📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 ধন-সম্পদের অপচয়

📄 ধন-সম্পদের অপচয়


ধন-সম্পদ অপচয় করাও আরেকটি হারাম কাজ এবং কবীরা গুনাহ্। যদিও তা নিজেরই হোক না কেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَ كُلُوا وَاشْرَبُوا وَ لَا تُسْرِفُوا ، إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ ) (আ'রাফ: ৩১)
অর্থাৎ তোমরা খাও এবং পান করো। কিন্তু অপচয় করো না। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা অপচয়কারীদেরকে ভালোবাসেন না। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنَّ اللَّهَ يَرْضَى لَكُمْ ثَلاثًا وَ يَكْرَهُ لَكُمْ ثَلاثًا ، فَيَرْضَى لَكُمْ أَنْ تَعْبُدُوهُ ، وَ لَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا ، وَ أَنْ تَعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَ لَا تَفَرَّقُوْا ، وَ يَكْرَهُ لَكُمْ
قِيلَ وَ قَالَ وَ كَثْرَةَ السُّؤَالِ ، وَ إِضَاعَةَ الْمَالِ (মুসলিম, হাদীস ১৭১৫)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের জন্য তিনটি কাজ পছন্দ করেছেন। তেমনিভাবে আরো তিনটি কাজ অপছন্দ। আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের জন্য যা পছন্দ করেছেন তা হলো, তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদাত করবে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না এবং তোমরা সবাই একমাত্র আল্লাহ্'র রজ্জুকেকেই আঁকড়ে ধরবে। কখনো বিক্ষিপ্ত হবে না। তিনি তোমাদের জন্য যা অপছন্দ করেছেন তা হলো, এমন কথা বলা হয়েছে; অমুক এমন কথা বলেছে তথা অযথা সংলাপ, অহেতুক অত্যধিক প্রশ্ন এবং ধন-সম্পদের বিনষ্ট সাধন।
প্রতিটি মানুষকে কিয়ামতের দিন অবশ্যই আল্লাহ্ তা'আলার সম্মুখে নিজের সম্পদের হিসেব দিতে হবে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا تَزُولُ قَدَمُ ابْنِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ عِنْدِ رَبِّهِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ خَمْسٍ : عَنْ عُمُرِهِ فِيمَ أَقْنَاهُ؟ وَ عَنْ شَبَابِهِ فِيمَ أَبْلَاهُ ؟ وَ مَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ؟ وَ فِيمَ أَنْفَقَهُ؟ وَمَاذَا عَمِلَ فِيْمَا عَلِمَ ؟ (তিরমিযী, হাদীস ২৪১৬)
অর্থাৎ কিয়ামতের দিন আদম সন্তানের দু'টি পা আল্লাহ্ তা'আলার সম্মুখ থেকে এতটুকুও নড়বে না যতক্ষণ না সে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দেয়: তার পুরো জীবন সে কি কাজে ক্ষয় করেছে? তার পূর্ণ যৌবন সে কিভাবে অতিবাহিত করেছে? তার ধন-সম্পদ সে কোথায় থেকে সংগ্রহ করেছে এবং কি কাজে খরচ করেছে? তার জ্ঞানানুযায়ী সে কতটুকু আমল করেছে?

