুসলিম, হাদীস ৭৮)
অর্থাৎ সে সত্তার কসম যিনি বীজ থেকে উদ্ভিদ এবং সকল প্রাণী করেছেন! নবী আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: একমাত্র মু'মিনই তোমাকে ভালোবাসবে এবং একমাত্র মুনাফিকই তোমার সাথে শত্রুতা পোষণ করবে।
হযরত আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
آيَةُ الإِيْمَانِ حُبُّ الْأَنْصَارِ ، وَ آيَةُ النَّفَاقِ بَعْضُ الْأَنْصَارِ (বুখারী, হাদীস ১৭, ৩৭৮৪ মুসলিম, হাদীস ৭৮)
অর্থাৎ আন্সারী সাহাবাদেরকে ভালোবাসা ঈমানের পরিচায়ক এবং তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা মুনাফিকির পরিচায়ক।
হযরত বারা' থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল আন্সারী সাহাবাদের সম্পর্কে বলেন:
الْأَنْصَارُ لَا يُحِبُّهُمْ إِلَّا مُؤْمِنٌ ، وَ لَا يُبْغِضُهُمْ إِلَّا مُنَافِقٌ ، فَمَنْ أَحَبَّهُمْ أَحَبَّهُ اللهُ ، وَ مَنْ أَبْغَضَهُمْ أَبْغَضَهُ اللَّهُ (বুখারী, হাদীস ৩৭৮৩ মুসলিম, হাদীস ৭৫)
অর্থাৎ একমাত্র মু'মিনই আন্সারী সাহাবাদেরকে ভালোবাসবে এবং একমাত্র মুনাফিকই তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করবে। যে ব্যক্তি তাদেরকে ভালোবাসলো আল্লাহ্ তা'আলা তাকে ভালোবাসবেন এবং যে ব্যক্তি তাদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করলো আল্লাহ্ তা'আলা তার সাথে বিদ্বেষ পোষণ করবেন।
📄 নিজ প্রতিবেশীকে যে কোনভাবে কষ্ট দেয়া
নিজ প্রতিবেশীকে যে কোনভাবে কষ্ট দেয়াও আরেকটি কবীরা গুনাহ্। যে ব্যক্তি নিজ প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় সে সত্যিকারের মু'মিন নয়। হযরত আবু শুরাইহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
وَ اللَّهُ لَا يُؤْمِنُ ، وَ اللهُ لاَ يُؤْمِنُ ، وَ اللهُ لاَ يُؤْمِنُ ، قَيْلَ: وَ مَنْ يَا رَسُوْلَ الله !؟ قَالَ: الَّذِي لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ (বুখারী, হাদীস ৬০১৬)
অর্থাৎ আল্লাহ্'র কসম! সে ব্যক্তি মু'মিন হতে পারে না। আল্লাহ্'র কসম! সে ব্যক্তি মু'মিন হতে পারে না। আল্লাহ্'র কসম! সে ব্যক্তি মু'মিন হতে পারে না। রাসূল কে জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহ্'র রাসূল! সে ব্যক্তি কে? তিনি বললেন: যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়। প্রতিবেশীকে কষ্ট দিয়ে জান্নাতে যাওয়া যাবে না। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ (মুসলিম, হাদীস ৪৬)
অর্থাৎ সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।
নিজ প্রতিবেশীর প্রতি দয়াশীল হওয়া সত্যিকারের ঈমানের পরিচায়ক। হযরত আবু হুরাইরাহ্ এবং হযরত আবু শুরাইহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَيُحْسِنْ إِلَى جَارِهِ (মুসলিম, হাদীস ৪৭,৪৮)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাসী সে যেন তার প্রতিবেশীর প্রতি দয়াশীল হয়।
প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া জাহান্নামে যাওয়ার অন্যতম কারণ। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
