📄 একেবারে নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কারোর কাছে কিছু ভিক্ষা চাওয়া
একেবারে নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কারোর কাছে কোন কিছু ভিক্ষা চাওয়া। আরেকটি হারাম কাজ ও কবীরা গুনাহ্।
যে ব্যক্তি বিনা প্রয়োজনে ভিক্ষাবৃত্তি করে সে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলার সামনে চেহারা ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় উঠবে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্উদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ سَأَلَ وَ لَهُ مَا يُغْنِيْهِ جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ خُمُوْشِ ، أَوْ خُدُوْسٌ ، أَوْ كُدُوْحٌ فِي وَجْهِهِ ، فَقَالَ: يَا رَسُوْلَ اللهِ! وَ مَا الْغِنَى؟ قَالَ: خَمْسُوْنَ دِرْهَمًا أَوْ قِيمَتُهَا مِنَ الذهب (আবু দাউদ, হাদীস ১৬২৬)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি কারোর কাছে কোন কিছু ভিক্ষা চাইলো; অথচ তার নিকট তার প্রয়োজন সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে তা হলে তার এ ভিক্ষাবৃত্তি কিয়ামতের দিন তার চেহারায় ক্ষতবিক্ষত অবস্থার রূপ নিবে। জনৈক সাহাবী বললেন: হে আল্লাহ্'র রাসূল! প্রয়োজন সমপরিমাণ সম্পদ বলতে আপনি কতটুকু সম্পদকে বুঝাচ্ছেন? রাসূল বললেন: পঞ্চাশ দিরহাম রুপা অথবা উহার সমপরিমাণ স্বর্ণ।
অপ্রয়োজনীয় ভিক্ষাবৃত্তি করা মানে প্রচুর পরিমাণ জাহান্নামের অগ্নি সঞ্চয় করা। হযরত সাহল্ বিন্ হান্যালিয়্যাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ سَأَلَ وَ عِنْدَهُ مَا يُغْنِيْهِ فَإِنَّمَا يَسْتَكْثِرُ مِنَ النَّارِ، وَ فِي لَفْظ: مِنْ جَمْرِ جَهَنَّمَ، فَقَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ وَ مَا يُغْنِيهِ؟ وَ فِي آخَرَ : وَ مَا الْعَنَى الَّذِي لَا تَنْبَغِي مَعَهُ الْمَسْأَلَةُ؟ قَالَ: قَدْرُ مَا يُغَدِّيْهِ وَيُعَشَيْهِ ، وَ فِي آخَرَ: أَنْ يَكُوْنَ لَهُ شِبْعُ يَوْمٍ وَ لَيْلَةٍ أَوْ لَيْلَةٍ وَ يَوْمٍ (আবু দাউদ, হাদীস ১৬২৯)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি কারোর কাছে কোন কিছু ভিক্ষা চাইলো; অথচ তার নিকট তার প্রয়োজন সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে তা হলে সে যেন জাহান্নামের অঙ্গার প্রচুর পরিমাণে সঞ্চয় করলো। সাহাবারা বললেন: হে আল্লাহ্'র রাসূল! প্রয়োজন সমপরিমাণ সম্পদ বলতে আপনি কতটুকু সম্পদকে বুঝাচ্ছেন? অথবা কারোর নিকট কতটুকু ধন-সম্পদ থাকলে আর তার জন্য ভিক্ষাবৃত্তি করা অনুচিৎ? রাসূল বললেন: সকাল-সন্ধ্যার খানা অথবা পুরো দিনের পেটভরে খাবার।