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কারোর জন্য অন্যের কাছে কোন ব্যাপারে সুপারিশ করে তার থেকে কোন উপঢৌকন গ্রহণ করা

📄 কারোর জন্য অন্যের কাছে কোন ব্যাপারে সুপারিশ করে তার থেকে কোন উপঢৌকন গ্রহণ করা


কারোর জন্য অন্যের কাছে কোন ব্যাপারে সুপারিশ করে তার থেকে কোন উপঢৌকন গ্রহণ করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্ ও হারাম।
হযরত আবু উমামাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ شَفَعَ لأَخِيهِ بِشَفَاعَةِ فَأَهْدَي لَهُ هَدِيَّةً عَلَيْهَا ، فَقَبَلَهَا مِنْهُ ، فَقَدْ أَتَى بَابًا عَظِيمًا مِنْ أَبْوَابِ الرِّبَا (আবু দাউদ, হাদীস ৩৫৪১)
অর্থাৎ কেউ নিজ কোন মুসলমান ভাইয়ের জন্য অন্যের নিকট কোন ব্যাপারে সুপারিশ করলে সে যদি তাকে এ জন্য কোন উপঢৌকন দেয় এবং উক্ত ব্যক্তি তা গ্রহণ করে তা হলে সে যেন সুদের এক বিরাট দরোজায় ঢুকে পড়লো।
বর্তমান যুগে তো এমন অনেক লোকই পাওয়া যায় যার আয়ের অধিকাংশই এ জাতীয়। তার অবশ্যই এ কথা জানা দরকার যে, তার এ সকল সম্পদ একেবারেই হারাম। ব্যাপারটি আরো জটিল হয়ে দাঁড়ায় যখন এ জাতীয় উপঢৌকন অবৈধ কোন সুপারিশের জন্য হয়ে থাকে。
সুপারিশের মাধ্যমে কেউ কারোর বৈধ কোন উপকার করতে পারলে সে যেন তা করে। কারণ, তা সত্যিই পুণ্যের কাজ। কারণ, মানুষের মাঝে কারোর সম্মানজনক অবস্থান তা তো একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই দান। অতএব সে জন্য আল্লাহ্ তা'আলার কৃতজ্ঞতা আদায় করতে হবে। আর তা হচ্ছে কোন মুসলামান ভাইয়ের জন্য বৈধ সুপারিশের মাধ্যমে। যাতে তার কোন বৈধ অধিকার আদায় হয়ে যায় অথবা কোন হৃত অধিকার উদ্ধার পায়।
হযরত জাবির থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَنْفَعَ أَخَاهُ فَلْيَنْفَعْهُ (মুসলিম, হাদীস ২১৯৯)
অর্থাৎ তোমাদের কেউ নিজ কোন মুসলমান ভাইয়ের উপকার করতে পারলে সে যেন তা করে।
হযরত আবু মূসা আশ্'আরী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল এর নিকট কোন ভিক্ষুক আসলে অথবা তাঁর নিকট কোন কিছু চাওয়া হলে তিনি বলতেন:
اشْفَعُوْا تُؤْجَرُوْا، وَيَقْضِي اللَّهُ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ مَا شَاءَ (বুখারী, হাদীস ১৪৩২ মুসলিম, হাদীস ২৬২৭)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা তো তাঁর নবীর মুখ দিয়ে যাই চান ফায়সালা করবেনই। এতসত্ত্বেও তোমরা এর জন্য সুপারিশ করো; তোমাদেরকে সে জন্য সাওয়াব দেয়া হবে।
তবে কারোর জন্য সুপারিশ করতে গিয়ে অন্যের অধিকার খর্ব করা যাবে না। অন্যথায় এক জনের সুবিধার জন্য অন্যের উপর যুলুম করা হবে। আর তখনই অন্যের সুবিধার জন্য নিজকেই অযথা গুনাহ্'র বোঝা বহন করতে হবে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