قِيلَ: يَا رَسُوْلَ اللَّهِ ! إِنَّ فُلَانَةً تُصَلِّي اللَّيْلَ وَ تَصُوْمُ النَّهَارَ ، وَ فِي لِسَانِهَا شَيْءٌ يُؤْذِي حِيْرَانَهَا سَلِيْطَةٌ ، فَقَالَ: لَا خَيْرَ فِيْهَا ، هِيَ فِي النَّارِ (হা'কিম ৪/১৬৬)
অর্থাৎ রাসূল কে বলা হলো: হে আল্লাহ্'র রাসূল! অমুক মহিলা রাত্রিবেলায় নফল নামায পড়ে এবং দিনের বেলায় নফল রোযা রাখে অথচ সে কর্কশভাষী তথা নিজ মুখ দিয়ে অন্যকে কষ্ট দেয়। তখন রাসূল বললেন: তার মধ্যে কোন কল্যাণ নিহিত নেই। সে জাহান্নামী।
হযরত জিব্রীল রাসূল কে নিজ প্রতিবেশীর অধিকারের প্রতি লক্ষ্য রাখতে এতো বেশি তাকিদ দিয়েছেন যে, রাসূল নিজ প্রতিবেশীকে তাঁর ওয়ারিশ বানিয়ে দেয়ার আশঙ্কা পোষণ করেছেন।
হ হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
রাসূল ইরশাদ করেন:
مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوْصِيْنِي بِالْجَارِ ، حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ (বুখারী, হাদীস ৬০১৫ মুসলিম, হাদীস ২৬২৫)
অর্থাৎ হযরত জিব্রীল আমাকে এতো বেশি প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষার অসিয়ত করছিলেন যে, তখন আমার আশঙ্কা হচ্ছিলো হয়তোবা তিনি তাকে আমার ওয়ারিশ বানিয়ে দিবেন।
জিনিস যতই সামান্য হোক না কেন তা প্রতিবেশীকে দিতে লজ্জাবোধ করবেন না। কারণ, কিছু না দেয়ার চাইতে সামান্য দেয়াই ভালো। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল প্রায়ই বলতেন:
يَا نِسَاءَ الْمُسْلِمَاتِ لَا تَحْقِرَةٌ جَارَةٌ لِجَارَتِهَا وَ لَوْ فِرْسِنَ شَاةٍ (বুখারী, হাদীস ৬০১৭ মুসলিম, হাদীস ১০৩০)
অর্থাৎ হে মুসলিম মহিলারা! কোন প্রতিবেশী তার প্রতিবেশীকে কোন কিছু তা যদিও অতি সামান্য হয় তুচ্ছ মনে করে দেয়া থেকে বিরত থাকবে না এমনকি তা ছাগলের খুরই বা হোক না কেন।
জিনিস কম হলে তা নিকটতম প্রতিবেশীকেই দিবে। হযরত ‘আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসূল -কে বললাম: হে আল্লাহ্'র রাসূল! আমার দু'জন প্রতিবেশী রয়েছে। অতএব তাদের মধ্য থেকে সর্ব প্রথম আমি কাকে হাদিয়া দেবো? তখন রাসূল বললেন:
إِلَى أَقْرَبِهِمَا مِنْكِ بَابًا (বুখারী, হাদীস ৬০২০)
অর্থাৎ নিকটবর্তী প্রতিবেশীকেই হাদিয়া দিবে। যার ঘরের দরোজা তোমারই দরোজার পাশে।
📄 কোন আল্লাহ্'র ওলীর সাথে শত্রুতা পোষণ করা অথবা তাঁকে যে কোনভাবে কষ্ট দেয়া
কোন আল্লাহ্'র ওলীর সাথে শত্রুতা পোষণ করা অথবা তাঁকে যে কোনভাবে কষ্ট দেয়াও আরেকটি কবীরা গুনাহ্। কারণ, তাদেরকে কষ্ট দেয়া মানে স্বয়ং আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল ﷺ কে কষ্ট দেয়া। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল ﷺ কে কষ্ট দিবে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর রহমত থেকে বঞ্চিত করবেন এবং আখিরাতে রয়েছে তার জন্য লাঞ্ছনাকর শাস্তি।