📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 মিথ্যা কসম

📄 মিথ্যা কসম


মিথ্যা কসম খাওয়াও একটি কবীরা গুনাহ্। চাই তা কোন বিপদ থেকে বাঁচার জন্যই হোক অথবা কারোর কোন সম্পদ অবৈধভাবে আত্মসাৎ করার জন্যই হোক। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الْكَبَائِرُ : الإِشْرَاكُ بِاللهِ ، وَعُقُوْقُ الْوَالِدَيْنِ ، وَ قَتْلُ النَّفْسِ ، وَ الْيَمِينُ الْغَمُوسُ (বুখারী, হাদীস ৬৬৭৫, ৬৮৭০, ৬৯২০)
অর্থাৎ কবীরা গুনাহগুলো হচ্ছে, আল্লাহ্ তা'আলার সাথে কাউকে শরীক করা, ইচ্ছাকৃত মিথ্যে কসম খাওয়া, মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া এবং অবৈধভাবে কাউকে হত্যা করা। মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য বিক্রেতার সাথে আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন কোন কথা বলবেন না, তার দিকে তাকাবেনও না এমনকি তাকে গুনাহ্ থেকে পবিত্রও করবেন না উপরন্তু তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। হযরত আবু যর গিফারী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، وَ لَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ ، وَلَا يُزَكِّيهِمْ ، وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ، قَالَ : فَقَرَأَهَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ثَلَاثَ مِرَارٍ، قَالَ أَبُوْ ذَرٍّ : خَابُوْا وَ خَسِرُوا، مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: الْمُسْبِلُ، وَ الْمَنَّانُ وَ فِي رِوَايَةِ الْمَنَّانُ الَّذِي لَا يُعْطِي شَيْئًا إِلَّا مَنَّهُ، وَ الْمُنْفِقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ الْكَاذِبِ (মুসলিম, হাদীস ১০৬)
অর্থাৎ তিন ব্যক্তি এমন যে, আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেনও না এমনকি তাদেরকে গুনাহ্ থেকে পবিত্রও করবেন না উপরন্তু তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। বর্ণনাকারী বলেন: রাসূল ﷺ কথাগুলো তিন বার বলেছেন। হযরত আবু যর বলেন: তারা সত্যিই ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত। তবে তারা কারা হে আল্লাহ্'র রাসূল! রাসূল ﷺ বললেন: টাখনু বা পায়ের গিঁটের নিচে কাপড় পরিধানকারী, কাউকে কোন কিছু দিয়েই খোঁটা দানকারী এবং মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য সাপ্লাইকারী। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন মাস্'উদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِيْنِ كَاذِبًا لِيَقْتَطِعَ مَالَ رَجُلٍ لَقِيَ اللَّهُ وَ هُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ (বুখারী, হাদীস ২৩৫৬, ২৩৫৭, ২৪১৬, ২৪১৭, ২৫১৫, ২৫১৬, ২৬৬৬, ২৬৬৭, ২৬৬৯, ২৬৭০, ২৬৭৩, ২৬৭৬, ২৬৭৭)
অর্থাৎ কেউ কারোর সম্পদ অবৈধভাবে আহরণের জন্য মিথ্যা কসম খেলে সে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলার সাথে এমতাবস্থায় সাক্ষাৎ দিবে যে, তিনি (আল্লাহ) তার উপর খুবই রাগান্বিত। হযরত আবু উমামাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
مَنِ اقْتَطَعَ حَقَّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ بِيَمِينِهِ ، فَقَدْ أَوْجَبَ اللَّهُ لَهُ النَّارَ ، وَ حَرَّمَ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ، فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: وَ إِنْ كَانَ شَيْئًا يَسِيرًا ، يَا رَسُولَ اللَّهِ! قَالَ: وَ إِنْ قَضِيِّبًا مِنْ أَرَاكِ (মুসলিম, হাদীস ১৩৭)
অর্থাৎ কেউ (মিথ্যা) কসমের মাধ্যমে কোন মুসলমানের অধিকার হরণ করলে আল্লাহ্ তা'আলা তার জন্য জাহান্নাম বাধ্যতামূলক করেন এবং জান্নাত হারাম করে দেন। জনৈক (সাহাবী) বলেন: হে আল্লাহ্'র রাসূল! যদিও সামান্য কোন কিছু হোক না কেন। রাসূল বলেন: যদিও "আরাক" গাছের ডাল সমপরিমাণ হোক না কেন। যা মিসওয়াকের গাছ।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 চাঁদাবাজি

