📄 শক্ত হওয়া বা পাকার আগে কোন ফল-পষ্যু বিক্রি করা
শক্ত হওয়া বা পাকার আগে কোন ফল-শস্য বিক্রি করা হারাম। হযরত জাবির বিন্ ‘আব্দুল্লাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
نَهَى رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَنْ بَيْعِ الثَّمَرِ حَتَّى يَبْدُوَ صَلَاحُهُ، وَ فِي رِوَايَةٍ حَتَّى يَطِيبَ، وَ فِي رِوَايَةِ: عَنْ بَيْعِ الثَّمَرَةِ حَتَّى تُطْعِمَ، وَ فِي رِوَايَةٍ حَتَّى تُسْقِهَ، وَفِي رِوَايَةِ : حَتَّى تُسْقِحَ وَ فِي رِوَايَةِ: وَ تَأْمَنَ الْعَاهَةَ (মুসলিম, হাদীস ১৫৩৬ স্বা'হীহল-জা'মি', হাদীস ৬৯২৪)
অর্থাৎ রাসূল নিষেধ করেছেন কোন ফল বা শস্য বিক্রি করতে যতক্ষণ না তা খাওয়ার উপযুক্ত হয়, পাকে তথা লাল বা হলদে রং ধারণ করে কিংবা তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কামুক্ত হয়। হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাবিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
نَهَى رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ عَنْ بَيْعِ النَّخْلِ حَتَّى يَزْهُوَ، وَعَنِ السُّنْبُلِ حَتَّى يَبْيَضُ وَيَأْمَنَ الْعَاهَةَ، نَهَى الْبَائِعَ وَالْمُشْتَرِيَ (মুসলিম, হাদীস ১৫৩৫)
অর্থাৎ রাসূল নিষেধ করেছেন খেজুর বিক্রি করতে যতক্ষণ না তা লাল বা হলদে রং ধারণ করে এবং শস্য বিক্রি করতে যতক্ষণ না তা সাদা রং ধারণ করে ও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কামুক্ত হয়। তিনি তা করতে নিষেধ করেছেন ক্রেতা- বিক্রেতা উভয়কেই।
📄 কুকুরের বিক্রিমূল্য, ব্যভিচারিণী ব্যভিচারমূলক পয়সা অথবা গণকের গণনাপ্রাপ্ত পয়সা গ্রহণ করা
কুকুরের বিক্রিমূল্য, ব্যভিচারিণীর ব্যভিচারলব্ধ পয়সা অথবা গণকের গণনালব্ধ পয়সা গ্রহণ করা হারাম। হযরত আবু মাস্'উদ্ আন্সারী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
نَهَى رَسُولُ اللهِ ﷺ عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ وَ مَهْرِ الْبَغِيِّ وَ حُلْوَانِ الْكَاهِنِ (মুসলিম, হাদীস ১৫৬৭)
অর্থাৎ রাসূল নিষেধ করেছেন কুকুরের বিক্রিমূল্য, ব্যভিচারিণীর ব্যভিচারলব্ধ পয়সা এবং গণকের গণনালব্ধ পয়সা গ্রহণ করতে। হযরত রা'ফি' বিন্ খাদীজ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
ثَمَنُ الْكَلْبِ خَبِيْتٌ ، وَ مَهْرُ الْبَغِيِّ خَبِيْتٌ ، وَ كَسْبُ الْحَجَّامِ خَبِيْتٌ (মুসলিম, হাদীস ১৫৬৮)
অর্থাৎ কুকুরের বিক্রিলব্ধ পয়সা নিকৃষ্ট, ব্যভিচারিণীর ব্যভিচারলব্ধ পয়সা এবং কারোর শরীর থেকে দূষিত রক্ত বের করে উপার্জিত পয়সা নিকৃষ্ট। তবে পরবর্তীতে কারোর শরীর থেকে দূষিত রক্ত বের করে উপার্জিত পয়সাগুলো হালাল করে দেয়া হয়। রাসূল একদা জনৈক দূষিত রক্ত বেরকারী গোলামকে তাঁর দূষিত রক্ত বের করার কাজ শেষে উক্ত কর্মের পয়সাগুলো দিয়ে দেন এবং তার জন্য টেক্স কমানোর সুপারিশ করেন। হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
حَجَمَ النَّبِيَّ عَبْدٌ لِبَنِي بَيَاضَةَ ، فَأَعْطَاهُ النَّبِيُّ أَجْرَهُ، وَ كَلَّمَ سَيِّدَهُ فَخَفَّفَ عَنْهُ مِنْ ضَرِيْبَتِهِ ، وَ لَوْ كَانَ سُحْتًا لَمْ يُعْطِهِ النَّبِيُّ ﷺ (মুসলিম, হাদীস ১২০২)
