📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 যে কোন ধরনের আত্মসাৎ বা বিশ্বাসঘাতকতা করা

📄 যে কোন ধরনের আত্মসাৎ বা বিশ্বাসঘাতকতা করা


যে কোন ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা, আত্মসাৎ বা খেয়ানত আরেকটি কবীরা গুনাহ্ এবং হারাম কাজ। চাই সে বিশ্বাসঘাতকতা আল্লাহ্ তা'আলা এবং তদীয় রাসূল এর সাথেই হোক অথবা ধর্মের সাথে। চাই সে খেয়ানত জাতীয় সম্পদেই হোক অথবা কারোর ব্যক্তিগত সম্পদে। চাই তা যুদ্ধলব্ধ সম্পদেই হোক অথবা সংগৃহীত যাকাতের মালে। চাই তা কারোর কথার আমানতেই হোক অথবা ইয্যতের আমানতে ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই তো আল্লাহ্ তা'আলা ঈমানের দোহাই পূর্বক সকল ঈমানদারদেরকে এমন করতে বারণ করেছেন।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوْا لَا تَخُونُوْا اللهَ وَ الرَّسُوْلَ ، وَ تَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ وَ أَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ ) (আনফাল : ২৭)
অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা জেনেশুনে আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল এর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা এবং তোমাদের পরস্পরের আমানত খেয়ানত করো না।
আল্লাহ্ তা'আলা আমানতে খেয়ানতকারীকে কখনোই ভালোবাসেন না। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَ إِمَّا تَخَافَنَّ مِنْ قَوْمٍ خِيَانَةً فَالْبِذْ إِلَيْهِمْ عَلَى سَوَاءٍ ، إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْخَائِنِيْنَ ) (আনফাল : ৫৮)
অর্থাৎ তুমি কোন সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বিশ্বাসঘাতকতার আশঙ্কা করলে তুমি তাদের সাথে কৃত চুক্তি তাদের মুখেই ছুঁড়ে মারো যেমনিভাবে তারাও তা তোমার সঙ্গে করছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা খেয়ানতকারীদেরকে কখনোই ভালোবাসেন না।
খেয়ানতকারীদের ষড়যন্ত্র কোনভাবেই সফলকাম হবে না। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَ أَنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي كَيْدَ الْخَائِنِيْنَ ) (ইউসুফ : ৫২)
অর্থাৎ আর নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা বিশ্বাসঘাতকদের ষড়যন্ত্র কখনোই সফল করেন না।
হযরত আনাস্ ও আবু উমামাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
لَا إِيْمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ (আহমাদ, হাদীস ১২৩৮৩, ১২৫৬৭, ১৩১৯৯ বায্যার, হাদীস ১০০ ত্বাবারানী/কবীর, হাদীস ৭৭৯৮)
অর্থাৎ সে ব্যক্তির ঈমান নেই যার কোন আমানতদারি নেই। কোন সরকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে কোন কাজ উদ্ধারের জন্য অথবা তাঁর নৈকট্যার্জনের জন্য জনগণ তাঁকে যে হাদিয়া বা উপঢৌকন দিয়ে থাকে তাও সরকারী সম্পদ হিসেবেই গণ্য। তা নিজের জন্য গ্রহণ করা রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ করার শামিল।
হযরত আবু ‘হুমাইদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
اسْتَعْمَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ رَجُلاً عَلَى صَدَقَاتِ بَنِي سُلَيْمٍ يُدْعَى ابْنَ اللَّتْبِيَّةِ ، فَلَمَّا جَاءَ حَاسَبَهُ ، قَالَ: هَذَا مَالُكُمْ ، وَ هَذَا هَدِيَّةٌ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : فَهَلاً جَلَسْتَ فِي بَيْتِ أَبَيْكَ وَ أُمِّكَ حَتَّى تَأْتِيَكَ هَدِيَّتُكَ إِنْ كُنْتَ صَادِقًا ، ثُمَّ خَطَبَنَا ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَ أَثْنَى عَلَيْهِ ، ثُمَّ قَالَ: أَمَّا بَعْدُ ، فَإِنِّي أَسْتَعْمِلُ الرَّجُلَ مِنْكُمْ عَلَى الْعَمَلِ مِمَّا وَلَانِيَ اللَّهُ فَيَأْتِي فَيَقُوْلُ : هَذَا مَالُكُمْ وَ هَذَا هَدِيَّةٌ أُهْدِيَتْ لِي ، أَفَلَا جَلَسَ فِي بَيْتِ أَبِيْهِ وَ أُمِّهِ حَتَّى تَأْتِيَهُ هَدِيَّتُهُ، وَ اللَّهُ لَا يَأْخُذُ أَحَدٌ مِنْكُمْ شَيْئًا بِغَيْرِ حقه إِلَّا لَقِيَ اللَّهُ يَحْمِلُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (বুখারী, হাদীস ৬৯৭৯ মুসলিম, হাদীস ১৮৩২)
অর্থাৎ রাসূল জনৈক ব্যক্তিকে বনু সুলাইম গোত্রের সাদাকা উঠানোর জন্য দায়িত্ব দিয়ে পাঠালেন। যার নাম ছিলো ইনুল্ লুবিয়্যাহ্। সে সাদাকা উঠিয়ে ফেরৎ আসলে তার হিসাব-কিতাব নেয়া হয়। তখন সে বললো: এগুলো আপনাদের তথা রাষ্ট্রীয় সম্পদ আর এগুলো আমাকে দেয়া হাদিয়া। অতঃপর রাসূল তাকে বললেন: তুমি কেন নিজ বাড়িতে বসে থাকোনি? তা হলে হাদিয়াগুলো তোমার কাছে এমনিতেই এসে যেতো। যদি তুমি এতোই সত্যবাদী হয়ে থাকো। অতঃপর রাসূল খুতবা দিলেন। খুতবায় আল্লাহ্ তা'আলার প্রশংসা করার পর বললেন: আমি তোমাদের কাউ কাউকে আমার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য কোন দায়িত্ব দিয়ে পাঠাই। অতঃপর সে ফিরে এসে বলে: এগুলো আপনাদের তথা রাষ্ট্রীয় সম্পদ আর এগুলো আমাকে দেয়া হাদিয়া। সে কেন নিজ বাড়িতে বসে থাকেনি? তা হলে হাদিয়াগুলো তার কাছে এমনিতেই এসে যেতো। আল্লাহ্ তা'আলার কসম খেয়ে বলছি, তোমাদের কেউ কোন বস্তু অবৈধভাবে গ্রহণ করলে কিয়ামতের দিন সে তা বহন করেই আল্লাহ্ তা'আলার সাথে সাক্ষাৎ করবে। তা যাই হোক না কেন।
বন্টনের পূর্বে যুদ্ধলব্ধ কোন সম্পদ আত্মসাৎ করা হলে তা কিয়ামতের দিন আত্মসাত্কারীর উপর আগুন হয়ে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকবে।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
حَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ يَوْمَ خَيْبَرَ ، فَلَمْ تَغْنَمْ ذَهَبًا وَلَا فِضَّةٌ إِلَّا الْأَمْوَالَ وَالثِّيَابَ وَالْمَتَاعَ ، فَأَهْدَى رَجُلٌ مِنْ بَنِي الضُّبَيْبِ يُقَالُ لَهُ رِفَاعَةُ بْنُ زَيْدِ لِرَسُوْلِ الله ﷺ غُلَامًا يُقَالُ لَهُ مِدْعَمٌ ، فَوَجَّهَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ إِلَى وَادِي الْقُرَى ، حَتَّى إِذَا كَانَ بِوَادِي الْقُرَى بَيْنَمَا مِدْعَمٌ يَحُطُّ رَحْلاً لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ إِذَا سَهُمْ عَائِرٌ فَقَتَلَهُ ، فَقَالَ النَّاسُ: هَنِيئًا لَهُ الْجَنَّةُ ، فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ : كَلا ، وَ الَّذِي نَفْسِي بِيَدِه ، إِنَّ السَّمْلَةَ الَّتِي أَخَذَهَا يَوْمَ خَيْبَرَ مِنَ الْمَغَائِمِ لَمْ تُصِبْهَا الْمَقَاسِمُ لَتَسْتَعِلُ عَلَيْهِ نَارًا (বুখারী, হাদীস ৬৭০৭, ৪২৩৪ মুসলিম, হাদীস ১১৫)
