📄 কোন কারণে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছা সম্ভবপর না হলে পরস্পরের ছন্দের ভিত্তিতে যে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছা জায়েয
বিচারের ক্ষেত্রে কোন কারণে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছা সম্ভবপর না হলে অন্ততপক্ষে পরস্পরের ছাড়ের ভিত্তিতে একান্ত বুঝাপড়ার মাধ্যমে কোন এক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়াও জায়িয।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ ও হযরত ‘আমর বিন্ ‘আউফ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الصُّلْحُ جَائِرٌ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ ؛ إِلَّا صُلْحًا أَحَلَّ حَرَامًا أَوْ حَرَّمَ حَلَالًا (আবু দাউদ, হাদীস ৩৫৯৪ তিরমিযী, হাদীস ১৩৫২ ইবনু মাজাহ, হাদীস ২৩৮২)
অর্থাৎ মুসলমানদের মাঝে পরস্পরের বুঝাপড়ার ভিত্তিতে কোন এক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়াও জায়িয। তবে সে সিদ্ধান্ত এমন যেন না হয় যে, তাতে কোন হারামকে হালাল করা হয়েছে অথবা হালালকে হারাম করা হয়েছে।
📄 অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মানব অধিকার সংরক্ষণের খাতিরে একজন সাক্ষী ও বাদীর কসমের ভিত্তিতে বিচার করা যেতে পারে
অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের অধিকার সংরক্ষণের খাতিরে একজন সাক্ষী এবং বাদীর কসমের ভিত্তিতেও বিচার করা যেতে পারে। হযরত আবু হুরাইরাহ্, জাবির ও হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন:
قَضَى رَسُولُ اللَّهِ بِالْيَمِينِ مَعَ الشَّاهِدِ (আবু দাউদ, হাদীস ৩৬০৮, ৩৬১০ ইন্নু মাজাহ, হাদীস ২৩৯৭, ২৩৯৮, ২৩৯৯)
অর্থাৎ একদা রাসূল একজন সাক্ষী ও বাদীর কসমের ভিত্তিতে ফায়সালা করেন।
📄 সুযোগ পেয়ে নিজের নয় এমন জিনিস দাবি করলে সে মুসলমান থাকে না
কোন ধরনের সুযোগ পেয়ে নিজের নয় এমন জিনিস দাবি করলে সে মুসলমান থাকে না। বরং তার ঠিকানা হয় তখন জাহান্নাম। হযরত আবু যর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنِ ادَّعَى مَا لَيْسَ لَهُ فَلَيْسَ مِنَّا ، وَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ (ইবনু মাজাহ, হাদীস ২৩৪৮)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি এমন জিনিস দাবি করলো যা তার নয় তা হলে সে আমার উম্মত নয় এবং সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।
📄 বিচারকের বিচার কোন অবৈধ বস্তুকে বৈধ করে দেয় না
বিচারকের বিচার কোন অবৈধ বস্তুকে বৈধ করে দেয় না। সুতরাং কেউ বিচারের মাধ্যমে কোন কিছু পেয়ে গেলে যা তার নয় সে যেন অতিসত্বর তা মালিককে পৌঁছিয়ে দেয়। সে যেন অবৈধভাবে তা ভোগ বা ভক্ষণ না করে।
হযরত উম্মে সালামাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ ، وَ إِنَّكُمْ تَخْتَصِمُوْنَ إِلَيَّ ، وَ لَعَلَّ بَعْضَكُمْ أَنْ يَكُوْنَ أَلْحَنَ بِحُجَّتِهِ مِنْ بَعْضٍ ، وَ أَقْضِيْ لَهُ عَلَى نَحْوِ مَا أَسْمَعُ ، فَمَنْ قَضَيْتُ لَهُ مِنْ حَقِّ أَخِيْهِ شَيْئًا فَلَا يَأْخُذْ ، فَإِنَّمَا أَقْطَعُ لَهُ قِطْعَةً مِنَ النَّارِ (বুখারী, হাদীস ২৪৫৮, ২৬৮০, ৬৯৬৭, ৭১৬৯, ৭১৮১, ৭১৮৫ মুসলিম, হাদীস ১৭১৩)
অর্থাৎ আমি তো মানুষ মাত্র। আর তোমরা আমার কাছে মাঝে মাঝে বিচার নিয়ে আসো। হয়তো বা তোমাদের কেউ কেউ নিজ প্রমাণ উপস্থাপনে অন্যের চাইতে অধিক পারঙ্গম। অতএব আমি শুনার ভিত্তিতেই তার পক্ষে ফায়সালা করে দেই। সুতরাং আমি যার পক্ষে তার কোন মুসলমান ভাইয়ের কিছু অধিকার ফায়সালা করে দেই সে যেন তা গ্রহণ না করে। কারণ, আমি উক্ত বিচারের ভিত্তিতে তার হাতে একটি জাহান্নামের আগুনের টুকরাই উঠিয়ে দেই।