অর্থাৎ একদা বানী বায়াযা গোত্রের জনৈক গোলাম নবী এর দূষিত রক্ত বের করে দিলে তিনি তাকে তার প্রাপ্য দিয়ে দেন এবং তার মালিকের সাথে কথা বলে তার টেক্স কমিয়ে দেন। যদি দূষিত রক্ত বেরকারীর উক্ত পয়সাগুলো হারাম হতো তা হলে নবী তাকে তা দিতেন না।
📄 ঋণ ও বিক্রি, এক চুক্তিতে দু' বিক্রি, মূল্যের দায়-দায়িত্ব নেয়া ছাড়া তা থেকে লাভ গ্রহণ এবং নিজের কাছে নেই এমন জিনিস বিক্রি করা
ঋণ ও বিক্রি, এক চুক্তিতে দু' বিক্রি, মূলের দায়-দায়িত্ব নেয়া ছাড়া তা থেকে লাভ গ্রহণ এবং নিজের কাছে নেই এমন জিনিস বিক্রি করা হারাম। হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর বিন্ ‘আস্ব (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল হযরত ‘আত্তাব বিন্ আসীদ্ কে মক্কায় পাঠানোর সময় বলেন:
أَتَدْرِي إِلَى أَيْنَ أَبْعَتُكَ؟ إِلَى أَهْلِ اللَّهِ، وَهُمْ أَهْلُ مَكَّةَ، فَانْهَهُمْ عَنْ أَربَعٍ: عَنْ بَيْعِ وَسَلَفَ ، وَ عَنْ شَرْطَيْنِ فِي بَيْعِ ، وَ رِبْحِ مَا لَمْ يُضْمَنْ ، وَ بَيْعِ مَا لَيْسَ عِنْدَكَ (সিসিলাতুল্-আ'হাদীসিস্-স্বা'হী'হাহ, হাদীস ১২১২)
অর্থাৎ তুমি কি জানো, আমি তোমাকে কোথায় পাঠাচ্ছি? আল্লাহ্ তা'আলার ঘরের নিকট অবস্থানকারীদের কাছে তথা মক্কার অধিবাসীদের নিকট। তুমি তাদেরকে চার জাতীয় বেচা-বিক্রি থেকে নিষেধ করবে: বিক্রি ও ঋণ, দু' শর্তে বিক্রি, মূলের দায়-দায়িত্ব নেয়া ছাড়া তা থেকে লাভ গ্রহণ এবং নিজের কাছে নেই এমন জিনিস বিক্রি।
হযরত ‘আবْدুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর বিন্ ‘আস্ব (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا يَحِلُّ سَلَفٌ وَ بَيْعٌ ، وَ لَا شَرْطَانِ فِي بَيْعِ ، وَ لَا رِبْحُ مَا لَمْ يُضْمَنْ ، وَ لَا بَيْعُ مَا لَيْسَ عِنْدَكَ (তিরমিযী, হাদীস ১২৩৪ ইবনু মাজাহ, হাদীস ২২১৮)
অর্থাৎ কোনভাবেই হালাল হবে না ঋণ ও বিক্রি, দু' শর্তে বিক্রি, মূলের দায়-দায়িত্ব নেয়া ছাড়া তা থেকে লাভ গ্রহণ এবং নিজের কাছে নেই এমন জিনিস বিক্রি।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنْ بَيْعَتَيْنِ فِي بَيْعَةِ (তিরমিযী, হাদীস ১২৩১)
অর্থাৎ রাসূল এক চুক্তিতে দু' বিক্রি নিষেধ করেছেন।
হযরত ‘হাকীম বিন্ ‘হিযাম থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসূল এর নিকট এসে বললাম: কখনো কখনো এমন হয় যে, জনৈক ব্যক্তি আমার নিকট থেকে এমন জিনিস ক্রয় করতে চায় যা আমার নিকট নেই। তা এভাবে যে, আমি মার্কেট থেকে তা ক্রয় করে তার কাছে বিক্রি করবো। তখন রাসূল আমাকে বললেন:
لَا تَبِعْ مَا لَيْسَ عِنْدَكَ (তিরমিযী, হাদীস ১২৩২ ইবনু মাজাহ, হাদীস ২২১৭)
অর্থাৎ তোমার কাছে নেই এমন জিনিস বিক্রি করো না।
ঋণ ও বিক্রি মানে আপনি এমন বললেন যে, আমি তোমার নিকট এ সাইকেলটি বিক্রি করলাম এ শর্তে যে, তুমি আমাকে এক হাজার টাকা ঋণ দিবে। এতে ঋণের মাধ্যমে লাভ গ্রহণ করা হয় যা হারাম।
দু' শর্তে বিক্রি তথা এক চুক্তিতে দু' বিক্রি মানে আপনি এমন বললেন যে, আমি এ কাপড়টি তোমার নিকট নগদে এক শ' এবং বাকিতে দু' শ' টাকায় বিক্রি করলাম অথবা এমন বললেন যে, আমি এ কাপড়টি তোমার নিকট এক মাসে টাকা পরিশোধের শর্তে এক শ' টাকা এবং দু' মাসে টাকা পরিশোধের শর্তে দু' শ' টাকায় বিক্রি করলাম।