অর্থাৎ একদা আমরা রাসূল এর সঙ্গে খাইবার যুদ্ধে বের হলাম। সেখানে আমরা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে কোন স্বর্ণ বা রূপা পাইনি। তবে পেয়েছিলাম কিছু অন্যান্য সম্পদ, কাপড়-চোপড় ও ঘরের আসবাবপত্র। ইতিমধ্যে বনুয যুবাইব্‌ গোত্রের রিফা'আহ্ বিন যায়েদ নামক জনৈক ব্যক্তি মিদ্‌'আম নামক একটি গোলাম রাসূলকে হাদিয়া দিলো। রাসূল আল্-কুরা উপত্যকার দিকে রওয়ানা করে সেখানে পৌঁছুলে গোলামটি রাসূল এর উটের পিঠের আসনটি নিচে রাখছিলো এমতাবস্থায় একটি বিক্ষিপ্ত তীর তার গায়ে বিঁধে সে মারা গেলো। সকলে বলে উঠলো: গোলামটি কতইনা ধন্য; তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে জান্নাত। রাসূল বললেন: না; তা কখনোই নয়। সে সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! খাইবারের যুদ্ধে বন্টনের পূর্বে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ থেকে সে যে চাদরটি আত্মসাৎ করেছিলো তা আগুন হয়ে (কিয়ামতের দিন) তার উপর দাউ দাউ করে জ্বলবে।
রাসূল আমানতে খেয়ানতকারীকে মুনাফিক বলে আখ্যায়িত করেছেন। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيْهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا ، وَ مَنْ كَانَتْ فِيْهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا : إِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ ، وَ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ ، وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ ، وَ إِذَا خَاصَمَ فَجَرَ (বুখারী, হাদীস ৩৪)
অর্থাৎ চারটি চরিত্র কারোর মধ্যে পাওয়া গেলে সে খাঁটি মুনাফিক হিসেবেই বিবেচিত হবে। আর যার মধ্যে সেগুলোর একটি পাওয়া গেলো তার মধ্যে তো শুধু মুনাফিকীর একটি চরিত্রই পাওয়া গেলো যতক্ষণ না সে তা ছেড়ে দেয়। উক্ত চরিত্রগুলো হলো: যখন তার কাছে কোন কিছু আমানত রাখা হয় তখন সে তা খেয়ানত করে, যখন সে কোন কথা বলে তখন সে মিথ্যা বলে, যখন সে কারোর সাথে কোন চুক্তিতে আবদ্ধ হয় তখন সে তা ভঙ্গ করে এবং যখন সে কারোর সাথে ঝগড়া দেয় তখন সে অশ্লীল কথা বলে।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কাউকে কোন কিছু দান করে অতঃপর খোঁটা দেয়া

📄 কাউকে কোন কিছু দান করে অতঃপর খোঁটা দেয়া


কারোর প্রতি কোন প্রকার অনুগ্রহ করে অথবা তাকে কোন কিছু দান করে অতঃপর তা উল্লেখ পূর্বক খোঁটা দেয়া আরেকটি কবীরা গুনাহ্ এবং হারাম কাজ। এমন কাণ্ড করলে উক্ত দান বা অনুগ্রহের কখনোই কোন সাওয়াব মিলবে না।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُبْطِلُوْا صَدَقَاتِكُمْ بِالْمَنِّ وَ الْأَذَى ، كَالَّذِي يُنْفِقُ مَالَهُ
رِنَاءَ النَّاسِ وَ لَا يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ، فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ صَفْوَانِ عَلَيْهِ تُرَابٌ فَأَصَابَهُ وَابِلٌ فَتَرَكَهُ صَلْدًا ، لَا يَقْدِرُوْنَ عَلَى شَيْءٍ مِّمَّا كَسَبُوا ، وَ اللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ ) (বাক্বারাহ: ২৬৪)
অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের দান-সাদাকা খোঁটা ও কষ্ট দিয়ে বিনষ্ট করো না সে ব্যক্তির ন্যায় যে নিজ ধন-সম্পদ ব্যয় করে মানুষকে দেখানোর জন্য উপরন্তু সে আল্লাহ্ তা'আলা এবং পরকালেও বিশ্বাসী নয়। সুতরাং তার দৃষ্টান্ত এমন এক মসৃণ পাথরের ন্যায় যার উপর কিছু মাটি জমেছে অতঃপর ভারি বর্ষণ হয়ে সে মাটি সরে গিয়ে শুষ্ক মসৃণ হয়ে গেলো। তারা যা অর্জন করেছে তা আর কিছুই পেলো না। মূলতঃ আল্লাহ্ তা'আলা কাফির সম্প্রদায়কে সঠিক পথ দেখান না।
