📄 গান-বাদ্য কিংবা মিউজিক শুনা
গান-বাদ্য কিংবা মিউজিক শুনাও হারাম কাজ এবং কবীরা গুনাহ্। হযরত আবু মা'লিক আশ্আরী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّوْنَ الْحِرَ وَ الْحَرِيْرَ وَ الْخَمْرَ وَ الْمَعَازِفَ (বুখারী, হাদীস ৫৫৯০)
অর্থাৎ আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু সম্প্রদায় অবশ্যই জন্ম নিবে যারা ব্যভিচার, সিল্কের কাপড়, মদ্য পান ও বাদ্যকে হালাল মনে করবে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্ থেকে বর্ণিত তিনি আল্লাহ্ তা'আলার কসম খেয়ে বলেন: আল্লাহ্'র বাণী:
وَ مِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيْثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا، أَوْلَائِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ ) (লুকুমান : ৬)
অর্থাৎ মানুষের মধ্য থেকে তো কেউ কেউ অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহ্ তা'আলার পথ থেকে অন্যদেরকে বিচ্যুত করার জন্য অসার বাক্য তথা গান (কিংবা সেগুলোর আসবাবপত্র) খরিদ করে এবং আল্লাহ্ প্রদর্শিত পথ নিয়ে ঠাট্টা- বিদ্রূপ করে। তাদের জন্য রয়েছে (পরকালে) অবমাননাকর শাস্তি। হযরত ইবনু মাস্'উদ্ কসম খেয়ে বলেন: উপরোক্ত আয়াত থেকে একমাত্র উদ্দেশ্যই হচ্ছে গান-বাদ্য।
রাসূল বাদ্যকে অভিসম্পাতও করেন। তিনি বলেন:
صَوْتَانِ مَلْعُونَانِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ : مِزْمَارٌ عِنْدَ نِعْمَةٍ ، وَ رَنَّةٌ عِنْدَ مُصِيبَةٍ (সা'হীহল্ জা'মি', হাদীস ৩৮০১)
অর্থাৎ দু' ধরনের আওয়াজ দুনিয়া ও আখিরাতে লা'নতপ্রাপ্ত। তার মধ্যে একটি হচ্ছে সুখের সময়ের বাদ্য। আর অপরটি বিপদের সময়ের চিৎকার। বর্তমান যুগে নতুন নতুন বাদ্যযন্ত্রের দ্রুত আবিষ্কার, গায়ক-গায়িকা ও অভিনেতা-অভিনেত্রীর সরগরম বাজার, আধুনিক সুরের রকমফের, গানের ভাষা ও ইঙ্গিতের ভয়ানকতা ব্যাপারটিকে আরো বহুদূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। সুতরাং তা হারাম হওয়ার ব্যাপারে আর কারোর সামান্যটুকু সন্দেহের অবকাশও থাকতে পারে না। উপরন্তু গান হচ্ছে ব্যভিচারের প্রথম ধাপ এবং গান মানুষের মধ্যে মুনাফিকীরও জন্ম দেয়।
📄 ধন-সম্পদের অপচয়
ধন-সম্পদ অপচয় করাও আরেকটি হারাম কাজ এবং কবীরা গুনাহ্। যদিও তা নিজেরই হোক না কেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَ كُلُوا وَاشْرَبُوا وَ لَا تُسْرِفُوا ، إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ ) (আ'রাফ: ৩১)
অর্থাৎ তোমরা খাও এবং পান করো। কিন্তু অপচয় করো না। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা অপচয়কারীদেরকে ভালোবাসেন না। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنَّ اللَّهَ يَرْضَى لَكُمْ ثَلاثًا وَ يَكْرَهُ لَكُمْ ثَلاثًا ، فَيَرْضَى لَكُمْ أَنْ تَعْبُدُوهُ ، وَ لَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا ، وَ أَنْ تَعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَ لَا تَفَرَّقُوْا ، وَ يَكْرَهُ لَكُمْ
