📄 যেভাবে আপনি ধূমপান ছাড়বেন
ধূমপানের উপরোক্ত ব্যক্তিগত ও সামাজিক অপকার জানার পর আশাতো আপনি এখনি ধূমপান থেকে তাওবা করতে প্রস্তুত। তবে এ ক্ষেত্রে কয়েকটি ব্যাপার আপনাকে বিশেষ সহযোগিতা করবে যা নিম্নরূপ:
ক. আল্লাহ্ তা'আলার উপর পূর্ণ ভরসা রেখে ধূমপান ত্যাগের ব্যাপারে কঠিন প্রতিজ্ঞা তথা তাওবা করতে হবে এবং এ ব্যাপারে পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে আল্লাহ্ তা'আলার সহযোগিতা চেয়ে তাঁর কাছে বিশেষভাবে ফরিয়াদ করতে হবে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَا الْمُؤْمِنُوْنَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ ) (নূর: ৩১)
অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা সবাই আল্লাহ্ তা'আলার নিকট প্রত্যাবর্তন করো; যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেন:
أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَاءَ الْأَرْضِ ، أَإِلَةٌ مَّعَ اللَّهِ ، قَلِيلًا مَّا تَذَكَّرُوْنَ ) (নাম্ল: ৬২)
অর্থাৎ তিনিই তো উত্তম যিনি আর্তের আহ্বানে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে, বিপদ-আপদ দূরীভূত করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেন। আল্লাহ্ তা'আলার পাশাপাশি অন্য কোন মা'বুদ আছে কি? তোমরা তো অতি সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করে থাকো।
খ. ধূমপানের অপকারগুলো দৈনিক নিজে ভাবুন এবং নিজ বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও স্ত্রী-সন্তানদের সামনে এগুলো নিয়ে আলোচনা করুন।
গ. ধূমপায়ীদের সঙ্গ ছেড়ে দিন। অন্ততপক্ষে ধূমপানের মজলিস থেকে বহু দূরে এবং কল্যাণকর কাজে সর্বদা ব্যস্ত থাকুন।
ঘ. ধূмপানকে ঘৃণা করতে চেষ্টা করুন এবং সর্বদা এ কথা ভাবুন যে, কেউ একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য কোন হারাম বস্তু পরিত্যাগ করলে আল্লাহ্ তা'আলা এর প্রতিদান হিসেবে তাকে এর চাইতে আরো উন্নত ও কল্যাণকর বস্তু দান করবেন।
আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য কেউ কোন হারাম বস্তু পরিত্যাগ করলে তা সহজেই পরিত্যাগ করা সম্ভব। তবে আল্লাহ্ তা'আলা সর্ব প্রথম আপনাকে অবশ্যই পরীক্ষা করে দেখবেন যে, আপনি উক্ত হারাম বস্তু পরিত্যাগে কতটুকু সত্যবাদী। তখন আপনি এ ব্যাপারে ধৈর্য ধরতে পারলে তা পরিশেষে সত্যিই মজায় রূপান্তরিত হবে।
ধূমপান পরিত্যাগ করলে প্রথমতঃ আপনার গভীর ঘুম নাও আসতে পারে। রক্তে ঘাটতি দেখা দিবে। দীর্ঘ সময় কোন কিছু নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে পারবেন না। রাগ ও অস্থিরতা বেড়ে যাবে। নাড়ির সাধারণ গতি কমে যাবে। ব্রেইন কেমন যেন হালকা ও নিস্তেজ হয়ে পড়বে। ধূমপানের জন্য অন্তর কিলবিল করতে থাকবে। তবে তা কিছু দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।
৬. কখনো মনের ভেতর ধূমপানের ইচ্ছে জন্মালে সাথে সাথে মিসওয়াক করুন অথবা চুইঙ্গাম খেতে থাকুন।
চ. চা ও কফি খুব কমই পান করুন। বরং এরই পরিবর্তে সাধ্যমত ফল-মূলাদি খেতে চেষ্টা করুন।
ছ. প্রতিদিন নাস্তার পর এক গ্লাস লেবু বা আঙ্গুরের জুস পান করুন। তা হলে ধূমপানের চাহিদা একটু করে হলেও হ্রাস পাবে।
জ. যত্ন সহকারে নিয়মিত ফরয নামাযগুলো আদায় করুন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَأَقِمِ الصَّلاةَ ، إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَ الْمُنْكَرِ ، وَ لَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ ( ، وَ اللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُوْنَ ) (‘আন্কাবুত : ৪৫)
অর্থাৎ নামায কায়েম করো। কারণ, নামাযই তো তোমাকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে। আল্লাহ্ তা'আলার স্মরণই তো সর্বশ্রেষ্ঠ। তোমরা যাই করছো আল্লাহ্ তা'আলা তা সবই জানেন।
ঝ. বেশি বেশি রোযা রাখার চেষ্টা করুন। কারণ, তা মনোবলকে শক্তিশালী করায় ও কুপ্রবৃত্তি মোকাবিলায় বিশেষ সহযোগিতা করবে।