مَنْ يَشْفَعْ شَفَاعَةً حَسَنَةٌ يَكُنْ لَهُ نَصِيبٌ مِنْهَا ، وَ مَنْ يَشْفَعْ شَفَاعَةً سَيِّئَةً يَكُنْ لَهُ كَفْلٌ مِّنْهَا، وَكَانَ اللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ مُّقِيْنَا ) (নিসা': ৮৫)
অর্থাৎ কেউ কারোর জন্য ভালো সুপারিশ করলে সে তার (সাওয়াবের) কিয়দংশ পাবে। আর কেউ কারোর জন্য খারাপ সুপারিশ করলে সেও তার (গুনাহ্'র) কিয়দংশ পাবে। আল্লাহ্ তা'আলা সকল বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কোন মজুরকে কাজে খাটিয়ে তার মজুরি না দেয়া

📄 কোন মজুরকে কাজে খাটিয়ে তার মজুরি না দেয়া


কোন মজুরকে কাজে খাটিয়ে তার মজুরি না দেয়া আরেকটি হারাম কাজ ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: ثَلَاثَةٌ أَنَا خَصْمُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ : رَجُلٌ أَعْطَى بِيْ ثُمَّ غَدَرَ ، وَرَجُلٌ بَاعَ حُرًّا فَأَكَلَ ثَمَنَهُ ، وَ رَجُلٌ اسْتَأْجَرَ أَجِيْرًا فَاسْتَوْفَى مِنْهُ وَ لَمْ يُعْطَهُ أَجْرَهُ (বুখারী, হাদীস ২২২৭, ২২৭০)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: কিয়ামতের দিন আমি তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেবো। তাদের একজন হচ্ছে, যে ব্যক্তি আমার নামে কসম খেয়ে কারোর সাথে কোন অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করেছে। দ্বিতীয়জন হচ্ছে, যে ব্যক্তি কোন স্বাধীন পুরুষকে বিক্রি করে বিক্রিলব্ধ পয়সা খেয়েছে। আর তৃতীয়জন হচ্ছে, যে ব্যক্তি কোন পুরুষকে মজুর হিসেবে খাটিয়ে তার মজুরি দেয়নি। এ জাতীয় ব্যক্তি কিয়ামতের দিন সত্যিকার অর্থেই দরিদ্র।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
أَتَدْرُوْنَ مَا الْمُفْلِسُ؟ قَالُوا : الْمُفْلِسُ فِيْنَا مَنْ لاَ دِرْهَمَ لَهُ وَ لَا مَتَاعَ ، فَقَالَ: إِنَّ الْمُفْلِسَ مِنْ أُمَّتِي يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصَلَاةِ وَ صِيَامٍ وَ زَكَاةِ ، وَ يَأْتِي قَدْ شَتَمَ هَذَا، وَ قَذَفَ هَذَا ، وَ أَكَلَ مَالَ هَذَا ، وَ سَفَكَ دَمَ هَذَا ، وَ ضَرَبَ هَذَا ، فَيُعْطَى هَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ وَ هَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ ، فَإِنْ فَنِيَتْ حَسَنَاتُهُ قَبْلَ أَنْ يُقْضَى مَا عَلَيْهِ أُخِذَ مِنْ خَطَايَاهُمْ ، فَطُرِحَتْ عَلَيْهِ ، ثُمَّ طُرِحَ فِي النَّارِ (মুসলিম, হাদীস ২৫৮১ তিরমিযী, হাদীস ২৪১৮)
অর্থাৎ তোমরা কি জানো নিঃস্ব কে? সাহাবারা বললেন: নিঃস্ব সে ব্যক্তিই যার কোন দিরহাম তথা টাকা-পয়সা ও ধন-সম্পদ নেই। রাসূল বললেন: আমার উম্মাতের মধ্যে সে ব্যক্তিই নিঃস্ব যে কিয়ামতের দিন (আল্লাহ্ তা'আলার সামনে) অনেকগুলো নামায, রোযা ও যাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে। অথচ (হিসেব করতে গিয়ে) দেখা যাবে যে, সে অমুককে গালি দিয়েছে। অন্যকে ব্যভিচারের অপবাদ দিয়েছে। অমুকের সম্পদ কেড়ে ফেলেছে। অমুকের রক্ত প্রবাহিত করেছে এবং অমুককে মেরেছে। তখন একে তার কিছু সাওয়াব দেওয়া হবে এবং ওকে আরো কিছু। এমনিভাবে যখন তার সকল সাওয়াব ও পূণ্য শেষ হয়ে যাবে অথচ এখনো তার দেনা বাকি তখন ওদের গুনাহ সমূহ তার উপর চাপিয়ে দিয়ে তাকে জাহান্নামে দেয়া হবে।