قِيلَ وَ قَالَ وَ كَثْرَةَ السُّؤَالِ ، وَ إِضَاعَةَ الْمَالِ (মুসলিম, হাদীস ১৭১৫)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের জন্য তিনটি কাজ পছন্দ করেছেন। তেমনিভাবে আরো তিনটি কাজ অপছন্দ। আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের জন্য যা পছন্দ করেছেন তা হলো, তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদাত করবে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না এবং তোমরা সবাই একমাত্র আল্লাহ্'র রজ্জুকেকেই আঁকড়ে ধরবে। কখনো বিক্ষিপ্ত হবে না। তিনি তোমাদের জন্য যা অপছন্দ করেছেন তা হলো, এমন কথা বলা হয়েছে; অমুক এমন কথা বলেছে তথা অযথা সংলাপ, অহেতুক অত্যধিক প্রশ্ন এবং ধন-সম্পদের বিনষ্ট সাধন।
প্রতিটি মানুষকে কিয়ামতের দিন অবশ্যই আল্লাহ্ তা'আলার সম্মুখে নিজের সম্পদের হিসেব দিতে হবে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا تَزُولُ قَدَمُ ابْنِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ عِنْدِ رَبِّهِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ خَمْسٍ : عَنْ عُمُرِهِ فِيمَ أَقْنَاهُ؟ وَ عَنْ شَبَابِهِ فِيمَ أَبْلَاهُ ؟ وَ مَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ؟ وَ فِيمَ أَنْفَقَهُ؟ وَمَاذَا عَمِلَ فِيْمَا عَلِمَ ؟ (তিরমিযী, হাদীস ২৪১৬)
অর্থাৎ কিয়ামতের দিন আদম সন্তানের দু'টি পা আল্লাহ্ তা'আলার সম্মুখ থেকে এতটুকুও নড়বে না যতক্ষণ না সে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দেয়: তার পুরো জীবন সে কি কাজে ক্ষয় করেছে? তার পূর্ণ যৌবন সে কিভাবে অতিবাহিত করেছে? তার ধন-সম্পদ সে কোথায় থেকে সংগ্রহ করেছে এবং কি কাজে খরচ করেছে? তার জ্ঞানানুযায়ী সে কতটুকু আমল করেছে?
📄 কারোর জন্য অন্যের কাছে কোন ব্যাপারে সুপারিশ করে তার থেকে কোন উপঢৌকন গ্রহণ করা
কারোর জন্য অন্যের কাছে কোন ব্যাপারে সুপারিশ করে তার থেকে কোন উপঢৌকন গ্রহণ করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্ ও হারাম।
হযরত আবু উমামাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ شَفَعَ لأَخِيهِ بِشَفَاعَةِ فَأَهْدَي لَهُ هَدِيَّةً عَلَيْهَا ، فَقَبَلَهَا مِنْهُ ، فَقَدْ أَتَى بَابًا عَظِيمًا مِنْ أَبْوَابِ الرِّبَا (আবু দাউদ, হাদীস ৩৫৪১)
অর্থাৎ কেউ নিজ কোন মুসলমান ভাইয়ের জন্য অন্যের নিকট কোন ব্যাপারে সুপারিশ করলে সে যদি তাকে এ জন্য কোন উপঢৌকন দেয় এবং উক্ত ব্যক্তি তা গ্রহণ করে তা হলে সে যেন সুদের এক বিরাট দরোজায় ঢুকে পড়লো।
বর্তমান যুগে তো এমন অনেক লোকই পাওয়া যায় যার আয়ের অধিকাংশই এ জাতীয়। তার অবশ্যই এ কথা জানা দরকার যে, তার এ সকল সম্পদ একেবারেই হারাম। ব্যাপারটি আরো জটিল হয়ে দাঁড়ায় যখন এ জাতীয় উপঢৌকন অবৈধ কোন সুপারিশের জন্য হয়ে থাকে。