📄 চাঁদাবাজি


চাঁদাবাজি আরেকটি মারাত্মক অপরাধ। কোন প্রভাবশালী চক্র কর্তৃক জোর পূর্বক কাউকে কোথাও নিজ কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার জন্য অথবা নির্দিষ্ট স্থান অতিক্রম করা ইত্যাদির জন্য নির্দিষ্ট অথবা অনির্দিষ্ট পরিমাণে চাঁদা দিতে বাধ্য করাকে সাধারণত চাঁদাবাজি বলা হয়। দস্যুতার সাথে এর খুবই মিল। চাঁদা উত্তোলনকারী, চাঁদা লেখক ও চাঁদা গ্রহণকারী সবাই উক্ত গুনাহ্'র সমান অংশীদার। এরা যালিমের সহযোগী অথবা সরাসরি যালিম। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
إِنَّمَا السَّبِيْلُ عَلَى الَّذِيْنَ يَظْلِمُوْنَ النَّاسَ وَ يَبْغُوْنَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ ، أَوْلَائِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ) (শূরা': ৪২)
অর্থাৎ শুধুমাত্র তাদের বিরুদ্ধেই (শাস্তির) ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে যারা মানুষের উপর অত্যাচার করে এবং পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ আচরণ করে বেড়ায়। বস্তুতঃ এদের জন্যই রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি।
তিনি আরো বলেন:
وَ لَا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوْا فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ، وَ مَا لَكُمْ مِنْ دُوْنِ اللَّهِ مِنْ أَوْلِيَاءَ ثُمَّ لَا تُنْصَرُوْنَ ) (হুদ: ১১৩)
অর্থাৎ তোমরা যালিমদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না তথা তাদেরকে যুলুমের সহযোগিতা করো না। অন্যথায় তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে। আর তখন আল্লাহ্ ছাড়া কেউ তোমাদের সহায় হবে না। অতএব তখন তোমাদেরকে কোন সাহায্যই করা হবে না।
হযরত জা'বির বিন্ ‘আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
اتَّقُوا الظُّلْمَ ، فَإِنَّ الظُّلْمَ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (মুসলিম, হাদীস ২৫৭৮)
অর্থাৎ কারোর উপর অত্যাচার করা থেকে বিরত থাকো। কারণ, এ অত্যাচার কিয়ামতের দিন ঘোর অন্ধকার রূপেই দেখা দিবে।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 হারাম ভক্ষণ ও হারামের উপর জীবন যাপন

