📄 পণ্যের দোষ-ত্রুটি ক্রেতাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা
পণ্যের দোষ-ত্রুটি ক্রেতাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা আরেকটি হারাম কাজ।
হযরত ‘উক্ববাহ্ বিন্ ‘আমির থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الْمُسْلِمُ أَخْوَ الْمُسْلِمِ ، وَ لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمِ بَاعَ مِنْ أَخِيهِ بَيْعًا فِيْهِ عَيْبٌ إِلَّا بَيْنَهُ لَهُ (ইন্নু মাজাহ, হাদীস ২২৭৬ স'হীহল্ জামি', হাদীস ৬৭০৫)
অর্থাৎ একজন মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই। অতএব কোন মুসলমান অন্য কোন মুসলমান ভাইয়ের কাছে ত্রুটিযুক্ত কোন কিছু বিক্রি করলে তার জন্য সে ত্রুটি লুকিয়ে রাখা কখনোই জায়িয নয়। বরং তা তাকে অবশ্যই জানিয়ে দিতে হবে।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা রাসূল খাদ্যের একটি স্তূপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি উক্ত স্তূপে হাত ঢুকিয়ে দিলে ভেতরের খাদ্য ভেজা দেখতে পান। তখন তিনি বলেন:
مَا هَذَا يَا صَاحِبَ الطَّعَامِ ؟ قَالَ : أَصَابَتْهُ السَّمَاءُ يَا رَسُولَ اللَّهِ! قَالَ: أَفَلَا جَعَلْتَهُ فَوْقَ الطَّعَامِ كَيْ يَرَاهُ النَّاسُ؟ مَنْ غَشَ فَلَيْسَ مِنِّي (মুসলিম, হাদীস ১০২)
অর্থাৎ এটা কি, হে খাদ্যের মালিক? সে বললো: হে রাসূল! বৃষ্টি হয়েছিলো তো তাই। রাসূল বললেন: তুমি কেন ভেজা খাদ্যগুলো উপরে রাখলে না তা হলেই তো মানুষ তা দেখতে পেতো। যে কোন মুসলমানকে ধোঁকা দিলো তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।
প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে এ কথা জানতে হবে যে, বেচা-বিক্রিতে কাউকে ধোঁকা দিলে সে ব্যবসায় বরকত ও সত্যিকারের সমৃদ্ধি কখনোই আসে না। হঠাৎ দেখা যাবে কোন একটি জটিল রোগ একই চোটে লক্ষ লক্ষ টাকা নষ্ট করে দিলো। হঠাৎ ব্যবসায় ধস নেমে কোটি কোটি টাকা নষ্ট হয়ে গেলো। হযরত ‘হাকীম বিন্ ‘হিযাম থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا ، فَإِنْ صَدَقَا وَ بَيْنَا بُوْرِكَ لَهُمَا فِي بَيْعِهِمَا ، وَ إِنْ كَذَبَا وَ كَتَمَا مُحقَتْ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا (বুখারী, হাদীস ২১১০)
অর্থাৎ ক্রেতা-বিক্রেতা ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যাপারে স্বাধীন যতক্ষণ না তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়। যদি তারা এ ক্ষেত্রে সত্যবাদিতার পরিচয় দেয় এবং পণ্যের দোষ-ত্রুটির ব্যাপারে উভয়ে খোলাখুলি আলোচনা করে তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত দিবেন। আর যদি তারা এ ক্ষেত্রে মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং পণ্যের দোষ-ত্রুটি একে অপর থেকে লুকিয়ে রাখে তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ক্রয়-বিক্রয় থেকে বরকত উঠিয়ে নিবেন।
📄 দাবা খেলা
দাবা খেলা আরেকটি হারাম কাজ। এতে করে জুয়ার প্রশস্ত পথ খুলে যায় এবং প্রচুর মূল্যবান সময় বিনষ্ট হয়।
হযরত আবু মূসা আশ্'আরী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدِ ؛ فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَ رَسُولَهُ (আবু দাউদ, হাদীস ৪৯৩৮ ইবনু মাজাহ, হাদীস ৩৮৩০)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি দাবা খেললো সে আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল এর অবাধ্য হলো।
হ হযরত বুরাইদাহ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدَشِيرِ فَكَأَنَّمَا صَبَعَ ، وَ فِي رِوَايَة : غَمَسَ يَدَهُ فِي لَحْمٍ خِنْزِيرٍ وَ دَمِهِ (মুসলিম, হাদীস ২৬৬০ আবু দাউদ, হাদীস ৪৯৩৯ ইবনু মাজাহ, হাদীস ৩৮৩১)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি দাবা খেললো সে যেন তার হাত খানা শুকরের গোস্ত ও রক্তে রঞ্জিত করলো অথবা তাতে ডুবিয়ে দিলো।
