📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য বিক্রি করা

📄 মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য বিক্রি করা


মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য বিক্রি করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্ ও হারাম কাজ। রাসূল ইরশাদ করেন:
‏ثَلَاثَةٌ لَا يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، وَ لَا يُزَكِّيهِمْ وَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ : أَشَيْمِطٌ ‏زَانِ ، وَ عَائِلٌ مُسْتَكْبِرٌ ، وَ رَجُلٌ جَعَلَ اللهُ بِضَاعَتَهُ لَا يَشْتَرِي إِلَّا بِيَمِينِهِ ، وَ لَا ‏يَبِيعُ إِلَّا بِيَمِينِهِ (স'হী'হল-জা'মি', হাদীস ৩০৭২)
অর্থাৎ তিন জাতীয় মানুষের প্রতি আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন (সুদৃষ্টিতে) তাকাবেন না, তাদেরকে গুনাহ্ থেকে পবিত্রও করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা হচ্ছে, বৃদ্ধ ব্যভিচারী, নির্ধন গর্বকারী এবং এমন এক ব্যক্তি যার পণ্যের অবস্থা আল্লাহ্ তা'আলা এমন করেছেন যে, কিনতে গেলেও সে কসম খায় এবং বিক্রি করতে গেলেও সে কসম খায়।
ব্যবসার ক্ষেত্রে কসম খেলে পণ্য দ্রুত বিক্রি করা যায় ঠিকই। কিন্তু তাতে সত্যিকার অর্থে কোন ফায়েদা বা বরকত নেই। হযরত আবু ক্বাতাদাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
‏إِيَّاكُمْ وَ كَثْرَةَ الْحَلِفِ فِي الْبَيْعِ ، فَإِنَّهُ يُنَفِّقُ ثُمَّ يَمْحَقُ (মুসলিম, হাদীস ১৬০৭)
অর্থাৎ তোমরা বেচা-বিক্রিতে বেশি কসম খাওয়া থেকে দূরে থাকো। কারণ, তাতে পণ্য বাজারজাত হয় বেশি ঠিকই। তবে তাতে কোন বরকত থাকে না।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কোন হারাম বস্তুর ক্রয়-বিক্রি ও এর বিক্রিলব্ধ পয়সা খাওয়া

📄 কোন হারাম বস্তুর ক্রয়-বিক্রি ও এর বিক্রিলব্ধ পয়সা খাওয়া


কোন হারাম বস্তুর ক্রয়-বিক্রি ও এর বিক্রিলব্ধ পয়সা খাওয়া হারাম।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَتَعَاوَنُوْا عَلَى الْبِرِّ وَ التَّقْوَى ، وَ لَا تَعَاوَنُوْا عَلَى الإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ، وَ اتَّقُوْا (إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ ) (মা'য়িদাহ : ২)
অর্থাৎ তোমরা একে অপরকে নেক কাজ ও আল্লাহভীরুতা প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করো। তবে গুনাহ্'র কাজ ও শত্রুতা বিকাশে কারোর সাহায্য করো না এবং আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই তিনি কঠিন শাস্তিদাতা।
এ কথা নিশ্চিত যে, কারোর কাছ থেকে কোন হারাম বস্তু ক্রয় করা মানে হারামের প্রচার-প্রসারে তার সহযোগিতা করা এবং কারোর নিকট কোন হারাম বস্তু বিক্রি করা মানে তাকে উক্ত হারাম কাজে উৎসাহিত করা।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি একদা রাসূল কে বাইতুল্লাহ্’র রুক্নে ইয়ামানীর পার্শ্বে বসা অবস্থায় দেখেছিলাম। তিনি তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে হেঁসে বললেন:
لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ ثَلاثًا ، إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَيْهِمُ الشُّحُوْمَ فَبَاعُوْهَا وَأَكَلُوْا أَثْمَانَهَا، وَإِنَّ اللَّهَ إِذَا حَرَّمَ عَلَى قَوْمٍ أَكْلَ شَيْءٍ حَرَّمَ عَلَيْهِمْ ثَمَنَهُ (আবু দাউদ, হাদীস ৩৪৮৮)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ইহুদিদেরকে লা'نত করুক। রাসূল এ কথাটি তিনবার বলেছেন। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের উপর চর্বি হারাম করে দিয়েছেন; অথচ তারা তা বিক্রি করে সে পয়সা ভক্ষণ করে। বস্তুতঃ আল্লাহ্ তা'আলা কোন জাতির উপর কোন কিছু খাওয়া হারাম করলে তার বিক্রিলব্ধ পয়সাও হারাম করে দেন।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 শক্ত হওয়া বা পাকার আগে কোন ফল-পষ্যু বিক্রি করা

