📄 কাউকে কিছু দান করে তা আবার ফেরত নেয়া
কাউকে কিছু দান করে তা আবার ফেরত নেয়া হারাম।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর ও হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
لَا يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يُعْطِيَ عَطِيَّةً أَوْ يَهَبَ هِبَةً فَيَرْجِعَ فِيْهَا إِلَّا الْوَالِدَ فِيْمَا يُعْطِي وَلَدَهُ ، وَ مَثَلُ الَّذِي يُعْطِي الْعَطِيَّةَ ثُمَّ يَرْجِعُ فِيْهَا كَمَثَلِ الْكَلْبِ يَأْكُلُ فَإِذَا شَبِعَ قَاءَ ، ثُمَّ عَادَ فِي قَيْنِهِ (আবু দাউদ, হাদীস ৩৫৩৯ নাসায়ী, হাদীস ৩৬৯২ ইন্নু মাজাহ, হাদীস ২৪০৬, ২৪০৭, ২৪১৩, ২৪১৪, ২৪১৫)
অর্থাৎ কারোর জন্য হালাল হবে না যে, সে কোন কিছু দান করে তা আবার ফেরত নিবে। তবে পিতা কোন কিছু নিজ সন্তানকে দিয়ে তা আবার ফেরত নিতে পারে। যে ব্যক্তি কোন কিছু দান করে তা আবার ফেরত নেয় তার দৃষ্টান্ত সে কুকুরের ন্যায় যে পেট ভরে খেয়ে বমি করে দেয়। অতঃপর সে বমিগুলো আবার নিজে খায়।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَيْسَ لَنَا مَثَلُ السُّوْءِ ؛ الْعَائِدُ فِي هَبَتِهِ كَالْكَلْبِ يَعُودُ فِي قَيْتَه (তিরমিযী, হাদীস ১২৯৮ নাসায়ী, হাদীস ৩৭০১)
অর্থাৎ আমাদের জন্য নিকৃষ্ট কোন দৃষ্টান্ত নেই, যেহেতু আমরা মু'মিন। যে ব্যক্তি কোন কিছু দান করে তা আবার ফেরত নেয় তার দৃষ্টান্ত সেই কুকুরের ন্যায় যে বমি করে তা আবার নিজে খায়।
কেউ কারোর কাছ থেকে নিজ দান ফেরত নিতে চাইলে সে হুবহু তাই ফেরত নিবে যা সে দান করেছে। এর চাইতে এতটুকুও সে আর বেশি নিতে পারবে না। যদিও তা তার দানেরই ফলাফল হোক না কেন।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَثَلُ الَّذِي يَسْتَرِدُّ مَا وَهَبَ كَمَثَلِ الْكَلْبِ يَقِيءُ فَيَأْكُلُ قَيْئَهُ ، فَإِذَا اسْتَرَدَّ الْوَاهِبُ فَلْيُوَقِّفْ فَلْيُعَرَّفْ بِمَا اسْتَرَدَّ ثُمَّ لِيُدْفَعْ إِلَيْهِ مَا وَهَبَ (আবু দাউদ, হাদীস ৩৫৪০)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোন কিছু দান করে তা আবার ফেরত নেয় তার দৃষ্টান্ত সে কুকুরের ন্যায় যে বমি করে তা আবার নিজে খায়। যদি কোন ব্যক্তি কাউকে কোন কিছু দান করে সে আবার তা ফেরত নেয় তা হলে তাকে সেখানেই দাঁড় করিয়ে সে যা ফেরত নিয়েছে তা যেন তাকে বুঝিয়ে দেয়া হয় এবং তাকে তাই দেয়া হয় যা সে দান করেছে।
📄 কারোর বিক্রির উপর অন্যের বিক্রি অথবা কারোর বিবাহের উপর অন্যের প্রস্তাব
কারোর বিক্রির উপর অন্যের বিক্রি অথবা কারোর বিবাহের প্রস্তাবের উপর অন্যের প্রস্তাব হারাম।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لا يَبِعِ الرَّجُلُ عَلَى بَيْعِ أَخِيهِ ، وَ لَا يَخْطُبْ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ إِلَّا أَنْ يَأْذَنَ لَهُ (মুসলিম, হাদীস ১৪১২)
অর্থাৎ কোন ব্যক্তি তার কোন মুসলিম ভাইয়ের বিক্রির উপর দ্বিতীয় বিক্রি করবে না এবং কোন ব্যক্তি তার কোন মুসলিম ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর দ্বিতীয় প্রস্তাব দিবে না যতক্ষণ না তাকে পূর্ব ব্যক্তি উক্ত কাজের অনুমতি দেয়।