ঞ. বেশি বেশি কুর'আন তেলাওয়াত করুন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ ) (ইস্রা'/বানী ইস্রাঈল: ৯)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই এ কুর'আন সঠিক পথ প্রদর্শন করে। আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেন:
يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَّوْعِظَةٌ مِّنْ رَبِّكُمْ ، وَ شِفَاءٌ لِّمَا فِي الصُّدُورِ ، وَهُدًى وَ رَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ ) (ইউনুস: ৫৭)
অর্থাৎ হে মানব সকল! তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট উপদেশ, অন্তরের চিকিৎসা এবং মু'মিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত এসেছে।
চ. বেশি বেশি যিকির করুন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
ألَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوْبُ ) (রা'দ: ২৮)
অর্থাৎ জেনে রাখো, একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার যিকির বা স্মরণেই মানব অন্তর প্রশান্তি লাভ করে।
ছ. সর্বদা আল্লাহ্ তা'আলার নিকট শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করুন। কারণ, শয়তানই তো গুনাহ্ সমূহকে মানব সম্মুখে সুশোভিত করে দেখায়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
تَاللَّهِ لَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَى أُمَمٍ مِّنْ قَبْلِكَ فَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ ، فَهُوَ وَلِيُّهُمُ الْيَوْمَ ، وَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ) (নাহল: ৬৩)
অর্থাৎ আল্লাহ্'র কসম! আমি তোমার পূর্বেও বহু জাতির নিকট রাসূল প্রেরণ করেছি; কিন্তু শয়তান তাদের (অশোভনীয়) কর্মকাণ্ডকে তাদের নিকট সুশোভিত করে দেখিয়েছে। সুতরাং শয়তান তো আজ তাদের বন্ধু অভিভাবক এবং তাদেরই জন্য (কিয়ামতের দিন) যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেন:
وَ إِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ ، إِنَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ) (আ'রাফ: ২০০)
অর্থাৎ শয়তানের কুমন্ত্রণা যদি তোমাকে প্ররোচিত করে তা হলে তুমি আল্লাহ্ তা'আলার আশ্রয় কামনা করো। তিনিই তো সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
জ. নেককার লোকদের সাথে চলুন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَ اصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِيْنَ يَدْعُوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَ الْعَشِيِّ يُرِيدُوْنَ وَجْهَهُ ، وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ، وَ لَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ ، وَ كَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا ) (কাহফ : ২৮)
অর্থাৎ তুমি সর্বদা নিজকে ওদের সংস্রবেই রাখবে যারা সকাল-সন্ধ্যায় নিজ প্রভুকে ডাকে একমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। কখনো তাদের থেকে নিজ দৃষ্টি ফিরিয়ে নিবে না পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনায়। তবে ওদের অনুসরণ কখনোই করো না যাদের অন্তর আমি আমার স্মরণ থেকে গাফিল করে দিয়েছি এবং যারা নিজ খেয়াল- খুশীর অনুসরণ করে নিজ কর্মকাণ্ডে সীমাতিক্রম করে।
একবার দু'বার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেও কখনো নিরাশ হবেন না। কারণ, নিরাশ হওয়া কাফিরের পরিচয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَ لَا تَيْأَسُوا مِنْ رَّوْحِ اللَّهِ ، إِنَّهُ لَا يَيْأَسُ مِنْ رَّوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُوْنَ ) (ইউসুফ: ৮৭)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলার রহমত থেকে তোমরা কখনো নিরাশ হয়ো না। কারণ, একমাত্র কাফিররাই তো আল্লাহ্ তা'আলার রহমত থেকে নিরাশ হয়ে থাকে।
আপনি দ্রুত ধূমপান ছাড়তে না পারলেও অন্ততপক্ষে তা কমাতে চেষ্টা করুন এবং তা প্রকাশ্য পান করবেন না তা হলে কোন এক দিন আপনি তা সম্পূর্ণরূপে ছাড়তে পারবেন।