ধনী হওয়ার নেশায় ভিক্ষাকারী কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উঠবে যে তার চেহারায় কোন গোস্তই থাকবে না।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَسْأَلُ النَّاسَ حَتَّى يَأْتِيَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَيْسَ فِي وَجْهِهِ مُزْعَةُ لَحْمٍ (বুখারী, হাদীস ১৪৭৪ মুসলিম, হাদীস ১০৪০)
অর্থাৎ কোন ব্যক্তি ভিক্ষাবৃত্তির পেশা চালু রাখলে সে কিয়ামতের দিন (আল্লাহ্ তা'আলার সামনে) এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তার চেহারায় গোস্তের কোন টুকরাই অবশিষ্ট থাকবে না।
ধনী অথবা কর্ম করতে সক্ষম এমন কোন ব্যক্তি কারোর নিকট সাদাকা চাইতেও পারে না এবং খেতেও পারে না।
একদা সুঠাম দেহের দু'জন লোক রাসূল এর কাছে সাদাকা নিতে আসলে তিনি তাদেরকে বললেন:
إِنْ شِئْتُمَا أَعْطَيْتُكُمَا ، وَ لَا حَظٍّ فِيْهَا لِغَنِيٌّ وَ لَا لَقَوِيٌّ مُكْتَسب (আবু দাউদ, হাদীস ১৬৩৩)
অর্থাৎ তোমরা উভয় আমার নিকট সাদাকা চাইলে আমি তা তোমাদেরকে দিতে পারি। তবে তোমরা এ কথা সর্বদা মনে রাখবে যে, ধনী ও কর্ম করতে সক্ষম এমন শক্তিশালী পুরুষের জন্য সাদাকায় কোন অধিকার নেই। তবে পাঁচ প্রকারের ধনীর জন্য সাদাকা খাওয়া জায়িয।
হযরত ‘আত্বা (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا تَحِلُّ الصَّدَقَةُ لِغَنِيٍّ إِلَّا لِخَمْسَةِ: لِغَازِ فِي سَبِيْلِ اللَّهِ ، أَوْ لِعَامِلِ عَلَيْهَا ، أَوْ لِغَارِمِ ، أَوْ لِرَجُلٍ اشْتَرَاهَا بِمَالِهِ ، أَوْ لِرَجُلٍ كَانَ لَهُ جَارٌ مِسْكِيْنٌ فَتُصُدِّقَ عَلَى الْمِسْكِيْنِ فَأَهَدَاهَا الْمِسْكِينُ لِلْغَنِيِّ (আবু দাউد, হাদীস ১৬৩৫)
অর্থাৎ শুধুমাত্র পাঁচ ধরনের ধনীর জন্যই সাদাকা খাওয়া জায়িয। আল্লাহ্'র পথে লড়াইকারী, সাদাকা উঠানোর কাজে নিযুক্ত সরকারী কর্মচারী, অন্যের জরিমানা বা দিয়াত বহনকারী, যে ধনী ব্যক্তি নিজ পয়সা দিয়েই সাদাকার বস্তু কিনে নিয়েছে, যে ধনী ব্যক্তির প্রতিবেশী গরিব এবং তাকেই কেউ কোন কিছু সাদাকা দিলে সে যদি তা ধনী ব্যক্তিকে হাদিয়া হিসেবে দেয়।
কেউ যদি নিজ জীবন এমনভাবে পরিচালনা করতে পারে যে, সে কখনো কারোর নিকট কোন কিছুই চায় না তা হলে এমন ব্যক্তির জন্য রাসূল জান্নাতের দায়িত্ব নেন।
হযরত সাউবান থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ يَكْفُلُ لِي أَنْ لَا يَسْأَلَ النَّاسَ شَيْئًا ، وَ أَتَكَفَّلُ لَهُ بِالْجَنَّةِ ، فَقَالَ ثَوْبَانُ: أَنَا ؛ فَكَانَ لَا يَسْأَلُ أَحَدًا شَيْئًا (আবু দাউদ, হাদীস ১৬৪৩)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আমার জন্য এ দায়িত্ব নিবে যে, সে আর কারোর কাছে কোন কিছুই চাইবে না তা হলে আমি তার জন্য জান্নাতের দায়িত্ব নেবো। হযরত সাউবান বললেন: আমিই হবো সেই ব্যক্তি। আর তখন থেকেই হযরত সাউবান কারোর নিকট কোন কিছুই চাইতেন না।
তবে প্রশাসনিক কোন ব্যক্তির কাছে নিত্য প্রয়োজনীয় কোন কিছু চাওয়া যায়। যা না হলেই নয়।