কোন মজুরকে কাজে খাটিয়ে তার মজুরি না দেয়ার কয়েকটি ধরন রয়েছে যা নিম্নরূপ:
ক. সরাসরি তার মজুরি দিতে অস্বীকার করা। তাকে এমন বলা যে, তুমি আমার কাছে কোন মজুরিই পাবে না।
খ. পূর্ব চুক্তি অনুযায়ী তার মজুরি না দেয়া। বরং নিজ ইচ্ছা মতো তার মজুরি কিছু কম দেয়া।
গ. কাগজপত্র নির্দিষ্ট মজুরি বা বেতন উল্লেখ করে অন্য দেশ থেকে কাজের লোক নিয়ে এসে তাকে এর কম মজুরিতে চাকরি করতে বাধ্য করা। অন্যথায় তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর হুমকি দেয়া; অথচ সে অনেকগুলো টাকা খরচ করে এখানে এসেছে।
ঘ. কোন মজুরকে নির্দিষ্ট কাজ বা নির্দিষ্ট সময় চাকরি করার জন্য নিয়ে এসে তার সাথে নতুন কোন চুক্তি ছাড়া তাকে অন্য কাজ বা বাড়তি সময় চাকরি করার জন্য বাধ্য করা।
ঙ. মজুরের মজুরি দিতে দেরি করা; অথচ সে তার মজুরি সময় মতো পেলে তা অন্য কাজে খাটিয়ে আরো লাভবান হতে পারতো।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 একেবারে নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কারোর কাছে কিছু ভিক্ষা চাওয়া

📄 একেবারে নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কারোর কাছে কিছু ভিক্ষা চাওয়া


একেবারে নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া কারোর কাছে কোন কিছু ভিক্ষা চাওয়া। আরেকটি হারাম কাজ ও কবীরা গুনাহ্।
যে ব্যক্তি বিনা প্রয়োজনে ভিক্ষাবৃত্তি করে সে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলার সামনে চেহারা ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় উঠবে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্উদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ سَأَلَ وَ لَهُ مَا يُغْنِيْهِ جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ خُمُوْشِ ، أَوْ خُدُوْسٌ ، أَوْ كُدُوْحٌ فِي وَجْهِهِ ، فَقَالَ: يَا رَسُوْلَ اللهِ! وَ مَا الْغِنَى؟ قَالَ: خَمْسُوْنَ دِرْهَمًا أَوْ قِيمَتُهَا مِنَ الذهب (আবু দাউদ, হাদীস ১৬২৬)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি কারোর কাছে কোন কিছু ভিক্ষা চাইলো; অথচ তার নিকট তার প্রয়োজন সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে তা হলে তার এ ভিক্ষাবৃত্তি কিয়ামতের দিন তার চেহারায় ক্ষতবিক্ষত অবস্থার রূপ নিবে। জনৈক সাহাবী বললেন: হে আল্লাহ্'র রাসূল! প্রয়োজন সমপরিমাণ সম্পদ বলতে আপনি কতটুকু সম্পদকে বুঝাচ্ছেন? রাসূল বললেন: পঞ্চাশ দিরহাম রুপা অথবা উহার সমপরিমাণ স্বর্ণ।