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُوْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَ الْآخِرَةِ ، وَ أَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا مُّهِيْناً ) (আহযাব : ৫৭)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল ﷺ কে কষ্ট দেয় আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে লা'নত করবেন এবং তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন লাঞ্ছনাকর শাস্তি।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ: مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالْحَرْبِ ، وَ مَا تَقَرَّبَ إِلَيَّ عَبْدِي بِشَيْءٍ أَحَبَّ إِلَيَّ مِمَّا افْتَرَضْتُ عَلَيْهِ ، وَ مَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ ، فَإِذَا أَحْبَبْتُهُ كُنْتُ سَمْعَهُ الَّذِي يَسْمَعُ بِهِ ، وَ بَصَرَهُ الَّذِي يُبْصِرُ بِهِ ، وَ يَدَهُ الَّتِي يَبْطِشُ بِهَا ، وَ رِجْلَهُ الَّتِي يَمْشِي بِهَا ، وَ إِنْ سَأَلَنِي لأُعْطِيَنَّهُ ، وَ لَئِنِ اسْتَعَاذَنِي لَأَعِيذَنَّهُ ، وَ مَا تَرَدَّدْتُ عَنْ شَيْءٍ أَنَا فَاعِلُهُ تَرَدُّدِي
عَنْ نَفْسِ الْمُؤْمِنِ ، يَكْرَهُ الْمَوْتَ وَ أَنَا أَكْرَهُ مَسَاءَتَهُ (বুখারী, হাদীস ৬৫০২)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: যে ব্যক্তি আমার কোন ওলীর সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করলো আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম। ফরয আমল চাইতেও আমার নিকট অধিক প্রিয় এমন কোন আমল নেই যার মাধ্যমে কোন বান্দাহ্ আমার নিকটবর্তী হতে পারে। এতদসত্ত্বেও কোন বান্দাহ্ যদি লাগাতার নফল আমলের মাধ্যমে আমার নিকটবর্তী হয় তখন আমি তাকে ভালোবাসি। আর আমি কখনো কাউকে ভালোবাসলে তার কান আমার নিয়ন্ত্রণে এসে যায়। তখন সে তা দিয়ে এমন কিছুই শুনে যাতে আমি সন্তুষ্ট হই। তার চোখও আমার নিয়ন্ত্রণে এসে যায়। তখন সে তা দিয়ে এমন কিছুই দেখে যাতে আমি সন্তুষ্ট হই। তার হাতও আমার নিয়ন্ত্রণে এসে যায়। তখন সে তা দিয়ে এমন কিছুই ধরে যাতে আমি সন্তুষ্ট হই। তার পাও আমার নিয়ন্ত্রণে এসে যায়। তখন সে তা দিয়ে এমন কিছুর প্রতিই চলে যাতে আমি সন্তুষ্ট হই। সে আমার নিকট কোন কিছু চাইলে আমি তাকে তা দিয়ে থাকি। আমার নিকট সে কোন কিছু থেকে আশ্রয় চাইলে আমি তাকে তা থেকে আশ্রয় দিয়ে থাকি। আমি কোন কিছু করতে এতটুকুও ইতস্তত করি না যতটুকু ইতস্তত করি কোন মু'মিনের জীবন নিতে। সে মৃত্যু চায় না। আর আমি তাকে কোন ভাবেই দুঃখ দিতে চাই না।
হযরত ‘আয়িয বিন্ ‘আমর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা আবু সুফ্যান নিজ দলবল নিয়ে সাল্মান, সুহাইব ও বিলাল এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। তখন তাঁরা আবু সুফ্যানকে উদ্দেশ্য করে বললেন: আল্লাহ্ তা'আলার কসম! আল্লাহ্'র তরবারি এখনো তাঁর এ শত্রুর গর্দান উড়িয়ে দেয়নি। তখন আবু বকর তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন: তোমরা কুরাইশ নেতার ব্যাপারে এমন কথা বলতে পারলে?! অতঃপর রাসূল কে ঘটনাটি জানানো হলে তিনি বললেন:
يَا أَبَا بَكْرٍ! لَعَلَّكَ أَغْضَبْتَهُمْ ، لَئِنْ كُنْتَ أَغْضَبْتَهُمْ لَقَدْ أَغْضَبْتَ رَبَّكَ (মুসলিম, হাদীস ২৫০৪)
অর্থাৎ হে আবু বকর! সম্ভবত তুমি তাদেরকে রাগিয়ে দিলে! যদি তুমি তাদেরকে রাগান্বিত করে থাকো তা হলে যেন তুমি আল্লাহ্ তা'আলাকে রাগান্বিত করলে।
অতঃপর আবু বকর তাঁদের নিকট এসে বললেন: হে আমার ভাইয়েরা! আমি তো তোমাদেরকে রাগিয়ে দিয়েছি। তাঁরা বললেন: না, হে আমাদের শ্রদ্ধেয় ভাই! বরং আমরা আপনার জন্য আল্লাহ্ তা'আলার নিকট দো'আ করছি তিনি যেন আপনাকে ক্ষমা করে দেন।
তবে একটি কথা না বললেই হয় না। আর তা হচ্ছে, আল্লাহ্ তা'আলার ওলী হওয়ার জন্য এ ব্যাপারে কারোর ইজাযত বা খিলাফত পেতে হবে কি? তার বংশটি কোন ওলীর বংশ হতে হবে কি? ওলী হওয়ার জন্য সুফিবাদের ধরা-বাঁধা নিয়মানুযায়ী রিয়াযত-মুজাহাদা করতে হবে কি? উক্ত পথ পাড়ি দিতে কোন ইযাযতপ্রাপ্ত ওলীর হাত ধরতে হবে কি? ইত্যাদি ইত্যাদি।
না, এর কিছুই করতে হবে না। বরং আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল এর দেয়া ওলীর নির্ধারিত সংজ্ঞা অনুযায়ী আমাদেরকে উক্ত পথ পাড়ি দিতে হবে।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُوْنَ الَّذِينَ آمَنُوْا وَكَانُوْا يَتَّقُوْنَ، لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَ فِي الآخِرَةِ، لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَاتِ اللهِ ، ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ) (ইউনুস: ৬২-৬৪)
অর্থাৎ জেনে রেখো, (কিয়ামতের দিন) নিশ্চয়ই আল্লাহ্'র ওলীদের কোন ভয় থাকবে না। না থাকবে তাঁদের কোন চিন্তা ও আশঙ্কা। তাঁরা হচ্ছেন খাঁটি ঈমানদার এবং সত্যিকার আল্লাহভীরু। তাঁদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুসংবাদ দুনিয়া এবং আখিরাতেও। আল্লাহ্ তা'আলার কথায় কোন হেরফের নেই। এটাই হচ্ছে চূড়ান্ত সফলতা।
উক্ত আয়াতে ওলী হওয়ার জন্য খাঁটি ঈমান এবং সত্যিকার আল্লাহভীরুতার শর্ত দেয়া হয়েছে। তথা সকল ফরজ কাজ সমূহ পালন করা এবং সকল পাপ-পঙ্কিলতা থেকে দূরে থাকা। কখনো হঠাৎ কোন পাপকর্ম ঘটে গেলে তাওবার মাধ্যমে তা থেকে মুক্তির ব্যবস্থা নেয়া। উপরন্তু নফল আমল সমূহের প্রতি বেশি মনযোগী হওয়া এবং আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য কাউকে ভালোবাসা।
হযরত মু'আয বিন জাবাল থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
وَجَبَتْ مَحَبَّتِي لِلْمُتَحَابَيْنَ فِيَّ ، وَ لِلْمُتَجَالِسِيْنَ فِيَّ ، وَ لِلْمُتَزَاوِرِينَ فِيَّ ، وَالْمُتَبَادَلِيْنَ فِي (ইন্নু হিব্বান/মাওয়ারিদ, হাদীস ২৫১০ বাগাওয়ী, হাদীস ৩৪৬৩ কোযায়ী, হাদীস ১৪৪৯, ১৪৫০)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: আমার কর্তব্য ওদেরকে ভালোবাসা যারা আমার জন্য অন্যকে ভালোবাসে, আমার জন্য অন্যের সাথে উঠে-বসে, আমার জন্য অন্যের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং আমারই জন্য কাউকে দান করে।
📄 কোন গোলাম বা যার পেছনে অগ্রিম টাকা খরচ করে চুক্তিভিত্তিক কাজের জন্য আনা হয়েছে চুক্তি শেষ না হতেই তার পলায়ন