📄 মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য বিক্রি করা
মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য বিক্রি করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্ ও হারাম কাজ। রাসূল ইরশাদ করেন:
ثَلَاثَةٌ لَا يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، وَ لَا يُزَكِّيهِمْ وَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ : أَشَيْمِطٌ زَانِ ، وَ عَائِلٌ مُسْتَكْبِرٌ ، وَ رَجُلٌ جَعَلَ اللهُ بِضَاعَتَهُ لَا يَشْتَرِي إِلَّا بِيَمِينِهِ ، وَ لَا يَبِيعُ إِلَّا بِيَمِينِهِ (স'হী'হল-জা'মি', হাদীস ৩০৭২)
অর্থাৎ তিন জাতীয় মানুষের প্রতি আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন (সুদৃষ্টিতে) তাকাবেন না, তাদেরকে গুনাহ্ থেকে পবিত্রও করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা হচ্ছে, বৃদ্ধ ব্যভিচারী, নির্ধন গর্বকারী এবং এমন এক ব্যক্তি যার পণ্যের অবস্থা আল্লাহ্ তা'আলা এমন করেছেন যে, কিনতে গেলেও সে কসম খায় এবং বিক্রি করতে গেলেও সে কসম খায়।
ব্যবসার ক্ষেত্রে কসম খেলে পণ্য দ্রুত বিক্রি করা যায় ঠিকই। কিন্তু তাতে সত্যিকার অর্থে কোন ফায়েদা বা বরকত নেই। হযরত আবু ক্বাতাদাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِيَّاكُمْ وَ كَثْرَةَ الْحَلِفِ فِي الْبَيْعِ ، فَإِنَّهُ يُنَفِّقُ ثُمَّ يَمْحَقُ (মুসলিম, হাদীস ১৬০৭)
অর্থাৎ তোমরা বেচা-বিক্রিতে বেশি কসম খাওয়া থেকে দূরে থাকো। কারণ, তাতে পণ্য বাজারজাত হয় বেশি ঠিকই। তবে তাতে কোন বরকত থাকে না।
📄 কোন হারাম বস্তুর ক্রয়-বিক্রি ও এর বিক্রিলব্ধ পয়সা খাওয়া
কোন হারাম বস্তুর ক্রয়-বিক্রি ও এর বিক্রিলব্ধ পয়সা খাওয়া হারাম।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَتَعَاوَنُوْا عَلَى الْبِرِّ وَ التَّقْوَى ، وَ لَا تَعَاوَنُوْا عَلَى الإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ، وَ اتَّقُوْا (إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ ) (মা'য়িদাহ : ২)
অর্থাৎ তোমরা একে অপরকে নেক কাজ ও আল্লাহভীরুতা প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করো। তবে গুনাহ্'র কাজ ও শত্রুতা বিকাশে কারোর সাহায্য করো না এবং আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই তিনি কঠিন শাস্তিদাতা।
এ কথা নিশ্চিত যে, কারোর কাছ থেকে কোন হারাম বস্তু ক্রয় করা মানে হারামের প্রচার-প্রসারে তার সহযোগিতা করা এবং কারোর নিকট কোন হারাম বস্তু বিক্রি করা মানে তাকে উক্ত হারাম কাজে উৎসাহিত করা।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি একদা রাসূল কে বাইতুল্লাহ্’র রুক্নে ইয়ামানীর পার্শ্বে বসা অবস্থায় দেখেছিলাম। তিনি তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে হেঁসে বললেন:
لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ ثَلاثًا ، إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَيْهِمُ الشُّحُوْمَ فَبَاعُوْهَا وَأَكَلُوْا أَثْمَانَهَا، وَإِنَّ اللَّهَ إِذَا حَرَّمَ عَلَى قَوْمٍ أَكْلَ شَيْءٍ حَرَّمَ عَلَيْهِمْ ثَمَنَهُ (আবু দাউদ, হাদীস ৩৪৮৮)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ইহুদিদেরকে লা'نত করুক। রাসূল এ কথাটি তিনবার বলেছেন। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের উপর চর্বি হারাম করে দিয়েছেন; অথচ তারা তা বিক্রি করে সে পয়সা ভক্ষণ করে। বস্তুতঃ আল্লাহ্ তা'আলা কোন জাতির উপর কোন কিছু খাওয়া হারাম করলে তার বিক্রিলব্ধ পয়সাও হারাম করে দেন।