📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কারোর দোষ অনুসন্ধান বা তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করা

📄 কারোর দোষ অনুসন্ধান বা তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করা


কারোর দোষ অনুসন্ধান অথবা তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্। তাই তো আল্লাহ্ তা'আলা মু'মিনদেরকে এমন করতে নিষেধ করেছেন।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيْرًا مِّنَ الظَّنِّ ، إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إثْمٌ وَ لَا تَجَسَّسُوا ) (‘হুজুরাত: ১২)
অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাকো। কারণ, কিছু কিছু অনুমান তো পাপ এবং তোমরা কারোর গোপনীয় দোষ অনুসন্ধান করো না।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা রাসূল মিম্বারে উঠে উচ্চ স্বরে বলেন:
يَا مَعْشَرَ مَنْ أَسْلَمَ بِلِسَانِهِ، وَ لَمْ يُفْضِ الإِيْمَانُ إِلَى قَلْبِهِ! لَا تُؤْذُوا الْمُسْلِمِينَ وَ لَا تُعَيِّرُوهُمْ وَ لَا تَتَّبِعُوْا عَوْرَاتِهِمْ؛ فَإِنَّهُ مَنْ تَتَبَّعَ عَوْرَةَ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ تَتَبَّعَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ، وَ مَنْ تَتَبَّعَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ يَفْضَحْهُ وَ لَوْ فِي جَوْفِ رَحْلِهِ (তিরমিযী, হাদীস ২০৩২)
অর্থাৎ হে লোক সকল! তোমরা যারা মুখে ইসলাম গ্রহণ করেছো; অথচ ঈমান তোমাদের অন্তরে ঢুকেনি তোমরা মুসলমানদেরকে কষ্ট দিও না। তাদেরকে লজ্জা দিও না। তাদের দোষ অনুসন্ধান করো না। কারণ, যে ব্যক্তি তার কোন মুসলমান ভাইয়ের দোষ অনুসন্ধান করলো আল্লাহ্ তা'আলাও তার দোষ অনুসন্ধান করবেন। আর যার দোষ আল্লাহ্ তা'আলা অনুসন্ধান করবেন তাকে অবশ্যই তিনি লাঞ্ছিত করে ছাড়বেন যদিও সে নিজ ঘরের অভ্যন্তরেই অবস্থান করুক না কেন।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
مَنِ اسْتَمَعَ إِلَى حَدِيْثِ قَوْمٍ وَ هُمْ لَهُ كَارِهُوْنَ ، أَوْ يَفِرُّوْنَ مِنْهُ صُبَّ فِي أُذُنِهِ الْأَنكُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (বুখারী, হাদীস ৭০৪২)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের কথা গুপ্তভাবে শুনলো অথচ সে তাদের কথাগুলো শুনুক তারা তা পছন্দ করছে না অথবা তারা তার অবস্থান টের পেয়ে তার থেকে দূরে পালিয়ে যাচ্ছে কিয়ামতের দিন এ জন্য তার কানে সিসা ঢেলে দেয়া হবে।
হযরত মু'আবিয়া থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসূল কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন:
إِنَّكَ إِنِ اتَّبَعْتَ عَوْرَاتِ النَّاسِ أَفْسَدْتَهُمْ ، أَوْ كِدْتَ أَنْ تُفْسِدَهُمْ (আবু দাউদ, হাদীস ৪৮৮৮)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই তুমি মানুষের দোষ অনুসন্ধান করলে তাদেরকে ধ্বংস করে দিবে অথবা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছিয়ে দিবে।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্ এর নিকট জনৈক ব্যক্তিকে আনা হলো যার দাড়ি থেকে তখনো মদের ফোঁটা ঝরছিলো অতঃপর তিনি বললেন:
إِنَّا قَدْ نُهِينَا عَنِ التَّجَسُّسِ ، وَ لَكِنْ إِنْ يَظْهَرْ لَنَا شَيْءٌ نَأْخُذْ بِهِ (আবু দাউদ, হাদীস ৪৮৯০)
অর্থাৎ আমাদেরকে গোয়েন্দাগিরি বা কারোর দোষ অনুসন্ধান করতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে আমাদের নিকট কোন কিছু প্রকাশ পেলেই তখন সে জন্য আমরা তাকে পাকড়াও করতে পারি।
কেউ কারোর ঘরে তার অনুমতি ছাড়াই উঁকি মারলে ঘরের মালিক কোন বস্তু দিয়ে তার চোখ ফুটো করে দিলে এর জন্য তাকে কোন ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَوْ أَنَّ امْرَأَ اطَّلَعَ عَلَيْكَ بِغَيْرِ إِذْنِ فَخَذَفْتَهُ بِحَصَاةِ ، فَفَقَأْتَ عَيْنَهُ ، لَمْ يَكُنْ عَلَيْكَ جُنَاحٌ (বুখারী, হাদীস ৬৯০০ মুসলিম, হাদীস ২১৫৮)
অর্থাৎ কোন ব্যক্তি অনুমতি ছাড়া তোমার ঘরে উঁকি মারলে অতঃপর তুমি কুঁচি পাথর অথবা কঙ্কর মেরে তার চোখ ফুটো করে দিলে এতে তোমার কোন গুনাহ্ হবে না।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কোন মুসলমানকে গালি বা যে কোনভাবে কষ্ট দেয়া

📄 কোন মুসলমানকে গালি বা যে কোনভাবে কষ্ট দেয়া


কোন মুসলমানকে গali বা যে কোনভাবে কষ্ট দেয়া আরেকটি কবীরা গুনাহ্। যদিও সে লোকটি মৃত হোক না কেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَ الَّذِينَ يُؤْذُوْنَ الْمُؤْمِنِينَ وَ الْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُّبِينًا ) (আহযাব: ৫৮)
অর্থাৎ যারা মু'মিন পুরুষ ও মহিলাদেরকে কোন অপরাধ ছাড়াই কষ্ট দেয় তারা অপবাদ ও সুপষ্ট গুনাহ্'র বোঝা বহন করে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
سَبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوْقَ وَ قِتَالُهُ كُفْرٌ (বুখারী, হাদীস ৬০৪৪, ৭০৭৬ মুসলিম, হাদীস ৬৪)
অর্থাৎ কোন মুসলমানকে গালি দেয়া ফাসিকী এবং হত্যা করা কুফরি। হযরত ‘আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا تَسُبُّوا الْأَمْوَاتَ، فَإِنَّهُمْ قَدْ أَفْضَوْا إِلَى مَا قَدَّمُوا (বুখারী, হাদীস ১৩৯৩, ৬৫১৬)
অর্থাৎ তোমরা মৃতদেরকে গালি দিও না। কারণ, তারা দুনিয়াতে যা করেছে তার ফলাফল তো এমনিতেই ভোগ করবে।
কোন কোন মানুষ অন্যের অনিষ্ট করতে বা তাকে কষ্ট দিতে সিদ্ধহস্ত। তাই অন্যরা সাধ্যমতো তার থেকে দূরে থাকতে চেষ্টা করে। এমন মানুষ আল্লাহ্ তা'আলার নিকট সর্ব নিকৃষ্ট।
হযরত ‘আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنَّ شَرَّ النَّاسِ عِنْدَ اللَّهِ مَنْزِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ تَرَكَهُ النَّاسُ اتَّقَاءَ شَرِّهِ (বুখারী, হাদীস ৬০৩২ মুসলিম, হাদীস ২৫৯১)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলার নিকট সর্ব নিকৃষ্ট ব্যক্তি সে যাকে অন্যরা পরিত্যাগ করে তার অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্যে।