হযরত ‘উক্ববাহ্ বিন্ ‘আমির এ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الْمُؤْمِنُ أَخَوَ الْمُؤْمِنِ ، فَلَا يَحِلُّ لِلْمُؤْمِنِ أَنْ يَبْتَاعَ عَلَى بَيْعِ أَخِيْهِ ، وَ لَا يَخْطُبَ عَلَى خَطْبَة أَخِيهِ حَتَّى يَذَرَ (মুসলিম, হাদীস ১৪১৪)
অর্থাৎ মু'মিন তো মু'মিনেরই ভাই। সুতরাং কোন মু'মিনের জন্য হালাল হবে না তার অন্য কোন মু'মিন ভাইয়ের বিক্রির উপর দ্বিতীয় বিক্রি করা এবং তার অন্য কোন মু'মিন ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর দ্বিতীয় প্রস্তাব দেয়া যতক্ষণ না সে উক্ত বিক্রি বা বিবাহের প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়।
📄 হারাম বস্তু দিয়ে চিকিৎসা করা
হারাম বস্তু দিয়ে চিকিৎসা করাও হারাম।
নবী ইরশাদ করেন:
إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى خَلَقَ الدَّاءَ وَ الدَّوَاءَ ، فَتَدَاوَوْا ، وَ لَا تَتَدَاوَوْا بِحَرَامٍ (স্বা'হী'হল-জা'মি', হাদীস ১৬৩৩)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা রোগ সৃষ্টি করেছেন এবং তার সাথে তার চিকিৎসাও। সুতরাং রোগ হলে তোমরা তার চিকিৎসা করো। তবে হারাম বস্তু দিয়ে চিকিৎসা করো না।
আল্লাহ তা'আলা হারাম বস্তুর মধ্যে এ উম্মতের জন্য কোন চিকিৎসাই রাখেননি।
হযরত উম্মে সালামাহ্ (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ﷺ ইরশাদ করেন:
إِنَّ اللهَ لَمْ يَجْعَلْ شِفَاءَكُمْ فِيْمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ (বাইহাকী, হাদীস ২১৪৬৩ ইবনু হিব্বান, খণ্ড ৪ হাদীস ১৩১১)
অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা হারাম বস্তুর মধ্যে তোমাদের জন্য কোন চিকিৎসা রাখেননি।
📄 একটু কমবেশি করে সোনার পরিবর্তে সোনা অথবা রুপার পরিবর্তে রুপা বিক্রি করা
একটু কমবেশি করে সোনার পরিবর্তে সোনা অথবা রুপার পরিবর্তে রুপা বিক্রি করা হারাম।
হযরত আবু বাকরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لا تَبِيعُوا الذَّهَبَ بِالذَّهَب إِلا سَوَاءً بِسَوَاء ، وَ الْفِضَّةَ بِالْفِضَّةِ سَوَاءً بِسَوَاءِ، وَ بِيْعُوا الذَّهَبَ بِالْفِضَّةِ وَالْفِضَّةَ بِالذَّهَبِ كَيْفَ شِئْتُمْ (বুখারী, হাদীস ২১৭৫, ২১৮২ মুসলিম, হাদীস ১৫৯০)
অর্থাৎ তোমরা সোনাকে সোনার পরিবর্তে কোন রকম কমবেশি করা ছাড়া সমান পরিমাণে বিক্রি করবে এবং রূপাকে রুপার পরিবর্তে কোন রকম কমবেশি করা ছাড়া সমান পরিমাণে বিক্রি করবে। তবে সোনাকে রুপার পরিবর্তে এবং রুপাকে সোনার পরিবর্তে যাচ্ছে তাই বিক্রি করতে পারো। হযরত আবু সা'ঈদ খুদ্রী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لا تَبِيعُوا الذَّهَبَ بِالذَّهَبِ إِلَّا مِثْلاً بِمِثْلٍ ، وَ لَا تُشِفُوْا بَعْضَهَا عَلَى بَعْضٍ ، وَ لَا تَبِيْعُوا الْوَرِقَ بِالْوَرِقِ إِلَّا مِثْلاً بِمِثْلٍ ، وَ لَا تُشِفُوْا بَعْضَهَا عَلَى
بَعْضٍ ، وَ لَا تَبِيعُوْا مِنْهَا غَائِبًا بِنَاجِرٍ (বুখারী, হাদীস ২১৭৭ মুসলিম, হাদীস ১৫৮৪)
অর্থাৎ তোমরা সোনাকে সোনার পরিবর্তে সমান পরিমাণে বিক্রি করবে; তাতে কোন রকম কমবেশি করো না এবং রুপাকে রুপার পরিবর্তে সমান পরিমাণে বিক্রি করবে; তাতে কোন রকম কমবেশি করো না। তবে এর মধ্যে কোনটা অনুপস্থিত থাকলে উপস্থিতের পরিবর্তে তা বিক্রি করবে না। অর্থাৎ এ সকল ক্ষেত্রে উভয় পণ্যই সাথে সাথে হস্তান্তর করতে হবে। বাকিতে বিক্রি করা যাবে না।