হযরত সামুরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
الْمَسَائِلُ كُدُوْحٌ يَكْدَحُ بِهَا الرَّجُلُ وَجْهَهُ، فَمَنْ شَاءَ أَبْقَى عَلَى وَجْهِهِ، وَ مَنْ شَاءَ تَرَكَ، إِلَّا أَنْ يَسْأَلَ الرَّجُلُ ذَا سُلْطَانٍ، أَوْ فِي أَمْرٍ لَا يَجِدُ مِنْهُ بُدٌ (আবু দাউদ, হাদীস ১৬৩৯)
অর্থাৎ ভিক্ষাবৃত্তি ক্ষতের ন্যায়। যার মাধ্যমে মানুষ তার নিজ চেহারাকেই ক্ষতবিক্ষত করে। সুতরাং যে চায় তার চেহারায় ক্ষতগুলো থেকে যাক সেই ভিক্ষাবৃত্তি করবে। আর যে চায় তার চেহারায় ক্ষতগুলো না থাকুক সে যেন ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দেয়। তবে প্রশাসনিক কোন ব্যক্তির কাছে কিছু চাওয়া যায় অথবা এমন ব্যাপারে কারোর কাছে কিছু চাওয়া যায় যা না হলেই নয়।
হযরত ক্বাবীস্বাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা আমি রাসূল এর নিকট সাদাকা চাইলে তিনি আমাকে বলেন:
يَا قَبِيْصَةُ! إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لَا تَحِلُّ إِلا لِأَحَدٍ ثَلَاثَةِ: رَجُلٍ تَحَمَّلَ حَمَالَةٌ ، فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَهُ، فَسَأَلَ حَتَّى يُصِيبَهَا ، ثُمَّ يُمْسِكُ ، وَ رَجُلٍ أَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ فَاجْتَاحَتْ مَالَهُ، فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ ، فَسَأَلَ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشِ أَوْ قَالَ: سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ، وَ رَجُلٍ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ حَتَّى يَقُولَ ثَلَاثَةٌ مِنْ ذَوِي الْحِجَى مِنْ قَوْمِهِ : قَدْ أَصَابَتْ فُلَانَا الْفَاقَةُ، فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ ، فَسَأَلَ حَتَّى يُصِيْبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشِ أَوْ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ، ثُمَّ يُمْسِكُ، وَ مَا سِوَاهُنَّ مِنَ الْمَسْأَلَةِ – يَا قَبِيْصَةُ – سُحْتُ ؛ يَأْكُلُهَا صَاحِبُهَا سُحْتًا (আবু দাউদ, হাদীস ১৬৪০)
অর্থাৎ হে ক্বাবীস্বাহ্! ভিক্ষা শুধুমাত্র তিন ব্যক্তির জন্যই জায়িয। তার মধ্যে একজন হচ্ছে, যে ব্যক্তি অন্য কারোর পক্ষ থেকে জরিমানা বা দিয়াত জাতীয় কোন কিছুর যামানত কিংবা দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে তখন তার জন্য ভিক্ষা করা জায়িয যতক্ষণ না সে তা সংগ্রহ করতে পারে। তবে তা সংগ্রহ হয়ে গেলে সে আর ভিক্ষা করবে না। অপরজন হচ্ছে, যাকে প্রাকৃতিক কোন বড় দুর্যোগ পেয়ে বসেছে যার দরুন তার সকল সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে তখনও তার জন্য ভিক্ষা করা জায়িয যতক্ষণ না সে তার প্রয়োজনীয় জীবিকা সংগ্রহ করতে পারে। আরেকজন হচ্ছে, যে ব্যক্তি অভাবের কষাঘাতে একেবারেই জর্জরিত এমনকি তার বংশের তিনজন বুদ্ধিমানও এ ব্যাপারে তাকে সার্টিফাই করেছে যে, সে সত্যিই অভাবগ্রস্ত তখনও তার জন্য ভিক্ষা করা জায়িয যতক্ষণ না সে তার প্রয়োজনীয় জীবিকা সংগ্রহ করতে পারে। তবে তা সংগ্রহ হয়ে গেলে সে আর ভিক্ষা করবে না। হে ক্বাবীস্বাহ্! এ ছাড়া আর সকল ভিক্ষাবৃত্তি হারাম। ভিক্ষুক যা হারাম হিসেবেই ভক্ষণ করবে।