📄 শক্ত হওয়া বা পাকার আগে কোন ফল-পষ্যু বিক্রি করা


শক্ত হওয়া বা পাকার আগে কোন ফল-শস্য বিক্রি করা হারাম। হযরত জাবির বিন্ ‘আব্দুল্লাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
نَهَى رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَنْ بَيْعِ الثَّمَرِ حَتَّى يَبْدُوَ صَلَاحُهُ، وَ فِي رِوَايَةٍ حَتَّى يَطِيبَ، وَ فِي رِوَايَةِ: عَنْ بَيْعِ الثَّمَرَةِ حَتَّى تُطْعِمَ، وَ فِي رِوَايَةٍ حَتَّى تُسْقِهَ، وَفِي رِوَايَةِ : حَتَّى تُسْقِحَ وَ فِي رِوَايَةِ: وَ تَأْمَنَ الْعَاهَةَ (মুসলিম, হাদীস ১৫৩৬ স্বা'হীহল-জা'মি', হাদীস ৬৯২৪)
অর্থাৎ রাসূল নিষেধ করেছেন কোন ফল বা শস্য বিক্রি করতে যতক্ষণ না তা খাওয়ার উপযুক্ত হয়, পাকে তথা লাল বা হলদে রং ধারণ করে কিংবা তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কামুক্ত হয়। হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাবিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
نَهَى رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ عَنْ بَيْعِ النَّخْلِ حَتَّى يَزْهُوَ، وَعَنِ السُّنْبُلِ حَتَّى يَبْيَضُ وَيَأْمَنَ الْعَاهَةَ، نَهَى الْبَائِعَ وَالْمُشْتَرِيَ (মুসলিম, হাদীস ১৫৩৫)
অর্থাৎ রাসূল নিষেধ করেছেন খেজুর বিক্রি করতে যতক্ষণ না তা লাল বা হলদে রং ধারণ করে এবং শস্য বিক্রি করতে যতক্ষণ না তা সাদা রং ধারণ করে ও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কামুক্ত হয়। তিনি তা করতে নিষেধ করেছেন ক্রেতা- বিক্রেতা উভয়কেই।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কুকুরের বিক্রিমূল্য, ব্যভিচারিণী ব্যভিচারমূলক পয়সা অথবা গণকের গণনাপ্রাপ্ত পয়সা গ্রহণ করা

📄 কুকুরের বিক্রিমূল্য, ব্যভিচারিণী ব্যভিচারমূলক পয়সা অথবা গণকের গণনাপ্রাপ্ত পয়সা গ্রহণ করা


কুকুরের বিক্রিমূল্য, ব্যভিচারিণীর ব্যভিচারলব্ধ পয়সা অথবা গণকের গণনালব্ধ পয়সা গ্রহণ করা হারাম। হযরত আবু মাস্'উদ্‌ আন্সারী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
نَهَى رَسُولُ اللهِ ﷺ عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ وَ مَهْرِ الْبَغِيِّ وَ حُلْوَانِ الْكَاهِنِ (মুসলিম, হাদীস ১৫৬৭)
অর্থাৎ রাসূল নিষেধ করেছেন কুকুরের বিক্রিমূল্য, ব্যভিচারিণীর ব্যভিচারলব্ধ পয়সা এবং গণকের গণনালব্ধ পয়সা গ্রহণ করতে। হযরত রা'ফি' বিন্ খাদীজ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
ثَمَنُ الْكَلْبِ خَبِيْتٌ ، وَ مَهْرُ الْبَغِيِّ خَبِيْتٌ ، وَ كَسْبُ الْحَجَّامِ خَبِيْتٌ (মুসলিম, হাদীস ১৫৬৮)
অর্থাৎ কুকুরের বিক্রিলব্ধ পয়সা নিকৃষ্ট, ব্যভিচারিণীর ব্যভিচারলব্ধ পয়সা এবং কারোর শরীর থেকে দূষিত রক্ত বের করে উপার্জিত পয়সা নিকৃষ্ট। তবে পরবর্তীতে কারোর শরীর থেকে দূষিত রক্ত বের করে উপার্জিত পয়সাগুলো হালাল করে দেয়া হয়। রাসূল একদা জনৈক দূষিত রক্ত বেরকারী গোলামকে তাঁর দূষিত রক্ত বের করার কাজ শেষে উক্ত কর্মের পয়সাগুলো দিয়ে দেন এবং তার জন্য টেক্স কমানোর সুপারিশ করেন। হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
حَجَمَ النَّبِيَّ عَبْدٌ لِبَنِي بَيَاضَةَ ، فَأَعْطَاهُ النَّبِيُّ أَجْرَهُ، وَ كَلَّمَ سَيِّدَهُ فَخَفَّفَ عَنْهُ مِنْ ضَرِيْبَتِهِ ، وَ لَوْ كَانَ سُحْتًا لَمْ يُعْطِهِ النَّبِيُّ ﷺ (মুসলিম, হাদীস ১২০২)
অর্থাৎ একদা বানী বায়াযা গোত্রের জনৈক গোলাম নবী এর দূষিত রক্ত বের করে দিলে তিনি তাকে তার প্রাপ্য দিয়ে দেন এবং তার মালিকের সাথে কথা বলে তার টেক্স কমিয়ে দেন। যদি দূষিত রক্ত বেরকারীর উক্ত পয়সাগুলো হারাম হতো তা হলে নবী তাকে তা দিতেন না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00