একজন মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই। সুতরাং সে তার উপর যুলুম করতে পারে না, তার অসহযোগিতা করতে পারে না এবং তাকে নীচও ভাবতে পারে না।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الْمُسْلِمُ أَخَوَ الْمُسْلِمِ ، لَا يَظْلِمُهُ ، وَ لَا يَخْذُلُهُ ، وَ لَا يَحْقِرُهُ ... بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ ، كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ دَمُهُ وَمَالُهُ وَ عَرْضُهُ (মুসলিম, হাদীস ২৫৬৪)
অর্থাৎ একজন মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই। সুতরাং সে তার উপর যুলুম করতে পারে না, তার অসহযোগিতা করতে পারে না এবং তাকে নীচও ভাবতে পারে না। একজন ব্যক্তির নিকৃষ্ট প্রমাণিত হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার অন্য মুসলিম ভাইকে নীচ বলে মনে করবে। একজন মুসলমানের উপর অন্য মুসলমানের রক্ত, সম্পদ ও ইয্যত হারাম। সে তা কোনভাবেই হনন বা ক্ষুণ্ণ করতে পারে না।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 রাসূল ﷺ এর সাহাবাদেরকে গালি দেয়া

📄 রাসূল ﷺ এর সাহাবাদেরকে গালি দেয়া


রাসূল এর সাহাবাদেরকে গালি দেয়া আরেকটি মারাত্মক কবীরা গুনাহ্। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا تَسُبُّوْا أَصْحَابِي، لَا تَسُبُّوْا أَصْحَابِي، فَوَ الَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ! لَوْ أَنْ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا أَدْرَكَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَ لَا نَصِيفَهُ (মুসলিম, হাদীস ২৫৪০)
অর্থাৎ তোমরা আমার সাহাবাদেরকে গালি দিও না। তোমরা আমার সাহাবাদেরকে গালি দিও না। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! তোমাদের কেউ আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ সাদাকা করলেও তাদের কারোর এক অঞ্জলি সমপরিমাণ অথবা তার অর্ধেকের সাওয়াব পাবে না।
হযরত আবু সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা হযরত খালিদ বিন্ ওলীদ ও হযরত আব্দুর রহমান বিন্ ‘আউফ এর মাঝে কোন একটি ব্যাপার নিয়ে মনোমালিন্য হলে হযরত খালিদ বিন্ ওলীদ হযরত আব্দুর রহমান বিন্ ‘আউফ কে গালি দেয়। রাসূল তা শুনতে পেয়ে হযরত খালিদ বিন্ ওলীদ কে উদ্দেশ্য করে বলেন:
لَا تَسُبُّوْا أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِي ، فَإِنْ أَحَدَكُمْ لَوْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا أَدْرَكَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَ لَا نَصِيفَهُ (বুখারী, হাদীস ৩৬৭৩ মুসলিম, হাদীস ২৫৪১)
অর্থাৎ তোমরা আমার (প্রথম যুগের) কোন সাহাবাকে গালি দিও না। কারণ, তোমাদের কেউ আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ সাদাকা করলেও তাদের কারোর এক অঞ্জলি সমপরিমাণ অথবা তার অর্ধেকের সাওয়াব পাবে না।
যারা রাসূল এর সাহাবাদেরকে গালি দেয় তাদের উপর আল্লাহ্ তা'আলা, ফিরিস্তা ও সকল মানুষের লা'নত পতিত হবে।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ سَبَّ أَصْحَابِي فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَ الْمَلَائِكَةِ وَ النَّاسِ أَجْمَعِيْنَ (ত্বাবারানী/কবীর, হাদীস ১২৭০৯ সা'হীহল্ জামি', হাদীস ৫২৮৫)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আমার কোন সাহাবাকে গালি দিলো তার উপর আল্লাহ্ তা'আলা, ফিরিস্তা ও সকল মানুষের লা'নত পতিত হোক।