যে ব্যক্তি কিছু দান করে অতঃপর খোঁটা দেয় আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার সাথে কোন কথা বলবেন না, তার দিকে তাকাবেনও না এমনকি তাকে গুনাহ্ থেকে পবিত্র করবেন না উপরন্তু তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। হযরত আবু যর গিফারী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، وَ لَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ ، وَلَا يُزَكِّيهِمْ ، وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ، قَالَ: فَقَرَأَهَا رَسُولُ اللهِ ثَلَاثَ مِرَارٍ ، قَالَ أَبُوْ ذَرِّ: خَابُوا وَخَسِرُوا ، مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ : الْمُسْبِلُ ، وَ الْمَنَّانُ وَ فِي رِوَايَةٍ: الْمَنَّانُ الَّذِي لَا يُعْطِي شَيْئًا إِلَّا مَنَّهُ ، وَ الْمُنْفِقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ الْكَاذِبِ (মুসলিম, হাদীস ১০৬)
অর্থাৎ তিন ব্যক্তি এমন যে, আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেনও না এমনকি তাদেরকে গুনাহ্ থেকে পবিত্রও করবেন না উপরন্তু তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। বর্ণনাকারী বলেন: রাসূল কথাগুলো তিন বার বলেছেন। হযরত আবু যর বলেন: তারা সত্যিই ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত। তবে তারা কারা হে আল্লাহ্'র রাসূল! রাসূল বললেন: টাখনু বা পায়ের গিঁটের নিচে কাপড় পরিধানকারী, কাউকে কোন কিছু দিয়ে খোঁটা দানকারী এবং মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য সাপ্লাইকারী।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 গান-বাদ্য কিংবা মিউজিক শুনা

📄 গান-বাদ্য কিংবা মিউজিক শুনা


গান-বাদ্য কিংবা মিউজিক শুনাও হারাম কাজ এবং কবীরা গুনাহ্। হযরত আবু মা'লিক আশ্আরী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّوْنَ الْحِرَ وَ الْحَرِيْرَ وَ الْخَمْرَ وَ الْمَعَازِفَ (বুখারী, হাদীস ৫৫৯০)
অর্থাৎ আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু সম্প্রদায় অবশ্যই জন্ম নিবে যারা ব্যভিচার, সিল্কের কাপড়, মদ্য পান ও বাদ্যকে হালাল মনে করবে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্ থেকে বর্ণিত তিনি আল্লাহ্ তা'আলার কসম খেয়ে বলেন: আল্লাহ্'র বাণী:
وَ مِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيْثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا، أَوْلَائِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ ) (লুকুমান : ৬)
অর্থাৎ মানুষের মধ্য থেকে তো কেউ কেউ অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহ্ তা'আলার পথ থেকে অন্যদেরকে বিচ্যুত করার জন্য অসার বাক্য তথা গান (কিংবা সেগুলোর আসবাবপত্র) খরিদ করে এবং আল্লাহ্ প্রদর্শিত পথ নিয়ে ঠাট্টা- বিদ্রূপ করে। তাদের জন্য রয়েছে (পরকালে) অবমাননাকর শাস্তি। হযরত ইবনু মাস্'উদ্‌ কসম খেয়ে বলেন: উপরোক্ত আয়াত থেকে একমাত্র উদ্দেশ্যই হচ্ছে গান-বাদ্য।
রাসূল বাদ্যকে অভিসম্পাতও করেন। তিনি বলেন:
صَوْتَانِ مَلْعُونَانِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ : مِزْمَارٌ عِنْدَ نِعْمَةٍ ، وَ رَنَّةٌ عِنْدَ مُصِيبَةٍ (সা'হীহল্ জা'মি', হাদীস ৩৮০১)
