📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 চাঁদাবাজি

📄 চাঁদাবাজি


চাঁদাবাজি আরেকটি মারাত্মক অপরাধ। কোন প্রভাবশালী চক্র কর্তৃক জোর পূর্বক কাউকে কোথাও নিজ কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার জন্য অথবা নির্দিষ্ট স্থান অতিক্রম করা ইত্যাদির জন্য নির্দিষ্ট অথবা অনির্দিষ্ট পরিমাণে চাঁদা দিতে বাধ্য করাকে সাধারণত চাঁদাবাজি বলা হয়। দস্যুতার সাথে এর খুবই মিল। চাঁদা উত্তোলনকারী, চাঁদা লেখক ও চাঁদা গ্রহণকারী সবাই উক্ত গুনাহ্'র সমান অংশীদার। এরা যালিমের সহযোগী অথবা সরাসরি যালিম। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
إِنَّمَا السَّبِيْلُ عَلَى الَّذِيْنَ يَظْلِمُوْنَ النَّاسَ وَ يَبْغُوْنَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ ، أَوْلَائِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ) (শূরা': ৪২)
অর্থাৎ শুধুমাত্র তাদের বিরুদ্ধেই (শাস্তির) ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে যারা মানুষের উপর অত্যাচার করে এবং পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ আচরণ করে বেড়ায়। বস্তুতঃ এদের জন্যই রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি।
তিনি আরো বলেন:
وَ لَا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوْا فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ، وَ مَا لَكُمْ مِنْ دُوْنِ اللَّهِ مِنْ أَوْلِيَاءَ ثُمَّ لَا تُنْصَرُوْنَ ) (হুদ: ১১৩)
অর্থাৎ তোমরা যালিমদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না তথা তাদেরকে যুলুমের সহযোগিতা করো না। অন্যথায় তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে। আর তখন আল্লাহ্ ছাড়া কেউ তোমাদের সহায় হবে না। অতএব তখন তোমাদেরকে কোন সাহায্যই করা হবে না।
হযরত জা'বির বিন্ ‘আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
اتَّقُوا الظُّلْمَ ، فَإِنَّ الظُّلْمَ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (মুসলিম, হাদীস ২৫৭৮)
অর্থাৎ কারোর উপর অত্যাচার করা থেকে বিরত থাকো। কারণ, এ অত্যাচার কিয়ামতের দিন ঘোর অন্ধকার রূপেই দেখা দিবে।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 হারাম ভক্ষণ ও হারামের উপর জীবন যাপন

📄 হারাম ভক্ষণ ও হারামের উপর জীবন যাপন


হারাম ভক্ষণ ও হারামের উপর জীবন যাপন কবীরা গুনাহগুলোর অন্যতম। তা যে কোন উপায়েই হোক না কেন।
বর্তমান যুগের দর্শন তো খাও, দাও, ফুর্তি করো। এ দর্শন বাস্তবায়নের জন্য সকলেই উঠে-পড়ে লাগছে। সবার মধ্যে শুধু সম্পদ সঞ্চয়েরই নেশা। চাই তা চুরি করে হোক অথবা ডাকাতি। সুদ-ঘুষ খেয়ে হোক অথবা ইয়াতীমের সম্পদ ভক্ষণ করে। কোন অবৈধ বস্তুর ব্যবসা করে হোক অথবা সমকাম, ব্যভিচার, গান-বাদ্য, অভিনয়, যাদু ও গণন বিদ্যা চর্চা করে। জাতীয় বা কারোর ব্যক্তিগত সম্পদ লুট করেই হোক অথবা কাউকে বিপদে ফেলে। শরীয়তে এ জাতীয় দর্শনের কোন স্থান নেই।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَ لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ ، وَ تُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوْا فَرِيقًا مِّنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَ أَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ ) (বাক্বারাহ: ১৮৮)
অর্থাৎ তোমরা নিজেদের মধ্যে পরস্পরের ধনসম্পদ অন্যায়রূপে গ্রাস করো না এবং তা ঘুষরূপে বিচারকদেরকেও দিও না জেনেশুনে মানুষের কিছু ধনসম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করার জন্য।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةٌ عَنْ تَرَاضٍ مِّنْكُمْ ) (নিসা': ২৯)
অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের মধ্যে পরস্পরের ধনসম্পদ অন্যায়রূপে গ্রাস করো না। তবে যদি তা পরস্পরের সম্মতিক্রমে ব্যবসায়ের ভিত্তিতে হয়ে থাকে তা হলে তাতে কোন অসুবিধে নেই।
হারামখোরের দো'আ আল্লাহ্ তা'আলা কখনো কবুল করেন না। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
ثُمَّ ذَكَرَ رَسُوْلُ اللَّهِ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ ، أَشْعَثَ أَغْبَرَ ، يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ، يَا رَبِّ يَا رَبِّ وَ مَطْعَمُهُ حَرَامٌ ، وَ مَشْرَبُهُ حَرَامٌ ، وَ مَلْبَسُهُ حَرَامٌ ، وَغُذِيَ بِالْحَرَامِ فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ؟! (মুসলিম, হাদীস ১০১৫)
অর্থাৎ অতঃপর রাসূল এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যে দীর্ঘ সফর করে ক্লান্ত, মাথার চুল যার এলোমেলো ধূলেধূসরিত সে নিজ উভয় হাত আকাশের দিকে সম্প্রসারিত করে বলছে, হে আমার প্রভু! হে আমার প্রভু! অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম তথা তার পুরো জীবনোপকরণই হারামের উপর নির্ভরশীল। অতএব তার দো'আ কিভাবে কবুল হতে পারে?!
উক্ত হাদীস থেকে হারাম ভক্ষণের ভয়াবহতা সুস্পষ্টরূপে বুঝে আসে। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা মুসাফিরের দো'আ ফেরৎ দেন না অথচ এখানে তার দো'আ কবুলই করা হচ্ছে না। আর তা এ কারণেই যে, তার জীবন পুরোটাই হারামের উপর নির্ভরশীল।
হারামখোর পরকালে একমাত্র জাহান্নামেরই উপযুক্ত। জান্নাতের নয়। রাসূল ইরশাদ করেন:
كُلُّ لَحْمٍ نَبَتَ مِنْ سُحْتِ فَالنَّارُ أَوْلَى بِهِ (ত্বাবারানী/কবীর ১৯/১৩৬ সা'হীহল্ জামি', হাদীস ৪৪৯৫)
অর্থাৎ যে শরীর হারাম দিয়ে গড়া তা একমাত্র জাহান্নামেরই উপযুক্ত।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 ঘুষ নিয়ে কারোর পক্ষে বা বিপক্ষে বিচার করা