অপ্রয়োজনীয় ভিক্ষাবৃত্তি করা মানে প্রচুর পরিমাণ জাহান্নামের অগ্নি সঞ্চয় করা। হযরত সাহল্ বিন্ হান্যালিয়্যাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ سَأَلَ وَ عِنْدَهُ مَا يُغْنِيْهِ فَإِنَّمَا يَسْتَكْثِرُ مِنَ النَّارِ، وَ فِي لَفْظ: مِنْ جَمْرِ جَهَنَّمَ، فَقَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ وَ مَا يُغْنِيهِ؟ وَ فِي آخَرَ : وَ مَا الْعَنَى الَّذِي لَا تَنْبَغِي مَعَهُ الْمَسْأَلَةُ؟ قَالَ: قَدْرُ مَا يُغَدِّيْهِ وَيُعَشَيْهِ ، وَ فِي آخَرَ: أَنْ يَكُوْنَ لَهُ شِبْعُ يَوْمٍ وَ لَيْلَةٍ أَوْ لَيْلَةٍ وَ يَوْمٍ (আবু দাউদ, হাদীস ১৬২৯)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি কারোর কাছে কোন কিছু ভিক্ষা চাইলো; অথচ তার নিকট তার প্রয়োজন সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে তা হলে সে যেন জাহান্নামের অঙ্গার প্রচুর পরিমাণে সঞ্চয় করলো। সাহাবারা বললেন: হে আল্লাহ্'র রাসূল! প্রয়োজন সমপরিমাণ সম্পদ বলতে আপনি কতটুকু সম্পদকে বুঝাচ্ছেন? অথবা কারোর নিকট কতটুকু ধন-সম্পদ থাকলে আর তার জন্য ভিক্ষাবৃত্তি করা অনুচিৎ? রাসূল বললেন: সকাল-সন্ধ্যার খানা অথবা পুরো দিনের পেটভরে খাবার।
ধনী হওয়ার নেশায় ভিক্ষাকারী কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উঠবে যে তার চেহারায় কোন গোস্তই থাকবে না।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَا يَزَالُ الرَّجُلُ يَسْأَلُ النَّاسَ حَتَّى يَأْتِيَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَيْسَ فِي وَجْهِهِ مُزْعَةُ لَحْمٍ (বুখারী, হাদীস ১৪৭৪ মুসলিম, হাদীস ১০৪০)
অর্থাৎ কোন ব্যক্তি ভিক্ষাবৃত্তির পেশা চালু রাখলে সে কিয়ামতের দিন (আল্লাহ্ তা'আলার সামনে) এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তার চেহারায় গোস্তের কোন টুকরাই অবশিষ্ট থাকবে না।
ধনী অথবা কর্ম করতে সক্ষম এমন কোন ব্যক্তি কারোর নিকট সাদাকা চাইতেও পারে না এবং খেতেও পারে না।
একদা সুঠাম দেহের দু'জন লোক রাসূল এর কাছে সাদাকা নিতে আসলে তিনি তাদেরকে বললেন:
إِنْ شِئْتُمَا أَعْطَيْتُكُمَا ، وَ لَا حَظٍّ فِيْهَا لِغَنِيٌّ وَ لَا لَقَوِيٌّ مُكْتَسب (আবু দাউদ, হাদীস ১৬৩৩)
অর্থাৎ তোমরা উভয় আমার নিকট সাদাকা চাইলে আমি তা তোমাদেরকে দিতে পারি। তবে তোমরা এ কথা সর্বদা মনে রাখবে যে, ধনী ও কর্ম করতে সক্ষম এমন শক্তিশালী পুরুষের জন্য সাদাকায় কোন অধিকার নেই। তবে পাঁচ প্রকারের ধনীর জন্য সাদাকা খাওয়া জায়িয।
হযরত ‘আত্বা (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا تَحِلُّ الصَّدَقَةُ لِغَنِيٍّ إِلَّا لِخَمْسَةِ: لِغَازِ فِي سَبِيْلِ اللَّهِ ، أَوْ لِعَامِلِ عَلَيْهَا ، أَوْ لِغَارِمِ ، أَوْ لِرَجُلٍ اشْتَرَاهَا بِمَالِهِ ، أَوْ لِرَجُلٍ كَانَ لَهُ جَارٌ مِسْكِيْنٌ فَتُصُدِّقَ عَلَى الْمِسْكِيْنِ فَأَهَدَاهَا الْمِسْكِينُ لِلْغَنِيِّ (আবু দাউد, হাদীস ১৬৩৫)