রাসূল ভিক্ষাবৃত্তির প্রতি সর্বদা সাহাবাদেরকে নিরুৎসাহিত করেছেন। তিনি তাঁদেরকে এও বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজ অভাবের কথা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাকেই বলবে আল্লাহ্ তা'আলা তার সে অভাব দূর করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি নিজ অভাবের কথা একমাত্র মানুষকেই বলবে তার সে অভাব কখনোই দূর হবে না।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ فَأَنْزَلَهَا بِالنَّاسِ لَمْ تُسَدْ فَاقَتُهُ ، وَ مَنْ أَنْزَلَهَا بِاللَّهِ أَوْشَكَ اللَّهُ لَهُ بِالْغَنَى ؛ إِمَّا بِمَوْتِ عَاجِلٍ أَوْ عَنِّى عَاجِل (আবু দাউদ, হাদীস ১৬৪৫)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি অভাবগ্রস্ত হলে শুধুমাত্র মানুষের কাছেই ধরনা দেয় তার অভাব কখনোই দূর হবে না। আর যে ব্যক্তি অভাবগ্রস্ত হলে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার কাছেই ধরনা দিবে আল্লাহ্ তা'আলা তার অভাব অতিসত্বর দূর করে দিবেন। আর তা এভাবে যে, অতিসত্বর সে মৃত্যু বরণ করবে অথবা অতিসত্বর সে ধনী হয়ে যাবে।
তবে কেউ কাউকে চাওয়া ছাড়াই কোন কিছু দিলে সে তা গ্রহণ করতে পারে। প্রয়োজনে সে তা খাবে এবং বাকিটুকু সাদাকা করবে। হযরত ‘উমর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِذَا أُعْطِيْتَ شَيْئًا مِنْ غَيْرِ أَنْ تَسْأَلَهُ فَكُلِّ وَ تَصَدَّق (আবু দাউদ, হাদীস ১৬৪৭)
অর্থাৎ তোমাকে চাওয়া ছাড়াই কোন কিছু দেয়া হলে তুমি তা খাবে এবং বাকিটুকু সাদাকা করবে।
হযরত ‘উমর থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল মাঝে মাঝে আমাকে কিছু দান করলে আমি তাঁকে বলতাম: আপনি আমাকে তা না দিয়ে আমার চাইতেও যার প্রয়োজন বেশি তাকে দিন তখন তিনি বলেন:
خُذْهُ ، إِذَا جَاءَكَ مِنَ الْمَالِ شَيْءٍ وَ أَنْتَ غَيْرُ مُشْرِف وَ لَا سَائِلٍ فَخُذْهُ ، وَ مَا لَا فَلَا تُتَّبِعْهُ نَفْسَكَ (বুখারী, হাদীস ১৪৭৩ মুসলিম, হাদীস ১০৪৫)
অর্থাৎ তুমি এটি নিয়ে নাও। মনে রাখবে, তোমার নিকট এমনিতেই কোন সম্পদ এসে গেলে; অথচ তুমি তা চাওনি এবং উহার জন্য তুমি লালায়িতও ছিলে না তা হলে তুমি তা নিতে পার। আর যা এমনিতেই আসছে না সে জন্য তুমি কখনো লালায়িত হয়ো না।
সম্পদের প্রতি চরমভাবে লালায়িত না হয়ে তা সহজে ও শরীয়ত সম্মত উপায়ে সংগ্রহ করলে আল্লাহ্ তা'আলা তাতে বরকত দিয়ে থাকেন। ঠিক এরই বিপরীতে সম্পদের প্রতি অত্যন্ত লালায়িত হয়ে তা সংগ্রহ করলে তাতে আল্লাহ্ তা'আলা কখনো বরকত দেন না।