📄 ঘুষ নিয়ে কারোর পক্ষে বা বিপক্ষে বিচার করা


ঘুষ নিয়ে কারোর পক্ষে বা বিপক্ষে বিচার করাও একটি মহাপাপ এবং হারাম কাজ। তাই তো আল্লাহ্'র রাসূল ঘুষ খেয়ে অন্যায়ভাবে বিচারকারীকে লা'নত করেন।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ ও হযرت ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর বিন্ ‘আস্ব থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন:
لَعَنَ رَسُوْلُ اللَّهِ الرَّاشِيِّ وَ الْمُرْتَشِيْ فِي الْحُكْمِ (তিরমিযী, হাদীস ১৩৩৬, ১৩৩৭ আবু দাউদ, হাদীস ৩৫৮০ ইন্নু মাজাহ, হাদীস ২৩৪২)
অর্থাৎ রাসূল লানত করেন বিচারের ব্যাপারে ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়কেই।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 যে কোন ধরনের আত্মসাৎ বা বিশ্বাসঘাতকতা করা

📄 যে কোন ধরনের আত্মসাৎ বা বিশ্বাসঘাতকতা করা


যে কোন ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা, আত্মসাৎ বা খেয়ানত আরেকটি কবীরা গুনাহ্ এবং হারাম কাজ। চাই সে বিশ্বাসঘাতকতা আল্লাহ্ তা'আলা এবং তদীয় রাসূল এর সাথেই হোক অথবা ধর্মের সাথে। চাই সে খেয়ানত জাতীয় সম্পদেই হোক অথবা কারোর ব্যক্তিগত সম্পদে। চাই তা যুদ্ধলব্ধ সম্পদেই হোক অথবা সংগৃহীত যাকাতের মালে। চাই তা কারোর কথার আমানতেই হোক অথবা ইয্যতের আমানতে ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই তো আল্লাহ্ তা'আলা ঈমানের দোহাই পূর্বক সকল ঈমানদারদেরকে এমন করতে বারণ করেছেন।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوْا لَا تَخُونُوْا اللهَ وَ الرَّسُوْلَ ، وَ تَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ وَ أَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ ) (আনফাল : ২৭)
অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা জেনেশুনে আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল এর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা এবং তোমাদের পরস্পরের আমানত খেয়ানত করো না।
আল্লাহ্ তা'আলা আমানতে খেয়ানতকারীকে কখনোই ভালোবাসেন না। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَ إِمَّا تَخَافَنَّ مِنْ قَوْمٍ خِيَانَةً فَالْبِذْ إِلَيْهِمْ عَلَى سَوَاءٍ ، إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْخَائِنِيْنَ ) (আনফাল : ৫৮)
অর্থাৎ তুমি কোন সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বিশ্বাসঘাতকতার আশঙ্কা করলে তুমি তাদের সাথে কৃত চুক্তি তাদের মুখেই ছুঁড়ে মারো যেমনিভাবে তারাও তা তোমার সঙ্গে করছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা খেয়ানতকারীদেরকে কখনোই ভালোবাসেন না।
খেয়ানতকারীদের ষড়যন্ত্র কোনভাবেই সফলকাম হবে না। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَ أَنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي كَيْدَ الْخَائِنِيْنَ ) (ইউসুফ : ৫২)
অর্থাৎ আর নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা বিশ্বাসঘাতকদের ষড়যন্ত্র কখনোই সফল করেন না।
হযরত আনাস্ ও আবু উমামাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