হযরত ‘আলী, আনসারী সাহাবা এমনকি যে কোন সাহাবাকে ভালোবাসা ঈমানের পরিচায়ক।
হযরত ‘আলী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
وَالَّذِي فَلَقَ الْحَبَّةَ وَبَرَأَ النَّسَمَةَ إِنَّهُ لَعَهْدُ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ اللَّهُ إِلَيَّ أَنْ لَا يُحِبَّنِي إِلَّا مُؤْمِنٌ ، وَلَا يُبْغِضُنِي إِلَّا مُنَافِقٌ (মুসলিম, হাদীস ৭৮)
অর্থাৎ সে সত্তার কসম যিনি বীজ থেকে উদ্ভিদ এবং সকল প্রাণী করেছেন! নবী আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: একমাত্র মু'মিনই তোমাকে ভালোবাসবে এবং একমাত্র মুনাফিকই তোমার সাথে শত্রুতা পোষণ করবে।
হযরত আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
آيَةُ الإِيْمَانِ حُبُّ الْأَنْصَارِ ، وَ آيَةُ النَّفَاقِ بَعْضُ الْأَنْصَارِ (বুখারী, হাদীস ১৭, ৩৭৮৪ মুসলিম, হাদীস ৭৮)
অর্থাৎ আন্সারী সাহাবাদেরকে ভালোবাসা ঈমানের পরিচায়ক এবং তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা মুনাফিকির পরিচায়ক।
হযরত বারা' থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল আন্সারী সাহাবাদের সম্পর্কে বলেন:
الْأَنْصَارُ لَا يُحِبُّهُمْ إِلَّا مُؤْمِنٌ ، وَ لَا يُبْغِضُهُمْ إِلَّا مُنَافِقٌ ، فَمَنْ أَحَبَّهُمْ أَحَبَّهُ اللهُ ، وَ مَنْ أَبْغَضَهُمْ أَبْغَضَهُ اللَّهُ (বুখারী, হাদীস ৩৭৮৩ মুসলিম, হাদীস ৭৫)
অর্থাৎ একমাত্র মু'মিনই আন্সারী সাহাবাদেরকে ভালোবাসবে এবং একমাত্র মুনাফিকই তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করবে। যে ব্যক্তি তাদেরকে ভালোবাসলো আল্লাহ্ তা'আলা তাকে ভালোবাসবেন এবং যে ব্যক্তি তাদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করলো আল্লাহ্ তা'আলা তার সাথে বিদ্বেষ পোষণ করবেন।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 নিজ প্রতিবেশীকে যে কোনভাবে কষ্ট দেয়া

📄 নিজ প্রতিবেশীকে যে কোনভাবে কষ্ট দেয়া


নিজ প্রতিবেশীকে যে কোনভাবে কষ্ট দেয়াও আরেকটি কবীরা গুনাহ্। যে ব্যক্তি নিজ প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় সে সত্যিকারের মু'মিন নয়। হযরত আবু শুরাইহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
وَ اللَّهُ لَا يُؤْمِنُ ، وَ اللهُ لاَ يُؤْمِنُ ، وَ اللهُ لاَ يُؤْمِنُ ، قَيْلَ: وَ مَنْ يَا رَسُوْلَ الله !؟ قَالَ: الَّذِي لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ (বুখারী, হাদীস ৬০১৬)
অর্থাৎ আল্লাহ্'র কসম! সে ব্যক্তি মু'মিন হতে পারে না। আল্লাহ্'র কসম! সে ব্যক্তি মু'মিন হতে পারে না। আল্লাহ্'র কসম! সে ব্যক্তি মু'মিন হতে পারে না। রাসূল কে জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহ্'র রাসূল! সে ব্যক্তি কে? তিনি বললেন: যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়। প্রতিবেশীকে কষ্ট দিয়ে জান্নাতে যাওয়া যাবে না। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ (মুসলিম, হাদীস ৪৬)