সুপারিশের মাধ্যমে কেউ কারোর বৈধ কোন উপকার করতে পারলে সে যেন তা করে। কারণ, তা সত্যিই পুণ্যের কাজ। কারণ, মানুষের মাঝে কারোর সম্মানজনক অবস্থান তা তো একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই দান। অতএব সে জন্য আল্লাহ্ তা'আলার কৃতজ্ঞতা আদায় করতে হবে। আর তা হচ্ছে কোন মুসলামান ভাইয়ের জন্য বৈধ সুপারিশের মাধ্যমে। যাতে তার কোন বৈধ অধিকার আদায় হয়ে যায় অথবা কোন হৃত অধিকার উদ্ধার পায়।
হযরত জাবির থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَنْفَعَ أَخَاهُ فَلْيَنْفَعْهُ (মুসলিম, হাদীস ২১৯৯)
অর্থাৎ তোমাদের কেউ নিজ কোন মুসলমান ভাইয়ের উপকার করতে পারলে সে যেন তা করে।
হযরত আবু মূসা আশ্'আরী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল এর নিকট কোন ভিক্ষুক আসলে অথবা তাঁর নিকট কোন কিছু চাওয়া হলে তিনি বলতেন:
اشْفَعُوْا تُؤْجَرُوْا، وَيَقْضِي اللَّهُ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ مَا شَاءَ (বুখারী, হাদীস ১৪৩২ মুসলিম, হাদীস ২৬২৭)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা তো তাঁর নবীর মুখ দিয়ে যাই চান ফায়সালা করবেনই। এতসত্ত্বেও তোমরা এর জন্য সুপারিশ করো; তোমাদেরকে সে জন্য সাওয়াব দেয়া হবে।
তবে কারোর জন্য সুপারিশ করতে গিয়ে অন্যের অধিকার খর্ব করা যাবে না। অন্যথায় এক জনের সুবিধার জন্য অন্যের উপর যুলুম করা হবে। আর তখনই অন্যের সুবিধার জন্য নিজকেই অযথা গুনাহ্'র বোঝা বহন করতে হবে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
مَنْ يَشْفَعْ شَفَاعَةً حَسَنَةٌ يَكُنْ لَهُ نَصِيبٌ مِنْهَا ، وَ مَنْ يَشْفَعْ شَفَاعَةً سَيِّئَةً يَكُنْ لَهُ كَفْلٌ مِّنْهَا، وَكَانَ اللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ مُّقِيْنَا ) (নিসা': ৮৫)
অর্থাৎ কেউ কারোর জন্য ভালো সুপারিশ করলে সে তার (সাওয়াবের) কিয়দংশ পাবে। আর কেউ কারোর জন্য খারাপ সুপারিশ করলে সেও তার (গুনাহ্'র) কিয়দংশ পাবে। আল্লাহ্ তা'আলা সকল বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী।
📄 কোন মজুরকে কাজে খাটিয়ে তার মজুরি না দেয়া
কোন মজুরকে কাজে খাটিয়ে তার মজুরি না দেয়া আরেকটি হারাম কাজ ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: ثَلَاثَةٌ أَنَا خَصْمُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ : رَجُلٌ أَعْطَى بِيْ ثُمَّ غَدَرَ ، وَرَجُلٌ بَاعَ حُرًّا فَأَكَلَ ثَمَنَهُ ، وَ رَجُلٌ اسْتَأْجَرَ أَجِيْرًا فَاسْتَوْفَى مِنْهُ وَ لَمْ يُعْطَهُ أَجْرَهُ (বুখারী, হাদীস ২২২৭, ২২৭০)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: কিয়ামতের দিন আমি তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেবো। তাদের একজন হচ্ছে, যে ব্যক্তি আমার নামে কসম খেয়ে কারোর সাথে কোন অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করেছে। দ্বিতীয়জন হচ্ছে, যে ব্যক্তি কোন স্বাধীন পুরুষকে বিক্রি করে বিক্রিলব্ধ পয়সা খেয়েছে। আর তৃতীয়জন হচ্ছে, যে ব্যক্তি কোন পুরুষকে মজুর হিসেবে খাটিয়ে তার মজুরি দেয়নি। এ জাতীয় ব্যক্তি কিয়ামতের দিন সত্যিকার অর্থেই দরিদ্র।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