হযরত ‘হাকীম বিন্ ‘হিযাম রাসূল এর নিকট কিছু চাইলে তিনি তাকে তা দেন, আরো চাইলে আরো দেন, আরো চাইলে আরো দেন এবং বলেন:
يَا حَكِيمُ! إِنَّ هَذَا الْمَالَ خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ ، فَمَنْ أَخَذَهُ بِسَحَاوَةِ نَفْسٍ بُوْرِكَ لَهُ فِيْهِ، وَ مَنْ أَخَذَهُ بِإِشْرَافِ نَفْسٍ لَمْ يُبَارَكْ لَهُ فِيْهِ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَ لَا يَشْبَعُ (বুখারী, হাদীস ১৪৭২)
অর্থাৎ হে ‘হাকীম! এ দুনিয়ার সম্পদ তো হৃদয়গ্রাহী মনোরম। (অতএব তা সবাই সঞ্চয় করতে চাইবে) সুতরাং যে ব্যক্তি তার প্রতি লালায়িত না হয়ে তা গ্রহণ করে তাতে সত্যিই বরকত হয়। আর যে ব্যক্তি তার প্রতি লালায়িত হয়ে সঞ্চয় করে তাতে বরকত দেয়া হয় না। যেমন: যে ব্যক্তি খায় কিন্তু তার পেট ভরে না। ভিক্ষা করার চাইতে নিজের হাতে কামাই করে খাওয়া অনেক উত্তম। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لأَنْ يَأْخُذُ أَحَدُكُمْ حَبْلَهُ ثُمَّ يَغْدُو إِلَى الْجَبَلِ ، فَيَحْتَطِبَ ، فَيَبِيْعَ ، فَيَأْكُلَ وَيَتَصَدَّقَ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَسْأَلَ النَّاسَ (বুখারী, হাদীস ১৪৮০ মুসলিম, হাদীস ১০৪২)
অর্থাৎ তোমাদের কেউ ভোর বেলায় রশি হাতে নিয়ে পাহাড়ে গিয়ে কাঠ কেটে তা বিক্রি করে বিক্রিলব্ধ পয়সা কিছু খাবে আর বাকিটুকু সাদাকা করবে তা তার জন্য অনেক উত্তম মানুষের নিকট হাত পাতার চাইতে।
📄 কারোর থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করা অথবা পরিশোধ করতে টালবাহানা করা
কারোর থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করা অথবা পরিশোধ করতে টালবাহানা করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্ বা হারাম। শরীয়তে ঋণের ব্যাপারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তা পরিশোধ না করে কিয়ামতের দিন এক কদমও সামনে এগুনো যাবে না। এমনকি যে ব্যক্তি নিজের জীবন ও ধন-সম্পদ সবকিছুই আল্লাহ্'র রাস্তায় বিলিয়ে দিয়েছে সেও নয়। রাসূল ইরশাদ করেন:
يُغْفَرُ لِلشَّهِيدِ كُلُّ ذَنْبِ إِلَّا الدَّيْنَ (সা'হীহল্ জা'মি', হাদীস ৮১১৯)
অর্থাৎ শুধুমাত্র ঋণ ছাড়া শহীদের সকল গুনাহ্ই ক্ষমা করে দেয়া হবে। রাসূল আরো ইরশাদ করেন:
سُبْحَانَ اللَّهِ! مَاذَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ التَّشْدِيدِ فِي الدِّيْنِ ، وَ الَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ رَجُلًا قُتِلَ فِي سَبِيْلِ اللَّهِ ثُمَّ أُحْيِيَ ثُمَّ قُتِلَ ثُمَّ أُحْيِيَ ثُمَّ قُتِلَ وَ عَلَيْهِ دَيْنٌ مَا دَخَلَ الْجَنَّةَ حَتَّى يُقْضَى عَنْهُ دَيْنُهُ (সা'হীহল্ জা'মি', হাদীস ৩৫৯৪)
অর্থাৎ কি আশ্চর্য! আল্লাহ্ তা'আলা ঋণের ব্যাপারে কতই না কঠিন বিধান নাযিল করেছেন! সেই সত্তার কসম খেয়ে বলছি যাঁর হাতে আমার জীবন, কোন ব্যক্তিকে আল্লাহ্'র রাস্তায় একবার শহীদ করা হলে অতঃপর আবারো জীবিত করা হলে অতঃপর আবারো শহীদ করা হলে অতঃপর আবারো জীবিত করা হলে অতঃপর আবারো শহীদ করা হলেও যদি তার উপর কোন ঋণ থেকে থাকে তা হলে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না তার উক্ত ঋণ তার পক্ষ থেকে আদায় করা হয়। ব্যাপারটি আরো কঠিন হয়ে দাঁড়ায় যখন কোন ব্যক্তি কারোর থেকে ঋণ নেয়ার সময়ই তা পরিশোধ না করার পরিকল্পনা করে অথবা তখনই তার দৃঢ় বিশ্বাস যে, সে কখনো তা পরিশোধ করতে পারবে না। কেউ কেউ তো এমনো মনে করে যে, আমি যার থেকে ঋণ নিয়েছি সে বড় ধনী ব্যক্তি। সুতরাং তাকে উক্ত ঋণ না দিলে তার কোন ক্ষতি হবে না। এ চিন্তা কখনোই সঠিক নয়। কারণ, ঋণ তো ঋণই। তা অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। চাই ঋণদাতার এর প্রতি কোন প্রয়োজন থাকুক বা নাই থাকুক। চাই তা কম হোক অথবা বেশি।
📄 কোন পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে দালালি করা
কোন পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে দালালি করা আরেকটি হারাম কাজ। দালালি বলতে নিলামে বিক্রি কোন মাল তো তার কেনার কোন ইচ্ছে নেই; অথচ সে উক্ত পণ্যের বেশি দাম হাঁকিয়ে ওর মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। রাসূল এমন কাজ করতে সবাইকে নিষেধ করে দিয়েছেন। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
وَ لَا تَنَاجَشُوا ، وَ لَا يَزِيدَنَّ عَلَى بَيْعِ أَخِيهِ (বুখারী, হাদীস ২৭২৩)
অর্থাৎ তোমরা দালালি করো না এবং এক জন মুসলমান অন্য মুসলমান ভাইয়ের ক্ষতি করার জন্য পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিবে না। বর্তমান যুগে নিলামে গাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে এমন অপতৎপরতা বেশি দেখা যায়। গাড়ির দাম হাঁকার সময় গাড়ির মালিক, তার বন্ধুবান্ধব অথবা কোন দালাল ক্রেতার বেশে ক্রেতাদের মাঝে সতর্কভাবে ঢুকে পড়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়; অথচ পণ্যটি কেনার তাদের কোন ইচ্ছে নেই। এতে করে ক্রেতারা প্রতারিত হয়। কারণ, তারা তখন পণ্যটি আসল দামের চাইতে অনেক বেশি দামে কিনতে বাধ্য হয়; অথচ রাসূল উক্ত অপতৎপরতাকে জাহান্নামের কারণ বলে আখ্যায়িত করেন।
হযরত ক্বাইস্ বিন্ সা'দ্ ও হযরত আনাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الْمَكْرُ وَ الْخَدِيعَةُ فِي النَّارِ (ইব্বু ‘আদি' ২/৫৮৪ বায়হাক্বী/শু'আবুল ঈমান ২/১০৫/২ হা'কিম ৪/৬০৭)
অর্থাৎ ধোঁকা ও ষড়যন্ত্র জাহান্নামে যাওয়ার বিশেষ কারণ।
📄 পণ্যের দোষ-ত্রুটি ক্রেতাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা
পণ্যের দোষ-ত্রুটি ক্রেতাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা আরেকটি হারাম কাজ।
হযরত ‘উক্ববাহ্ বিন্ ‘আমির থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الْمُسْلِمُ أَخْوَ الْمُسْلِمِ ، وَ لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمِ بَاعَ مِنْ أَخِيهِ بَيْعًا فِيْهِ عَيْبٌ إِلَّا بَيْنَهُ لَهُ (ইন্নু মাজাহ, হাদীস ২২৭৬ স'হীহল্ জামি', হাদীস ৬৭০৫)
অর্থাৎ একজন মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই। অতএব কোন মুসলমান অন্য কোন মুসলমান ভাইয়ের কাছে ত্রুটিযুক্ত কোন কিছু বিক্রি করলে তার জন্য সে ত্রুটি লুকিয়ে রাখা কখনোই জায়িয নয়। বরং তা তাকে অবশ্যই জানিয়ে দিতে হবে।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা রাসূল খাদ্যের একটি স্তূপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি উক্ত স্তূপে হাত ঢুকিয়ে দিলে ভেতরের খাদ্য ভেজা দেখতে পান। তখন তিনি বলেন:
مَا هَذَا يَا صَاحِبَ الطَّعَامِ ؟ قَالَ : أَصَابَتْهُ السَّمَاءُ يَا رَسُولَ اللَّهِ! قَالَ: أَفَلَا جَعَلْتَهُ فَوْقَ الطَّعَامِ كَيْ يَرَاهُ النَّاسُ؟ مَنْ غَشَ فَلَيْسَ مِنِّي (মুসলিম, হাদীস ১০২)
অর্থাৎ এটা কি, হে খাদ্যের মালিক? সে বললো: হে রাসূল! বৃষ্টি হয়েছিলো তো তাই। রাসূল বললেন: তুমি কেন ভেজা খাদ্যগুলো উপরে রাখলে না তা হলেই তো মানুষ তা দেখতে পেতো। যে কোন মুসলমানকে ধোঁকা দিলো তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।
প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে এ কথা জানতে হবে যে, বেচা-বিক্রিতে কাউকে ধোঁকা দিলে সে ব্যবসায় বরকত ও সত্যিকারের সমৃদ্ধি কখনোই আসে না। হঠাৎ দেখা যাবে কোন একটি জটিল রোগ একই চোটে লক্ষ লক্ষ টাকা নষ্ট করে দিলো। হঠাৎ ব্যবসায় ধস নেমে কোটি কোটি টাকা নষ্ট হয়ে গেলো। হযরত ‘হাকীম বিন্ ‘হিযাম থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا ، فَإِنْ صَدَقَا وَ بَيْنَا بُوْرِكَ لَهُمَا فِي بَيْعِهِمَا ، وَ إِنْ كَذَبَا وَ كَتَمَا مُحقَتْ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا (বুখারী, হাদীস ২১১০)
অর্থাৎ ক্রেতা-বিক্রেতা ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যাপারে স্বাধীন যতক্ষণ না তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়। যদি তারা এ ক্ষেত্রে সত্যবাদিতার পরিচয় দেয় এবং পণ্যের দোষ-ত্রুটির ব্যাপারে উভয়ে খোলাখুলি আলোচনা করে তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত দিবেন। আর যদি তারা এ ক্ষেত্রে মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং পণ্যের দোষ-ত্রুটি একে অপর থেকে লুকিয়ে রাখে তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা তাদের ক্রয়-বিক্রয় থেকে বরকত উঠিয়ে নিবেন।