অর্থাৎ শুধুমাত্র পাঁচ ধরনের ধনীর জন্যই সাদাকা খাওয়া জায়িয। আল্লাহ্'র পথে লড়াইকারী, সাদাকা উঠানোর কাজে নিযুক্ত সরকারী কর্মচারী, অন্যের জরিমানা বা দিয়াত বহনকারী, যে ধনী ব্যক্তি নিজ পয়সা দিয়েই সাদাকার বস্তু কিনে নিয়েছে, যে ধনী ব্যক্তির প্রতিবেশী গরিব এবং তাকেই কেউ কোন কিছু সাদাকা দিলে সে যদি তা ধনী ব্যক্তিকে হাদিয়া হিসেবে দেয়।
কেউ যদি নিজ জীবন এমনভাবে পরিচালনা করতে পারে যে, সে কখনো কারোর নিকট কোন কিছুই চায় না তা হলে এমন ব্যক্তির জন্য রাসূল জান্নাতের দায়িত্ব নেন।
হযরত সাউবান থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ يَكْفُلُ لِي أَنْ لَا يَسْأَلَ النَّاسَ شَيْئًا ، وَ أَتَكَفَّلُ لَهُ بِالْجَنَّةِ ، فَقَالَ ثَوْبَانُ: أَنَا ؛ فَكَانَ لَا يَسْأَلُ أَحَدًا شَيْئًا (আবু দাউদ, হাদীস ১৬৪৩)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আমার জন্য এ দায়িত্ব নিবে যে, সে আর কারোর কাছে কোন কিছুই চাইবে না তা হলে আমি তার জন্য জান্নাতের দায়িত্ব নেবো। হযরত সাউবান বললেন: আমিই হবো সেই ব্যক্তি। আর তখন থেকেই হযরত সাউবান কারোর নিকট কোন কিছুই চাইতেন না।
তবে প্রশাসনিক কোন ব্যক্তির কাছে নিত্য প্রয়োজনীয় কোন কিছু চাওয়া যায়। যা না হলেই নয়।
হযরত সামুরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
الْمَسَائِلُ كُدُوْحٌ يَكْدَحُ بِهَا الرَّجُلُ وَجْهَهُ، فَمَنْ شَاءَ أَبْقَى عَلَى وَجْهِهِ، وَ مَنْ شَاءَ تَرَكَ، إِلَّا أَنْ يَسْأَلَ الرَّجُلُ ذَا سُلْطَانٍ، أَوْ فِي أَمْرٍ لَا يَجِدُ مِنْهُ بُدٌ (আবু দাউদ, হাদীস ১৬৩৯)
অর্থাৎ ভিক্ষাবৃত্তি ক্ষতের ন্যায়। যার মাধ্যমে মানুষ তার নিজ চেহারাকেই ক্ষতবিক্ষত করে। সুতরাং যে চায় তার চেহারায় ক্ষতগুলো থেকে যাক সেই ভিক্ষাবৃত্তি করবে। আর যে চায় তার চেহারায় ক্ষতগুলো না থাকুক সে যেন ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দেয়। তবে প্রশাসনিক কোন ব্যক্তির কাছে কিছু চাওয়া যায় অথবা এমন ব্যাপারে কারোর কাছে কিছু চাওয়া যায় যা না হলেই নয়।
হযরত ক্বাবীস্বাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা আমি রাসূল এর নিকট সাদাকা চাইলে তিনি আমাকে বলেন:
يَا قَبِيْصَةُ! إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لَا تَحِلُّ إِلا لِأَحَدٍ ثَلَاثَةِ: رَجُلٍ تَحَمَّلَ حَمَالَةٌ ، فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَهُ، فَسَأَلَ حَتَّى يُصِيبَهَا ، ثُمَّ يُمْسِكُ ، وَ رَجُلٍ أَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ فَاجْتَاحَتْ مَالَهُ، فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ ، فَسَأَلَ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشِ أَوْ قَالَ: سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ، وَ رَجُلٍ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ حَتَّى يَقُولَ ثَلَاثَةٌ مِنْ ذَوِي الْحِجَى مِنْ قَوْمِهِ : قَدْ أَصَابَتْ فُلَانَا الْفَاقَةُ، فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ ، فَسَأَلَ حَتَّى يُصِيْبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشِ أَوْ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ، ثُمَّ يُمْسِكُ، وَ مَا سِوَاهُنَّ مِنَ الْمَسْأَلَةِ – يَا قَبِيْصَةُ – سُحْتُ ؛ يَأْكُلُهَا صَاحِبُهَا سُحْتًا (আবু দাউদ, হাদীস ১৬৪০)
অর্থাৎ হে ক্বাবীস্বাহ্! ভিক্ষা শুধুমাত্র তিন ব্যক্তির জন্যই জায়িয। তার মধ্যে একজন হচ্ছে, যে ব্যক্তি অন্য কারোর পক্ষ থেকে জরিমানা বা দিয়াত জাতীয় কোন কিছুর যামানত কিংবা দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে তখন তার জন্য ভিক্ষা করা জায়িয যতক্ষণ না সে তা সংগ্রহ করতে পারে। তবে তা সংগ্রহ হয়ে গেলে সে আর ভিক্ষা করবে না। অপরজন হচ্ছে, যাকে প্রাকৃতিক কোন বড় দুর্যোগ পেয়ে বসেছে যার দরুন তার সকল সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে তখনও তার জন্য ভিক্ষা করা জায়িয যতক্ষণ না সে তার প্রয়োজনীয় জীবিকা সংগ্রহ করতে পারে। আরেকজন হচ্ছে, যে ব্যক্তি অভাবের কষাঘাতে একেবারেই জর্জরিত এমনকি তার বংশের তিনজন বুদ্ধিমানও এ ব্যাপারে তাকে সার্টিফাই করেছে যে, সে সত্যিই অভাবগ্রস্ত তখনও তার জন্য ভিক্ষা করা জায়িয যতক্ষণ না সে তার প্রয়োজনীয় জীবিকা সংগ্রহ করতে পারে। তবে তা সংগ্রহ হয়ে গেলে সে আর ভিক্ষা করবে না। হে ক্বাবীস্বাহ্! এ ছাড়া আর সকল ভিক্ষাবৃত্তি হারাম। ভিক্ষুক যা হারাম হিসেবেই ভক্ষণ করবে।
রাসূল ভিক্ষাবৃত্তির প্রতি সর্বদা সাহাবাদেরকে নিরুৎসাহিত করেছেন। তিনি তাঁদেরকে এও বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজ অভাবের কথা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাকেই বলবে আল্লাহ্ তা'আলা তার সে অভাব দূর করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি নিজ অভাবের কথা একমাত্র মানুষকেই বলবে তার সে অভাব কখনোই দূর হবে না।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ فَأَنْزَلَهَا بِالنَّاسِ لَمْ تُسَدْ فَاقَتُهُ ، وَ مَنْ أَنْزَلَهَا بِاللَّهِ أَوْشَكَ اللَّهُ لَهُ بِالْغَنَى ؛ إِمَّا بِمَوْتِ عَاجِلٍ أَوْ عَنِّى عَاجِل (আবু দাউদ, হাদীস ১৬৪৫)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি অভাবগ্রস্ত হলে শুধুমাত্র মানুষের কাছেই ধরনা দেয় তার অভাব কখনোই দূর হবে না। আর যে ব্যক্তি অভাবগ্রস্ত হলে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার কাছেই ধরনা দিবে আল্লাহ্ তা'আলা তার অভাব অতিসত্বর দূর করে দিবেন। আর তা এভাবে যে, অতিসত্বর সে মৃত্যু বরণ করবে অথবা অতিসত্বর সে ধনী হয়ে যাবে।