📄 হারাম ভক্ষণ ও হারামের উপর জীবন যাপন


হারাম ভক্ষণ ও হারামের উপর জীবন যাপন কবীরা গুনাহগুলোর অন্যতম। তা যে কোন উপায়েই হোক না কেন।
বর্তমান যুগের দর্শন তো খাও, দাও, ফুর্তি করো। এ দর্শন বাস্তবায়নের জন্য সকলেই উঠে-পড়ে লাগছে। সবার মধ্যে শুধু সম্পদ সঞ্চয়েরই নেশা। চাই তা চুরি করে হোক অথবা ডাকাতি। সুদ-ঘুষ খেয়ে হোক অথবা ইয়াতীমের সম্পদ ভক্ষণ করে। কোন অবৈধ বস্তুর ব্যবসা করে হোক অথবা সমকাম, ব্যভিচার, গান-বাদ্য, অভিনয়, যাদু ও গণন বিদ্যা চর্চা করে। জাতীয় বা কারোর ব্যক্তিগত সম্পদ লুট করেই হোক অথবা কাউকে বিপদে ফেলে। শরীয়তে এ জাতীয় দর্শনের কোন স্থান নেই।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَ لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ ، وَ تُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوْا فَرِيقًا مِّنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَ أَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ ) (বাক্বারাহ: ১৮৮)
অর্থাৎ তোমরা নিজেদের মধ্যে পরস্পরের ধনসম্পদ অন্যায়রূপে গ্রাস করো না এবং তা ঘুষরূপে বিচারকদেরকেও দিও না জেনেশুনে মানুষের কিছু ধনসম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করার জন্য।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةٌ عَنْ تَرَاضٍ مِّنْكُمْ ) (নিসা': ২৯)
অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের মধ্যে পরস্পরের ধনসম্পদ অন্যায়রূপে গ্রাস করো না। তবে যদি তা পরস্পরের সম্মতিক্রমে ব্যবসায়ের ভিত্তিতে হয়ে থাকে তা হলে তাতে কোন অসুবিধে নেই।
হারামখোরের দো'আ আল্লাহ্ তা'আলা কখনো কবুল করেন না। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
ثُمَّ ذَكَرَ رَسُوْلُ اللَّهِ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ ، أَشْعَثَ أَغْبَرَ ، يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ، يَا رَبِّ يَا رَبِّ وَ مَطْعَمُهُ حَرَامٌ ، وَ مَشْرَبُهُ حَرَامٌ ، وَ مَلْبَسُهُ حَرَامٌ ، وَغُذِيَ بِالْحَرَامِ فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ؟! (মুসলিম, হাদীস ১০১৫)
অর্থাৎ অতঃপর রাসূল এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যে দীর্ঘ সফর করে ক্লান্ত, মাথার চুল যার এলোমেলো ধূলেধূসরিত সে নিজ উভয় হাত আকাশের দিকে সম্প্রসারিত করে বলছে, হে আমার প্রভু! হে আমার প্রভু! অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম তথা তার পুরো জীবনোপকরণই হারামের উপর নির্ভরশীল। অতএব তার দো'আ কিভাবে কবুল হতে পারে?!
উক্ত হাদীস থেকে হারাম ভক্ষণের ভয়াবহতা সুস্পষ্টরূপে বুঝে আসে। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা মুসাফিরের দো'আ ফেরৎ দেন না অথচ এখানে তার দো'আ কবুলই করা হচ্ছে না। আর তা এ কারণেই যে, তার জীবন পুরোটাই হারামের উপর নির্ভরশীল।
হারামখোর পরকালে একমাত্র জাহান্নামেরই উপযুক্ত। জান্নাতের নয়। রাসূল ইরশাদ করেন:
كُلُّ لَحْمٍ نَبَتَ مِنْ سُحْتِ فَالنَّارُ أَوْلَى بِهِ (ত্বাবারানী/কবীর ১৯/১৩৬ সা'হীহল্ জামি', হাদীস ৪৪৯৫)
অর্থাৎ যে শরীর হারাম দিয়ে গড়া তা একমাত্র জাহান্নামেরই উপযুক্ত।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 ঘুষ নিয়ে কারোর পক্ষে বা বিপক্ষে বিচার করা

📄 ঘুষ নিয়ে কারোর পক্ষে বা বিপক্ষে বিচার করা


ঘুষ নিয়ে কারোর পক্ষে বা বিপক্ষে বিচার করাও একটি মহাপাপ এবং হারাম কাজ। তাই তো আল্লাহ্'র রাসূল ঘুষ খেয়ে অন্যায়ভাবে বিচারকারীকে লা'নত করেন।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ ও হযرت ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর বিন্ ‘আস্ব থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন:
لَعَنَ رَسُوْلُ اللَّهِ الرَّاشِيِّ وَ الْمُرْتَشِيْ فِي الْحُكْمِ (তিরমিযী, হাদীস ১৩৩৬, ১৩৩৭ আবু দাউদ, হাদীস ৩৫৮০ ইন্নু মাজাহ, হাদীস ২৩৪২)
অর্থাৎ রাসূল লানত করেন বিচারের ব্যাপারে ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়কেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00