অর্থাৎ সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।
নিজ প্রতিবেশীর প্রতি দয়াশীল হওয়া সত্যিকারের ঈমানের পরিচায়ক। হযরত আবু হুরাইরাহ্ এবং হযরত আবু শুরাইহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَيُحْسِنْ إِلَى جَارِهِ (মুসলিম, হাদীস ৪৭,৪৮)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাসী সে যেন তার প্রতিবেশীর প্রতি দয়াশীল হয়।
প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া জাহান্নামে যাওয়ার অন্যতম কারণ। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
قِيلَ: يَا رَسُوْلَ اللَّهِ ! إِنَّ فُلَانَةً تُصَلِّي اللَّيْلَ وَ تَصُوْمُ النَّهَارَ ، وَ فِي لِسَانِهَا شَيْءٌ يُؤْذِي حِيْرَانَهَا سَلِيْطَةٌ ، فَقَالَ: لَا خَيْرَ فِيْهَا ، هِيَ فِي النَّارِ (হা'কিম ৪/১৬৬)
অর্থাৎ রাসূল কে বলা হলো: হে আল্লাহ্'র রাসূল! অমুক মহিলা রাত্রিবেলায় নফল নামায পড়ে এবং দিনের বেলায় নফল রোযা রাখে অথচ সে কর্কশভাষী তথা নিজ মুখ দিয়ে অন্যকে কষ্ট দেয়। তখন রাসূল বললেন: তার মধ্যে কোন কল্যাণ নিহিত নেই। সে জাহান্নামী।
হযরত জিব্রীল রাসূল কে নিজ প্রতিবেশীর অধিকারের প্রতি লক্ষ্য রাখতে এতো বেশি তাকিদ দিয়েছেন যে, রাসূল নিজ প্রতিবেশীকে তাঁর ওয়ারিশ বানিয়ে দেয়ার আশঙ্কা পোষণ করেছেন।
হ হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
রাসূল ইরশাদ করেন:
مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوْصِيْنِي بِالْجَارِ ، حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ (বুখারী, হাদীস ৬০১৫ মুসলিম, হাদীস ২৬২৫)
অর্থাৎ হযরত জিব্রীল আমাকে এতো বেশি প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষার অসিয়ত করছিলেন যে, তখন আমার আশঙ্কা হচ্ছিলো হয়তোবা তিনি তাকে আমার ওয়ারিশ বানিয়ে দিবেন।
জিনিস যতই সামান্য হোক না কেন তা প্রতিবেশীকে দিতে লজ্জাবোধ করবেন না। কারণ, কিছু না দেয়ার চাইতে সামান্য দেয়াই ভালো। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল প্রায়ই বলতেন:
يَا نِسَاءَ الْمُسْلِمَاتِ لَا تَحْقِرَةٌ جَارَةٌ لِجَارَتِهَا وَ لَوْ فِرْسِنَ شَاةٍ (বুখারী, হাদীস ৬০১৭ মুসলিম, হাদীস ১০৩০)
অর্থাৎ হে মুসলিম মহিলারা! কোন প্রতিবেশী তার প্রতিবেশীকে কোন কিছু তা যদিও অতি সামান্য হয় তুচ্ছ মনে করে দেয়া থেকে বিরত থাকবে না এমনকি তা ছাগলের খুরই বা হোক না কেন।
জিনিস কম হলে তা নিকটতম প্রতিবেশীকেই দিবে। হযরত ‘আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসূল -কে বললাম: হে আল্লাহ্'র রাসূল! আমার দু'জন প্রতিবেশী রয়েছে। অতএব তাদের মধ্য থেকে সর্ব প্রথম আমি কাকে হাদিয়া দেবো? তখন রাসূল বললেন:
إِلَى أَقْرَبِهِمَا مِنْكِ بَابًا (বুখারী, হাদীস ৬০২০)
অর্থাৎ নিকটবর্তী প্রতিবেশীকেই হাদিয়া দিবে। যার ঘরের দরোজা তোমারই দরোজার পাশে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00