তবে কেউ কাউকে চাওয়া ছাড়াই কোন কিছু দিলে সে তা গ্রহণ করতে পারে। প্রয়োজনে সে তা খাবে এবং বাকিটুকু সাদাকা করবে। হযরত ‘উমর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِذَا أُعْطِيْتَ شَيْئًا مِنْ غَيْرِ أَنْ تَسْأَلَهُ فَكُلِّ وَ تَصَدَّق (আবু দাউদ, হাদীস ১৬৪৭)
অর্থাৎ তোমাকে চাওয়া ছাড়াই কোন কিছু দেয়া হলে তুমি তা খাবে এবং বাকিটুকু সাদাকা করবে।
হযরত ‘উমর থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল মাঝে মাঝে আমাকে কিছু দান করলে আমি তাঁকে বলতাম: আপনি আমাকে তা না দিয়ে আমার চাইতেও যার প্রয়োজন বেশি তাকে দিন তখন তিনি বলেন:
خُذْهُ ، إِذَا جَاءَكَ مِنَ الْمَالِ شَيْءٍ وَ أَنْتَ غَيْرُ مُشْرِف وَ لَا سَائِلٍ فَخُذْهُ ، وَ مَا لَا فَلَا تُتَّبِعْهُ نَفْسَكَ (বুখারী, হাদীস ১৪৭৩ মুসলিম, হাদীস ১০৪৫)
অর্থাৎ তুমি এটি নিয়ে নাও। মনে রাখবে, তোমার নিকট এমনিতেই কোন সম্পদ এসে গেলে; অথচ তুমি তা চাওনি এবং উহার জন্য তুমি লালায়িতও ছিলে না তা হলে তুমি তা নিতে পার। আর যা এমনিতেই আসছে না সে জন্য তুমি কখনো লালায়িত হয়ো না।
সম্পদের প্রতি চরমভাবে লালায়িত না হয়ে তা সহজে ও শরীয়ত সম্মত উপায়ে সংগ্রহ করলে আল্লাহ্ তা'আলা তাতে বরকত দিয়ে থাকেন। ঠিক এরই বিপরীতে সম্পদের প্রতি অত্যন্ত লালায়িত হয়ে তা সংগ্রহ করলে তাতে আল্লাহ্ তা'আলা কখনো বরকত দেন না।
হযরত ‘হাকীম বিন্ ‘হিযাম রাসূল এর নিকট কিছু চাইলে তিনি তাকে তা দেন, আরো চাইলে আরো দেন, আরো চাইলে আরো দেন এবং বলেন:
يَا حَكِيمُ! إِنَّ هَذَا الْمَالَ خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ ، فَمَنْ أَخَذَهُ بِسَحَاوَةِ نَفْسٍ بُوْرِكَ لَهُ فِيْهِ، وَ مَنْ أَخَذَهُ بِإِشْرَافِ نَفْسٍ لَمْ يُبَارَكْ لَهُ فِيْهِ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَ لَا يَشْبَعُ (বুখারী, হাদীস ১৪৭২)
অর্থাৎ হে ‘হাকীম! এ দুনিয়ার সম্পদ তো হৃদয়গ্রাহী মনোরম। (অতএব তা সবাই সঞ্চয় করতে চাইবে) সুতরাং যে ব্যক্তি তার প্রতি লালায়িত না হয়ে তা গ্রহণ করে তাতে সত্যিই বরকত হয়। আর যে ব্যক্তি তার প্রতি লালায়িত হয়ে সঞ্চয় করে তাতে বরকত দেয়া হয় না। যেমন: যে ব্যক্তি খায় কিন্তু তার পেট ভরে না। ভিক্ষা করার চাইতে নিজের হাতে কামাই করে খাওয়া অনেক উত্তম। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لأَنْ يَأْخُذُ أَحَدُكُمْ حَبْلَهُ ثُمَّ يَغْدُو إِلَى الْجَبَلِ ، فَيَحْتَطِبَ ، فَيَبِيْعَ ، فَيَأْكُلَ وَيَتَصَدَّقَ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَسْأَلَ النَّاسَ (বুখারী, হাদীস ১৪৮০ মুসলিম, হাদীস ১০৪২)
অর্থাৎ তোমাদের কেউ ভোর বেলায় রশি হাতে নিয়ে পাহাড়ে গিয়ে কাঠ কেটে তা বিক্রি করে বিক্রিলব্ধ পয়সা কিছু খাবে আর বাকিটুকু সাদাকা করবে তা তার জন্য অনেক উত্তম মানুষের নিকট হাত পাতার চাইতে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00