أَتَدْرُوْنَ مَا الْمُفْلِسُ؟ قَالُوا : الْمُفْلِسُ فِيْنَا مَنْ لاَ دِرْهَمَ لَهُ وَ لَا مَتَاعَ ، فَقَالَ: إِنَّ الْمُفْلِسَ مِنْ أُمَّتِي يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصَلَاةِ وَ صِيَامٍ وَ زَكَاةِ ، وَ يَأْتِي قَدْ شَتَمَ هَذَا، وَ قَذَفَ هَذَا ، وَ أَكَلَ مَالَ هَذَا ، وَ سَفَكَ دَمَ هَذَا ، وَ ضَرَبَ هَذَا ، فَيُعْطَى هَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ وَ هَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ ، فَإِنْ فَنِيَتْ حَسَنَاتُهُ قَبْلَ أَنْ يُقْضَى مَا عَلَيْهِ أُخِذَ مِنْ خَطَايَاهُمْ ، فَطُرِحَتْ عَلَيْهِ ، ثُمَّ طُرِحَ فِي النَّارِ (মুসলিম, হাদীস ২৫৮১ তিরমিযী, হাদীস ২৪১৮)
অর্থাৎ তোমরা কি জানো নিঃস্ব কে? সাহাবারা বললেন: নিঃস্ব সে ব্যক্তিই যার কোন দিরহাম তথা টাকা-পয়সা ও ধন-সম্পদ নেই। রাসূল বললেন: আমার উম্মাতের মধ্যে সে ব্যক্তিই নিঃস্ব যে কিয়ামতের দিন (আল্লাহ্ তা'আলার সামনে) অনেকগুলো নামায, রোযা ও যাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে। অথচ (হিসেব করতে গিয়ে) দেখা যাবে যে, সে অমুককে গালি দিয়েছে। অন্যকে ব্যভিচারের অপবাদ দিয়েছে। অমুকের সম্পদ কেড়ে ফেলেছে। অমুকের রক্ত প্রবাহিত করেছে এবং অমুককে মেরেছে। তখন একে তার কিছু সাওয়াব দেওয়া হবে এবং ওকে আরো কিছু। এমনিভাবে যখন তার সকল সাওয়াব ও পূণ্য শেষ হয়ে যাবে অথচ এখনো তার দেনা বাকি তখন ওদের গুনাহ সমূহ তার উপর চাপিয়ে দিয়ে তাকে জাহান্নামে দেয়া হবে।
কোন মজুরকে কাজে খাটিয়ে তার মজুরি না দেয়ার কয়েকটি ধরন রয়েছে যা নিম্নরূপ:
ক. সরাসরি তার মজুরি দিতে অস্বীকার করা। তাকে এমন বলা যে, তুমি আমার কাছে কোন মজুরিই পাবে না।
খ. পূর্ব চুক্তি অনুযায়ী তার মজুরি না দেয়া। বরং নিজ ইচ্ছা মতো তার মজুরি কিছু কম দেয়া।
গ. কাগজপত্র নির্দিষ্ট মজুরি বা বেতন উল্লেখ করে অন্য দেশ থেকে কাজের লোক নিয়ে এসে তাকে এর কম মজুরিতে চাকরি করতে বাধ্য করা। অন্যথায় তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর হুমকি দেয়া; অথচ সে অনেকগুলো টাকা খরচ করে এখানে এসেছে।
ঘ. কোন মজুরকে নির্দিষ্ট কাজ বা নির্দিষ্ট সময় চাকরি করার জন্য নিয়ে এসে তার সাথে নতুন কোন চুক্তি ছাড়া তাকে অন্য কাজ বা বাড়তি সময় চাকরি করার জন্য বাধ্য করা।
ঙ. মজুরের মজুরি দিতে দেরি করা; অথচ সে তার মজুরি সময় মতো পেলে তা অন্য কাজে খাটিয়ে আরো লাভবান হতে পারতো।