📄 কারোর থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করা অথবা পরিশোধ করতে টালবাহানা করা
কারোর থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করা অথবা পরিশোধ করতে টালবাহানা করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্ বা হারাম। শরীয়তে ঋণের ব্যাপারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তা পরিশোধ না করে কিয়ামতের দিন এক কদমও সামনে এগুনো যাবে না। এমনকি যে ব্যক্তি নিজের জীবন ও ধন-সম্পদ সবকিছুই আল্লাহ্'র রাস্তায় বিলিয়ে দিয়েছে সেও নয়। রাসূল ইরশাদ করেন:
يُغْفَرُ لِلشَّهِيدِ كُلُّ ذَنْبِ إِلَّا الدَّيْنَ (সা'হীহল্ জা'মি', হাদীস ৮১১৯)
অর্থাৎ শুধুমাত্র ঋণ ছাড়া শহীদের সকল গুনাহ্ই ক্ষমা করে দেয়া হবে। রাসূল আরো ইরশাদ করেন:
سُبْحَانَ اللَّهِ! مَاذَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ التَّشْدِيدِ فِي الدِّيْنِ ، وَ الَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ رَجُلًا قُتِلَ فِي سَبِيْلِ اللَّهِ ثُمَّ أُحْيِيَ ثُمَّ قُتِلَ ثُمَّ أُحْيِيَ ثُمَّ قُتِلَ وَ عَلَيْهِ دَيْنٌ مَا دَخَلَ الْجَنَّةَ حَتَّى يُقْضَى عَنْهُ دَيْنُهُ (সা'হীহল্ জা'মি', হাদীস ৩৫৯৪)
অর্থাৎ কি আশ্চর্য! আল্লাহ্ তা'আলা ঋণের ব্যাপারে কতই না কঠিন বিধান নাযিল করেছেন! সেই সত্তার কসম খেয়ে বলছি যাঁর হাতে আমার জীবন, কোন ব্যক্তিকে আল্লাহ্'র রাস্তায় একবার শহীদ করা হলে অতঃপর আবারো জীবিত করা হলে অতঃপর আবারো শহীদ করা হলে অতঃপর আবারো জীবিত করা হলে অতঃপর আবারো শহীদ করা হলেও যদি তার উপর কোন ঋণ থেকে থাকে তা হলে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না তার উক্ত ঋণ তার পক্ষ থেকে আদায় করা হয়। ব্যাপারটি আরো কঠিন হয়ে দাঁড়ায় যখন কোন ব্যক্তি কারোর থেকে ঋণ নেয়ার সময়ই তা পরিশোধ না করার পরিকল্পনা করে অথবা তখনই তার দৃঢ় বিশ্বাস যে, সে কখনো তা পরিশোধ করতে পারবে না। কেউ কেউ তো এমনো মনে করে যে, আমি যার থেকে ঋণ নিয়েছি সে বড় ধনী ব্যক্তি। সুতরাং তাকে উক্ত ঋণ না দিলে তার কোন ক্ষতি হবে না। এ চিন্তা কখনোই সঠিক নয়। কারণ, ঋণ তো ঋণই। তা অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। চাই ঋণদাতার এর প্রতি কোন প্রয়োজন থাকুক বা নাই থাকুক। চাই তা কম হোক অথবা বেশি।
📄 কোন পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে দালালি করা
কোন পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে দালালি করা আরেকটি হারাম কাজ। দালালি বলতে নিলামে বিক্রি কোন মাল তো তার কেনার কোন ইচ্ছে নেই; অথচ সে উক্ত পণ্যের বেশি দাম হাঁকিয়ে ওর মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। রাসূল এমন কাজ করতে সবাইকে নিষেধ করে দিয়েছেন। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
وَ لَا تَنَاجَشُوا ، وَ لَا يَزِيدَنَّ عَلَى بَيْعِ أَخِيهِ (বুখারী, হাদীস ২৭২৩)
অর্থাৎ তোমরা দালালি করো না এবং এক জন মুসলমান অন্য মুসলমান ভাইয়ের ক্ষতি করার জন্য পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিবে না। বর্তমান যুগে নিলামে গাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে এমন অপতৎপরতা বেশি দেখা যায়। গাড়ির দাম হাঁকার সময় গাড়ির মালিক, তার বন্ধুবান্ধব অথবা কোন দালাল ক্রেতার বেশে ক্রেতাদের মাঝে সতর্কভাবে ঢুকে পড়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়; অথচ পণ্যটি কেনার তাদের কোন ইচ্ছে নেই। এতে করে ক্রেতারা প্রতারিত হয়। কারণ, তারা তখন পণ্যটি আসল দামের চাইতে অনেক বেশি দামে কিনতে বাধ্য হয়; অথচ রাসূল উক্ত অপতৎপরতাকে জাহান্নামের কারণ বলে আখ্যায়িত করেন।
হযরত ক্বাইস্ বিন্ সা'দ্ ও হযরত আনাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الْمَكْرُ وَ الْخَدِيعَةُ فِي النَّارِ (ইব্বু ‘আদি' ২/৫৮৪ বায়হাক্বী/শু'আবুল ঈমান ২/১০৫/২ হা'কিম ৪/৬০৭)
অর্থাৎ ধোঁকা ও ষড়যন্ত্র জাহান্নামে যাওয়ার বিশেষ কারণ।