কোন গোলাম বা যার পেছনে অগ্রিম টাকা খরচ করে চুক্তিভিত্তিক কাজের জন্য আনা হয়েছে চুক্তি শেষ না হতেই তার পলায়ন হারাম বা কবীরা গুনাহ্।
হযরত জারীর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
أَيُّمَا عَبْدِ أَبَقَ مِنْ مَوَالِيْهِ فَقَدْ كَفَرَ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَيْهِمْ (মুসলিম, হাদীস ৬৮)
অর্থাৎ কোন গোলাম নিজ মনিব থেকে পলায়ন করলে সে কাফির হয়ে যাবে যতক্ষণ না তার মনিবের কাছে ফিরে আসে।
হযরত জারীর থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِذَا أَبَقَ الْعَبْدُ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ (মুসলিম, হাদীস ৭০)
অর্থাৎ কোন গোলাম তার মনিবের কাছ থেকে পলায়ন করলে তার কোন নামাযই কবুল করা হবে না।
হযরত জাবির থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
ثَلَاثَةٌ لَا يَقْبَلُ اللهُ لَهُمْ صَلَاةً ، وَ لَا تَصْعَدُ لَهُمْ حَسَنَةٌ : الْعَبْدُ الْآبِقُ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى مَوَالَيْهِ ، وَ الْمَرأَةُ السَّاخِطُ عَلَيْهَا زَوْجُهَا حَتَّى يَرْضَى ، وَ السَّكْرَانُ حَتَّى يَصْحُو (ইব্বু হিব্বান/ইহসান, হাদীস ৫৩৩১ কানযুল্ ‘উম্মাল, হাদীস ৪৩৯২৭)
অর্থাৎ তিন ব্যক্তির নামায আল্লাহ্ তা'আলা গ্রহণ করেন না এবং তাদের কোন সাওয়াবও আল্লাহ্ তা'আলার নিকট উঠবে না। তারা হচ্ছে, নিজ মনিবের কাছ থেকে পলায়নকারী গোলাম যতক্ষণ না সে তাদের কাছে ফিরে আসে। সে মহিলা যার উপর তার স্বামী অসন্তুষ্ট যতক্ষণ না সে তার উপর সন্তুষ্ট হয় এবং কোন নেশাখোর মাতাল ব্যক্তি যতক্ষণ না সে সুস্থ হয়।
হযরত ফাযালাহ্ বিন্ ‘উবাইদ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
ثَلَاثَةٌ لَا تَسْأَلْ عَنْهُمْ : رَجُلٌ فَارَقَ الْجَمَاعَةَ وَ عَصَى إِمَامَهُ فَمَاتَ عَاصِيًا ، وَعَبْدٌ أَبَقَ فَمَاتَ ، وَ امْرَأَةٌ غَابَ عَنْهَا زَوْجُهَا وَ قَدْ كَفَاهَا الْمُؤْنَةَ فَتَبَرَّجَتْ (বুখারী/আদাবুল মুফ্রাদ, হাদীস ৫৯০ ইবনু হিব্বান, হাদীস ৪৫৫৯ বায্যার, হাদীস ৮৪ বায়হাক্বী/শু'আবুল ঈমান, হাদীস ৭৭৯৭ ‘হাকিম ১/১১৯)
অর্থাৎ তিন ব্যক্তি সম্পর্কে কাউকে কিছু জিজ্ঞাসাই করো না। তারা হচ্ছে, মুসলিম জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি যে নিজ প্রশাসকের অবাধ্য এবং এমতাবস্থায়ই তার মৃত্যু হয়। নিজ মনিব থেকে পলায়নকারী গোলাম এবং এমতাবস্থায়ই তার মৃত্যু হয়। এমন এক মহিলা যার স্বামী বাড়িতে নেই এবং সে তার স্ত্রীর খরচাদি দিয়েই বাড়ি থেকে বিদায় নিয়েছে অথবা নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছে অথচ সে মহিলা বেপর্দা অবস্থায় ঘর থেকে বের হয়।
হযরত ‘আলী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَعَنَ اللَّهُ مَنْ تَوَلَّى غَيْرَ مَوَالَيْهِ (আহমাদ, হাদীস ২৯১৩ ‘হা'কিম ৪/১৫৩)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলার লা'নত ওই ব্যক্তির উপর যে নিজ মনিব ছেড়ে অন্য কাউকে মনিব হিসেবে গ্রহণ করলো।