لَا إِيْمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ (আহমাদ, হাদীস ১২৩৮৩, ১২৫৬৭, ১৩১৯৯ বায্যার, হাদীস ১০০ ত্বাবারানী/কবীর, হাদীস ৭৭৯৮)
অর্থাৎ সে ব্যক্তির ঈমান নেই যার কোন আমানতদারি নেই। কোন সরকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে কোন কাজ উদ্ধারের জন্য অথবা তাঁর নৈকট্যার্জনের জন্য জনগণ তাঁকে যে হাদিয়া বা উপঢৌকন দিয়ে থাকে তাও সরকারী সম্পদ হিসেবেই গণ্য। তা নিজের জন্য গ্রহণ করা রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ করার শামিল।
হযরত আবু ‘হুমাইদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
اسْتَعْمَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ رَجُلاً عَلَى صَدَقَاتِ بَنِي سُلَيْمٍ يُدْعَى ابْنَ اللَّتْبِيَّةِ ، فَلَمَّا جَاءَ حَاسَبَهُ ، قَالَ: هَذَا مَالُكُمْ ، وَ هَذَا هَدِيَّةٌ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : فَهَلاً جَلَسْتَ فِي بَيْتِ أَبَيْكَ وَ أُمِّكَ حَتَّى تَأْتِيَكَ هَدِيَّتُكَ إِنْ كُنْتَ صَادِقًا ، ثُمَّ خَطَبَنَا ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَ أَثْنَى عَلَيْهِ ، ثُمَّ قَالَ: أَمَّا بَعْدُ ، فَإِنِّي أَسْتَعْمِلُ الرَّجُلَ مِنْكُمْ عَلَى الْعَمَلِ مِمَّا وَلَانِيَ اللَّهُ فَيَأْتِي فَيَقُوْلُ : هَذَا مَالُكُمْ وَ هَذَا هَدِيَّةٌ أُهْدِيَتْ لِي ، أَفَلَا جَلَسَ فِي بَيْتِ أَبِيْهِ وَ أُمِّهِ حَتَّى تَأْتِيَهُ هَدِيَّتُهُ، وَ اللَّهُ لَا يَأْخُذُ أَحَدٌ مِنْكُمْ شَيْئًا بِغَيْرِ حقه إِلَّا لَقِيَ اللَّهُ يَحْمِلُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (বুখারী, হাদীস ৬৯৭৯ মুসলিম, হাদীস ১৮৩২)
অর্থাৎ রাসূল জনৈক ব্যক্তিকে বনু সুলাইম গোত্রের সাদাকা উঠানোর জন্য দায়িত্ব দিয়ে পাঠালেন। যার নাম ছিলো ইনুল্ লুবিয়্যাহ্। সে সাদাকা উঠিয়ে ফেরৎ আসলে তার হিসাব-কিতাব নেয়া হয়। তখন সে বললো: এগুলো আপনাদের তথা রাষ্ট্রীয় সম্পদ আর এগুলো আমাকে দেয়া হাদিয়া। অতঃপর রাসূল তাকে বললেন: তুমি কেন নিজ বাড়িতে বসে থাকোনি? তা হলে হাদিয়াগুলো তোমার কাছে এমনিতেই এসে যেতো। যদি তুমি এতোই সত্যবাদী হয়ে থাকো। অতঃপর রাসূল খুতবা দিলেন। খুতবায় আল্লাহ্ তা'আলার প্রশংসা করার পর বললেন: আমি তোমাদের কাউ কাউকে আমার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য কোন দায়িত্ব দিয়ে পাঠাই। অতঃপর সে ফিরে এসে বলে: এগুলো আপনাদের তথা রাষ্ট্রীয় সম্পদ আর এগুলো আমাকে দেয়া হাদিয়া। সে কেন নিজ বাড়িতে বসে থাকেনি? তা হলে হাদিয়াগুলো তার কাছে এমনিতেই এসে যেতো। আল্লাহ্ তা'আলার কসম খেয়ে বলছি, তোমাদের কেউ কোন বস্তু অবৈধভাবে গ্রহণ করলে কিয়ামতের দিন সে তা বহন করেই আল্লাহ্ তা'আলার সাথে সাক্ষাৎ করবে। তা যাই হোক না কেন।
বন্টনের পূর্বে যুদ্ধলব্ধ কোন সম্পদ আত্মসাৎ করা হলে তা কিয়ামতের দিন আত্মসাত্কারীর উপর আগুন হয়ে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকবে।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
حَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ يَوْمَ خَيْبَرَ ، فَلَمْ تَغْنَمْ ذَهَبًا وَلَا فِضَّةٌ إِلَّا الْأَمْوَالَ وَالثِّيَابَ وَالْمَتَاعَ ، فَأَهْدَى رَجُلٌ مِنْ بَنِي الضُّبَيْبِ يُقَالُ لَهُ رِفَاعَةُ بْنُ زَيْدِ لِرَسُوْلِ الله ﷺ غُلَامًا يُقَالُ لَهُ مِدْعَمٌ ، فَوَجَّهَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ إِلَى وَادِي الْقُرَى ، حَتَّى إِذَا كَانَ بِوَادِي الْقُرَى بَيْنَمَا مِدْعَمٌ يَحُطُّ رَحْلاً لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ إِذَا سَهُمْ عَائِرٌ فَقَتَلَهُ ، فَقَالَ النَّاسُ: هَنِيئًا لَهُ الْجَنَّةُ ، فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ : كَلا ، وَ الَّذِي نَفْسِي بِيَدِه ، إِنَّ السَّمْلَةَ الَّتِي أَخَذَهَا يَوْمَ خَيْبَرَ مِنَ الْمَغَائِمِ لَمْ تُصِبْهَا الْمَقَاسِمُ لَتَسْتَعِلُ عَلَيْهِ نَارًا (বুখারী, হাদীস ৬৭০৭, ৪২৩৪ মুসলিম, হাদীস ১১৫)
অর্থাৎ একদা আমরা রাসূল এর সঙ্গে খাইবার যুদ্ধে বের হলাম। সেখানে আমরা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে কোন স্বর্ণ বা রূপা পাইনি। তবে পেয়েছিলাম কিছু অন্যান্য সম্পদ, কাপড়-চোপড় ও ঘরের আসবাবপত্র। ইতিমধ্যে বনুয যুবাইব্‌ গোত্রের রিফা'আহ্ বিন যায়েদ নামক জনৈক ব্যক্তি মিদ্‌'আম নামক একটি গোলাম রাসূলকে হাদিয়া দিলো। রাসূল আল্-কুরা উপত্যকার দিকে রওয়ানা করে সেখানে পৌঁছুলে গোলামটি রাসূল এর উটের পিঠের আসনটি নিচে রাখছিলো এমতাবস্থায় একটি বিক্ষিপ্ত তীর তার গায়ে বিঁধে সে মারা গেলো। সকলে বলে উঠলো: গোলামটি কতইনা ধন্য; তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে জান্নাত। রাসূল বললেন: না; তা কখনোই নয়। সে সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! খাইবারের যুদ্ধে বন্টনের পূর্বে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ থেকে সে যে চাদরটি আত্মসাৎ করেছিলো তা আগুন হয়ে (কিয়ামতের দিন) তার উপর দাউ দাউ করে জ্বলবে।
রাসূল আমানতে খেয়ানতকারীকে মুনাফিক বলে আখ্যায়িত করেছেন। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيْهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا ، وَ مَنْ كَانَتْ فِيْهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا : إِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ ، وَ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ ، وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ ، وَ إِذَا خَاصَمَ فَجَرَ (বুখারী, হাদীস ৩৪)
অর্থাৎ চারটি চরিত্র কারোর মধ্যে পাওয়া গেলে সে খাঁটি মুনাফিক হিসেবেই বিবেচিত হবে। আর যার মধ্যে সেগুলোর একটি পাওয়া গেলো তার মধ্যে তো শুধু মুনাফিকীর একটি চরিত্রই পাওয়া গেলো যতক্ষণ না সে তা ছেড়ে দেয়। উক্ত চরিত্রগুলো হলো: যখন তার কাছে কোন কিছু আমানত রাখা হয় তখন সে তা খেয়ানত করে, যখন সে কোন কথা বলে তখন সে মিথ্যা বলে, যখন সে কারোর সাথে কোন চুক্তিতে আবদ্ধ হয় তখন সে তা ভঙ্গ করে এবং যখন সে কারোর সাথে ঝগড়া দেয় তখন সে অশ্লীল কথা বলে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00