মূলের দায়-দায়িত্ব নেয়া ছাড়া তা থেকে লাভ গ্রহণ মানে আপনি কারোর থেকে কোন পণ্য খরিদ করে তা অধিকারে আনার পূর্বেই অন্যের নিকট তা কিছু লাভের ভিত্তিতে বিক্রি করে দিলেন। তখন আপনি উক্ত পণ্যের দায়-দায়িত্ব না নিয়েই তা থেকে লাভ গ্রহণ করলেন। কারণ, উক্ত পণ্যের দায়-দায়িত্ব তো এখনো প্রথম বিক্রেতার উপর।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِذَا اشْتَرَيْتَ مَبِيعًا فَلَا تَبِعْهُ حَتَّى تَقْبِضَهُ (স্বা'হী'হল-জা'মি', হাদীস ৩৪২)
অর্থাৎ যখন তুমি কোন পণ্য খরিদ করো তখন তা বিক্রি করবে না যতক্ষণ না তা অধিকারে আনো।
নিজের কাছে নেই এমন জিনিস বিক্রি করা মানে কোন গরু বা মহিষ পালিয়ে গিয়েছে; অথচ আপনি তা বিক্রি করে দিয়েছেন। কোন জমিন আপনার দখলে নেই তথা যা আপনার হাত ছাড়া; অথচ আপনি তা বিক্রি করে দিয়েছেন।
📄 কাউকে কিছু দান করে তা আবার ফেরত নেয়া
কাউকে কিছু দান করে তা আবার ফেরত নেয়া হারাম।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর ও হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
لَا يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يُعْطِيَ عَطِيَّةً أَوْ يَهَبَ هِبَةً فَيَرْجِعَ فِيْهَا إِلَّا الْوَالِدَ فِيْمَا يُعْطِي وَلَدَهُ ، وَ مَثَلُ الَّذِي يُعْطِي الْعَطِيَّةَ ثُمَّ يَرْجِعُ فِيْهَا كَمَثَلِ الْكَلْبِ يَأْكُلُ فَإِذَا شَبِعَ قَاءَ ، ثُمَّ عَادَ فِي قَيْنِهِ (আবু দাউদ, হাদীস ৩৫৩৯ নাসায়ী, হাদীস ৩৬৯২ ইন্নু মাজাহ, হাদীস ২৪০৬, ২৪০৭, ২৪১৩, ২৪১৪, ২৪১৫)
অর্থাৎ কারোর জন্য হালাল হবে না যে, সে কোন কিছু দান করে তা আবার ফেরত নিবে। তবে পিতা কোন কিছু নিজ সন্তানকে দিয়ে তা আবার ফেরত নিতে পারে। যে ব্যক্তি কোন কিছু দান করে তা আবার ফেরত নেয় তার দৃষ্টান্ত সে কুকুরের ন্যায় যে পেট ভরে খেয়ে বমি করে দেয়। অতঃপর সে বমিগুলো আবার নিজে খায়।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَيْسَ لَنَا مَثَلُ السُّوْءِ ؛ الْعَائِدُ فِي هَبَتِهِ كَالْكَلْبِ يَعُودُ فِي قَيْتَه (তিরমিযী, হাদীস ১২৯৮ নাসায়ী, হাদীস ৩৭০১)
অর্থাৎ আমাদের জন্য নিকৃষ্ট কোন দৃষ্টান্ত নেই, যেহেতু আমরা মু'মিন। যে ব্যক্তি কোন কিছু দান করে তা আবার ফেরত নেয় তার দৃষ্টান্ত সেই কুকুরের ন্যায় যে বমি করে তা আবার নিজে খায়।
কেউ কারোর কাছ থেকে নিজ দান ফেরত নিতে চাইলে সে হুবহু তাই ফেরত নিবে যা সে দান করেছে। এর চাইতে এতটুকুও সে আর বেশি নিতে পারবে না। যদিও তা তার দানেরই ফলাফল হোক না কেন।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَثَلُ الَّذِي يَسْتَرِدُّ مَا وَهَبَ كَمَثَلِ الْكَلْبِ يَقِيءُ فَيَأْكُلُ قَيْئَهُ ، فَإِذَا اسْتَرَدَّ الْوَاهِبُ فَلْيُوَقِّفْ فَلْيُعَرَّفْ بِمَا اسْتَرَدَّ ثُمَّ لِيُدْفَعْ إِلَيْهِ مَا وَهَبَ (আবু দাউদ, হাদীস ৩৫৪০)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোন কিছু দান করে তা আবার ফেরত নেয় তার দৃষ্টান্ত সে কুকুরের ন্যায় যে বমি করে তা আবার নিজে খায়। যদি কোন ব্যক্তি কাউকে কোন কিছু দান করে সে আবার তা ফেরত নেয় তা হলে তাকে সেখানেই দাঁড় করিয়ে সে যা ফেরত নিয়েছে তা যেন তাকে বুঝিয়ে দেয়া হয় এবং তাকে তাই দেয়া হয় যা সে দান করেছে।