📄 পণ্যের দোষ-ত্রুটি ক্রেতাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা
পণ্যের দোষ-ত্রুটি ক্রেতাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা আরেকটি হারাম কাজ।
হযরত ‘উক্ববাহ্ বিন্ ‘আমির থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الْمُسْلِمُ أَخْوَ الْمُسْلِمِ ، وَ لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمِ بَاعَ مِنْ أَخِيهِ بَيْعًا فِيْهِ عَيْبٌ إِلَّا بَيْنَهُ لَهُ (ইন্নু মাজাহ, হাদীস ২২৭৬ স'হীহল্ জামি', হাদীস ৬৭০৫)
অর্থাৎ একজন মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই। অতএব কোন মুসলমান অন্য কোন মুসলমান ভাইয়ের কাছে ত্রুটিযুক্ত কোন কিছু বিক্রি করলে তার জন্য সে ত্রুটি লুকিয়ে রাখা কখনোই জায়িয নয়। বরং তা তাকে অবশ্যই জানিয়ে দিতে হবে।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা রাসূল খাদ্যের একটি স্তূপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি উক্ত স্তূপে হাত ঢুকিয়ে দিলে ভেতরের খাদ্য ভেজা দেখতে পান। তখন তিনি বলেন:
مَا هَذَا يَا صَاحِبَ الطَّعَامِ ؟ قَالَ : أَصَابَتْهُ السَّمَاءُ يَا رَسُولَ اللَّهِ! قَالَ: أَفَلَا جَعَلْتَهُ فَوْقَ الطَّعَامِ كَيْ يَرَاهُ النَّاسُ؟ مَنْ غَشَ فَلَيْسَ مِنِّي (মুসলিম, হাদীস ১০২)
অর্থাৎ এটা কি, হে খাদ্যের মালিক? সে বললো: হে রাসূল! বৃষ্টি হয়েছিলো তো তাই। রাসূল বললেন: তুমি কেন ভেজা খাদ্যগুলো উপরে রাখলে না তা হলেই তো মানুষ তা দেখতে পেতো। যে কোন মুসলমানকে ধোঁকা দিলো তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।
প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে এ কথা জানতে হবে যে, বেচা-বিক্রিতে কাউকে ধোঁকা দিলে সে ব্যবসায় বরকত ও সত্যিকারের সমৃদ্ধি কখনোই আসে না। হঠাৎ দেখা যাবে কোন একটি জটিল রোগ একই চোটে লক্ষ লক্ষ টাকা নষ্ট করে দিলো। হঠাৎ ব্যবসায় ধস নেমে কোটি কোটি টাকা নষ্ট হয়ে গেলো। হযরত ‘হাকীম বিন্ ‘হিযাম থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا ، فَإِنْ صَدَقَا وَ بَيْنَا بُوْرِكَ لَهُمَا فِي بَيْعِهِمَا ، وَ إِنْ كَذَبَا وَ كَتَمَا مُحقَتْ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا (বুখারী, হাদীস ২১১০)
অর্থাৎ ক্রেতা-বিক্রেতা ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যাপারে স্বাধীন যতক্ষণ না তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়। যদি তারা এ ক্ষেত্রে সত্যবাদিতার পরিচয় দেয় এবং পণ্যের দোষ-ত্রুটির ব্যাপারে উভয়ে খোলাখুলি আলোচনা করে তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত দিবেন। আর যদি তারা এ ক্ষেত্রে মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং পণ্যের দোষ-ত্রুটি একে অপর থেকে লুকিয়ে রাখে তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ক্রয়-বিক্রয় থেকে বরকত উঠিয়ে নিবেন।
📄 দাবা খেলা
দাবা খেলা আরেকটি হারাম কাজ। এতে করে জুয়ার প্রশস্ত পথ খুলে যায় এবং প্রচুর মূল্যবান সময় বিনষ্ট হয়।
হযরত আবু মূসা আশ্'আরী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدِ ؛ فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَ رَسُولَهُ (আবু দাউদ, হাদীস ৪৯৩৮ ইবনু মাজাহ, হাদীস ৩৮৩০)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি দাবা খেললো সে আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল এর অবাধ্য হলো।
হ হযরত বুরাইদাহ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدَشِيرِ فَكَأَنَّمَا صَبَعَ ، وَ فِي رِوَايَة : غَمَسَ يَدَهُ فِي لَحْمٍ خِنْزِيرٍ وَ دَمِهِ (মুসলিম, হাদীস ২৬৬০ আবু দাউদ, হাদীস ৪৯৩৯ ইবনু মাজাহ, হাদীস ৩৮৩১)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি দাবা খেললো সে যেন তার হাত খানা শুকরের গোস্ত ও রক্তে রঞ্জিত করলো অথবা তাতে ডুবিয়ে দিলো।