অর্থাৎ দু' ধরনের আওয়াজ দুনিয়া ও আখিরাতে লা'নতপ্রাপ্ত। তার মধ্যে একটি হচ্ছে সুখের সময়ের বাদ্য। আর অপরটি বিপদের সময়ের চিৎকার। বর্তমান যুগে নতুন নতুন বাদ্যযন্ত্রের দ্রুত আবিষ্কার, গায়ক-গায়িকা ও অভিনেতা-অভিনেত্রীর সরগরম বাজার, আধুনিক সুরের রকমফের, গানের ভাষা ও ইঙ্গিতের ভয়ানকতা ব্যাপারটিকে আরো বহুদূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। সুতরাং তা হারাম হওয়ার ব্যাপারে আর কারোর সামান্যটুকু সন্দেহের অবকাশও থাকতে পারে না। উপরন্তু গান হচ্ছে ব্যভিচারের প্রথম ধাপ এবং গান মানুষের মধ্যে মুনাফিকীরও জন্ম দেয়।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 ধন-সম্পদের অপচয়

📄 ধন-সম্পদের অপচয়


ধন-সম্পদ অপচয় করাও আরেকটি হারাম কাজ এবং কবীরা গুনাহ্। যদিও তা নিজেরই হোক না কেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَ كُلُوا وَاشْرَبُوا وَ لَا تُسْرِفُوا ، إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ ) (আ'রাফ: ৩১)
অর্থাৎ তোমরা খাও এবং পান করো। কিন্তু অপচয় করো না। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা অপচয়কারীদেরকে ভালোবাসেন না। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنَّ اللَّهَ يَرْضَى لَكُمْ ثَلاثًا وَ يَكْرَهُ لَكُمْ ثَلاثًا ، فَيَرْضَى لَكُمْ أَنْ تَعْبُدُوهُ ، وَ لَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا ، وَ أَنْ تَعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَ لَا تَفَرَّقُوْا ، وَ يَكْرَهُ لَكُمْ
قِيلَ وَ قَالَ وَ كَثْرَةَ السُّؤَالِ ، وَ إِضَاعَةَ الْمَالِ (মুসলিম, হাদীস ১৭১৫)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের জন্য তিনটি কাজ পছন্দ করেছেন। তেমনিভাবে আরো তিনটি কাজ অপছন্দ। আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের জন্য যা পছন্দ করেছেন তা হলো, তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদাত করবে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না এবং তোমরা সবাই একমাত্র আল্লাহ্'র রজ্জুকেকেই আঁকড়ে ধরবে। কখনো বিক্ষিপ্ত হবে না। তিনি তোমাদের জন্য যা অপছন্দ করেছেন তা হলো, এমন কথা বলা হয়েছে; অমুক এমন কথা বলেছে তথা অযথা সংলাপ, অহেতুক অত্যধিক প্রশ্ন এবং ধন-সম্পদের বিনষ্ট সাধন।
প্রতিটি মানুষকে কিয়ামতের দিন অবশ্যই আল্লাহ্ তা'আলার সম্মুখে নিজের সম্পদের হিসেব দিতে হবে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا تَزُولُ قَدَمُ ابْنِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ عِنْدِ رَبِّهِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ خَمْسٍ : عَنْ عُمُرِهِ فِيمَ أَقْنَاهُ؟ وَ عَنْ شَبَابِهِ فِيمَ أَبْلَاهُ ؟ وَ مَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ؟ وَ فِيمَ أَنْفَقَهُ؟ وَمَاذَا عَمِلَ فِيْمَا عَلِمَ ؟ (তিরমিযী, হাদীস ২৪১৬)
অর্থাৎ কিয়ামতের দিন আদম সন্তানের দু'টি পা আল্লাহ্ তা'আলার সম্মুখ থেকে এতটুকুও নড়বে না যতক্ষণ না সে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দেয়: তার পুরো জীবন সে কি কাজে ক্ষয় করেছে? তার পূর্ণ যৌবন সে কিভাবে অতিবাহিত করেছে? তার ধন-সম্পদ সে কোথায় থেকে সংগ্রহ করেছে এবং কি কাজে খরচ করেছে? তার জ্ঞানানুযায়ী সে কতটুকু আমল করেছে?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00